📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 পৃথিবীর প্রত্যেক প্রসিদ্ধ ধর্মগুলোতে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবা لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ -এর দা‘ওয়াত যেভাবে এসেছে

📄 পৃথিবীর প্রত্যেক প্রসিদ্ধ ধর্মগুলোতে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবা لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ -এর দা‘ওয়াত যেভাবে এসেছে


পৃথিবীর প্রত্যেক প্রসিদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলোেত কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার দা'ওয়াতের কথা বিদ্যমান রয়েছে। একমাত্র নাস্তিকেরা ছাড়া সকল ধর্মের লোকেরাই لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهَ পবিত্র এই কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার অর্থ তারা বুঝে ও জানে। মুখে উচ্চারণও করে থাকে। কিন্তু কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অক্ষর ১ এর মধ্যে যে চারটি শির্কী দাবী إِلَهَ إِلَّا الله এর মধ্যে যে একটি উবুদিয়াতের দাবী। মোট পাঁচটি দাবীর একটি দাবী শুধু সকলে সমানভাবে মানে অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে সবাই বিশ্বাস করে। কিন্তু প্রথম চারটি দাবীকে তারা মানতে চায় না। কারণ তারা বুঝত কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার বাকি চারটি দাবি মেনে নিলে তাদের আরো যে সমস্ত মা'বৃদদের রবদের আরো বহু ইলাহদের 'ইবাদাত তারা করত, সকলেই তারা বাদ পড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে নাবী রসূল আলাইহিস-গণ যখন তাদের কাছে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهَ এই দা'ওয়াত নিয়ে আসতেন তখন তারা বলত,
أَجَعَلَ الْأَلِهَةَ إِلَهَا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ
“সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে ফেলেছে? এটা বড়ই আশ্চর্য ব্যাপার তো!” (সূরাহ্ সাদ ৩৮ : ৫)
কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথমে বর্জনীয় এই চারটি দাবীকে না মানার কারণেই মুশরিকের গণ্ডি থেকে তারা বের হতে পারেনি। শুধু সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাসই ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এটা তারা বুঝত না।
অনুরূপ কোন কালেমা পড়ুয়া মুসলিমও যদি শুধু সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস করে বসে থাকে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهَ -কে শুধু শব্দগতভাবে মানে তার অর্থ না বুঝে এবং বর্জনীয় বাকী চারটি শর্ত না মানে তাহলে সেও যেন মুশরিকদেরই দলভুক্ত। লক্ষ কোটিবারও যদি মুখ দিয়ে জপি لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهَ তাহলেও এই কালেমা তাকে পারবে না জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে নিয়ে যেতে। যদি তাই হত তাহলে আবূ জাহ্ল সবার আগে জান্নাতে যেয়ে বসে থাকত।
হিন্দু ধর্মের বইগুলোতে আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ ﷺ সম্পর্কে যে সমস্ত দিক-নির্দেশনাগুলো তারা বর্ণনা করেছে। তার কয়েকটি উক্তি আমি আমার বইয়ে উল্লেখ করলাম। যাতে করে কোন হিন্দু ব্যক্তি বা যে কোন ধর্মের লোকই হোক না কেন যদি বইটি পড়ে আর উপকৃত হয় তাহলে আমার লিখা স্বার্থক হয়েছে বলে মনে করব। আশা করি কোন হিন্দু ব্যক্তি যদি তাদের ধর্মের নিম্নে বর্ণিত চরণগুলো বুঝে শুনে পড়ে, তাহলে সেও ইসলামের মূলবাণী لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهَ স্বীকার করে মেনে নিতে বাধ্য হবেন।
