📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহর সাথে সাদৃশ্য করা শির্ক

📄 আল্লাহর সাথে সাদৃশ্য করা শির্ক


আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন বরং তিনি আসমানে। এক শ্রেণীর মানুষ রয়েছে তারা বলে, আল্লাহ মানুষের অন্তরে বিদ্যমান এবং এক শ্রেণী রয়েছে যারা বলে আল্লাহ সর্বত্র বিদ্যমান। মানুষের অন্তরে আল্লাহ থাকলে একজন মানুষের অন্তরে একজন আল্লাহ স্বীকার করলে বহু আল্লাহর স্বীকৃতি প্রদান হয়। বর্তমানে ছয়শ' কোটি মানুষের জন্য ছয়শ' কোটি আল্লাহর প্রয়োজন হয়। আর এটা শির্ক। অপর দিকে আল্লাহকে সর্বত্র বিরাজমান বিশ্বাস করলে আল্লাহকে অপবিত্র মানা হয়। কেননা, পৃথিবীর সকল স্থানই পবিত্র নয়। যে স্থান অপবিত্র সে স্থানে আল্লাহ থাকলে তাঁর মহত্ব থাকে না তাই তিনি সর্বত্র নয়। বরং তার ক্ষমতা ও ইলম সবত্র রয়েছে। মহান আল্লাহ আসমানে 'আশের উপর রয়েছেন। কুরআন মাজীদে তিনি বলেন,
﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرٍ ﴾
“তোমরা কি ঐ আল্লাহ থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছ যিনি আসমানে রয়েছেন? তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীর মধ্যে ধ্বসিয়ে দিবেন। অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। না তোমরা ঐ আল্লাহ থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আকাশে রয়েছেন। তিনি তোমাদের ওপর পাথর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।” (সূরাহ্ মুল্ক ৬৭ : ১৬-১৭)
﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾
“তিনি পরম দয়াময় 'আরশের উপর সমাসীন রয়েছে।” (সূরাহ্ ত্ব-হা- ২০ : ৫)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মাওলানা মুহিউদ্দীন খান-এর বাংলা মা'আরেফুল কুরআনে যা দেয়া হয়েছে তা হুবহু তুলে ধরা হলো,
اِسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ - عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى. অর্থাৎ 'আরশের উপর সমাসীন হওয়া।
এ সম্পর্কে পূর্ববর্তী বুযুর্গগণের উক্তি হচ্ছে যে, এর স্বরূপ ও অবস্থা কারও জানা নেই। এটা مُتَشَبِهَاتٌ তথা দুর্বোধ্য বিষয়াদির অন্যতম। এরূপ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, 'আরশের উপর সমাসীন হওয়া সত্য। এ অবস্থা আল্লাহর শান অনুযায়ী হবে। জগতের কেউ তা উপলব্ধি করতে পারে না। (মা'আরেফুল কুরআন- ৮৪৫ পৃষ্ঠা)
আল্লাহর আকার বা আকৃতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট নমুনা পাওয়া যায় না। তাই সেদিকে না যাওয়াই মু'মিনের কর্তব্য। তবে আল্লাহর আকার বা আকৃতি আছে এটার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে অন্যথায় অসংখ্য আয়াত এবং হাদীস মিথ্যা হয়ে যায়।
ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, الْإِسْتَوَاءُ مَعْلُومٌ، وَالْكَيْفِيَةُ مَجْهُولٌ وَالسُّؤَالُ عَنْ هَذَا بِدْعَةٌ، وَالْإِيْمَانُ بِهِ وَاجِبٌ. ইসতাওয়া বা সমাসীন হওয়ার কথা জ্ঞাত, অবস্থা বা স্বরূপ অজ্ঞাত, সমাসীনের উপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত। (মুয়াত্ত্বা মালিক হাঃ ৫, দারিমী ৩৩ পৃষ্ঠা)
মু’আবিয়াহ্ বিন হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ-কে বললাম, একটি দাসী উহুদ ও জাওয়ানিয়্যাহ্’র পাশে আমার বকরী চড়াত। হঠাৎ করে বাঘ এসে একটি বকরী নিয়ে চলে গেল। আর আমি বানী আদমের একজন আফসোসকারী ব্যক্তি, যেমন তারা আফসোস করে। আমি দাসীকে একটি চড় মারলাম। আর এটা রসূলুল্লাহ আশায়ারী-এর নিকট বড় অপরাধ বলে গণ্য হল। অতঃপর আমি বললাম, তবে কি আমি তাকে আযাদ করে দিব? তিনি বললেন, তাকে নিয়ে আস। আমি তাকে নিয়ে আসলাম। নাবী দাসীকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আসমানে। রসূলুল্লাহ বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রসূল। রসূলুল্লাহ বললেন, তাকে আযাদ করে দাও। কেননা সে মু’মিনাহ্। (মুসলিম- হাঃ ৩৩-[৫৩৭], আবূ দাউদ হাঃ ৯৩০, মিশকাতুল মাসাবীহ হাঃ ৩৩0৩, বুখারী’র “জুযউল ক্বিরাআত”)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 অস্তিত্ব ও আকার আকৃতিতে যে বিশ্বাস আনতে হবে তার কিছু আলোচনা

