📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ পবিত্র এই কালিমার শুরুতে কেন আল্লাহ لاَ إِلَٰهَ অর্থাৎ নেই কোন মা'বূদ শব্দটি ব্যবহার করলেন
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এত শব্দ বা অক্ষর থাকতে إِلَهَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর শুরুতে কেন শব্দটি ব্যবহার করলেন তার জবাব হল إِلَّا اللهُ অর্থ অর্থ হলো নেই কোন মা'বুদ إِلَّا اللهُ যদিও একটি মাত্র শব্দ কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার মধ্যে রয়েছে শিক্কের সাগর। আর আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন তিনি তো এমন যে, সব তিনি বরদাস্ত করতে পারেন কিন্তু শিক্ককে বড় অপছন্দ করেন। তার কাছে সবচাইতে ঘৃণিত হল তার সাথে অন্য কাউকে শরিক করা। এজন্য কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করেন।
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ “নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৭২)
মহান আল্লাহ আরো বলেন : إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
"নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না যে তার সাথে শরীক করবে। এছাড়াও যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১১৬)
আল্লাহ চান তার বান্দা وَإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বা এক আল্লাহর উলুহিয়্যাতকে গ্রহণ করার, আগে, সমস্ত প্রকার শির্ক থেকে পরিষ্কার হয়ে আসুক। এজন্যেই প্রথমে لَا বর্ণনা-সূচক শব্দ দ্বারা সমস্ত শিক্ককারীর শির্ককে অস্বীকার করে দিয়ে হৃদয় আত্মাকে সমস্ত শির্ক এবং পাপাচার থেকে মুক্ত করে পরিষ্কার হৃদয়ে একমাত্র ইলাহকেই যেন গ্রহণ করে। আর এ কারণেই মহান আল্লাহ কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার শুরুতে لَا এ অক্ষরটি ব্যবহার করে إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর ঘোষণা দিলেন।
📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ শুধু মুখে উচ্চারণই যথেষ্ট নয়, মূল হল পাঁচটি শর্তের বাস্তবায়ন
কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার দু'টি অংশের মাঝে আবার পাঁচটি শর্ত রয়েছে। যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং তার বাস্তবায়ন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফারয়ে আইন।
এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ “আর সকলে এ জ্ঞান অর্জন কর যে নিশ্চয় আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই।” (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭ : ৩)
প্রথমতঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর শর্ত চারটি যার প্রত্যেকটি না-সূচক, বর্জনীয় ও অস্বীকার যোগ্য।
দ্বিতীয়তঃ إِلَّا اللَّهُ এর শর্ত মাত্র একটি যা গ্রহণীয়।
মোট পাঁচটি শর্তের দলীল কুরআনুল কারীম থেকে এভাবে নিতে পারি। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন,
“বল, (হে মুহাম্মাদ!) এসো, হে আহলে কিতাবরা তোমরা আল্লাহর এমন একটি كَلِمَةٍ (কথার) দিকে যা আমাদের এবং তোমাদের সকলের জন্য সমান। আর সে কথাটি হল আমরা একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া আর অন্য কারো 'ইবাদাত করব না। তার সাথে কোন অংশীস্থাপন করব না। আর আল্লাহকে ছাড়া অন্য আর কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না।” (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩ : ৬৪)
উক্ত আয়াতের মাঝে এ তিন প্রকার বর্জনীয় শির্কী দাবী রয়েছে।
১. ﴿أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ﴾ বাক্যের মাঝে আরো বহু ইলাহের মা‘বৃদদের ইঙ্গিত রয়েছে।
২. ﴿وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا﴾ বাক্যের মাঝে আরো বহু সমকক্ষের ইঙ্গিত রয়েছে।
৩. ﴿وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ﴾ এর মাঝে অসংখ্য রবের ইঙ্গিত রয়েছে।
মহান আল্লাহ আরো বলেন, ﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ﴾
“প্রত্যেক জাতির মধ্যে আমি একজন করে রসূল প্রেরণ করেছি। যাতে করে তারা এই কথা বলে আহ্বান করতেন যে তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর। এবং ত্বাগৃতের সকল প্রকার আনুগত্য ত্যাগ কর।” (সূরাহ্ আন্ নাহ্ল ১৬: ৩৬)
উক্ত আয়াতে সকল প্রকার ত্বাগূতকে বর্জন করতে বলা হয়েছে।
📄 পবিত্র বাক্য لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ-এর পাঁচটি শর্ত রয়েছে যা দু'টি অংশে বিভক্ত
উক্ত আয়াত দু'টিতে لاَ إِلهَ এর চারটি বর্জনীয় বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে প্রথম আয়াতে তিনটি ১. أَرْبَابَ أَنْدَادَ آلِهَةً এবং দ্বিতীয় আয়াতে একটি। ২. طَاغُوتَ সর্বমোট চারটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তাদের প্রত্যেকটিকে ছাড়তে বলা হয়েছে।
কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অংশ لاَ إِلهَ ঘোষণা করছে বর্ণিত চারটি বিষয়কেই প্রথমে বর্জন করে দাও। যথা : ১. إِجْتَنِبُو الْأَرْبَابَ অসংখ্য রবদের বর্জন কর। ২. إِجْتَنِبُو الْأَنْدَادُ সকল প্রকার সমকক্ষদের বর্জন কর। ৩. إِجْتَنِبُو الْأَلِهَةَ সমস্ত বাতিল ইলাহদের মা'বৃদদের বর্জন কর। ৪. إِجْتَنِبُوا الْطَاغُوتُ এবং সকল প্রকার ত্বাগূতদেরকে বর্জন কর।
উপরোক্ত চারটি বিষয়ের প্রত্যেকটিই ইলাহের আসন দখল করে আছে। এজন্য আল্লাহ বলেন, لاَ إِلهَ অর্থাৎ এদের সকলকেই প্রথমে বর্জন কর।
প্রথম অংশ : ঘোষণা কর لاَ إِلهَ অর্থাৎ ত্যাগ কর, অস্বীকার কর, ছেড়ে দাও। কি ছাড়ব? لاَ إِلهَ অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্ত অযোগ্য বাতিল ও অসংখ্য মিথ্যা ইলাহদের মা'বৃদদের উপাস্যদের ছেড়ে দাও। ত্যাগ কর, অস্বীকার কর।
মুশরিক এবং মুসলিমের মাঝে পার্থক্যের প্রথম মানদণ্ডই হল لاَ إِلهَ অর্থাৎ বাতিল মা'বৃদদের বর্জন নিয়ে।
দ্বিতীয় অংশ : প্রথম অংশ বাস্তবায়নের পরে দ্বিতীয় অংশের ঘোষণা إِلَّا اللهُ একমাত্র আল্লাহকেই সত্যিকার ইলাহ মা'বূদ ও উপাস্য হিসেবে মনে প্রাণে গ্রহণ কর। মুসলিম প্রথমে সব বাতিলকে অস্বীকার বা বর্জন করে পরে সত্য ইলাহকে গ্রহণ করবে। আর মুশরিক প্রথম অংশ বাতিলকে বর্জন না করে তার উপর অটল থেকে দ্বিতীয়, অংশের কিছু কিছু গ্রহণ করে, যার দরুন সে মুশরিকের গণ্ডি থেকে বের হতে পারে না। আর এদিকে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার মূল দাবী হল প্রথম অংশের অস্বীকার বা বর্জন, দ্বিতীয় অংশ গ্রহণ। প্রথমে বর্জন না করে শুধু গ্রহণই করলাম। এই ক্ষেত্রে বর্জন এবং গ্রহণ উভয়কে যদি একত্র করে নেয়া হয় তাহলে শির্ক এবং তাওহীদ মিশ্রিত হয়ে যায়। আর لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর দাবী কিন্তু এটা নয়। এমন মুসলিমের দাবীদার হাজার বারও যদি لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ পড়ে থাকে কখনও সে আল্লাহর একত্ব ঘোষণাকারী মুসলিম হতে পারবে না। অবস্থা এমন হবে যে, একই পাত্রে দুধ এবং বিষ মিশ্রিত করে রাখলে দুধ ভেবে খেয়ে যেমন বিষের যন্ত্রণায় মৃত্যুবরণ করতে হয়। ঠিক তেমনি হৃদয় নামক পাত্র খানিতে শির্ক নামক বিষ ও তাওহীদের কালিমা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ একত্র করলেও জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে দগ্ধ হতে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রথম অংশের দাবীকে পৃথক করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে যতবারই لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ মুখ দিয়ে উচ্চারণ করুক, যতই সলাত, সিয়াম, হজ্জ ও যাকাত আরো যত সাওয়াবের কাজ আছে সবই যদি সে করে তার পরেও সব 'আমাল পণ্ডশ্রম বা বাতিল হয়ে যাবে। এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ ﴾ “অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও তারা মুশরিক।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২: ১০৬)
