📄 ইসলাম ধর্মে স্রষ্টার ধারণা
ইসলামে সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পরিচয় মহিমান্বিত কুরআনের সূরাহ্ ইখলাসের চারটি আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدُ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدُ
“১. বল, তিনি আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়, ২. আল্লাহ কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, সবই তাঁর মুখাপেক্ষী, ৩. তিনি কাউকে জন্ম দেন না, আর তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি এবং ৪. তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।” (সূরাহ্ ইখলাস ১১২: ১-৪)
কোন মানুষ যদি স্রষ্টা হওয়ার দাবী করে তাকে অবশ্যই সূরাহ্ ইখলাসের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এ সূরায় বর্ণিত আল্লাহর গুণাবলী একক ও অদ্বিতীয়। ফলে মিথ্যা স্রষ্টার দাবীদাররা এ আয়াতগুলোর শর্তের মাধ্যমে ধ্বংস হবে। তারা বুঝে শুনে এর দাবী মানতে পারেনি বিধায় তারা ছিল মুশরিক।
পূববর্তী সকল ধর্মেরই মূল দা'ওয়াত ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ অবশ্য পরবর্তীতে ইসলাম এসে পূববর্তী ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে রহিত করে দিয়েছে। অত্র আলোচনা থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়। তখনকার সময় নাবী-রসূলদের দা'ওয়াত পেয়ে যারা لَا إِلَهَ এর চারটি দাবীকে ছাড়তে পারেনি আল্লাহর ভাষায় তাদের বলা হয় মুশরিক। বর্তমান সময়েও এই কালেমার অনেক দাবীদার মুসলিম রয়েছে তারা কালেমা ঠিক মুখে স্বীকার করছে কিন্তু لَا إِلَهَ এর শির্কী নিষেধাজ্ঞা চারটি দাবীকে ছাড়তে পারছে না। অথচ এই যুগে তাদেরকে কেউই মুশরিক বলছে না। কিন্তু দুনিয়ার মানুষ তাদেরকে মুশরিক না বললেও আল্লাহ রব্বুল 'আলামীন তাদেরকে মুশরিক বলতে বাদ দেননি। পবিত্র কুরআনে তাদের শানে মহান আল্লাহ বলেন :
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ ) “অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিকও করে।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৫)
ফলে তারা মুশরিক। অর্থাৎ- ঈমান এনেও তাঁরা মুশরিক।
মূলত পূববর্তী এবং পরবর্তী সকল যুগের সকল ধর্মের দা'ওয়াতের সর্বপ্রথম বাণীই ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ যারা لَا إِلَهَ এর চারটি শিক্বী দাবীকে ছাড়তে পারেনি তারা হল মুশরিক। আর যারা لَا إِلَهَ এর চারটি শির্কী দাবীকে ছেড়ে এক সত্য ১ (ইলাহ)-কে গ্রহণ করেছে তারাই হল মু'মিন।
কালিমাতুত্ ত্বইয়িবাহ্ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ এর সঠিক অর্থ অনুধাবন করতে পারলেই তার জন্য তাওহীদ বুঝা অতি সহজ হয়ে যাবে। তাওহীদ হল ইসলামের মূল, মূল বা ফাউন্ডেশন ছাড়া যেভাবে বিল্ডিং টিকে না ঠিক তেমনিভাবে বিশুদ্ধ তাওহীদবাদী না হয়ে যতই সুন্দর সুন্দর 'আমাল করুক না কেন সে 'আমালে তার বিন্দুমাত্রও লাভ হবে না। এমনকি তার 'আমাল নামা ক্বিয়ামাতের দিন ওজন করার জন্য মীযানের পাল্লায়ও তুলা হবে না।
সে 'আমালই তার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন, قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعَ ) A
"বল, 'আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেব নিজেদের 'আমালের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?' তারা সে সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক কাজই করছে।” (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ১০৩-১০৪)