📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ পড়ার পরেও মুসলিম কেন মুশরিক

📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ পড়ার পরেও মুসলিম কেন মুশরিক


কোন ব্যক্তি ঈমান এনে কালিমা পড়ে মুসলিম হওয়ার পরেও মুশরিকের গণ্ডি থেকে বের হতে না পারার কারণ সম্পর্কে পূর্বযুগীয় মুশরিকদের একটা দৃষ্টান্ত পেশ করলে বিষয়টি সহজেই অনুধাবন করা যাবে। মুশরিকদের অবস্থা এমন ছিল যে, তাদের ধর্মগুরু পীর পুরোহিত বা বাপ দাদা, মুরুব্বীগণ যা বলত তাই তারা ধর্ম হিসেবে মানত। তাদের মাঝে যখনই কোন নাবী এবং রসূলগণ সত্যের দা'ওয়াত নিয়ে আসত তখনই তারা বলত, وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ الهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا ﴾
“তাদের কওমের নেতারা বলত তোমরা কখনও তোমাদের ঐ সমস্ত ইলাহদেরকে (দেবদেবীদেরকে) পরিত্যাগ করবে না এবং পরিত্যাগ করবে না ওয়াদ্, সুওয়া'আ, ইয়াগূস, ইয়া'ঊকু, ও নাস্ত্র-কে (এগুলো হল পূর্ববর্তী নাবীদের নামে তৈরিকৃত মূর্তিসমূহ)।” (সূরাহ্ নূহ ৭১ : ২৩)
আলোচ্য আয়াতে وَقَالُوا শব্দের ফায়েল হল তাদের ঐ সমস্ত মুশরিক ধর্মগুরু পীর পুরোহিত বাপ, দাদা ও মুরুব্বীগণ তারা সাধারণ জনগণকে বুঝাইত তোমরা কখনও ঐ সমস্ত নাবী এবং রসূলদের কথায় কখনও পরিত্যাগ করবেনা তোমাদের এই সমস্ত মূর্তিনামক ইলাহদেরকে। তারা হল আয়াতে বর্ণিত নামসমূহ যারা ছিল পূর্বযুগীয় নাবী আলায়হিস-গণ বা কিছু সৎ বান্দাদের প্রতিচ্ছবি যাদের মৃত্যুর পর তাদের নামে মূর্তি বানিয়ে তাদেরকে তারা ইলাহ, উপাস্য, মা'বুদ বানিয়ে বা আল্লাহকে পাওয়ার মাধ্যম সাব্যস্ত করে তাদের নামে 'ইবাদাত করত।
কিতাবুল বুখারীতে ইবনে 'আব্বাস 'আনহু থেকে উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে এরা ছিলেন নূহ আলায়হিল-এর স্বজাতির মধ্যকার ভালো ও নেককার লোক। যখন তারা মারা গেলেন তখন শয়তান তাদের জাতির লোকেদের কাছে গোপনে বলল। তারা যেখানে বসত সেখানে তাদের প্রতিমূর্তি তৈরি করতে এবং তাদেরকে তাদের নামে বিভূষিত করতে। তারা তাই করল। কিন্তু তখনও পর্যন্ত তাদের 'ইবাদাত করা হত না। যখন এ লোকগুলো মারা গেল তখন পরবর্তী বংশধরেরা কেন যে এই মূর্তি বানানো হয়েছিল তা ভুলে গেল। তখন শয়তান তাদেরকে আবার বলল তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা তো এদের পূজা করত। তোমরা কেন তাদের পূজা করছ না? তাদের তখন শয়তানের এই প্ররোচনায় তারা ঐ মূর্তিদের নামে পূজা অর্চনা শুরু করে দিল। তারপর নূহ আলমারিস-এর পর হতে শুরু করে যত নাবী এবং রসূলগণ আলায়হিস এসেছিলেন প্রত্যেকেই মানুষদেরকে এক আল্লাহর 'ইবাদাতের দিকে আহ্বান করতে শুরু করলেন। আর ঐ সমস্ত মা'বৃদদেরকে তারা ত্যাগ করতে বললেন। কিন্তু ওরা নাবীদের ডাকে কর্ণপাত না করে তাদের পূজায় রত ছিল। দেখা যায় পূর্বযুগীয় মুশরিকরা নিজেদের হাতে গড়া মাটি আর পাথরের তৈরি মূর্তির সামনে সিজদা করত। বিপদে পড়লে তাদেরকে আহ্বান করত। বিপদ উদ্ধারকারী মনে করত। আর ঐ বাপদাদারা যা বলত বিনা দলীলে বিনা বাক্যে অন্ধের মত তাদের তাকলীদ করত বা তাদের কথামত চলত। ঠিক তদ্রূপই বর্তমান যুগের অনেক لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ পড়া মুসলিমরাও ঠিক একই নিয়মে মাটি আর পাথরের তৈরি মাজারে যেয়ে সেখানে সিজদা দিচ্ছে।