আলাইহি আল্লাহর রসূল যত জায়গায় যতবারই যুদ্ধ জিহাদ করেছেন মূল বিষয় ছিল প্রথম অংশের দাবী ত্যাগ নিয়ে। প্রথম অংশের দাবী যতক্ষণ বাস্তবায়ন না হয়েছে ততক্ষণ দ্বিতীয় অংশের দা'ওয়াত দেননি। এ মর্মে রসূলুল্লাহ ﷺ -এর হাদীস। রসূলুল্লাহ ﷺ মু'আয-কে ইয়ামান পাঠানোর সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, অর্থাৎ- নিশ্চয় তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে আগমন করবে যারা আহলে কিতাব। সুতরাং তাদের সর্ব প্রথমে যে দা'ওয়াত দিবে তা হল বাতিল ইলাহদের মা'বৃদদের অস্বীকার আর আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য উপাস্য নেই- এ কথার সাক্ষ্যদান এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর প্রেরিত রসূল। অন্য বর্ণনায় রয়েছে তা হল এই যে, তারা আল্লাহকে এক বলে মানবে। (বুখারী- হাঃ ৪৩৪৭, মুসলিম- হাঃ ২৯-[১৯])
📄 কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম বাক্য لاَ إِلَٰهَ যে চারটি বিষয়কে ছাড়তে বলছে তার ব্যাখ্যা
উক্ত হাদীস প্রমাণ করে দা'ওয়াতের প্রথম কথাই সমস্ত বাতিল মা'বৃদদের ত্যাগ করে সত্য মা'বুদের সাক্ষ্য দেয়া তার পরে সলাত, সিয়াম বা অন্যান্য 'আমালের দা'ওয়াত দেয়া।
সূর্য্য-এর ১ম নম্বর বর্জনীয় বিষয় : اَرْبَابُ (বহু রব) এখন إِجْتَنِبُو الْأَرْبَابَ এর ব্যাখ্যা ১. اَرْبَابُ শব্দটি رَبِّ এর বহুবচন। যার অর্থ হচ্ছে অনেক প্রভু বা অনেক মা'বূদ। পবিত্র কুরআনে ৯৮০ জায়গায় الله শব্দের পরিবর্তে رَبُّ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থও এক। যারা একাধিক ৩ এর 'ইবাদাত করে সূর্য্য বলছে সে সমস্ত একাধিক রَبُ-দেরকে ত্যাগ কর। মুশরিকেরা যাদেরকে রব বানিয়েছিল তারা ছিল তাদের ধর্মগুরু। সংসারবিরাগী পণ্ডিত এবং তাদের বাপ দাদা ও মুরুব্বীদেরকে রব বানিয়েছিল।
এ মর্মে মহান আল্লাহর বাণী, اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ )
“এই লোকেরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও পীর দরবেশদের রব বা মা'বুদ বানিয়ে নিয়েছিল। মারইয়াম পুত্র মাসীহকেও কেউ কেউ রব বানিয়েছিল।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩১)
এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ
“তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ কর এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অলী আওলিয়াদের অনুসরণ করো না। তোমরা অল্প সংখ্যক লোকই তা স্মরণ রাখ।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ৩)
এ আয়াতেও বুঝা যায় তাদের ওলী আওলিয়াগণকে তারা রব বানিয়ে নিয়েছিল। আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয় বাদ দিয়ে পীর অলীদের বিনা দলীলে অন্ধ অনুসরণ করলে আল্লাহর সঙ্গে সমকক্ষ করা হয়। এবং তাদেরকেই যেন রব মানা হয়।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ
“তুমি যে ব্যাপারে জান না সে ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর যারা জানে। তারা জবাব দিবে লিখিত দলীল এবং প্রমাণ সহকারে।” (সূরাহ্ আন্ নাহ্ল ১৬: ৪৩-৪৪)
উক্ত আয়াত প্রমাণ করে যারা বিনা দলীলে ধর্মীয় ব্যাপারে কথা বলে তাদের অনুসরণ মানে তাদেরকে রবের আসনে বসিয়ে দেয়া।
এ মর্মে মহান আল্লাহ আরো বলেন,
﴿قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتُبِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّنْ دُونِ اللَّهِ ﴾
“(হে নাবী!) যাদের ওপর আমি কিতাব নাযিল করেছি। তাদের তুমি বল, এসো আমরা উভয়ে একমত হই এমন এক কথায়। যা আমাদের কাছে এক ও অভিন্ন এবং সে কথাটি হচ্ছে এই যে, আমরা সকলেই এক আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কারো বন্দেগী করবো না। এবং তার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার বানাবো না। (সর্বোপরি) এক আল্লাহ ছাড়া আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরকে রব বা প্রভু বলে মেনে নেবো না।” (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩ : ৬৪)
উক্ত আয়াতেও বুঝা যায় যে মানুষ তার মত আরেক মানুষকে রব হিসেবে গ্রহণ করছে। দুনিয়ার মানুষও এমন যে, একজন মানুষ আরেকজন মানুষের রব হয়ে বসে আছে। সেটা কখনও আইন তৈরির ক্ষেত্রে। কখনও বা বিচার ফায়সালার ক্ষেত্রে কখনও আনুগত্যের ক্ষেত্রে কখনও বা 'ইবাদাতের ক্ষেত্রে কখনও বা শারী'আতের মধ্যে বিনা দলীলে নতুন দ্বীনের প্রবেশ ঘটিয়ে এভাবে আরো অনেক দিক থেকে মানুষ মানুষের রব হয়ে বসে আছে। যা কোন নাবী-রসূল-গণও কোন দিন করেননি। এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَلَا يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا “আল্লাহর ফেরেশতা ও তার নাবী নিজেদেরকে প্রতিপালকরূপে স্বীকার করে নিতে কখনো তোমাদের আদেশ দেবে না।” (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩ : ৮০)
একজন মানুষ আরেকজন মানুষের রব হয়ে বসে। বা মানুষ মানুষকে রব হিসেবে গ্রহণ করে এ কথা রসূলুল্লাহ-এর একজন বিশিষ্ট সহাবী 'আদী বুঝে উঠতে পারলেন না। তখন রসূলুল্লাহ-কে প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহর রসূল! মানুষ মানুষকে কিভাবে রব হিসেবে গ্রহণ করে এ কথা তো আমার বুঝে আসে না। এটা কি সম্ভব হতে পারে। তখন রসূলুল্লাহ তার কথার জবাবে নিম্নোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন,
অর্থাৎ 'আদী বিন হাতিম হতে বর্ণিত যে, নাবী-কে এ আয়াত পড়তে শুনলেন। যার অর্থ হল আল্লাহ ব্যতীত তারা তাদের পণ্ডিত مع العلم বা ধর্মজাযক। পীর দরবেশ সংসারবিরাগী তাদেরকে রব বা প্রভু বানিয়ে নিয়েছে- (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯.: ৩১)। তখন 'আদী বললেন, আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল ! আমরা তো তাদের 'ইবাদাত করি না। রসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহ যা হালাল করেছেন তারা কি তা হারাম করে না? অতপর তোমরা তা হারাম বলে মেনে নাও। অপরদিকে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারা কি তা হালাল করে না? অতঃপর তোমরা তা হালাল বলে মেনে নাও। ('আদী বলেন) অতঃপর আমি বললাম, হ্যাঁ, নাবী বললেন, এটাই তাদের 'ইবাদাত। অর্থাৎ এভাবেই তারা তাদেরকে রব বা প্রভু রূপে গ্রহণ করেছে। আলায়হি (মুসনাদে আহমাদদ; তিরমিযী- ২য় খণ্ড, ১৩২ পৃঃ)
'আনহু মুসনাদে আহমাদে রয়েছে 'আদী বিন হাতিম বলেন, আমি বললাম, তারা তাদের 'ইবাদাত করে না। অতঃপর রসূলুল্লাহ বলেন, হ্যাঁ, তারা তাদের ওপর হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল ফতোয়া দেয়। আর তাদের তারা অনুসরণ করে। অতএব এভাবেই তারা তাদের 'ইবাদাত করে। (আর এভাবেই মানুষ মানুষকে রব বানায়) আলায়হি (ইবনু কাসীর- ২য় খণ্ড, ৪৫৯ পৃঃ)