📄 অস্তিত্ব ও আকার আকৃতিতে যে বিশ্বাস আনতে হবে তার কিছু আলোচনা


আল্লাহ কেমন। এই প্রশ্ন করলেই তার গুণাবলী চলে আসবে। এ ধরনের প্রশ্ন মানুষ করতে পারে। তাই আল্লাহ তা’আলা এর জবাবে বলেন,
﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴾
“তাঁর (আল্লাহর) মতো কোন কিছু নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরাহ্ আশ্ শূরা ৪২ : ১১)
অতএব তার গুণাবলী ঠিক তেমনি যেমন তার জন্যে উপযোগী হয়। এই বিষয়ে আলোচনার পূর্বে তাওহীদ সম্পর্কে যারা গভীর জ্ঞান রাখেন তারা ৬টি শর্তারোপ করেছেন।
১. تَأْوِيلٌ )তা’বীল) করা যাবে না; তাবীল অর্থ হচ্ছে, অপব্যাখ্যা করা, যেমন আরবী يَدٌ )ইয়াদুন) শব্দের অর্থ হচ্ছে হাত। ‘ইয়াদুন’ শব্দের অর্থ হাত না করে যদি অর্থ করা হয় শক্তি, সামর্থ্য, বল বা ক্ষমতা তাহলে ‘ইয়াদুন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করা হলো।
আল্লাহ তা'আলার সুমহান গুণাবলীর মধ্যে একটি গুণ হলো আল্লাহর হাত। এখানে অন্য কোন ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। বা অন্য কোন ব্যাখ্যা করা যাবে না। কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহ তা'আলার হাত আছে।
২. تَجْسِيمٌ (তাজসীম) ঠিক করা যাবে না, তাজসীম অর্থ হচ্ছে, দেহগঠন বা গঠনাকৃতি প্রকৃতি নির্ধারণ করা। যেমন এভাবে বলা যে আল্লাহর দেহ মানুষের মতো বা ফেরেশতার মতো বা অন্য কোন সৃষ্টির মতো (না'ঊযুবিল্লাহ)। আল্লাহর ব্যাপারে এমন ধরনের কোন ধারণা পোষণ করা যাবে না।
৩. تَمْثِيلُ وَتَشْبِيَهُ (তাম্সীল ও তাম্বীহ) পেশ করা যাবে না। তামসীল অর্থ হচ্ছে উদাহরণ পেশ করা বা নমুনা পেশ করা। আর তাশবীহ অর্থ হচ্ছে সাদৃশ্য স্থাপন করা। এভাবে বলা যে যেহেতু আল্লাহর হাত আছে, সেহেতু আল্লাহর হাত মানুষের হাতের মতো বা অন্য কোন সৃষ্টির হাতের মতো (না'ঊযুবিল্লাহ)। বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহর হাত অবশ্যই আছে, তবে আল্লাহর হাত আল্লাহর হাতের মতই। কোন সৃষ্টির সাথে তার উদাহরণ পেশ করা যাবে না। কোন সৃষ্টির সাথে আল্লাহর হাতের সাদৃশ্য নেই।
৪. تَكْيِف (তাকয়িফ) ধারণা করা যাবে না। তাকয়ীফ অর্থ হচ্ছে প্রকৃতি বর্ণনা করা বা তার ধরণ নির্ধারণ করা। আল্লাহর ব্যাপারে কোন প্রকৃতি বা ধরন বা কোন ধরনের আকৃতি ধারণা করা যাবে না। আল্লাহ তা'আলা মানব কল্পিত সব ধরনের প্রকৃতি, ধরণ বা আকৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। তিনি সর্বশ্রোতা-সর্বদ্রষ্টা আর তার শুনা ও দেখা তার মতই। কোন সৃষ্টি তার মত নয়। তিনি অতুলনীয় তার অনুরূপ সাদৃশ্য আর কেউ নেই।
৫. تَعْطِيلٌ)তা'ত্নীল) মনে করা যাবে না। তা-তীল অর্থ হচ্ছে কোন কিছুকে অকার্যকর মনে করা, ভঙ্গ করা, বাদ দেয়া, এক পর্যায় অস্বীকার করা। আল্লাহ তা'আলার সুমহান গুণাবলীকে অকার্যকর মনে করা, বাদ দেয়া বা অস্বীকার করা যাবে না। মহান আল্লাহর সুমহান গুণাবলীকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং তার গুণাবলীতে তিনি এক ও অদ্বিতীয় এ কথার ঘোষণা দেয়াই হচ্ছে ঈমান।
৬. আল্লাহ তা'আলা সকল সুমহান গুণাবলী জ্ঞাত ও পরিচিত, তার কৈফিয়ত বা ধরণ অদৃশ্য, সমস্ত গুণাবলীর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা অর্থাৎ সমস্ত গুণাবলীকে সত্য হিসেবে মেনে নেয়া ফার্য আর এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা বিদআত ও গুমরাহী। আল্লাহ তা'আলা ও আল্লাহর রসূল আল্লাহর যে সিফাত বা গুণ যেভাবে বর্ণনা করেছেন, কোন প্রশ্ন ছাড়াই সীফাত বা গুণকে মেনে নেয়াই হচ্ছে প্রকৃত ঈমান।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহ তা‘আলা কোথায় আছেন? ‘আর্‌শে, নাকি সর্বত্র বিরাজমান?

📄 মহান আল্লাহ তা‘আলা কোথায় আছেন? ‘আর্‌শে, নাকি সর্বত্র বিরাজমান?