উপনিষদ : হিন্দুরা উপনিষদ-কে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বিশ্বাস করে। উপনিষদের একটি বাণী নিচে তুলে ধরা হলো :
১. “একাম এবাদ্বিতীয়ম” অর্থাৎ স্রষ্টা একজনই তার সাথে অন্য কোন শরীক নেই। (ছান্দোগ্য উপনিষদ অধ্যায়- ৬)
২. “হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো মহাসুরিন্দ্রবোঃ। অল্লো জ্যেষ্ঠ পরমং পূর্নং ব্রহ্মনং অল্লাম। অল্লো রসূল মুহাম্মাদ রকং বরস্য অল্লো অল্লাম। আদল্লাং বুকমেকং অল্লাবুকং ল্লান লিখাতকম”
অর্থাৎ দেবতাদের রাজা আল্লাহ। আদি ও সকলের বড় ইন্দ্রের গুরু। আল্লাহ পূর্ণ বক্ষা, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূলুল্লাহ পরম বরণীয়। আল্লাহই আল্লাহ তার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। আল্লাহ অক্ষয়, অব্যয়, স্বয়ম্ভূ। (আলোপনিষদ বেদপূরানে আল্লা ও মুহাম্মাদ, ধর্মাচার্য অধ্যাপক ড. বেদ প্রকাশ উপাধ্যায়, পৃষ্ঠা ৬)
ভগবত গীতা : ১. স্রষ্টার আদি নেই। তিনি জন্মের পূর্বাবস্থা থেকেই সকল ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকিফহাল এবং একমাত্র তিনিই সমগ্র বিশ্বের কর্তৃত্বের অধিকারী। (ভগবত গীতা, অধ্যায়- ১০৩)
২. যাদের বোধশক্তি পার্থিব আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, শুধুমাত্র তারাই উপদেবতার নিকটে উপাসনা করে। (ভগবত গীতা, অধ্যায়- ৭)
অর্থাৎ তারা হচ্ছে বস্তুবাদী লোক, তারা উপদেবতার উপাসনা করে, তাই তারা সত্যিকার স্রষ্টার উপাসনা করে না।
বেদ: হিন্দুধর্মের সকল গ্রন্থের মধ্যে বেদ-কেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা হয়। বেদ প্রধানত চার প্রকার। যেমন: ১. যজুর্বেদ ২. অথর্ববেদ ৩. ঋগ্বেদ ও ৪. সামবেদ।
হিন্দুদের কোন লোক যদি বেদের চরণগুলো পড়ে আর সাথে সাথে কুরআন পড়ে তাহলে সেও কালিমা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ স্বীকার করতে বাধ্য হবে।
যজুর্বেদ : ১."ন তস্য প্রতিমা আস্তি' অর্থাৎ স্রষ্টার কোন প্রতিমা নেই। (যজুর্বেদ অধ্যায়- ৩২) আরো বলা হয়েছে, যেহেতু তিনি চিরঞ্জীব, তাই তাঁকেই উপাসনা করতে হবে। ২. “অন্ধতম প্রভিশান্তি ইয়ে অশম্ভুতি মুপাস্তে” “যারা অশম্ভুতির পূজা করে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়” অশম্ভুতি হচ্ছে প্রাকৃতিক বস্তু যেমন, বাতাস, পানি, আগুন ইত্যাদি। আরো বলা হয়েছে যে, তারা অধিকতর বেশি অন্ধকারে পতিত হয় যারা শাম মূর্তির পূজা করে। শাম মূর্তি হচ্ছে মানুষের তৈরি বস্তু। যেমন, নিজেদের হাতে গড়া মূর্তি চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি। (যজুর্বেদ অধ্যায়- ৪০ অনুচ্ছেদ)
অথর্ববেদ : ১. "দেব মহা আছি” অর্থাৎ স্রষ্টা সত্যিই সুমহান। (অথর্ববেদ বই ২০ অধ্যায়- ৫৮) একই ধরনের বর্ণনা কুরআনের সূরাহ্ রা'দে উল্লেখ আছে,
الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ “তিনি মহান সর্বোচ্চ।” (সূরাহ্ আর্ রা'দ ১৩ : ৯)
ঋগ্বেদ : ১. “মা চিদান্যদভি শাংসত” অর্থাৎ ওবন্ধু স্রষ্টার সাথে কাউকে ডাকিও না। (ঋগ্বেদ পুস্তক ৮ ভলিয়ম- ১)
হিন্দু বেদান্তর ব্রহ্মসূত্র : ব্রহ্ম সূত্রকে হিন্দুধর্মে বেদান্ত বা মূল বিশ্বাস বলা হয়। ব্রহ্ম সূত্র হচ্ছে।
"একাম ব্রহ্ম দ্বিতীয় নাস্তি নেহ না নাস্তি কিঞ্চন" ৯৪ অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা মাত্র একজনই, দ্বিতীয় কেউ নেই, নেই নেই কিছুই নেই। (ব্রহ্ম সূত্র ১ম অধ্যায়)
কোন ব্যক্তি যদি নিরপেক্ষভাবে হিন্দু ধর্মগুলো নিয়ে গবেষণা বা অধ্যয়ন করে তাহলে তার মুখ দিয়ে একদিন তাওহীদের কালেমা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ। বেরিয়ে আসবে।
