📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহ কেমন?

📄 মহান আল্লাহ কেমন?


মহান আল্লাহ তিনি তার মতই। তার মত কেউ নেই এবং তিনিও কারো মত নন। সৃষ্টির কোন কিছুর সঙ্গে তার তুলনা দেয়া যাবে না। যেমন তিনি বলেন,
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴾
“তার মত কিছুই নয়। তিনি সব শুনেন এবং জানেন।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ৬৫)
তিনি নিরাকার নন, বরং তার আকার রয়েছে, অস্তিত্ব রয়েছে আর এ কারণেই নাবী মুহাম্মাদ মি'রাজ রজনীতে সাত আসমান পাড়ি দিয়ে তার অবস্থান স্থান 'আরশে 'আযীমে পৌঁছান এবং তার আকার আছে বিধায় ডাইরেক তার সঙ্গে কথা বলেন। পাঁচ ওয়াক্ত সলাত 'আরশে বসেই আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন। চর্ম চোখে তাকে দেখা সম্ভব নয় এ কারণেই নাবী মুহাম্মাদ পর্দার আড়ালে বসে তার সঙ্গে কথা বলেন। মা 'আয়িশাহ্ সিদ্দীক্বা বলেন যে বলবে নাবী মুহাম্মাদ স্বচক্ষে আল্লাহকে দেখেছে সে মিথ্যাবাদী। (বুখারী)
ক্বিয়ামাতের দিনের আগে কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় তাকে স্বচক্ষে দেখা। মানুষ তো এমন যে, যে জিনিস চোখে দেখা যায় না সে জিনিস স্বপ্নেও দেখে না। তাই দুনিয়াবী জীবনে স্বপ্নে হোক আর স্বচক্ষে হোক কোন অবস্থায়ই আল্লাহকে দেখা যাবে না। মূসা আলায়হি আল্লাহকে দেখতে চেয়েছিলেন কিন্তু দুনিয়াবী জীবনে দেখা সম্ভব নয়। তাই মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন বলেন,
لَنْ تَرَانِي وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكَّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ *
“তিনি (মহান আল্লাহ) বললেন : 'তুমি আমাকে কক্ষনো দেখতে পাবে না, বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকতে পারে তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।' অতঃপর তার প্রতিপালক যখন পাহাড়ে নিজ জ্যোতি বিচ্ছুরিত করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল আর মূসা চৈতন্য হারিয়ে পড়ে গেল। যখন চেতনা ফিরে পেল, তখন সে বলল, পবিত্র তোমার সত্বা, আমি অনুশোচনাভরে তোমার পানেই ফিরে এলাম, আর আমি প্রথম ঈমান আনছি।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৪৩)
এ থেকে শিখার বিষয় হল কোন মানুষ যদি বলে আল্লাহকে একবার, শতবার, হাজার বার দেখেছে, সে মিথ্যুক।
মহান আল্লাহ স্বশরীরে সাত আসমানের উপরে 'আরশে 'আযীমে অবস্থিত। তিনি সেখানে অবস্থান করেই সব পরিচালনা করেন। এবং শুধু পৃথিবী নয় রবং এ মহাশূন্যে ভাসমান পৃথিবীর চাইতে বহুগুণে বড় এ রকম অসংখ্য জগত রয়েছে আর এ সমস্ত জগতের মাঝে কোথায় কে কি করছে, কোথায় কি আছে, কি হচ্ছে, 'আর্শে বসেই তিনি সব কিছু শুনেন এবং দেখেন, তার 'ইল্ম, জ্ঞান, শক্তি, প্রতিপত্তি, মাগফিরাত, রহমত সর্বত্র বিরাজমান।
পবিত্র কুরআন এবং সহীহ হাদীসসমূহে অসংখ্য দলীল রয়েছে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলারও রয়েছে একটি পবিত্রতম দেহ বা শরীর। যা অনেক শক্তিশালী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারাই গঠিত। যার প্রমাণ নিম্নে বর্ণিত হল।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহর সঠিক পরিচয় জানবেন কেন?

📄 আল্লাহর সঠিক পরিচয় জানবেন কেন?