সত্য রব হওয়ার জন্য শর্ত হল সূরাহ্ ইখলাসে বর্ণিত গুণবাচক বিষয়গুলো তার মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু এ বিষয়গুলো আর কারো মাঝে পাওয়া যায় না। বিধায় সত্য রব হওয়ার যোগ্যতাও আর কেউ রাখে না। বিষয়গুলো একমাত্র আল্লাহর মাঝেই পাওয়া যায়। তাই সত্যিকার রবও হলেন একমাত্র মহান আল্লাহ। রব সে তো এক অদৃশ্য সত্ত্বা। যার পরিচয় সূরাহ্ ইখলাসে আল্লাহ তা'আলা নিজেই দিয়েছেন।
قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ “বলুন, তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্যও কেউ নেই। (সূরাহ্ ইখলাস ১১২ : ১-৪)
সূরাহ্ ইখলাসে বর্ণিত শর্ত মোতাবেক রব হওয়ার যোগ্যতা আসমান ও জমিনে আর কেউ রাখে না, একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ব্যতীত।"
ফির্'আওন ১৭ (সতের) শত বছর আয়ু পেয়েছিল এবং সে অনেক সম্পদেরও অধিকারী ছিল। এ সমস্ত দিক দিয়ে সে নিজেকে নিজে অনেক বড় বলে মনে করত। সে কোন দিন আর মরবে না আর তার সহায় সম্পদও শেষ হবে না। এটাই ছিল তার ধারণা।
সালাম সালাম একদিকে আল্লাহর নাবী মূসা আসি আল্লাহর পক্ষ থেকে আনিত বিধান দিয়ে দ্বীনের দা'ওয়াত দিতেন ওদিকে পাপিষ্ঠ ফির'আওন মূসা আলাইহিস্-এর দ্বীনকে প্রত্যাখ্যান করে নিজে নিজে দ্বীন তৈরি করে জনগণকে তার দ্বীনে আহ্বান করত। বিশেষ করে 'ইবাদাতের ক্ষেত্রে আইন ও কানুনের ক্ষেত্রে বিচার ফায়সালার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সে নিজের তৈরি করা মতাদর্শের প্রতি মানুষকে আহ্বান করত। এবং সে নিজেই নিজেকে রব দাবী করে বসল। সে কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ দাবী করেনি। সে আইন তৈরির দিক থেকে 'ইবাদাত ও বিচার ফায়সালার দিক থেকে নিজেকে রব দাবী করেছিল।
মানুষরূপী সমস্ত রব হল মিথ্যা ও ভ্রান্ত। এর থেকে পরবর্তীতে মানুষ যাতে বেঁচে থাকতে পারে, তাই ফির্ 'আওনকে নিন্দা করার জন্য কুরআন মাজীদের আল্লাহ তার কথাগুলোকে প্রকাশ করে দিলেন। ফিরআউন নিজেকে রব দাবী করে বলেছিল,
فَحَشَرَ فَنَادَى فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى )
“ফির্'আওন সকলকে সমবেত করে ঘোষণা করে বলল আমি হলাম তোমাদের বড় রব।” (সূরাহ্ আন্ না-যি'আত ৭৯ : ২৪)
ফির্ 'আওন আরো বলেছিল,
وَنَادَى فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهُذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِ أَفَلَا تُبْصِرُونَ ))
“ফির্'আওন তার ক্বওমকে সম্বোধন করে বলেছিল, হে আমার কওম! আমি কি মিসরের অধিপতি নই? এই নদীগুলো আমার পাদদেশে প্রবাহিত তোমরা এসব দেখ না কেন?” (সূরাহ্ আয যুখরুফ ৪৩ : ৫১)
এখানে ফির্'আওন যে রব দাবী করেছিল। সেটা আইন তৈরির রব। সৃষ্টিকর্তা রব নয়। কারণ সৃষ্টির ক্ষমতা কোন মাখলুকের নেই। যদিও এটা সে নিজে বুঝত কিন্তু এটা সে প্রকাশ করত না। মাখলুক পারে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিবস্তু দিয়ে তৈরি করতে। কোন মডেল আবিষ্কার করতে। কিন্তু মূল উপাদান তৈরির ক্ষমতা মানুষের নেই। প্রত্যেক বস্তুর মূল সৃষ্টিকারী হলেন মহান আল্লাহ। তাই ফির্ 'আওন কখনও সৃষ্টিকর্তা দাবী করেনি। সে দ্বীনের বিধি বিধানের এবং আইন তৈরির ক্ষেত্রে রব দাবী করেছিল। আর এভাবেই ফির'আওন মানুষের সামনে রব হিসেবে পরিচিতি লাভ করল।
পরবর্তীতে দেখা যায় ঠিক একই পদ্ধতিতে কুরআন হাদীস বর্জিত একশ্রেণীর লিবাস ধারী আলেমরা বিভিন্ন ধর্মগুরু পীর মাশায়েখ, শরীয়তের মাঝে, নতুন নতুন দ্বীন, তরীকা, 'ইবাদাতের নিয়ম কানুন বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েল। ফাতোয়া ফারায়েজ, নিজেরা নিজেদের মত তৈরি করে, সঠিক দলীল ব্যতীত, এক অভিনব পদ্ধতিতে উম্মাতের মাঝে চালিয়ে দিয়ে নিজেকে যেন রবের সমকক্ষ বানিয়ে নিচ্ছে।
একশ্রেণীর মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রীয় নেতারা আল্লাহর অবতীর্ণকৃত ওয়াহীর বিধান ছেড়ে দিয়ে অন্য বিধানানুযায়ী বিচার, ফায়সালা ও শাসন কার্য পরিচালনা করে নিজেদেরকে রবের আসনে বসিয়ে দিচ্ছে। যদিও অধিকাংশ মানুষ মুখ দিয়ে তাদের রব বলে না। কিন্তু কার্য ক্ষেত্রে তাদেরকে যেন রবের সমকক্ষ বানিয়ে, ভয় এবং মহব্বত তদ্রূপ করে যাচ্ছে যেমনটি মহব্বত এবং ভয় করা প্রয়োজন ছিল মহান আল্লাহকে। এ মর্মে মহান আল্লাহর ঘোষণা,
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ امَنُوا أَشَدُّ حُبَّا لِلَّهِ
"মানুষের মধ্যে এমন অনেক আছে যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে নেয়। এবং তাদেরকে ভালোবাসে আল্লাহকে ভালোবাসার মতই এবং যারা ঈমানদার তাদের ভালোবাসা মহান আল্লাহর জন্যই সবচেয়ে বেশি।” (সূরাহ্ বাক্বারাহ্ ২: ১৬৪)
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলাকে বাদ দিয়ে মানুষ যে অসংখ্য বাতিল রবের 'ইবাদাত করে তার একটা সহজ পরিচয় হল- আল্লাহ যে বিষয়গুলোকে হালাল করেছেন এগুলোকে যারা হারাম করে এবং আল্লাহ যে বিষয়গুলোকে হারাম করেছেন সেগুলোকে যারা হালাল করে, তারাই হল বাতিল রব। তাদের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাবধানবাণী বলে গেলেন।
لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ. অর্থাৎ- সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না স্রষ্টার সাথে কোন পাপকার্যে। (আহমাদ হাঃ ১০৯৫, ২০৬৫৩, ২০৬৫৬; সনদ: সহীহ)
নোট: কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অংশ বার্ড এর প্রথম দাবী হল উপরোল্লিখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত সমস্ত প্রকার বাতিল, অযোগ্য ও মিথ্যা রবদেরকে অস্বীকার করা বর্জন করা। বার্ড এর দুই নম্বর বর্জনীয় বিষয় : اَنْدَادَ )সমকক্ষ সমূহ) বলা হয়েছে إِجْتَنِبُو الْاَنْدَادَ আল্লাহর সাথে এর সকল প্রকার সমকক্ষ তৈরি করা থেকে বিরত থাকা। اَنْدَادُ শব্দটি বহুবচন। যার অর্থ আল্লাহর সমকক্ষ তৈরি করা। পরিভাষায় যে সমস্ত জিনিসের মালিক একমাত্র আল্লাহ এই মালিকানায় অন্য কাউকে ভাগ বসানো। বা যে সমস্ত গুণ একমাত্র আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য ঐ সমস্ত গুণে অন্য কাউকে গুণান্বিত করাই হল আল্লাহর সমকক্ষ বনানো। যেমন মহান আল্লাহর বাণী,
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدُ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ) “তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেননি।” (সূরাহ্ ইখলাস ১১২: ৩-৪)
আর এই জন্ম দেয়ার ব্যাপারে তার সমকক্ষ আর কেউ নেই। যেখানে জন্ম দেয়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণ আল্লাহ নিজ হাতে নিয়ে নিলেন। সেক্ষেত্রে অন্য আর কারো কাছে গেলে সন্তান পাওয়া যাবে বা অন্য কেউ ছেলে মেয়ে দিতে পারে এ ধারণাই আল্লাহর সাথে সমকক্ষ বানান। অনুরূপ সঠিক ‘ইবাদাতের বেলায় কোন কিছু সৃষ্টির ক্ষেত্রে সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে, আইন কানুন, বিচার ফায়সালার ক্ষেত্রে হুকুম আহকামের ক্ষেত্রে। কুরবানী, নযর-নেওয়ায, মানৎ ইত্যাদির ক্ষেত্রে অন্য কাউকে মাধ্যম বানানোটাই হল আল্লাহর সঙ্গে চার্তা বা সমকক্ষ স্থাপন করা।