এ প্রশ্নের জবাবে অনেকে (দলীল বিহীনভাবে) বলে থাকেন আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। এ কথা ভুল, সঠিক হলো আল্লাহ স্ব-শরীরে 'আরশের উপর বিদ্যমান এবং তার 'ইল্যু সর্বত্র বিরাজমান।
আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন। তিনি আসমানে 'আরশের উপর। এটি মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণ। যেহেতু আল্লাহ কোথায়। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষ তো দূরে থাক, বড় বড় 'আলিমদের মধ্যেও ভুল বিশ্বাস রয়েছে। তাই একটু বিস্তারিতভাবে নিচে আলোচনা করা হলো :
আল কুরআন : ১. আল্লাহ তা'আলা বলেন :
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের রব, যিনি আসমানসমূহ ও পৃথিবী ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি 'আরশে অধিষ্ঠিত হয়েছেন (উঠেছেন)।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭: ৫৪)
২. তিনি আরো বলেন : إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ ))
“তোমাদের রব আল্লাহ যিনি ছয়দিনে আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর 'আরশে সমুন্নত হয়েছেন। দিনকে রাতের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুত গতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি তারই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখ, সৃষ্টি তার, হুকুমও (চলবে) তার, মহীয়ান, গরীয়ান আল্লাহ বিশ্বজগতের রব।” (সূরাহ্ আর্ রা'দ ১৩ : ০২)
৩. তিনি আরো বলেন : إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ “নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ যিনি আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীকে ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি 'আরশে সমুন্নত হয়েছেন। তিনি যাবতীয় বিষয়াদি পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। ইনিই আল্লাহ তোমাদের রব। কাজেই তোমরা তাঁরই 'ইবাদাত করো, তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না।” (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ০৩)
৪. তিনি আরো বলেন : الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا ))
“তিনি আসমান, জমিন আর এ দুয়ের ভিতরে যা কিছু আছে তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর 'আরশে সমুন্নত হয়েছেন। তিনিই রহমান, কাজেই তার সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস কর যে এ সম্পর্কিত জ্ঞান রাখে।” (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫ : ৫৯)
৫. তিনি আরো বলেন : ۞ اَللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَّلَا شَفِيْعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ “আল্লাহ তিনিই যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এ দুয়ের মধ্যকার সব কিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি 'আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন।” (সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ৪)
৬. তিনি আরো বলেন : ۞ هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ “তিনিই সে সত্তা যিনি ছয়দিনে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি 'আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি জানেন যা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা কিছু তা হতে বের হয় এবং আকাশ হতে যা কিছু নামে, আকাশে যা কিছু উঠে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তোমাদের (জ্ঞান শক্তির মাধ্যমে) সাথে রয়েছেন। তোমাদের কর্মকাণ্ড আল্লাহ দেখছেন।” (সূরাহ্ আল হাদীদ ৫৭:৪)
৭. তিনি আরো বলেন : ۞ أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ “তোমরা কি তোমাদেরকে নিরাপদ মনে করে নিয়েছ যে, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদেরকে জমিনে বিধ্বস্ত করে দিবেন না যখন তা হঠাৎ থর থر করে কাপতে থাকবে।” (সূরাহ্ মুল্ক ৬৭ : ১৬)