আল্লাহ সম্পর্কে জানবেন কেন? এর বহু কারণ রয়েছে; এর মধ্যে চারটি কারণ অন্যতম। কারণ চারটি এই : (ক) আল্লাহর সম্পর্কে ভ্রান্ত 'আক্বীদাহ্ বর্জনের জন্যে (খ) আল্লাহর প্রতি সঠিক 'আক্বীদাহ্ গ্রহণের জন্যে (গ) আল্লাহর পরিচয়ের সাথে কাউকে শরীক না করার জন্য (ঘ) ভয়াবহ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যে।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহর সমকক্ষ তৈরির ব্যাপারে ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্

📄 আল্লাহর সমকক্ষ তৈরির ব্যাপারে ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্


মুশরিকদের একটা নিয়ম ছিল তারা কোন প্রকার সমস্যায় পড়ে গেলে তাদের যে মক্কা ঘরে ৩৬০ টি মূর্তি বা আরো বেশি দেব-দেবি ছিল যাদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে রেখেছিল তাদের প্রকার ভেদে একেক জনের কাছে একেক প্রকার সমস্যা দূর করার জন্য অভিযোগ পেশ করত। এক আল্লাহই যে সমস্ত প্রকার অভিযোগ শুনবেন এবং পূরণ করতে পারেন এই বিশ্বাস তাদের ছিল না। তাই বিভিন্ন দেব দেবীর কাছে তারা ছুটাছুটি করত।
অনুরূপ দেখা যায় ঠিক একই নিয়মে অনেক কালিমা পড়া মুসলিমেরাও কোন প্রকার বিপদে পড়ে গেলে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দিকে ধাবিত না হয়ে বা হওয়ার পরেও দেখা যায় কোন না কোন মাখলুকের কাছে যেয়ে ধর্ণা দেয়। কেউ আবার কোন পীর বা ক্বর ওলার কাছে যেয়ে বলছে ওহে, মেরে মকছুদ পূরা করদে। অনুরূপ আরেকজনের কাছে যেয়ে সন্তানের জন্য, চাকরীর জন্য, ব্যবসায় উন্নতির জন্য, তার মনসন্তুষ্টি কামনা করে, মাকছুদ হাসিলের জন্য তার নিকট আবেদন করছে। কেউ বা বলছে ওহে, গুরু ভজনা, গুরু বিনা মুক্তি পাবি না। গুরু নামে আছে শুধা যিনি গুরু তিনি খোদা, না'ঊযুবিল্লাহ। দেখা যায় এ ধরনের একশ্রেণীর لَا إِلَهَ إِلَّا الله। পড়া মুসলিমদের সামনে পূর্ব যুগীয় মুশরিকেরাও হেরে যাচ্ছে।
মুক্তির মালিক সমস্ত প্রকার সাহায্যের মালিক শুধুমাত্র মহান আল্লাহ। তবে মানুষ মানুষের কাছে এতটুকু চাইতে পারে যতটুকু দেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন তাও শুধু জীবিত মানুষের কাছে কোন মৃত মানুষের কাছে নয়, যেটা মানুষের দেয়া সম্ভব নয় সেটাও যদি কারো কাছে যেয়ে পেয়ে যায়। যেমন তাবীয, তাগা, বালা ব্যবহার করার পর যদি দেখা যায় রোগ ভালো হয়েছে তাহলে বুঝতে হবে এটা তার তাকদীরের ফায়সালা আগের থেকে হয়ে রয়েছে যে অমুক সময় তার রোগ ভালো হবে অমুক সময় সন্তান হবে চাকুরী হবে তাই তাকদীর অনুযায়ী এটা হয়েছে। দুনিয়ার কোন মাখলুক তাবীয, তাগা, বালার ক্ষমতায় এটা হয়নি। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছে। মাঝখানে শয়তান এসে মাজারের প্রতি তাবীযের প্রতি বিশ্বাস জন্মিয়ে তাকে ঈমানহারা করে শিরকের মাঝে ফেলে যাচ্ছে।
কোন মৃত মানুষ জীবিতদের কিছু দিতে পারে না। এমনকি নাবীরাও পর্যন্ত মৃত্যুর পরে কাউকে কোন উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। যদি পারতেন তাহলে নাবী মুহাম্মাদ মৃত্যুর পর 'আয়িশাহ্ সিদ্দীক্বা এবং মু'আবিয়ার মাঝে যুদ্ধ সংঘটিত হলে মুসলিমদের যে বিপুল ক্ষতি হয়েছিল অবশ্যই তিনি তা ফিরাতেন। কলিজার টুকরা হুসায়ন-কে যে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছিল তিনি তা ফিরাতেন। 'উমার ইস্তিষ্কার সলাত আদায় করতে যেয়ে মৃত্যু নাবী মুহাম্মাদ -এর ওয়াসীলাহ্ না দিয়ে জীবিত চাচা 'আব্বাস-এর ওয়াসীলায় দিয়ে দু'আ করেছিলেন। কারণ তিনি ভালো করেই জানতেন মৃত্যুদের কোন ক্ষমতা নেই কারো কিছু করার। এমনকি তাদের ওয়াসীলাহ্ দিয়ে দু'আ করলে সেটাও হবে শিক।