পূর্ব যুগের মুশরিকেরাও 'ইবাদাত করত কিন্তু সে 'ইবাদাত শুধু আল্লাহর জন্য খালেস ছিল না। আরো অনেককে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ বানাত। তারাও সলাত আদায় করত। তাদের সলাতের ধরন ছিল তারা বায়তুল্লাহর পার্শ্বে যেয়ে অথবা বিভিন্ন দেব-দেবী বা মূর্তির পাশে যেয়ে উলুধ্বনী দিত। শীষ বাজাত, হাততালি দিত। বিভিন্ন আনন্দ-ফুর্তি করত, যাতে করে তাদের দেব দেবীরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে এবং এই সমস্ত দেব দেবীদের মনোসন্তুষ্টির মাধ্যমেই তারা আল্লাহকে পাবে বা এদের সুপারিশেই তারা আল্লাহকে পেয়ে যাবে এটাই ছিল তাদের ধর্ম বিশ্বাস। ধর্মের প্রতি এই অলিক বিশ্বাস এবং এই ‘ইবাদাত বন্দেগী সম্পূর্ণটাই ছিল তাদের মনগড়া পদ্ধতিতে। আল্লাহর দেয়া পদ্ধতিকে তারা গ্রহণ করেনি।
আর সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে পেতে হলে বা আল্লাহর মনোসন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে কারো শিখানো পদ্ধতিতে নয় একমাত্র আল্লাহর শিখানো পদ্ধতিতে এবং সেটা নাবী মুহাম্মাদ -এর তরীকাতেই করতে হবে। অন্য কারো শিখানো পদ্ধতিতে, অন্য কারো মনোেসন্তুষ্টি, অন্য কোন মাধ্যম স্থির করলে সেটা হবে আল্লাহর সাথে চার্তা বা সমকক্ষ তৈরি করা।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا )
“তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। কাজেই যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা করে, সে যেন সৎ 'আমাল করে আর তার প্রতিপালকের 'ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।" (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ১১০)
কুরবানী করা হল মুসলিমদের একটা বড় 'ইবাদাত, কুরবানীর দিনে কুরবানী করার চাইতে বড় 'ইবাদাত আর নেই। মুশরিকেরাও এ কুরবানী করত, তারা দূর দূরান্ত থেকে কুরবানীর পশুগুলো খানায় কাবার পাশে এনে যবেহ করত। যবেহকৃত পশুর রক্ত কা'বা ঘরের দেয়ালে লেপে দিত এবং মাংশকে দেয়ালের পাশে রেখে দিত। কারণ তাদের বিশ্বাস তাদের আরো যেসব দেব দেবী ছিল সকলে মিলে এগুলো ভক্ষণ করবে। ফলে দেবদেবীরা সন্তুষ্ট থাকলে তাদের অনেক কল্যাণ হবে। এভাবে যবেহকৃত 'ইবাদাতের ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর সঙ্গে اَنْدَادُ বা অসংখ্য সমকক্ষ সাব্যস্ত করত।
মুশরিকদের এই ঘৃণিত কাজকে লক্ষ্য করে মানুষ যাতে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির না করে সে জন্য সাবধান বাণী শুনিয়ে মহান আল্লাহ বলেন : لَنْ يَنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ كَذلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ ﴾
“আল্লাহ্র কাছে ওগুলোর না গোশ্ত পৌঁছে, আর না রক্ত পৌঁছে বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি ওগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পার এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, কাজেই সৎকর্মশীলদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।” (সূরাহ্ আল হাজ্জ ২২: ৩৭)
অনুরূপ কোন মানুষ যখন তাদের পশুগুলোকে নিয়ে কোন মাজার, দরগা বা কারো আস্তানায় নিয়ে কুরবানী করে তাহলে ঐ মাজারে যিনি আছে তাকেই যেন সে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে নিল। এ পশু যবেহের সময় হাজার বারও যদি بِسْمِ اللهِ اللَّهُ أَكْبَرُ পড়ে তার পরেও তা হারাম হবে। কারণ সে তো ঐ মাজারওয়ালার মনোতুষ্টি অর্জনের উদ্দেশেই পশুকে এখানে নিয়ে এসেছে। আল্লাহর মনোসন্তুষ্টি কামনা হলে কারো আস্তানায় আনার প্রয়োজন ছিল না। মুসলিমের কুরবানী হবে কোন আস্তানা ছাড়া কোন মাধ্যম ছাড়া। আল্লাহ ব্যতীত অন্য আর কারো মনোসন্তুষ্টি কামনা ব্যতীত, উদ্দেশ্য হবে একমাত্র আল্লাহর মনোতুষ্টি। যেমন, ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন,
إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ )
“নিশ্চয় আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমাদের বেঁচে থাকা, আমাদের মরে যাওয়া, যাবতীয় 'ইবাদাত, (সব কিছুই) বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্যই (নিবেদিত)।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১৬২)
ধন-সম্পদ, জ্ঞান-বুদ্ধি এ সবকিছুর চাবিকাঠি মহান আল্লাহর হাতে। মুশরিকদের ধারণা ধন সম্পদের দায়িত্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ মা-কালির হাতে অর্পণ করেছে তাই তারা কালির মূর্তি বানিয়ে কালি পূজা করে। কালির কাছে সম্পদ চায়। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ জ্ঞান বুদ্ধির চাবিকাঠি স্বর স্বতীর কাছে দিয়ে দিয়েছে, তাই তারা স্বরস্বতীর মূর্তি বানিয়ে স্বর স্বতীর কাছে জ্ঞানের জন্য আরাধনা করে, তার পূজা করে। এভাবে কাবা ঘরের ৩৬০ টি মূর্তির কাছে তারা একেক সমস্যার জন্য এক একটি মূর্তিকে মাধ্যম বানিয়ে আল্লাহর কাছে চাইত। অনুরূপ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ পড়া কোন মুসলিমও যদি একেক সমস্যার কারণে কোন মৃত মানুষের আস্তানায় যেয়ে তাকে মাধ্যম বানিয়ে তার মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকে বা আল্লাহর কাছে চায় তাহলে সেও যেন ঐ মুশরিকদের মতই আল্লাহর সঙ্গে আংদা বা বহু সমকক্ষ বানিয়ে নিল। তাই মানুষ যাতে আল্লাহর সঙ্গে সমকক্ষ তৈরি না করে এ মর্মে মহান আল্লাহর ঘোষণা,
فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴾
“তোমরা জেনে বুঝে কাউকেও আল্লাহ্র সমকক্ষ দাঁড় করিও না।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২২)
মহব্বত বা ভালোবাসা ঈমানের একটি অঙ্গ, অথচ ভালোবাসার ক্ষেত্রে মানুষ আল্লাহর সঙ্গে সমকক্ষ বানিয়ে ফেলে সেটা ধন সম্পদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। স্ত্রী সন্তান-সন্ততি বা অন্য যে কোন বস্তু কিংবা ব্যক্তির ক্ষেত্রেও হতে পারে। কিন্তু মু'মিনদের উচিত একমাত্র আল্লাহকেই বেশি ভালোবাসা। এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলার বাণী, وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ امَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
“মানুষের মাঝে কিছু সংখ্যক এমনও রয়েছে, যে আল্লাহর বদলে অন্য কিছুকে তার সমকক্ষ মনে করে। তারা তাদের সেভাবেই ভালোবাসে যেভাবে ভালোবাসা যতটুকু ভালোবাসা উচিত ছিল মহান আল্লাহকে। আর আল্লাহ বলেন ঈমানদারদের ভালোবাসা সবচাইতে বেশি হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৬৫)
ভালোবাসা তো এমন যে মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে তখন সে তার বাধ্য হয়ে যায়। সে যদি অন্যায় কিছু করে ফেলে তখন সেটাকে আর অন্যায় মনে করে না। সে যদি ভুল করে বসে তাহলে সে ভুলকে ভুল মনে করা হয় না। সে যদি কিছু আদেশ করে মানতে বাধ্য হয়ে যায়। ভালোবাসার তীব্রতায় সে একসময় তাকে সকল কিছুর বিনিময় হলেও, এক সময় অন্ধের মত তার আদেশ মানতে বাধ্য হয়ে যায়। ফলে কোন এক সময় সে মহান আল্লাহর আদেশকে বাদ দিয়ে তার মত একজন মানুষের মহব্বতে পড়ে তার তৈরি করা নিজস্ব মতবাদকে গ্রহণ করে নেয়। আর এভাবেই সে তাকে আল্লাহর সঙ্গে সমকক্ষ বানিয়ে নেয়।
মহান আল্লাহ এ মর্মে বলেন, وَجَعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِهِ قُلْ تَمَتَّعُوْا فَإِنَّ مَصِيرَكُمْ إِلَى النَّارِ ﴾
“এরা আল্লাহর জন্য তার কিছু সমকক্ষ উদ্ভাবন করে নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষদেরকে তার পথ থেকে বিভ্রান্ত করতে পারে।” (সূরাহ্ ইব্রাহীম ১৪ : ৩০)