৮. তিনি আরো বলেন: أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ ) “কিংবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠাবেন না যাতে তোমরা জানতে পারো যে, কেমন (ভয়ানক) ছিল আমার সতর্কবাণী।” (সূরাহ্ আল মুল্ক ৬৭ : ১৭)
৯. তিনি আরো বলেন : تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ) “মহাজ্ঞানী, পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ হতে কিতাবটি অবতীর্ণ হয়েছে।” (সূরাহ্ আল মু'মিন ৪০ : ২)
১০. তিনি আরো বলেন : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ ) “প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি তার বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন।” (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ১)
১১. তিনি আরো বলেন : مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ وَالَّذِينَ يَمْكُرُونَ السَّيِّئَاتِ لَهُمْ عَدَابٌ شَدِيدٌ وَمَكْرُ أُولَئِكَ هُوَ يَبُورُ “কেউ সম্মান-সুখ্যাতি চাইলে (আল্লাহকে উপেক্ষা করে তা লাভ করা যাবে না) সে জেনে নিক যাবতীয় সম্মান-সুখ্যাতির অধিকারী হলেন আল্লাহ। তারই দিকে উত্থিত হয় পবিত্র কথাগুলো আর সৎকাজ সেগুলোকে উচ্চে তুলে ধরে। যারা মন্দ কাজের চক্রান্ত করে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। তাদের চক্রান্ত নিষ্ফল হবে।” (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫ : ১০)
১২. তিনি আরো বলেন :
إِذْ قَالَ اللهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ إِلَى مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ﴾
“(স্মরণ করো) যখন আল্লাহ 'ঈসাকে বলেছিলেন, হে 'ঈসা! আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিব এবং তোমাকে আমার কাছে উঠিয়ে নিব এবং তোমাকে কাফিরদের (অতিরহিত কথা) হতে মুক্ত করব আর তোমার অনুসরণকারীদেরকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের ওপর বিজয়ী রাখব; অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবো যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ।” (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩ : ৫৫)
بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللهُ عَزِيزًا حَكِيمًا )
“বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১৫৮)
১৩. তিনি আরো বলেন :
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ ﴾
“তিনি সকল বান্দার ওপর পরাক্রমশালী। তিনি প্রজ্ঞাময় জ্ঞানী।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১৮)
১৪. তিনি আরো বলেন :
تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ )
“ফেরেশতা এবং রূহ (অর্থাৎ জিবরীল) আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।” (সূরাহ্ আল মা'আরিজ ৭০ : ৪)
১৫. তিনি আরো বলেন:
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى )
“তোমার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো." (সূরাহ্ আল আ'লা ৮৭: ১)
১৬. তিনি আরো বলেন :
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لَكُمْ مِنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ )
“তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন যাতে আছে তোমাদের জন্য পানীয় আর তাতে জন্মে বৃক্ষলতা যা তোমাদের পশুগুলোকে খাওয়াও।” (সূরাহ্ আন্ নাহ্ল ১৬ : ১০)
১৭. তিনি আরো বলেন :
يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ )
“তিনি আসমান হতে পৃথিবীর সবকিছু পরিচালনা করেন, অতঃপর একদিন সব কিছু তার সমীপে উঠানো হবে।” (সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ৫)
উপরোক্ত আয়াতসমূহ প্রমাণ করে আল্লাহ আসমানের উপর।
সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত আল্লাহ 'আরশের উপর : ১. আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান নন। তিনি আসমানের উপর। রসূলুল্লাহ বলেন, মহান আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এ কথা ভুল। সঠিক কথা হলো মহান আল্লাহর আকার রয়েছে তিনি 'আরশের উপর স্ব-শরীরে বিরাজমান।