বিপদে পড়লে তাদেরকে আহ্বান করছে এবং বিপদ উদ্ধারকারী মনে করছে। তাদের মনোসন্তুষ্টি কামনা করে তাদের নামে কুরবানী মানত, নযর, নেয়ায দিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে তাদেরকে পরকালে বিপদ উদ্ধারকারীও মনে করেছে। তাদেরকে অসিলা বানিয়ে তাদের উসিলায় দু'আ করছে। মুশরিকরা তাদের মুরুব্বী বাপ দাদাদের তৈরিকৃত ধর্মকে যেমনভাবে বিনা দলীলে মেনে নিতো। সত্যের দা'ওয়াত পেলে বলত-
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ .
“যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা ঐ জিনিসের অনুসরণ কর যা আল্লাহ নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই উপর চলব, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি, যদিও তাদের বাপ- দাদারা কিছুই বুঝত না এবং সঠিক পথে চলত না তবুও।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৭০)
অনুরূপভাবে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ পড়ুয়া অনেক মুসলিমও কুরআন এবং সহীহ হাদীস বিদ্যমান থাকার পরেও সেটাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে তাদের মাঝে যারা নাম মাত্র আলেম, ধর্মীয় ইমাম, পীর, মাশায়েখ-সমাজপতি নেতা। এমনকি মাযহাবের নামে তাক্বলীদে শাখছী বা অন্ধের পূজা করে যাচ্ছে। মূল কথা হল একমাত্র আল্লাহ এবং তার রসূলের কথা ছাড়া আর কারো কথাকে বিনা দলীলে বিনা বাক্যে চোখ বুজে মেনে নেয়ার অর্থই হল তাকে রবের আসনে বসিয়ে দেয়া। এ মর্মে মহান আল্লাহর ঘোষণা :
إِتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللَّهِ )
"আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা তাদের 'আলিম আর দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩১)
এভাবে বিভিন্ন দিক থেকে অনেক لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ পড়া মুসলিমদের 'ইবাদাত বন্দেগী কাজ কারবার পূর্বযুগীয় মুশরিকদের 'ইবাদাত বন্দেগী ও কাজ কারবারের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। যার দরুন لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ পাঠ করেও অনেক মুসলিম মুশরিকদের গণ্ডি থেকে বের হতে পারছে না। তাই এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ )
"অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমান আনা সত্ত্বেও তারা মুশরিক।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৬)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 কালিমার হাক্ক আদায়কারীদের যেভাবে কষ্ট সহ্য করতে হয় যুগে যুগে

📄 কালিমার হাক্ক আদায়কারীদের যেভাবে কষ্ট সহ্য করতে হয় যুগে যুগে