কুরআন এবং সহীহ হাদীসের দলীল ব্যতীত যখন কোন মানুষ অন্ধভাবে অন্য কারো অনুসরণ করে তখন সে যেন তাকেই আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে নেয়। যার কারণে ক্বিয়ামাতের দিন তাকে বড় মুসীবতে পড়তে হবে।
এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, وَقَالَ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِذْ تَأْمُرُونَنَا أَنْ تَكْفُرَ بِاللَّهِ وَنَجْعَلَ لَهُ أَنْدَادًا “যাদের পদানত করে রাখা হয়েছিল। এবার তারা অহংকারী নেতাদের বলবে, (জবরদস্তি) না হলেও (তোমাদের) রাত দিনের চক্রান্ত (নাফরমানি করতে) আমাদের বাধ্য করেছিল। (বিশেষ করে) যখন তোমরা আমাদের আদেশ দিতে, যেন আমরা আল্লাহ তা'আলাকে অস্বীকার করি এবং অন্যদের তার সমকক্ষ দাঁড় করাই।” (সূরাহ্ সাবা ৩৪ : ৩৩)
বিশেষ করে যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া রসূলুল্লাহ -এর আনিত জীবন বিধানকে বাদ দিয়ে অন্য কোন জীবন ও বিধানের দিকে মানুষকে আহ্বান করে তাদের কথা বলা হয়েছে। হতে পারে সে ঐ আলেম যে ইসলামের লিবাস পরে ইসলামের নাম নিয়ে মানুষদেরকে নিজের দিকে ডাকে স্বার্থ হাসিলের জন্য। কখনও বা রাষ্ট্রীয় নেতারা। মানুষরূপী দুষ্ট শয়তানদের মধ্য থেকেও হতে পারে।
মহান আল্লাহ তা'আলা তার সঙ্গে সমকক্ষ নির্ধারণের ব্যাপারে আরো বলেন, وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِنْهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ مِنْ قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَنْدَادًا لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِهِ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا إِنَّكَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ “মানুষ তো এমন যখন কোন দুঃখ-কষ্ট তাকে স্পর্শ করে তখন সে একনিষ্ঠভাবে তার মালিকের দিকে ধাবিত হয়। পরে যখন আল্লাহ তা'আলা তার নিজের কাছ থেকে তাকে নি'আমাত দিয়ে তার উপর অনুগ্রহ করেন। তখন সে যে জন্যে আগে আল্লাহকে ডেকেছিল তা ভুলে যায়। সে আল্লাহ তা'আলার সমকক্ষ বানায়।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ৮)
যাতে করে সে লোকেদের আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দিতে পারে। হে নাবী! তুমি এমন লোকেদের বলে দাও। নিজের কুফরীর ভোগ বিলাস (হাতে গোনা) কয়টি দিনের জন্য ভোগ করে নাও। (পরিণামে) তুমি অবশ্যই জাহান্নামী হবে।
দুনিয়ার জীবন তো এমন সমস্ত সাগরের পানির তুলনায় একটি আঙ্গুলের মাথার এক ফোটা পানি যেমন সামান্য আখিরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার জীবন এর চাইতেও অল্প। (মুসলিম, মিশকাত- হাঃ ৫১৫৬)
নোট : কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অংশ বার্ড এর দ্বিতীয় দাবী হল, উপরে উল্লেখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত সমস্ত বাতিল মিথ্যা ও শির্ক্বী اَنْدَادُ বা সমকক্ষদের প্রথমেই অস্বীকার কর।
বার্ড এর তিন নম্বর বর্জনীয় বিষয় : آلالِهَةُ )অনেক ইলাহ) বলা হয়েছে, اِجْتَنَبُو الْأَلِهَةُ অর্থাৎ অনেক ইলাহদের বর্জন কর, ত্যাগ কর, অস্বীকার কর। لِهَةً শব্দটি বহুবচন একবচনে ১) যার অর্থ একজন ১) বা উপাস্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ নিজেই অসংখ্য জায়গায় لله। শব্দের পরিবর্তে । শব্দটি ব্যবহার করেছে যার অর্থ একই। কিন্তু যারা এক সত্য ইলাহকে বাদ দিয়ে অসংখ্য বা বা একাধিক ইলাহের উপাসনা করে বা 'ইবাদাত করে ঊর্মি এর তিন নাম্বর দাবী হল তাদের সকলকেই বর্জন কর আগে। একমাত্র নাস্তিকেরা ব্যতীত এ পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষই। কোন না কোন ইলাহের উপাসনা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। যেমন শুধু অগ্নিপূজকরাই ৩৩ কোটি ইলাহের 'ইবাদাত করে। খৃষ্টানেরা তিন ইলাহের 'ইবাদাত করে তারা হল যিশু, 'ঈসা, মারইয়াম।
এভাবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও অসংখ্য ইলাহের 'ইবাদাত করে। মুশরিকেরা যে অসংখ্য ইলাহের 'ইবাদত করত তার প্রমাণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলার বাণী, وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ الهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوْثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا )
“আর তারা বলেছিল, তোমাদের দেবদেবীদের কক্ষনো পরিত্যাগ করো না, আর অবশ্যই পরিত্যাগ করো না ওয়াদ সুআ'আকে, আর না 'ইয়াগুস, ইয়া'ঊক ও নাস্ত্রকে।” (সূরাহ্ নূহ ৭১ : ২৩)
তাদের ইলাহদের নাম ছিল কুরআনে বর্ণিত নামসমূহ ওরা এই সমস্ত বাতিল ইলাহদের 'ইবাদাত করত এবং বিপদে মুসীবতে তাদেরকে আহ্বান করত। প্রার্থনা, সাহায্য চাওয়া, মানৎ, নযর, যবেহ, আদেশ উপদেশ, আইন কানুন মানার ক্ষেত্রে তাদের হুকুমে স্বর চিহ্নের ব্যবহার। এক কথায় তাদের সার্বিক 'ইবাদাত ঐ সমস্ত বাতিল বহু ইলাহদের জন্য নিবেদিত ছিল।
পক্ষান্তরে যারা সত্যিকার ইসলাম গ্রহণ করবে তাদের প্রথম ঘোষণাই হবে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ অর্থাৎ ঐ সমস্ত উপরোল্লিখিত বাতিল ইলাহদের প্রথমেই বর্জন কর, অস্বীকার কর।
এ মর্মে মহান আল্লাহর ঘোষণা হল, وَإِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ )
“তোমাদের ইলাহ বা মা'বুদ হচ্ছে একজন। তিনি ছাড়া দ্বিতীয় আর কোন সত্য মা'বুদ নেই। তিনি দয়ালু ও মেহেরবান।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৬৩)
যারা অসংখ্য ইলাহের 'ইবাদাত করে তাদের মধ্যে সবচাইতে বড় এবং খুবই নিকটতম ইলাহের নাম হল নিজের নফস্ বা প্রবৃত্তি। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ )
“তোমরা কি তোমাদের প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়ে নিয়েছ।” (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫ : ৪৩)
আল্লাহর কথায় প্রমাণ করে যে, এক শ্রেণীর মানুষ তার নিজ প্রবৃত্তির ‘ইবাদাত করে সে তার প্রবৃত্তিকেই ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে। দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে যারা لِلَهَ إِلَّا الله-কে স্বীকার করে নিয়েছে তারাও এর থেকে মুক্ত নয়।”
প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে দুই শ্রেণীর নফস্ রয়েছে তার মধ্যে নফস্ে আম্মারা যেটা, সেটা মানুষকে সর্বদা খারাপ প্রবণতার দিকে ধাবিত করে। শয়তানের ওয়াস্তয়াসায় যখনই নফসে আম্মারা জয়ী হয়ে যায়। তখন নফসই যেন তার ইলাহ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ যে বিষয়ে আদেশ করেছেন সে বিষয়ে সে দূরে থাকে মানতে চায় না। আর যে বিষয়গুলোকে নিষেধ করেছেন সেগুলো সে করে যায়। এভাবেই সে আল্লাহকে প্রাধান্য না দিয়ে তার নফস বা প্রবৃত্তিতে প্রাধান্য দিয়ে তাকেই যেন ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। এহেন অবস্থাকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ বলেন সে যেন তার প্রবৃত্তিকেই ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে।
মানুষের হাতে গড়া মাটির তৈরি মূর্তিকেও তারা যে ইলাহ বা মা'বৃদ বানিয়ে নিয়েছে।
এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ أَزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْنَامًا آلِهَةً إِنِّي أَرَاكَ وَقَوْمَكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