সহীহ হাদীস থেকে দলীলসমূহ,
ওয়াসাল্লাম আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তখন আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকে? আমি তার ডাকে সাড়া দিবো। কে আমার কাছে প্রার্থনা করে? আমি তাকে দান করে দিবো। কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো। (বুখারী- হাঃ ১১৪৫, মুসলিম- হাঃ ১৮০৮, আবু দাউদ হাঃ ৪৭৩৫, তিরমিযী- হাঃ ৩৮৩৭, আহমাদ হাঃ ৭৮০৪, ইবনে মাজাহ হাঃ ১৪২৮)
২. রসূলুল্লাহ আরো বলেন: 'আলায়হি ওরাসাল্লাম
'আনহু 'আলায়হি ওরাসাল্লাম আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : প্রত্যেক সপ্তাহে দুইবার সোমবার ও বৃহস্পতিবার সমস্ত মানুষের 'আমল আল্লাহ তা'আলার দরবারে পেশ করা হয় এবং প্রত্যেক মু'মিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না যে, আপন কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। তাদের সম্পর্কে বলা হয় আপোষ হতে পারে সেই পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দাও। (সহীহ মুসলিম- হাঃ ৩৬-[২৫৬৫], মিশকাত- হাঃ ৪৮১০)
উক্ত হাদীসে সোমবার ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহর নিকট 'আমাল উঠানোর কথা এসেছে। সুতরাং আল্লাহ আসমানের উপর রয়েছেন।
৩. তিনি () আরো বলেন :
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو اِمْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا، فَتَأْبَى عَلَيْهِ، إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا.
“সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বিছানার দিকে ডাকবে কিন্তু সে বিছানায় আসতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে যিনি আকাশের উপর রয়েছেন তিনি তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন যে পর্যন্ত না তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট হবে।" (সহীহ মুসলিম- হাঃ ২১-[১৪৩৬])
৪. রসূলুল্লাহ আরো বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: لَمَّا قَضَى اللَّهُ الخَلْقَ، كَتَبَ عِنْدَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ: إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي.
যখন আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করলেন। তখন তার নিকট 'আরশের উপরে একটি কিতাবে লিখেছেন, নিশ্চয় আমার রহমত আমার গজবের উপর জয় লাভ করেছে। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৭৪৫৩, সহীহ মুসলিম- হাঃ ৭১৪৫, মুসনাদে আহমাদ হাঃ ৭৭৪০, তিরমিযী- হাঃ ৩৮৮৮)
নিশ্চয় 'আর্শ সপ্তম আসমানের উপর। এর উপর আল্লাহ রয়েছেন।
সহাবীদের বক্তব্য :
১. প্রথম খলীফা আবূ বাক্স সিদ্দীক্ব বলেন,
فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ : أَمَّا بَعْدُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا ﷺ، فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ، وَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ اللَّهَ فَإِنَّ اللَّهَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ.
যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ -এর 'ইবাদাত করে সে জেনে রাখুন মুহাম্মাদ মৃত্যু বরণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর 'ইবাদাত করে সে জেনে রাখুক আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর রয়েছেন তিনি চিরঞ্জীব। তার মৃত্যু নেই। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ১১৬৫)
২. দ্বিতীয় খলীফা 'উমার ইবনুল খাত্ত্বাব হতে বর্ণিত, তিনি একদা এক বৃদ্ধা মহিলার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ঐ মহিলা তাকে দাড়াতে বললেন। 'উমার দাঁড়ালেন এবং তার সাথে কথাও বললেন। ইতোমধ্যে একলোক 'উমার এর উদ্দেশে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি তো এ মহিলার জন্য লোকেদেরকে আটকে 'আনহু ফেললেন (অর্থাৎ সবাই দাঁড়িয়ে রয়েছে)। 'উমার বললেন, সর্বনাশ! তুমি জান কি এই মহিলাটি কে? তিনি সেই মহিলা যার অভিযোগ সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেছেন। (শারহে আকীদাতুত্ তাহাবী পৃঃ ৩৭৯, ইসদুল গাবা ৭/৯১-৯২, কিতাবুর রদ্দ জাহমিয়া ২৬, তাফসীর ইবনু কাসীর ৪/৩৩৬)