যুগে যুগে নাবী-রসূলগণ কালিমার দা'ওয়াত দিতে গিয়ে অসংখ্য মার খেয়েছেন দা'ওয়াত দিতে গিয়ে সংঘাত বেঁধেছে কারণ মুশরিকেরা لَائِلَ - এর দাবীকে গ্রহণ করতে পারেনি। বদর প্রান্তরে একদিকে আবূ জাৰ্ল, অন্যদিকে আবূ বাক্স, সাথে রসূল 'আলায়হি ওরাসাল্লাম নিজেই, আবূ জাহ্ন ও সৃষ্টিকর্তাকে 'আনহু বিশ্বাস করে আবূ বা নাবী মুহাম্মাদ-ও সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে। নাবী মুহাম্মাদ 'আলায়হি ওরাসাল্লাম আবূ জাহ্ন একরক্তে আপন চাচা-ভাতিজা। তার 'আলায়হি ওরাসাল্লাম পরেও উভয়ের মাঝে জীবন-মরণ যুদ্ধ কারণ একটাই আবূ জাহ্ন-এর দল কালিমাহ্ -এর দাবী সহ্য করতে পারে না বিধায়। আর যারা এর দাবীকে মেনে নিয়েছে আবূ জাহ্ন-এর দল তাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। বিলাল ইবনু রবাহ 'আনহু ইসলামের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মুয়াযয্যিন। বিলাল বিন রবাহ 'আলায়হি কুরায়শ নেতা 'উমাইয়াহ্ ইবনু খাল্‌ল্ফ-এর হাবশী ক্রীতদাস ছিলেন। ইসলাম কুকূল করার অপরাধে তাকে তার মনিব নানাবিধ নির্যাতন করে তার হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে প্রখর রোদ্রে উত্তপ্ত বালুকার উপর উপুড় করে পাথর চাপা দিয়ে ফেলে রাখা হত। কখনো তার গলায় দড়ি বেঁধে গরু-ছাগলের মতো ছেলে-ছোকরাদের দিয়ে পাহাড়ে ও প্রান্তরে টেনে-হিঁচড়ে নেয়া হত। যাতে তার গলার চামড়া রক্তাক্ত হয়ে যেত। খানা-পিনা বন্ধ রেখে ক্ষুৎ পিপাসায় কষ্ট দেয়া হত। কখনো উত্তপ্ত কংকর- বালুর উপরে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে বুকে পাথর চাপা দেয়া হত। আর বলা হত- لَا تَزَالُ هَكَذَا حَتَّى تَمُوْتَ أَوْ تَكْفُرْ بِمُحَمَّدٍ.
অর্থাৎ- মুহাম্মাদের দ্বীন পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তোমাকে আমৃত্য এভাবেই পড়ে থাকতে হবে। কিন্তু বিলাল শুধু বলতেন: “আহাদ” "আহাদ”।
একদিন রসূলুল্লাহ পাশ দিয়ে যাবার সময় এ দৃশ্য দেখে বললেন : أَحَدُيُنْجِيْكَ (আহাদ) ।
অর্থাৎ- আল্লাহ তোমাকে মুক্তি দিবেন। অতঃপর তিনি আবূ বাক্রকে গিয়ে বললেন : يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ بِلَا لَّا يُعَذِّبُ فِي اللهِ.
হে আবূ বাক্র! বিলাল আল্লাহর পথে শান্তি ভোগ করতেছে। আবূ বাক্স ইঙ্গিত বুঝলেন। অতঃপর 'উমাইয়ার দাবী অনুযায়ী নিজের কাফির গোলাম نِسْطَاسُ (নিসত্বাস)-এর বিনিময় এবং একটি মূল্যবান চাদর ও দশটি উকিয়ার (স্বর্ণমুদ্রা) বিনিময়ে তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দেন। তিনি ২০ হিজরী সনে ৬৩ বছর বয়সে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। (কুরতুবী, সূরাহ্ আল লায়ল ৯২: ১৯-২০ নং আয়াতের তাফসীর)
যখন বিলাল -কে তারা বলল: বিলাল মুহাম্মাদের দ্বীন না ছাড়া পর্যন্ত তোমাকে শাস্তি দিতেই থাকব। কারণ ছিল তাদের সমস্ত ইলাহদের ত্যাগ করে এক ইলাহর উবৃদিয়াত গ্রহণ করেছিল এ একটি মাত্র কারণ ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাদের জবাবে বিলাল বললেন : “আহাদ” “আহাদ”। অর্থাৎ- বিলাল যেন 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ'-এর দাবীকে মেনে বলতেছে। আমি যখন সমস্ত ইলাহদের সমস্ত রবদের ত্যাগ করে এক ইলাহের উবুদিয়াতকে গ্রহণ করেছি শত যন্ত্রণা দিলেও আমি আর ফিরব না।