“স্মরণ কর যখন ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তার পিতা আযর-কে বললো, তুমি কি মূর্তিগুলোকে মা'বুদ বানিয়ে নিতে চাও। আমি তো দেখতে পাচ্ছি। তুমি ও তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা স্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত রয়েছো।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ৭৪)
এ মর্মে মহান আল্লাহ আরো বলেন,
"তোমরা কি সত্যিই এ কথায় সাক্ষ্য দিতে পারবে যে আল্লাহর সাথে আরো অন্য কোন ইলাহ রয়েছে। হে নাবী! তুমি তাদের জানিয়ে দাও, আমি (জেনে বুঝে) কখনও এ ধরনের মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে পারবো না। তুমি বল তিনি একক তোমরা আল্লাহর সাথে যে শির্ক করে যাচ্ছ তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১৯)
আল্লাহ বলেন, ফির্'আওনী বাহিনীকে ডুবিয়ে দিয়ে আমি বনী ইসরাঈলীদের সমুদ্র পার করে দিয়েছি। সমুদ্রের এপারে তারা এমন একটি জাতির কাছে এসে পৌঁছল। যারা সব সময় তাদের মূর্তিকে পূজা দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে বসে থাকত। এদের দেখে বানী ইসরাঈলের লোকেরা বলল,
قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ )
“তারা বলল, হে মূসা! তুমি আমাদের জন্যে ও এ ধরনের একটি ইলাহ বা দেবতা বানিয়ে দাও। যেমন এদের দেবতা নামক ইলাহ রয়েছে।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৩৮)
আসহাবে কাহফ্ফ-এর নওজোয়ান ঈমানদারেরা তাদের জাতি গোষ্ঠীদের দিকে লক্ষ্য করে বলেছিল,
هَؤُلَاءِ قَوْمُنَا اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَوْلَا يَأْتُونَ عَلَيْهِمْ بِسُلْطَانٍ بَيْنِ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا )
“এরা হচ্ছে আমাদের স্বজাতীয় লোক যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অসংখ্য ইলাহ, মা'বুদের গোলামী গ্রহণ করেছে, তারা তাদের ইলাহদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ পেশ করে না কেন? তার থেকে বড় যালিম আর কে হতে পারে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে?” (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ১৫)
যারা দুনিয়াতে শয়তানের গোলামী করে বা একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে যাদের অভিভাবক হল শয়তান তারা যে কোন সুরত ধরেই হোক কখনও তারা আলেমদের সুরতে কখনও বা সাধারণ সুরতে যে কোন পথ ধরেই হোক না কেন তারা বলে যে ক্বিয়ামাতে তারা তোমাদের সাহায্য করবে। তাদের এই প্রতারণামূলক কথা শুনে যারা তাদের অনুসরণ করবে মহান আল্লাহ বলেন, তারা যেন তাদেরকেই ইলাহ, মা'বূদ বানিয়ে নিল।
এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَاتَّخَذُوا مِنْ دُوْنِ اللهِ آلِهَةً لِيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّا “এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের মা'বুদ বানায়, তারা এই কথা বলে যে এরা যেন তাদের জন্যে সাহায্যকারী হবে।” (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯ : ৮১) মহান আল্লাহ আরো বলেন, كَلَّا سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا “কখনও না, ক্বিয়ামাতের দিন বরং এরা তাদের ‘ইবাদাতের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করবে, এরা তখন তাদের বিপক্ষে হয়ে যাবে। তারা কোনই উপকারে আসবে না।” (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯ : ৮২) অসংখ্য বাতিল মা'বুদের পরিচয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, أَمِ اتَّخَذُوا آلِهَةً مِّنَ الْأَرْضِ هُمْ يُنْشِرُونَ “এরা কি আল্লাহর বদলে জমিনের কোন কিছুকে ইলাহ, মা'বৃদ বানিয়ে নিয়েছে। এরা যাদের ইলাহ, মা'বূদ বানাচ্ছে তারা কি মৃত্যুকে জীবিত করতে পারবে?” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১ : ২১)
বাতিল মা'বৃদ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, “দুনিয়াতে যারা এই ওয়াদা দেয় যে, তাদেরকে ক্বিয়ামাতে আল্লাহর ‘আযাব থেকে বাঁচিয়ে দিবে।” প্রকৃতপক্ষে এরা হল বাতিল তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
أَمْ لَهُمْ أَلِهَةٌ تَمْنَعُهُمْ مِنْ دُونِنَا لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنْفُسِهِمْ وَلَا هُمْ مِنَّا يُصْحَبُونَ “তাদের কি আরো কোন ইলাহ মা'বুদ আছে যারা আমার 'আযাব থেকে তাদেরকে বাঁচাতে পারবে, তারা তো নিজেদেরই কোন সাহায্য করতে পারবে না। না তারা আমার কাছ থেকে সেখানে কোন সাহায্যকারী পাবে। অর্থাৎ নিজেকেই সে 'আযাব থেকে বাঁচানোর ক্ষমতা রাখবে না।” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১ : ৪৩)
নিজেরা ফায়দা হাসিলের জন্য বিভিন্ন শিক্বীতে লিপ্ত থেকে মানুষদের মিথ্যা বাক্য শুনিয়ে পথভ্রষ্ট করার জন্য তারা নিজেরাই জাহান্নামী হবে। এ মর্মে আল্লাহর ঘোষণা,
لَوْ كَانَ هَؤُلَاءِ آلِهَةً مَّا وَرَدُوهَا وَكُلٌّ فِيهَا خُلِدُونَ “যাদের তোমরা গোলামী করতে ইলাহ, মা'বুদ মনে করে। তারা যদি সত্যিই ইলাহ, মা'বুদ হত তাহলে আজ তারা কিছুতেই জাহান্নামে প্রবেশ করত না।” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১ : ৯৯)
এ সমস্ত বাতিল ইলাহ, মা'বূদদের অবস্থা হবে খুবই ভয়াবহ,
لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ “এদের জন্য সেখানে শুধু শাস্তির চিৎকারই শুনবে। 'আযাবের এই ভয়াবহ চিৎকার ছাড়া সেখানে আর কিছুই শুনা যাবে না।” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১: ১০০)
যে সমস্ত গুণ একমাত্র আল্লাহর মধ্যেই আছে, যে বিষয়গুলো চাইলে একমাত্র আল্লাহই দিতে পারেন অন্য কেউ দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। এখন কেউ যদি দাবী করে বসেন, না আমিও দিতে পারি এবং ঐ কেরামতি ঐ পাওয়ার আমারও আছে আমিও পারব তোমার ক্ষতি বা বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। আর যে এ কথায় বিশ্বাস করবে তখন সেই যেন তার ইলাহ, মা'বুদ হয়ে যাবে।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, أَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍ لَّا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ
“আমি কি তাকে বাদ দিয়ে অন্য কোন ইলাহ, মা'বুদ গ্রহণ করতে যাব? (অথচ) দয়াময় আল্লাহ তা'আলা যদি আমার কোন ক্ষতি করতে চান তাহলে ওদের কোন সুপারিশই তো আমার কোন কাজে আসবে না। এবং ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য কোন প্রকার উদ্ধারও তারা করতে পারবে না।” (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬: ২৩)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لَعَلَّهُمْ يُنْصَرُونَ ﴾
“এত কিছু সত্ত্বেও তারা আল্লাহ তা'আলার বদলে অন্য ইলাহ, মা'বৃদ বানায় (তাও) এ আশায় যে (তাদের পক্ষ থেকে) এদের সাহায্য করা হবে।” (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬ : ৭৪)
এ সমস্ত মিথ্যা ইলাহের উপাসনাকারীদের আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, أَئِفْكًا آلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ ﴾
“তোমরা কি সত্য ইলাহ আল্লাহকে বাদ দিয়ে মনগড়া ইলাহ মা'বুদদেরই পেতে চাও?” (সূরাহ্ আস্ সা-ফফা-ত ৩৭ : ৮৬)
এ ভাবে আল্লাহর অসংখ্য আয়াত প্রমাণ করে لِهَةً' অসংখ্য ইলাহ এরা সবই মিথ্যা মনগড়া ও বাতিল। 'আযাব থেকে বিপদ থেকে বাঁচানোর কোন ক্ষমতা তাদের নেই। এদের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের কোন পথই আল্লাহ খোলা রাখেননি।