শিখ ধর্মে স্রষ্টার ধারণা : শিখ ধর্মে স্রষ্টাকে “ওমকারা” বলা হয়। শিখ ধর্ম কড়াকড়িভাবে একত্ববাদে বিশ্বাসী এবং মূর্তিপূজার ঘোর বিরোধী।
১ম বচন : একজন স্রষ্টাই বিদ্যমান রয়েছেন যিনি সত্যিকারের সৃষ্টিকর্তা যিনি ভয় ও ঘৃণা থেকে মুক্ত। যিনি অমর, স্বয়ম্ভূ অর্থাৎ নিজেই জন্মেছেন সুমহান ও করুণাময়। (শ্রী গুরু গ্রন্থ ১ম খণ্ড, ১ম অধ্যায়, ১ম অনুচ্ছেদ)
জারোস্ট্রিয়ান ধর্মে স্রষ্টার ধারণা : জরোস্ট্রিয়ান ধর্মে স্রষ্টা “আহুরা মাজদা” নামে পরিচিত। "আহুরা” অর্থ স্রষ্টা। আর মাজদা অর্থ জ্ঞানী। অর্থাৎ জ্ঞানী স্রষ্টা। আহুরা মাজদা দ্বারা একত্ববাদী স্রষ্টার অস্তিত্বকে জোরালোভাবে সমর্থন করা হয়।
জরোস্ট্রিয়ান ধর্ম একটি প্রাচীন ধর্ম। যা বর্তমান ইরানে। ২৫০০ বছরের বেশি পূর্বে যার জন্ম। যার সংখ্যা খুবই কম বর্তমান জনসংখ্যা ১লাখ ৩০ হাজারেরও কম। তাদের ধর্ম গ্রন্থের নাম দস্তির ও আভেস্তা।
দস্তিরের ধর্মীয় বাণী: তিনি একজনই, তার সদৃশ্য কিছু নেই। তার কোন উৎপত্তি নেই এবং শেষও নেই। তার কোন পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তানাদি কিছুই নেই। তার কোন আকার নেই। কোন দৃষ্টিশক্তি তাকে দেখতে পারে না। এমনকি কোন চিন্তা শক্তিও তাকে কল্পনায় আনতে পারে না। তিনি প্রত্যেকের উপলব্ধির উর্ধ্বে। তিনি তোমাদের নিজস্ব সত্তার চেয়ে অধিকতর নিকটে। (দস্তির ও আভেস্তা ১ম অধ্যায়)
ইয়াহুদী ধর্মে স্রষ্টার ধারণা :
মূসা আলাইহিস সালাম -এর উম্মাতদেরকে ইয়াহূদী বলা হয়। যাদের ওপর তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল। তাওরাত কিতাবের নাম পরিবর্তন করে পরবর্তীতে বাইবেল নাম রাখা হয়। বাইবেলের পুরাতন নিয়মের (Old Testament) ডিউটোরোনোমি অধ্যায়ে বর্ণিত মূসা আলাইহিস সালাম -এর অসংখ্য বাণীর মধ্যে থেকে হিব্রু ভাষায়,
“শামা ইসরাইলু আদোনাই ইলা হাইনো আদনা ইকহাদ” অর্থাৎ- হে ইসরাঈলবাসীরা! শ্রবণ কর। প্রভু আমাদের স্রষ্টা, তিনি মাত্র একজনই।
খ্রীস্টান ধর্মে স্রষ্টার ধারণা :
'ঈসা আলাইহিস সালাম -এর উম্মাতদেরকে খ্রীস্টান বলা হয় যাদের ওপর ইঞ্জীল কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল। ইঞ্জীল কিতাবের নাম পরিবর্তন করে ও পরবর্তীতে বাইবেল নাম রাখা হয়। বাইবেল কোনক্রমেই খ্রীস্টানদের কথিত ত্রিতত্ত্ববাদে সমর্থন করে না এবং 'ঈসা আলাইহিস সালাম কখনো নিজেকে স্রষ্টাদাবী করেননি।
'ঈসা আলাইহিস সালাম -এর ওপর আরোপিত বাইবেলে বর্ণিত বাণীসমূহ, ১. আমার স্রষ্টা আমার চাইতে সুমহান আমার স্রষ্টা সবকিছুর চেয়ে সুমহান আমি স্রষ্টার সাহায্যে শয়তানকে দূর করি আমি স্রষ্টার ইশারায় মন্দকে দূরীভূত করি।
আমি নিজের ইচ্ছায় কিছুই করতে পারি না। যেহেতু আমি শ্রবণ করি ও বিচার করি আর আমার বিচার সঠিক, কারণ আমি আমার সৃষ্টিকর্তা যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তার ইচ্ছা ছাড়া তা নিজের ইচ্ছায় করি না। (গোছপাল অন্ধজোন ৫ : ৩০)
২. বাইবেলের এই বাণীটি ইসলামী বিশ্বাসের সমর্থন করে যে, তিনি আল্লাহর এক নাবী ছিলেন, তিনি বলেন, হে বানী ইসরাঈলরা! আমার কথা গুলো শোন, নাজারাথের 'ঈসা তোমাদের মধ্য থেকে এক মনোনীত বান্দা, যিনি এসেছেন সম্পূর্ণ অলৌকিকভাবে। আর সৃষ্টিকর্তা তা করেছেন তোমাদের সবার উপস্থিতিতে, আর তোমরা তার সাক্ষী ছিলে। (বুক অফ ইক্র- ২-২২)
৩. এ এক চিরন্তন জীবন। যাতে তুমি বুঝতে পারবে সৃষ্টিকর্তা একজনই। তিনি সত্য। যিনি 'ঈসা আলায়হিস-কে পাঠিয়েছিলেন।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 ইসলাম ধর্মে স্রষ্টার ধারণা

📄 ইসলাম ধর্মে স্রষ্টার ধারণা


