📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহর সুরত বা আকার

📄 আল্লাহর সুরত বা আকার


সুরত বা আকার আল্লাহর একটি বিশেষ গুণ। যা তার সত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহর আকার জানতে হলে আমাদের সমাজে প্রচলিত নিরাকার শব্দের আলোচনা করা প্রয়োজন। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
নিরাকার বিশ্লেষণ: নিরাকার বাংলা শব্দ। বাংলা গ্রামারানুসারে শব্দটি সন্ধি হয়েছে। সূত্রটি হলো অ + কার কিংবা আ + কার আকারের পর অ-কার কিংবা আ- কার থাকলে উভয় মিলে আকার হয় এবং আকার পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন নিরাক্ষর, নিরাকৃতি, নিরাশয় ও নিরাকার। আসলে ছিল নির + অক্ষর, নির + আকৃতি, নির + আকার। নির অর্থবিহীন, বর্জিত, রহিত। আর আকার অর্থ হলো দেহ, শরীর, চেহারা, আকৃতি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিরাকার অর্থ হল দেহ, শরীর, চেহারা, আকার, আকৃতি, অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ, বিহীন, বর্জিত, রহিত। তাই নিরাকার শব্দটি আল্লাহর ব্যাপারে ব্যবহার করা চরম অপরাধ ও মুসলিম পরিপন্থী 'আক্বীদাহ্ বা বিশ্বাস। কারণ আল্লাহর আকার আছে তা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং কোন অবস্থাতেই মহান আল্লাহকে নিরাকার বলা যাবে না।
আল্লাহর আকার : আল্লাহর আকার বিষয়ে বহু দলীল বিদ্যমান। নিম্নে একটি হাদীস উদ্ধৃত করা হলো, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَنَّ النَّاسَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، هَلْ نَرَى رَبُّنَا يَوْمَ القِيَامَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ لا : هَلْ تُضَارُّونَ فِي القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ؟ ، قَالُوا: لَا يَا
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহকে দেখতে পাব? তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কি অসুবিধা হয়? তারা বললেন, না; হে আল্লাহর রসূল। তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? তারা উত্তরে বললেন, না; হে আল্লাহর রসূল। তিনি বললেন, নিশ্চয় তোমরা এমনি ভাবে ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহকে দেখতে পাবে। আল্লাহ মানুষকে একত্র করে বলবেন, যে ব্যক্তি যে বস্তুর 'ইবাদাত করত, সে যেন (আজ) তার অনুসরণ করে। তখন যে সূর্যের 'ইবাদাত করত, সে সূর্যের অনুসরণ করবে, আর যে চাদের 'ইবাদাত করত, সে চাদের অনুসরণ করবে। আর যে বিভিন্ন ত্বাগূতের অনুসরণ করত, সে তাদের অনুসরণ করবে। শুধু মাত্র বাকী থাকবে এই উম্মাত তাদের মধ্যে মুনাফিক্বগণও থাকবে। তখন যে আকারে এই উম্মাতের লোকেরা আল্লাহকে চিনবে তা বাদ দিয়ে অন্য আকৃতিতে তিনি তাদের সামনে আসবেন এবং দাবী করবেন আমি তোমাদের রব, তারা বলবে, তোমার কাছ থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমরা এখানেই থাকব, আমাদের রব, আমাদের নিকট না আসা পর্যন্ত। আমাদের রব আমাদের নিকট আসলে আমরা তাকে চিনতে পারব। তারপর আল্লাহ তার আপন আকার নিয়ে তাদের সামনে হাজির হবেন যাতে তারা চিনতে পারে। তখন তারা বলবে আপনি আমাদের রব এরপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। (সহীহ আল বুখারী, আধুনিক প্রকাশনী ৬ষ্ঠ খণ্ড)
হাদীসের শিক্ষা : এই হাদীসে দু'টি প্রধান শিক্ষা রয়েছে। যথা : আল্লাহকে ক্বিয়ামতের ময়দানে জান্নাতিরা দেখতে পাবেন। আর যাকে দেখা যাবে তিনি নিরাকার নন।
আল্লাহ তার বান্দাদের সামনে ক্বিয়ামতের ময়দানে দুইবার হাজির হবেন।
ক) নিজের আকার যা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে মুসলিমগণ বিশ্বাস করেন, সে আকার পরিবর্তন করে আল্লাহ তাদের সামনে এসে আল্লাহ দাবী করবেন। কিন্তু মুসলিমদের আক্বীদার বিরোধ হওয়ায় তাকে আল্লাহ হিসেবে তারা স্বীকৃতি দিবেন না। বরং প্রকৃত আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাবেন।
খ) আল্লাহ তার আপন আকার নিয়ে ক্বিয়ামতের দিন মুসলিমগণের সামনে আসবেন।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহ নিজেই তার কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বর্ণনা দিয়েছেন

📄 আল্লাহ নিজেই তার কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বর্ণনা দিয়েছেন


কুরআন ও সহীহ হাদীসে আল্লাহর বহু গুণাবলী রয়েছে। অনুরূপ আল্লাহর বহু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রমাণও রয়েছে। নিম্নে তার কিছু বর্ণিত হলো,

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর মুখমণ্ডল বা চেহারা

📄 মহান আল্লাহর মুখমণ্ডল বা চেহারা


আল্লাহ নিজের মুখমণ্ডল বুঝানোর জন্য وَجُةٌ )ওয়াজ্হুন) শব্দ ব্যবহার করেছেন। আর এর অর্থ মুখমণ্ডল বা চেহারা। বিশ্ব বিখ্যাত আরবী অভিধানের লেখক লুয়েস মালুক বলেন,
“ওয়াজহুন” অর্থ শরীরের মুখমণ্ডল। যেখানে দু'টি চুখ, নাক ও মুখ থাকে। (আল মুনজিদ- পৃঃ ৯৮২, বুখারী- আধুনিক প্রকাশনী, ৪৬৮ পৃঃ)
বাংলাদেশের অনেকে এর অর্থ বিকৃত করে সত্তা অর্থ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ﴾
“আপনার রবের চেহারাই অবশিষ্ট থাকবে। যিনি মহত্ত্ব এবং দয়ার অধিপতি।” (সূরাহ্ আর রহমা-ন ৫৫ : ২৭) 'আলায়হি রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
أَعُوذُ بِوَجْهِكَ. আপনার মুখমণ্ডল দ্বারা আমি আশ্রয় চাচ্ছি। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৪৬২৮, ৭৩১৩, ৭৪০৬)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর চোখ

📄 মহান আল্লাহর চোখ


আল্লাহর দু'টি চোখও রয়েছে। যার সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা নিজেই বলেন: ﴿وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا﴾
“আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার নির্দেশক্রমে নৌকা নির্মাণ করে নাও।” (সূরাহ্ হৃদ ১১ : ৩৭) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মতানৈক্য যে, আল্লাহর চোখ দু'টি। আর দাজ্জালের হাদীসটি তার স্পষ্ট দলীল,
'আবদুল্লাহ বিন 'উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ -এর সামনে দাজ্জাল এর কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহ তোমাদের নিকট গোপন থাকবেন না। (বরং প্রকাশ্যে আসবেন এবং তোমরা দেখতে পাবে) আল্লাহ কানা নন। এ কথা বলে তিনি () তার হাত দিয়ে নিজের চোখের দিকে ইশারা করলেন আর মসীহ দাজ্জাল এর ডান চোখ কানা হবে। তার চোখ আঙ্গুরের মত হবে। তাতে দৃষ্টি শক্তি থাকবে না। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৭৪০৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00