মানুষ যাতে অসংখ্য لِهَةً'-দের 'ইবাদাত না করে এ জন্য পবিত্র কুরআনের অসংখ্য জায়গায় অনেক দৃষ্টান্ত এনে মানুষকে বুঝিয়েছেন। যেমন সূরাহ্ আল আহকাফে ২১ নং আয়াতে বর্ণিত মহান আল্লাহ 'আদ সম্প্রদায়ের নিকট যখন নাবী হূদ আলাইহিসসালাম-কে প্রেরণ করলেন। আর সেখানে তাদেরকে অনেক ইলাহ আলাইহিসসালাম-দের বর্জন করে এক সত্য ইলাহের দিকে দা'ওয়াত দিলেন তখন তারা সে দা'ওয়াতকে অস্বীকার করল। আল্লাহর 'আযাব গজবের কথা শুনালে তারা বলল তাহলে প্রকাশ্যে সেটা আমাদের দেখাও। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর আযাব নেমে আসে এবং সব ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীদের বুঝানোর জন্য আল্লাহ 'আদ সম্প্রদায়ের সে চিত্রকে তুলে ধরলেন এবং বলেন,
فَلَوْلَا نَصَرَهُمُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُوْنِ اللَّهِ قُرْبَانًا أَلِهَةٌ بَلْ ضَلُّوا عَنْهُمْ وَذُلِكَ إِفْكُهُمْ وَمَا كَانُوا يَفْتَرُونَ
“তারা কেন (সেদিন) তাদের সাহায্য করতে পারল না। যাদের তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নৈকট্য হাসিলের মাধ্যম বা নৈকট্য হাসিলের জন্য মা'বৃদ বানিয়ে নিয়েছিল বরং (আযাব দেখে) তারাও তাদের ছেড়ে উধাও হয়ে গেল। (মূলত) এই হচ্ছে তাদের আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে মিথ্যা ও যাবতীয় অলীক ধারণা যা তারা পোষণ করত।” (সূরাহ আল আহক্বফ ৪৬ : ২৮)
নোট : আরো অনেক দলীল রয়েছে যেগুলো প্রমাণ করে মানুষ এক আল্লাহকে রেখে অসংখ্য ইলাহ বা মা'বুদের 'ইবাদাত করে। সে সমস্ত ইলাহদের মধ্য রয়েছে। নিজের প্রবৃত্তি, ইবলীস, মানুষরূপী শয়তান, কুরআন হাদীসের দলীল ব্যতিরেকে মনগড়া মিথ্যা কথা কুরআন হাদীসের মত করে বানিয়ে বলে আর যারা তাতে বিশ্বাস করে এ সবগুলোই হল বাতিল ইলাহ উপাস্য।
কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অংশ لا اله বলছে এ সমস্ত মিথ্যা ইলাহদের আগেই অস্বীকার কর, বর্জন কর।
لا اله এর চার নম্বর বর্জনীয় বিষয় : اَلطَّاغُوتُ )ত্বাগূতসমূহ) শব্দটি اَلطَّغْيَانُ থেকে উৎপত্তি যার অর্থ বান্দা একমাত্র আল্লাহর উপাসনা ও আনুগত্যের সীমা অতিক্রম করে আর যারই আনুগত্য করে তাকেই বলা হয় ত্বাগূত। এটা ছাড়া ত্বাগূত শব্দের ব্যাপক অর্থ রয়েছে। আরেক অর্থে ত্বাগূত হল মহান আল্লাহ ব্যতীত আর যার 'ইবাদাত করা হয় এবং এই 'ইবাদাতে সে সন্তুষ্ট থাকে এবং তার ঐ সমস্ত কাজের অনুসরণ করা যা আল্লাহ এবং তার রসূলের আনুগত্যের বাইরে। এমনিভাবে প্রত্যেক অনুসৃত অথবা আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের আনুগত্য ছাড়া আর যার আনুগত্য করা হয় তাদেরকেও ত্বাগূত বলা হয়। আর لا اله এর চতুর্থতম দাবী হল সকল প্রকার ত্বাগূতকে বর্জন কর অঙ্গীকার কর আগেই। সকল প্রকার ত্বাগূত থেকে সাবধান থাকার জন্য মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ لَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَ اجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ )
“নিশ্চয় আমি প্রত্যেক কওমের কাছে রসূল প্রেরণ করেছি এই বলে যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহর 'ইবাদাত করবে এবং ত্বাগূতদের থেকে দূরে থাকবে।” (সূরাহ্ আন্ নাহ্ল ১৬: ৩৬)
ত্বাগূত অনেক প্রকার রয়েছে তার মধ্য থেকে প্রধান প্রধান পাঁচ প্রকারের বর্ণনা করা গেল।
প্রথম প্রকার ত্বাগূত : ইবলীস শয়তান। সে সর্বদা আল্লাহ ব্যতীত নিজের ফাহেশা কাজের দিকে আহ্বান করে। তার নিজের 'ইবাদাত বা অন্য কারো 'ইবাদাতের প্রতি উৎসাহিত করে। এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَلَمْ أَعْهَدُ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَّا تَعْبُدُوا الشَّيْطَنَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ )
“হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের 'ইবাদাত কর না। কেননা সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা একমাত্র আমারই 'ইবাদাত করো। এটাই হল সরল পথ।” (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬ : ৬০)
দ্বিতীয় প্রকার ত্বাগূত : ঐ অত্যাচারী শাসক যে আল্লাহর বিধানকে পরিবর্তন করে মানব রচিত আইন ও কানুনকে কায়েম করতে চায় যা সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে চলে যায়। যেমন কেউ যদি বলে,
অর্থাৎ- কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশু অথবা কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে সাগরে ডুবিয়ে মেরে ফেলে তাহলে তার কোন কিসাস নেই। (হিদায়াহ্: ৪র্থ খণ্ড, ৫৬৬ পৃঃ)
অথচ আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন কুরআনে ঘোষণা করেছেন, يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلى
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি হত্যার ব্যাপারে কিসাস গ্রহণ করা ফার্য করা হয়েছে।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ১৭৮)
এ মর্মে আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ ﴾
“হে জ্ঞানী সম্প্রদায়! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে একজীবন। যাতে তোমরা সতর্ক থাকতে পার।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৭৯)
ত্বাগুতের নিকট বিচার ফায়সালার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَنُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا
“হে নাবী! আপনি কি তাদেরকে দেখেননি? যারা মনে করে যে যা আপনার প্রতি নাযিল হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে নাযিল হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস করে। অথচ তার পরেও তারা ত্বাগুতের নিকট বিচার ফায়সালার জন্য যায়। যদিও তাদেরকে ত্বাগূতকে অস্বীকার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং শয়তান তাদেরকে সুদূর প্রসারী পথভ্রষ্ট করতে চায়।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৬০)
অথচ আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন,
“অতএব তোমার রবের শপথ। সে লোক কখনও ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায় বিচারক বলে মনে না করবে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে নিবে।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৬৫)
তৃতীয় প্রকার ত্বাগূত : ঐ বিচারক যে আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার ফায়সালা করে না। মহান আল্লাহ তা'আলা যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত যে শাসক বা নেতাগণ অন্য বিধান কায়িম করে। যেমন রায়, কিয়াস, কারও মনগড়া ফতোয়া, অলী আউলিয়াদের কথা, পীর মাশায়েখদের কথা মানা, সংসদে মনগড়া আইন পাশ করে। সমাজে চাপিয়ে দেয়া এবং বিজাতীয় সংবিধান মানা ইত্যাদি।
এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكُفِرُونَ ) “আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না, তারাই কাফির।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৪)
অন্য আয়াতে আল্লাহ আরো বলেন, وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ ﴾ “আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না, তারাই যালিম।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫: ৪৫)
তিনি আরো বলেন, وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفُسِقُونَ ﴾ “আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না, তারাই ফাসিক্ব।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৬)
চতুর্থ প্রকার ত্বাগূত : 'ইল্মে গায়িব দাবী করা। এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبِ إِلَّا اللهُ “বল হে নাবী! দুনিয়া ও আসমানের কেউ গায়েব জানে না একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৬৫)
আল্লাহর শিখানো ভাষায় নাবী বলেন,
وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبِ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوْءُ “যদি আমি গায়েব জানতাম তবে ভালো ভালোটাই গ্রহণ করতাম। এবং কোন ক্ষতিই আমাকে স্পর্শ করতে পারত না।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭: ১৮৮)
যেখানে নাবীরা পর্যন্ত গায়েব জানে না, সেখানে আল্লাহ ছাড়া আর সকল প্রকার 'ইল্মে গায়েবের দাবীদারই হল ত্বাগূত।
মহান আল্লাহ আরো বলেন,
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطَبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ “আর অদৃশ্যের চাবী তার (আল্লাহর) নিকটই রয়েছে। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে তা তিনিই জানেন। তার অজানাতে একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্য কনাও অঙ্কুরিত হয় না অথবা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ৫৯)
প পঞ্চম প্রকার ত্বাগূত : مَنْ عُبِدَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَهُوَ رَاضٍ عَلَيْهِ (আল্লাহ) ব্যতীত আর যার উপাসনা করা হয়, যে উপাসনায় সে সন্তুষ্ট বা রাজী থাকে এবং সে নিজেও নিজের 'ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهُ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيْهِ جَهَنَّمَ كَذلِكَ نَجْزِي الظَّلِمِينَ )
“তাদের মধ্যে যে বলবে, তিনি (আল্লাহ) ব্যতীত আমি উপাস্য এ কারণেই আমি তাকে প্রতিফল দিব জাহান্নাম। এভাবেই আমি যালিমদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১ : ২৯)
নোট : কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম শব্দ বা এর চতুর্থ দাবী হল উপরে বর্ণিত আয়াত এবং হাদীস দ্বারা চিহ্নিত সকল প্রকার ত্বাগৃতদেরকে প্রথমেই বর্জন কর। প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেকটি মু'মিনের ওপর জরুরী হল সর্বাবস্থায় ত্বাগূতকে বর্জন করা, অস্বীকার করা।
কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنُ بِاللهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴾
“যে ত্বাগূতদের অস্বীকার করে এবং মহান আল্লাহ তা'আলার ওপর ঈমান আনে সে যেন এমন এক শক্ত রজ্জুকে ধারণ করল যা কখনও বিচ্ছেদ হবার নয় এবং আল্লাহ সবকিছুই শুনেন ও দেখেন।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৫৬)
এ সম্পর্কে নাবী বলেন, 'আলায়হি সাল্লাম তয়াসাল্লাম مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ، حَرُمَ مَالُهُ، وَدَمُه.
অর্থাৎ- যে বলে আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা'বুদ নেই এবং আল্লাহকে ছেড়ে আর অন্যদের যে 'ইবাদাত করা হয়, তাকে অস্বীকার করে তার মাল ও রক্ত অন্যের ওপর হারাম। (মুসলিম- হাঃ ৩৭-[২৩])
পূর্বযুগীয় মুশরিকদের ন্যায় বর্তমান যুগেও অনেক কালিমা পড়া মুসলিম অনেক মানুষকে ইসলামের হুকুম আহকাম থেকে সরিয়ে বিভ্রান্তি ও শিকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজে 'ইবাদাতের নতুন নতুন পদ্ধতি তৈরি করে নিজের দিকে আহ্বান করছে। আবার বলছে আমরাই হলাম সঠিক পথের সন্ধান দানকারী। অথচ তারা যে নিজেরাই ভ্রান্ত এতে কোন সন্দেহ নেই। যেমন কোন কোন পীর বলে থাকে আমার মুরীদ হলে নামায লাগে না। যেমন তাদের দলীল,
وَلاَ تَقْرَبُوا الصَّلٰوةَ وَاَنْتُمْ سُكٰرٰى অর্থাৎ- আল্লাহ বলেন : তোমরা যখন নেশাগ্রস্থ থাক তখন নামাযের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না মাতলামী ঠিক হয়। কুরআনের এই আয়াতের অপব্যাখ্যা করে ওরা বলে থাকে আমার মুরীদরা আল্লাহর প্রেমে সর্বদা পাগলপারা থাকে আর এজন্যেই তাদের নামায মাফ। সম্মানিত পাঠকবৃন্দ কথা হল, নামায আল্লাহর হুকুম ফরয। আর এই ফরযকে যারা রহিত করে নামায পড়াকে হারাম বলে থাকে এরাই হল প্রকৃত তাগুত।
আরেক পীর বলে, মন পাগলাতে গুরুভজনা গুরু বিনা মুক্তি পাবে না। গুরু নামে আছে ঘোঁত যিনি গুরু তিনি খোদা। না’উযুবিল্লাহ। যে সমস্ত গুরু পীরেরা আল্লাহর স্থানে বসে অন্যকে মুক্তি দেয়ার বুলি আওড়ায় তারাও একপ্রকার তাগুত।
পৃথিবীর ভৌগলিক দিক থেকে বাংলাদেশ অতি ক্ষুদ্র একটি দেশ কিন্তু ইসলামের নামে দলের সংখ্যা সবচাইতে বেশি। পীরের বাজার অনেক গরম, সংখ্যায় প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি, তাদের তরীকার সংখ্যা আরো বেশি। একেক দলের একেক তরীকা কারো তরীকার সাথে কারো তরীকার মিল নেই। আর আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর তরীকার সাথে কারো তরীকার মিল নেই। প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ইসলাম বহির্ভূত নিজস্ব তরীকা ইসলামে প্রবেশ করে শিরক এবং বিদ'আতের মধ্যে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এরা মানুষদেরকে নিজেদের তৈরী শরীয়তের শিক্ষা দিচ্ছে। অভিনব পন্থায় কেউ বা বিভিন্ন পদ্ধতিতে মানুষদেরকে রসূলের পদ্ধতি ছাড়া নতুন পদ্ধতিতে উচ্চঃস্বরে যিকিরের মাঝে লিপ্ত রেখেছে। অভিনব পন্থায় কেউ বা আবার দুষ্ট জ্বিন শয়তানের সাহায্য নিয়ে কারামতি দেখিয়ে আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আগুনে সে পুড়ছে না। পানির উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে পানিতে সে ডুবছে না। কারো হারানো জিনিসের খবর দূরে বসে বলে দিচ্ছে। সে তা পেয়েও যাচ্ছে। নিঃসন্তানীকে সন্তান দেয়ার কথা বলছে। অভাবীদেরকে উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। জাঁকজমকপূর্ণ ইসলামী লিবাস পরে উচ্চৈঃস্বরে যিক্রের আসর শেষে সুললিত কণ্ঠে বিদ'আতী পন্থায় মোনাজাত করে সকলের মন গলিয়ে মানুষদেরকে ধোকা দিয়ে মানুষদের টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে নিয়ে আল্লাহ এবং তার রসূলের পথ থেকে সরিয়ে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরা যে প্রকৃতপক্ষে ত্বাগূতের দল এবং ইসলামের নামে ধোঁকাবাজ তার প্রমাণে মহান আল্লাহ নিজেই সাক্ষী দিচ্ছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
“হে বিশ্বাসীগণ! অবশ্যই 'আলিম ও দরবেশদের অধিকাংশই ভুয়ো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষদের সম্পদ গ্রাস করে থাকে আর আল্লাহ্র পথে বাধা সৃষ্টি করে। যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে আর আল্লাহ্র পথে তা ব্যয় করে না তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির সংবাদ দিয়ে দাও।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩৪)
সুতরাং আল্লাহর পথ থেকে যেই বিভ্রান্ত করবে চাই সে জিন্ শয়তান হোক বা মানুষ শয়তান হোক, পীর হোক, মুরীদ হোক, পুরোহিত হোক, ইমাম হোক বা নেতা হোক। যেই হোক না কেন সবই ত্বাগূত।
নোট : কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অক্ষর র্ণ বলছে এ সমস্ত বাতিল ও শির্ক্বী ত্বাগূতদেরকে প্রথমেই বর্জন কর, অস্বীকার কর।