প্রবাদে আছে, প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করা ছাড়া যেমনি সন্তানের মা হওয়া যায় না, তেমনি ইসলামের শত্রুদের আঘাত না খাওয়া ছাড়া জান্নাতি মানুষ হওয়া যায় না। কালিমার প্রকৃত শিক্ষা ও দা'ওয়াত বড় কঠিন। এ দা'ওয়াত দিলে মার খেতেই হবে। স্বয়ং রসূলুল্লাহ ও আবূ বাক্র একদিন এ দা'ওয়াত দিতে যেয়ে যখনই কালিমার বর্ম শব্দ উচ্চারণ করলেন ওরা বুঝতে পারল যে, কালিমার এ র্ব আহ্বান দ্বারা আমাদের সকল রবদেরকে ছাড়তে বলতেছে। তখন 'উতবাহ্ ইবনু রাবী'আহ্ তার লোকজন নিয়ে তাদের প্রতি আক্রমণ করে বসল। মর্মান্তিক প্রহারে আবূ বাক্স চেহারা এমন ফুলে যায় যে, তাকে চিনাই যাচ্ছিল না। বানু তামীম তাকে অজ্ঞান অবস্থায় বাড়ি নিয়ে আসে। সন্ধ্যার পর জ্ঞান ফিরলে প্রথম জিজ্ঞেস করেন। রসূল কেমন আছেন। শত চেষ্টার পরও তিনি কোন আহার মুখে দিলেন না। অবশেষে খাত্ত্বাব কন্যা উম্মু জামীল গোপনে এসে তাকে খবর দেন যে, রসূল ভালো আছেন এবং এখন আর কামের গৃহে অবস্থান করছেন। তারপর রাত্রি অধিক হলে উম্মে জামীলের সাথে তিনি 'আশামের গৃহে যান। সেখানে রসূলকে দেখার পর কুশল জেনে নিয়ে পরে আহার গ্রহণ করেন। (ইবনু কাসীর- আল বিদায়াহ্, ২য় খণ্ড, ৩০ পৃঃ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার সঠিক অর্থ বুঝে তার সাথে শির্ক মিশ্রিত না করার ফযীলত

📄 কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার সঠিক অর্থ বুঝে তার সাথে শির্ক মিশ্রিত না করার ফযীলত


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبَسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ )
“যারা ঈমান এনেছে আর যুল্য (অর্থাৎ শির্ক্ক) দ্বারা তাদের ঈমানকে কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা লাভ তারাই করবে আর তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।” (সূরাহ্ আল আন্‌‘আম ৬ : ৮২)
বিশিষ্ট সহাবী 'উবাদাহ্ ইবনুস্ সাবিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূলুল্লাহ বলেছেন:
যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তার কোন শরীক নেই। মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রসূল। 'ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা ও রসূল। তিনি তার এমন এক কালিমা যা তিনি মারইয়াম (আঃ)-এর প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তিনি তারই পক্ষ থেকে প্রেরিত রূহ বা আত্মা। জান্নাত সত্য জাহান্নাম সত্য। সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা জান্নাত দান করবেন। তার 'আমাল যাই হোক না কেন। (বুখারী- হাঃ ৩৪৩৫)
ইমাম বুখারী (রহঃ) ও মুসলিম (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত এবং সহাবী ইতবান (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে,
فَإِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يَبْتَغِي بِذُلِكَ وَجْهَ اللَّهِ.