ইমামদের অভিমত :
১. ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) [জন্ম ৮০ মৃত্যু ১৫০ হিঃ] বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ 'আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন এ অবস্থায় যে, 'আরশের প্রতি তার কোন প্রয়োজন নেই এবং তার উপর স্থির হয়ে থাকারও কোন প্রয়োজন নেই। (শারহুল ফিকহিল আকবার, পৃঃ ৬১)
২. ইমাম মালিক (রহঃ) (জন্ম ৯৩- মৃত্যু ১৭৯ হিঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর রয়েছেন। আর তার জ্ঞান রয়েছে সর্বত্র। কোন স্থানই তার জ্ঞানশূন্য নয়। (আল ইন্তিকা পৃঃ ৩৫, মাজমা'উল ফাতাওয়া ৫/৫৩, ইতিকাদুল আয়িম্মাহ্ আল আরবায়া ৩০, মাসাইলুল ইমাম আহমাদ পৃঃ ২৬৩)
৩. ইমাম শাফি'ঈ (রহঃ) [জন্ম ১৫০- মৃত্যু ২০৪ হিঃ] বলেন, আল্লাহ তা'আলা আসমানে 'আরশের উপর রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি যেভাবে ইচ্ছে করেন নিজ সৃষ্টির নিকটবর্তী হন এবং তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেন দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। (ই'তিকাদুল আয়িম্মাহ্ আল আরবায়া ৪০, ইজতিমাউল জুযুশ ১৬৫, মাজমা'উল ফাতাওয়া ৪/১৮১, মুখতাসারুল উলুলিল আলবানী ১৭৬)
ইমাম শাফি'ঈ (রহঃ) আরো বলেছেন, আখেরাতে আল্লাহ তা'আলাকে চাক্ষুষ দেখা যাবে, ঈমানদারগণ তার দিকে তাকিয়ে থাকবেন। তারা তার কথা শুনতে পারবেন এবং তিনি 'আরশের উপর রয়েছেন। (মাজমু'আ ফাতাওয়া 'আব্দুল হাই, পৃঃ ২৬)
৪. ইমাম আহমাদ (রহঃ) (জন্ম ১৬৪ - মৃত্যু ২৪১ হিঃ) বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর রয়েছেন। (ই'তিকাদুল আয়িম্মাতিল আরবায়া পৃঃ ৬৪)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহর আকৃতি

📄 আল্লাহর আকৃতি


মহান আল্লাহর আকৃতি বা আকার রয়েছে। যা আমরা ইতিপূর্বে কুরআন ও সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণ পেশ করেছি। কিন্তু তার আকার কেমন, কি অবস্থায় তিনি আছেন, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেমন, এটা তিনি আমাদেরকে বলে দেননি। তাই আমাদের বিশ্বাস তার অবস্থান, আকৃতি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার শান অনুযায়ী হবে।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেন,
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
“কোন কিছুই তার সাদৃশ্য নেই, তিনি সবকিছুই শুনেন এবং দেখেন।” (সূরাহ্ আশ্ শূরা ৪২: ১১)
আল্লাহর আকার সম্পর্কে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেন,
وَلَهُ وَجْهُ وَنَفْسٌ كَمَا ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ : فَهُمَا ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ مِنْ ذِكْرِ الْوَجْهِ وَالْيَدِ وَالنَّفْسِ فَهُوَ لَهُ صِفَاتٌ بِلَا كَيْفٍ وَلَا يُقَالُ إِنَّ يَدَهُ قُوَّتُهُ أَوْ نِعْمَتُهُ لِأَنَّ فِيْهِ ابْطَالُ الصِّفَةِ وَهُوَ قُوْلُ أَهْلِ الْقَدْرِ وَالْإِعْتِزَالِ.
আল্লাহর মুখমণ্ডল ও দেহ আছে যেমন মহান আল্লাহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন। কুরআনের বর্ণনায় আল্লাহর চেহারা, হাত, দেহের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা আল্লাহর দৈহিক বৈশিষ্ট্য। আমরা তার ঐ সকল অঙ্গের বিষদ বিবরণ অবগত নই। কেউ যেন আল্লাহর হাতকে কুদরতী হাত বা তার নিয়ামত না বলে। কেননা তাতে তার সিফাত বা গুণাবলীকে অস্বীকার করা হয়। আর যারা কুদরতী হাত বলে তারা কাদরিয়াহ ও মু'তাযিলাহ্ সম্প্রদায়ের লোক। (ইমাম আবু হানীফার ফিকহুল আকবার মোল্লা 'আলী ক্বারী হানাফীর শরাহসহ দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত ৫৮-৫৯ পৃষ্ঠা)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00