ইসলামে সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পরিচয় মহিমান্বিত কুরআনের সূরাহ্ ইখলাসের চারটি আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدُ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدُ
“১. বল, তিনি আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়, ২. আল্লাহ কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, সবই তাঁর মুখাপেক্ষী, ৩. তিনি কাউকে জন্ম দেন না, আর তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি এবং ৪. তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।” (সূরাহ্ ইখলাস ১১২: ১-৪)
কোন মানুষ যদি স্রষ্টা হওয়ার দাবী করে তাকে অবশ্যই সূরাহ্ ইখলাসের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এ সূরায় বর্ণিত আল্লাহর গুণাবলী একক ও অদ্বিতীয়। ফলে মিথ্যা স্রষ্টার দাবীদাররা এ আয়াতগুলোর শর্তের মাধ্যমে ধ্বংস হবে। তারা বুঝে শুনে এর দাবী মানতে পারেনি বিধায় তারা ছিল মুশরিক।
পূববর্তী সকল ধর্মেরই মূল দা'ওয়াত ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ অবশ্য পরবর্তীতে ইসলাম এসে পূববর্তী ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে রহিত করে দিয়েছে। অত্র আলোচনা থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়। তখনকার সময় নাবী-রসূলদের দা'ওয়াত পেয়ে যারা لَا إِلَهَ এর চারটি দাবীকে ছাড়তে পারেনি আল্লাহর ভাষায় তাদের বলা হয় মুশরিক। বর্তমান সময়েও এই কালেমার অনেক দাবীদার মুসলিম রয়েছে তারা কালেমা ঠিক মুখে স্বীকার করছে কিন্তু لَا إِلَهَ এর শির্কী নিষেধাজ্ঞা চারটি দাবীকে ছাড়তে পারছে না। অথচ এই যুগে তাদেরকে কেউই মুশরিক বলছে না। কিন্তু দুনিয়ার মানুষ তাদেরকে মুশরিক না বললেও আল্লাহ রব্বুল 'আলামীন তাদেরকে মুশরিক বলতে বাদ দেননি। পবিত্র কুরআনে তাদের শানে মহান আল্লাহ বলেন :
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ ) “অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিকও করে।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৫)
ফলে তারা মুশরিক। অর্থাৎ- ঈমান এনেও তাঁরা মুশরিক।
মূলত পূববর্তী এবং পরবর্তী সকল যুগের সকল ধর্মের দা'ওয়াতের সর্বপ্রথম বাণীই ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ যারা لَا إِلَهَ এর চারটি শিক্বী দাবীকে ছাড়তে পারেনি তারা হল মুশরিক। আর যারা لَا إِلَهَ এর চারটি শির্কী দাবীকে ছেড়ে এক সত্য ১ (ইলাহ)-কে গ্রহণ করেছে তারাই হল মু'মিন।
কালিমাতুত্ ত্বইয়িবাহ্ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ এর সঠিক অর্থ অনুধাবন করতে পারলেই তার জন্য তাওহীদ বুঝা অতি সহজ হয়ে যাবে। তাওহীদ হল ইসলামের মূল, মূল বা ফাউন্ডেশন ছাড়া যেভাবে বিল্ডিং টিকে না ঠিক তেমনিভাবে বিশুদ্ধ তাওহীদবাদী না হয়ে যতই সুন্দর সুন্দর 'আমাল করুক না কেন সে 'আমালে তার বিন্দুমাত্রও লাভ হবে না। এমনকি তার 'আমাল নামা ক্বিয়ামাতের দিন ওজন করার জন্য মীযানের পাল্লায়ও তুলা হবে না।
সে 'আমালই তার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন, قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعَ ) A
"বল, 'আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেব নিজেদের 'আমালের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?' তারা সে সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক কাজই করছে।” (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ১০৩-১০৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00