মহান আল্লাহ তা'আলা এমন এক ব্যক্তির ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে। (বুখারী- হাঃ ৪২৫, ১১২৫; মুসলিম- হাঃ ২৬৩-[৩৩])
প্রখ্যাত সহাবী আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন,
মূসা (আঃ) বলেছিলেন, হে আমার রব! আমাকে এমন এক জিনিস শিক্ষা দিন যা দ্বারা আমি আপনাকে স্মরণ করব এবং আপনাকে ডাকব।
মহান আল্লাহ তা'আলা বললেন হে মূসা! তুমি বল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ। মূসা আলাইহি বললেন, আপনার সব বান্দাই তো এটা বলে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমি আল্লাহ ব্যতীত সপ্তাকাশে যা কিছু আছে তা, আর সাত তবক জমিনে যা কিছু আছে তা যদি এক পাল্লায় থাকে আরেক পাল্লায় যদি এই লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ থাকে তাহলে লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এর পাল্লাই ভারী হয়ে যাবে। (ইবনে হিব্বান হাঃ ২৩২৪; মুসতাদরাকে হাকিম ১ম খণ্ড, হাঃ ৫২৭; মুসনাদে আবী ইয়া'লা হাঃ ১৩৯৩; ইমাম হাকিম এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)
বিখ্যাত সহাবী আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً. মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার নিকট কোন শির্ক না করে পৃথিবী ভর্তি পাপ নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও, তাহলে আমি তোমার নিকট পৃথিবী ভর্তি ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হবো। (তিরমিযী- হাঃ ৩৫৩; ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন)
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ، يَقُولُ: مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ، حَرُمَ مَالُهُ، وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ. যে ব্যক্তি লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ (আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্যিকার ইলাহ নেই) বলবে, আর আল্লাহ ব্যতীত যারই 'ইবাদাত করা হয় সকলকেই অস্বীকার করবে। তার জান ও মাল হারাম (অর্থাৎ মুসলিমদের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদ) গোপন তৎপরতা ও অন্তরের কুটিলতা বা মুনাফিকির জন্য তার শাস্তি আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত। (মুসলিম- হাঃ ৩৭-[২৩])
'আবদুল্লাহ ইবনে 'আম্র বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : ক্বিয়ামাতের দিন এমন এক ব্যক্তিকে জনসম্মুখে উপস্থিত করা হবে। যার 'আমালনামা খোলা হবে নিরানব্বই ভলিয়মে (দফতর) বা (খাতা) এবং প্রতিটি ভলিয়ম বিস্তীর্ণ বা প্রশস্ত হবে দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন আচ্ছা বান্দা বল দেখি তুমি এর কোন একটি লেখাকে অস্বীকার করতে পারবে কি? আমার লেখক ফেরেশতাগণ কি তোমার ওপর বিন্দুমাত্র যুলুম করেছে? বান্দা বলবেন, হে আল্লাহ! আমার পরওয়ারদিগার না তোমার ফেরেশতাগণ আমার ওপর কোন যুলম করেনি। আল্লাহ আবার প্রশ্ন করবেন তবে কি তোমার পক্ষ হতে কোন ওযর পেশ করার আছে? বান্দা বলবে না কোন ওযর আমার নেই। তখন আল্লাহ আবার বলবেন, হ্যাঁ, তোমার একটি নেকি আমার নিকট রক্ষিত আছে। তুমি নিশ্চিত জেনে রাখ। আজ তোমার প্রতি কোন অবিচার বা যুলম করা হবে না। এরপর এক টুকরা কাগজ বের করা হবে। যে কাগজে লেখা রয়েছে : أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا وَرَسُوْلُهُ عَبْدُهُ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ তার বান্দা ও তার রসূল। অতঃপর আল্লাহ তাকে বলবেন তোমার 'আমালের ওজন দেখার জন্য উপস্থিত হও। তখন সে বলবে, হে পরওয়ারদিগার! ঐ সমস্ত বিরাট বিরাট দফতরের মুকাবিলায় এই এক টুকরা কাগজের মূল্যই বা কি আছে? তখন আল্লাহ বলবেন, তোমার ওপর কোন অবিচার করা হবে না।
নাবী বলেন: অতঃপর ঐ সমস্ত দফতরগুলোকে পাল্লার এক পালিতে রাখা হবে এবং এই কাগজের টুকরাটাকে আর এক পালিতে রাখা হবে। তখন দফতরগুলোর পালি হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং কাগজের টুকরার পালি ভারি হয়ে নীচের দিকে ঝুঁকে থাকবে। মোট কথা আল্লাহর নামের সাথে অন্য কোন জিনিস ওজনী হইতে পারে না। (তিরমিযী- হাঃ ২৬৩৯, ইবনু মাজাহ হাঃ ৪৩০০ : সহীহ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00