নাবী আলায়হিস সালাম-গণ এবং শহীদরাও কিছু কিছু নেক বান্দাদের যদিও মৃত্যুর পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে রিযিক দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তারা জীবিত। সেটা হল ক্বরের জিন্দেগীতে দেহগতভাবে তাদের অক্ষত রাখা হবে। কিন্তু রূহ চলে যাবে ইল্লিয়্যিন নামক স্থানে।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِن لَّا تَشْعُرُونَ ) “যারা আল্লাহর রাস্তায় জীবন দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত কিন্তু তোমরা তা বুঝবে না।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৫৪)
তারা জীবিত কিন্তু এ ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই। তোমরা তা বুঝবে না। তাদের জীবিত অর্থ হচ্ছে দেহগতভাবে তারা ক্বরের জিন্দেগীতে জীবিত। কিন্তু রূহ বা আত্মা নফস্ নিয়তগতভাবে তারা মৃত্যুবরণ করে দুনিয়ার জীবন থেকে পাড়ি দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।
এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন নিজেই নাবী মুহাম্মাদ ওয়াসাল্লাম -কে সম্বোধন করে বলেন, إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيْتُونَ ﴾ “তুমিও মরবে আর তারাও মরবে।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ৩০)
অর্থাৎ- হে নাবী! আপনার পূর্বে যারা এসেছিল তারা মরে গেছে, সুতরাং আপনিও একদিন মৃত্যুবরণ করবেন।
রসূলুল্লাহ যখন মৃত্যুবরণ করলেন তখন 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ওয়াসাল্লাম না মৃত্যুবরণ করেননি। তখন আবূ বাক্ রদিয়াল্লাহু আনহু আয়াত পেশ করলেন,
"কাজেই যদি সে মারা যায় কিংবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা উল্টাদিকে ঘুরে দাঁড়াবে?" (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩: ১৪৪)
অর্থাৎ পূর্ব ধর্মে ফিরে যাবে। 'উমার তখন থরথর করে কাঁপছিলেন এবং আয়াত মনে না থাকায় বলছিলেন আমার মনে হয় এই আয়াত সবেমাত্র নাযিল হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)
উক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় নাবী অবশ্যই মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা তাদের সম্পর্কে জীবিত ধারণা করেন এবং দুনিয়াবী ক্ববরে জিন্দা নাবী হায়াতুন নাবী বলে সম্বোধন করেন, তাদের ক্বরের পাশে যেয়ে সালাম দিলে তিনি শুনতে পান এবং সালামের জবাব দেন ডাক দিলে হাত বের করে দেন, কারো বা এই বিশ্বাস নাবীরা করে জিন্দা এবং সলাতরত অবস্থায় তাদের এসব ভ্রান্ত ধারণাকে খণ্ডন করার জন্য মহান আল্লাহ নিজেই বলেন,
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ
“তার চেয়ে অধিক গুমরাহ কে, যে আল্লাহ্র পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তাকে সাড়া দেবে না, আর তাদের ডাকাডাকি সম্পর্কেও তারা (একদম) বেখবর?।” (সূরাহ্ আল আহাক্বাফ ৪৬ : ৫)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহর সম্পর্কে ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্ পোষণ করা মুশরিকদের নীতি

📄 আল্লাহর সম্পর্কে ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্ পোষণ করা মুশরিকদের নীতি


আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত 'আক্বীদাহ্ ছেড়ে দেয়া ফার্য। এমনকি ভ্রান্ত, মন্দ, খারাপ 'আক্বীদাহ্ বাদ না দিলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। আল্লাহ বলেন,
وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ الظَّانِينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السَّوْءِ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ
“এবং মুনাফিক্ব পুরুষ, মুনাফিক্ব নারী, মুশরিক পুরুষ ও মুশরিকা নারী যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মন্দ ধারণা রাখে তাদেরকে আল্লাহ শাস্তি দিবেন।” (সূরাহ্ আল ফাত্‌হ ৪৮: ৬)
খুবই আশ্চর্যের বিষয় অধিকাংশ মুসলিম এর 'আক্বীদাহ্ সঠিক নয়। কারণ তারা সঠিকভাবে আল্লাহকে চেনেন না। এর মধ্যে শামিল রয়েছেন সাধারণ মানুষ। উচ্চশিক্ষিত ও বহু পি-এইচ.ডি সম্মান অর্জনকারী। ইসলামী সংগঠনের নেতা ও কর্মীগণ, মুরশিদ ও মুরীদগণ, কতিপয় 'আমীর ও মামুরগণ, দেশ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন 'আলিমে দ্বীনগণ, যুগ যুগ ধরে তাফসীর ও হাদীস পাঠদানকারী শিক্ষক ও ছাত্রগণ, হাদীসের অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারী শাইখুল হাদীস ও মুফাস্সিরগণ।
নিম্নে মানব সমাজে বিভিন্ন 'আক্বীদায় বিশ্বাসীদের আল্লাহর সম্পর্কে ভ্রান্ত 'আক্বীদার একটি প্রতিবেদন আলোচনা করা হলো :
জাহমিয়াহ্: আল্লাহ এমন একটি শূন্য সত্তা, যার শ্রবণ, দর্শন ও দয়াগুন কিছুই নেই। আল্লাহ হলো নাম ও গুনহীন সত্তা। তিনি সর্বত্র বিরাজমান, তিনি 'আরশের উপর নেই। এদের নিকট আল্লাহর হাত অর্থ শক্তি, এরাই আল্লাহর গুণাবলীকে প্রথম পরিবর্তন করে। এরা হলো জাহমিয়াহ্। জাম ইবনু সাওয়ান সমরকন্দী (১২৮ হিঃ) ইয়াহূদীদের প্রবঞ্চনের শিকার হয়ে ইসলামের মধ্যে এ বিভ্রান্তির অনুপ্রবেশ করান। অবশ্য এ অপরাধে আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডে তাকে ফাঁসী দেয়া হয়- (ইমাম তাকিউদ্দীন আহমাদ ইবনু তাইমিয়াহ্ [৬৬১-৭২৮ হিঃ], মাজমা'উল ফাতাওয়াহ্- ২য় খণ্ড, পৃঃ ৪৬৬)। তার ফাঁসী হলেও তার অনুসারীরা এ ভ্রান্ত 'আক্বীদাহ্ পোষণ করতে থাকে। এর ফলে তার নামে জাহমিয়াহ্ মাযহাব সৃষ্টি হয়।
মুতাযিলাহ্ : আল্লাহ হলেন এমন সত্তা যার কোন গুণাবলী নেই। এদের মতে আল্লাহ 'ইল্‌ম (জ্ঞান) ছাড়াই 'আলিম (সর্বজ্ঞ), কুদরত (শক্তি) ছাড়াই ক্বদীর (সর্বশক্তিমান) হায়াত (জীবন) ছাড়াই হাই (চিরঞ্জীব) ইত্যাদি- (মুহাম্মাদ বিন 'আবদুল করীম শাহরস্তানী, আল মিনাল ওয়ান নিহাল- বৈরুত : দারুল মারিফাহ্ তাবি ১ম খণ্ড, পৃঃ ৮৫-৯১)
এরা হলো মুতাযিলাহ্ মাযহাবের অনুসারী। এদেরই ইমাম হলেন ওয়াসিল বিন 'আত্বা (৮০-১৩১)।
আশ্আরিয়াহ্: আল্লাহ হলেন এমন সত্তাত যিনি 'আলিম (সর্বজ্ঞ) ক্বদীর (সর্বশক্তিমান), হাই (চিরঞ্জীব), মুরীদ (ইচ্ছাকারী), মুতাকাল্লিম (কথক), সামী (শ্রোতা), বাসীর (দ্রষ্টা)। এই কয়টি গুণ ছাড়া তাঁর আর কোন গুণ নেই। তারা আল্লাহর অন্যান্য গুণাবলী অস্বীকার করেন। (প্রাগুক্ত)
