📄 কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার সঠিক অর্থ বুঝে তার সাথে শির্ক মিশ্রিত না করার ফযীলত
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبَسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ )
“যারা ঈমান এনেছে আর যুল্য (অর্থাৎ শির্ক্ক) দ্বারা তাদের ঈমানকে কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা লাভ তারাই করবে আর তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।” (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৬ : ৮২)
বিশিষ্ট সহাবী 'উবাদাহ্ ইবনুস্ সাবিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূলুল্লাহ বলেছেন:
যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তার কোন শরীক নেই। মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রসূল। 'ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা ও রসূল। তিনি তার এমন এক কালিমা যা তিনি মারইয়াম (আঃ)-এর প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তিনি তারই পক্ষ থেকে প্রেরিত রূহ বা আত্মা। জান্নাত সত্য জাহান্নাম সত্য। সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাত দান করবেন। তার 'আমাল যাই হোক না কেন। (বুখারী- হাঃ ৩৪৩৫)
ইমাম বুখারী (রহঃ) ও মুসলিম (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত এবং সহাবী ইতবান (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে,
فَإِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يَبْتَغِي بِذُلِكَ وَجْهَ اللَّهِ.
মহান আল্লাহ তা'আলা এমন এক ব্যক্তির ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে। (বুখারী- হাঃ ৪২৫, ১১২৫; মুসলিম- হাঃ ২৬৩-[৩৩])
প্রখ্যাত সহাবী আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন,
মূসা (আঃ) বলেছিলেন, হে আমার রব! আমাকে এমন এক জিনিস শিক্ষা দিন যা দ্বারা আমি আপনাকে স্মরণ করব এবং আপনাকে ডাকব।
মহান আল্লাহ তা'আলা বললেন হে মূসা! তুমি বল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ। মূসা আলাইহি বললেন, আপনার সব বান্দাই তো এটা বলে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমি আল্লাহ ব্যতীত সপ্তাকাশে যা কিছু আছে তা, আর সাত তবক জমিনে যা কিছু আছে তা যদি এক পাল্লায় থাকে আরেক পাল্লায় যদি এই লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ থাকে তাহলে লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এর পাল্লাই ভারী হয়ে যাবে। (ইবনে হিব্বান হাঃ ২৩২৪; মুসতাদরাকে হাকিম ১ম খণ্ড, হাঃ ৫২৭; মুসনাদে আবী ইয়া'লা হাঃ ১৩৯৩; ইমাম হাকিম এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)
বিখ্যাত সহাবী আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً. মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার নিকট কোন শির্ক না করে পৃথিবী ভর্তি পাপ নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও, তাহলে আমি তোমার নিকট পৃথিবী ভর্তি ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হবো। (তিরমিযী- হাঃ ৩৫৩; ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন)
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ، يَقُولُ: مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ، حَرُمَ مَالُهُ، وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ. যে ব্যক্তি লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ (আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্যিকার ইলাহ নেই) বলবে, আর আল্লাহ ব্যতীত যারই 'ইবাদাত করা হয় সকলকেই অস্বীকার করবে। তার জান ও মাল হারাম (অর্থাৎ মুসলিমদের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদ) গোপন তৎপরতা ও অন্তরের কুটিলতা বা মুনাফিকির জন্য তার শাস্তি আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত। (মুসলিম- হাঃ ৩৭-[২৩])
'আবদুল্লাহ ইবনে 'আম্র বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : ক্বিয়ামাতের দিন এমন এক ব্যক্তিকে জনসম্মুখে উপস্থিত করা হবে। যার 'আমালনামা খোলা হবে নিরানব্বই ভলিয়মে (দফতর) বা (খাতা) এবং প্রতিটি ভলিয়ম বিস্তীর্ণ বা প্রশস্ত হবে দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন আচ্ছা বান্দা বল দেখি তুমি এর কোন একটি লেখাকে অস্বীকার করতে পারবে কি? আমার লেখক ফেরেশতাগণ কি তোমার ওপর বিন্দুমাত্র যুলুম করেছে? বান্দা বলবেন, হে আল্লাহ! আমার পরওয়ারদিগার না তোমার ফেরেশতাগণ আমার ওপর কোন যুলম করেনি। আল্লাহ আবার প্রশ্ন করবেন তবে কি তোমার পক্ষ হতে কোন ওযর পেশ করার আছে? বান্দা বলবে না কোন ওযর আমার নেই। তখন আল্লাহ আবার বলবেন, হ্যাঁ, তোমার একটি নেকি আমার নিকট রক্ষিত আছে। তুমি নিশ্চিত জেনে রাখ। আজ তোমার প্রতি কোন অবিচার বা যুলম করা হবে না। এরপর এক টুকরা কাগজ বের করা হবে। যে কাগজে লেখা রয়েছে : أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا وَرَسُوْلُهُ عَبْدُهُ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ তার বান্দা ও তার রসূল। অতঃপর আল্লাহ তাকে বলবেন তোমার 'আমালের ওজন দেখার জন্য উপস্থিত হও। তখন সে বলবে, হে পরওয়ারদিগার! ঐ সমস্ত বিরাট বিরাট দফতরের মুকাবিলায় এই এক টুকরা কাগজের মূল্যই বা কি আছে? তখন আল্লাহ বলবেন, তোমার ওপর কোন অবিচার করা হবে না।
নাবী বলেন: অতঃপর ঐ সমস্ত দফতরগুলোকে পাল্লার এক পালিতে রাখা হবে এবং এই কাগজের টুকরাটাকে আর এক পালিতে রাখা হবে। তখন দফতরগুলোর পালি হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং কাগজের টুকরার পালি ভারি হয়ে নীচের দিকে ঝুঁকে থাকবে। মোট কথা আল্লাহর নামের সাথে অন্য কোন জিনিস ওজনী হইতে পারে না। (তিরমিযী- হাঃ ২৬৩৯, ইবনু মাজাহ হাঃ ৪৩০০ : সহীহ)