এরা হলো আশ্আরিয়াহ্ মাযহাবের অনুসারী। এদের ইমাম হলেন আবুল হাসান 'আলী বিন ইসমা'ঈল আশ্'আরী। আল্লাহর রহমাতে ইমাম সাহেব তার ভুল বুঝতে পেরে ৩০০ হিঃ মুসলিম হয়ে যান। (প্রাগুক্ত) কিন্তু তার মাযহাবটি থেকে যায়।
মুজাজ্জামি'আহ্ : আল্লাহ এমন সত্তা যার নাম ও গুণাবলী আছে। তার আকার আছে, যেমন- মানুষের আকার আছে। এরা হলো মুজাজ্জামি'আহ্ (কায়াবাদী) মাযহাবের অনুসারী। (ইমাম আবুল হাসান আল আশ্আরী, আল ইবানাহ্ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ)
হুলূলিয়াহ্ : আল্লাহ এমন নাম ও গুণাবলী সম্পূর্ণ সত্তা যিনি সৃষ্টিজীবের সঙ্গে মিশে থাকেন। এরা হুলূলিয়াহ্ সর্বেশ্বরবাদ মাযহাবের অনুসারী। (শরহস্তানী, আল মিলাল, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৯৩, ১০৫, ১০৮) এদের 'আক্বীদাহ্ হলো মু'মিনদের হৃদয় আল্লাহর 'আর্শ। এরা ভাবেন মানুষ, পশু ও পৃথিবীর সব কিছুই মূলতঃ আল্লাহ। না'ঊযুবিল্লাহ।
হিন্দুয়ানী 'আক্বীদাহ্:
আল্লাহ তিনি যিনি অদৃশ্য ও নিরাকার অথচ সর্বত্র বিরাজমান- (ইমাম তায়মিয়্যাহ্, আল ওয়াসিয়্যাতুল কুবরা, ইসকানদারিয়া, দারুল বাসিয়া, তাবি, পৃঃ ৪১)। এখানে আল্লাহর পরিচয়ে তিনটি শব্দ এসেছে। যথা:
(১) অদৃশ্য, (২) নিরাকার ও (৩) সর্বত্র বিরাজমান।
এই তিনটির মধ্যে আল্লাহ অদৃশ্য তা ঠিক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শব্দদ্বয় ঠিক নয়। কারণ এটি জাহমিয়াহ্ ও হিন্দুয়ানী 'আক্বীদাহ্- (ইসলাম শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক, ঢাকা বোর্ড, পৃঃ ২৩-২৫)। যেমন- হিন্দু ধর্মে রয়েছে। ঈশ্বর। তিনি এক অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার ও সর্বব্যাপী। আল্লাহ নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান- এই 'আক্বীদাহ্ জাহমিয়া ও হিন্দুদের নিকট থেকে আমদানী হয়ে ভারত উপমহাদেশের প্রায় মুসলিমদের 'আক্বীদায় পরিণত হয়েছে।
নোট : উক্ত ‘আক্বীদাগুলো সব পথভ্রষ্ট 'আক্বীদাহ্। কোন সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ হলেন নাম ও গুণাবলী সংযুক্ত সত্তা। তাঁর গুণাবলী আশ্'আরীদের ন্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তেমনি হুলুলিয়্যাহ্-সর্বেশ্বরবাদীদের ও কায়াবাদীদের ন্যায় সাদৃশ্যমূলক নয়। বরং আল্লাহর গুণাবলী আল্লাহর মতই। তিনি নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান নয়। কেউ জেনে বুঝে স্বজ্ঞানে আল্লাহকে নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান ও উপরের বর্ণিত 'আক্বীদাহ্ বিশ্বাস করলে সে তাদের মাযহাবেরই অন্তর্ভুক্ত হবেন। চিন্তা করে দেখুন আপনি মুসলিম থাকবেন কিনা। উযূ করার পর বায়ু (বাতাস) বের হলে যেমন উযূ থাকে না। রোযা অবস্থায় দুপুরে জেনে বুঝে খাবার খেলে যেমন রোযা থাকে না। কোন একজন 'আলিম ব্যক্তিও যদি সুন্দর টুপি পরে সুন্নাতী লেবাস পরে উত্তম খুশবু মেখে সলাতের জন্য মাসজিদে আসে কিন্তু সে উযূ করেনি। এই ব্যক্তির সলাত যেমন হবে না ঠিক তেমনি উক্ত 'আক্বীদাহ্ পোষণ করলে ঈমান তার থাকবে না।
উপরোল্লিখিত সকল ভ্রান্ত 'আক্বীদাহ্ হতে আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00