📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 কেন لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ-এর শর্ত প্রথম বর্জন ও পরে গ্রহণ?

📄 কেন لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ-এর শর্ত প্রথম বর্জন ও পরে গ্রহণ?


পবিত্র কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার মধ্যে পাঁচটি দাবী রয়েছে যা দু'টি অংশে বিভক্ত যার ব্যাখ্যা সামনে আসছে এখানে সামান্য একটু ধারনা দেয়া হল।
প্রথম অংশ : لا إِلَهَ এর দাবী চারটি অর্থাৎ لَا বলছে চারটি ভ্রান্ত বা শির্কী বিষয়কে আগে অস্বীকার কর বা বর্জন কর।
দ্বিতীয় অংশ : إِلَّا اللهُ এর দাবী একটি যা গ্রহণীয়। অর্থাৎ প্রথমে চার প্রকার শির্ক থেকে বের হয়ে ঘোষণা দাও সত্য মা'বূদ একজনই। দ্বিতীয় অন্য কেউ নেই। পবিত্র এই কালিমা আমাদের শিক্ষা দেয় প্রথমে বর্জন কর তারপরে পবিত্র হৃদয়ে গ্রহণ কর। যেমন প্রথম অংশ لَا إِلَهَ আমাদের শিক্ষা দেয় একজন কৃষক যখন জমিতে বীজ বপন করে তখন সমস্ত আগাছা আগে দূর করে জমিনকে পরিষ্কার করে ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে তোলে। পরে বীজ বপন করে। তা না হলে আগাছাতে ফসল নষ্ট করে দিবে বা ফসল হবেই না।
গাভীর দুধ দোহনের পূর্বে পাত্র ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে কারণ তাতে যদি সামান্যতম বিষ থাকে বা ময়লা থাকে তাহলে সমুদয় দুধ নষ্ট হয়ে যাবে। অনুরূপ কোন ব্যক্তি যখন কালিমাকে গ্রহণ করবে তখন প্রথমেই চারটি বাতিল 'আক্বীদাকে অন্তর আত্মা থেকে দূর করে হৃদয়কে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে হবে। সংক্ষেপে বিষয়গুলো হলো – أَرْبَاب - أَنْدَادُ - أَلِهَهُ - طَوَاغِيْتَ যার পূর্ণ বিবরণ মূল আলোচনাতে আসবে। যখনই এর নিষেধাজ্ঞা সূচক বিষয়গুলোকে দূর করে হৃদয় আত্মাকে সমস্ত শিকমুক্ত করে দ্বিতীয় অংশের ঘোষণা দিবে যে, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ সত্য ইলাহ আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ নেই। তখনই হবে সে পরিপূর্ণ মু'মিন। যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ ) “যারা ঈমান এনেছে আর যুলম (অর্থাৎ শিক্ক) দ্বারা তাদের ঈমানকে কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা লাভ তারাই করবে আর তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ৮২)
দুঃখের বিষয় বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিমদের দেখা যায়। لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ -কে শুধুমাত্র মুখের উচ্চারণই যথেষ্ট মনে করছে। যিক্র করতে করতে মুখ দিয়ে ফেনা বেরিয়ে যাচ্ছে। জীবন দিতে রাজি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শুরুতেই র্ অক্ষরটি যে চার প্রকার শির্কী 'আক্বীদা বা বিশ্বাস ত্যাগ করতে বলছে সে ব্যাপারে মোটেই ভ্রুক্ষেপ নেই। শির্কী আকিদার মাঝে শিকী কাজ কারবারের মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে আবার মুখে কালিমার যিক্রও করছে পরিচয় দিচ্ছে আমি মুসলিম। মূলত এ ধরনের ঈমানদারদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, “তারা মুশরিক।” (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ১০৫)
কালিমার জ্ঞান সম্পর্কে তথাকথিত নামধারী অজ্ঞ মুসলিমরা যাতে পবিত্র কালিমাতুত্ ত্বইয়িবাহ্ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ বাক্যটি শুধু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করেই ক্ষান্ত না হয়, বরং বুঝে শুনে তারাও যেন সূর্ণ এর নিষেধাজ্ঞাপূর্ণ চার প্রকার শির্কী আকিদাকে ত্যাগ করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে এক আল্লাহকেই সত্য ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। যখন কোন মানুষ এ বইটি পড়ে তার অন্তর আত্মাকে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর সঠিক অর্থ উপহার দিবে। র্ড এর দাবী চার প্রকার শির্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করে একনিষ্ঠ ভাবে তাওহীদে বিশ্বাসী হয়ে খালেস অন্তরে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার স্বীকৃতি দিয়ে নিজেকে খাঁটি মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে, তখনই সে হবে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার পরিপূর্ণ হাক্বদার।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ এর বাতিল অর্থ ও তার সমাধান

📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ এর বাতিল অর্থ ও তার সমাধান


لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ অর্থাৎ- 'আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই'- এ কথা ঠিক নয়। এ অর্থ বাতিল। কারণ তখন এর অর্থ দাঁড়ায় প্রত্যেক হাক্ব অথবা বাতিল মা'বূদই আল্লাহ। এ জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অসংখ্য অগণিত আরো অনেক মিথ্যা, অযোগ্য ও ভণ্ড ইলাহ মা'বুদ, উপাস্য ও রব রয়েছে। যারা হচ্ছে শাইত্বান, ত্বাগূত, গোত্রপতি, মানব রচিত দ্বীনের প্রবর্তক মানব রচিত আইন কানুন নিয়ম পদ্ধতি ও বিচার ফায়সালাকারীরা। পবিত্র কাবাগৃহে যে ৩৬০ টি মূর্তি ছিল- ওগুলো ছিল তাদের বাতিল ইলাহ।
হিন্দুরা যে ৩৩ কোটি দেবতার পূজা করে এগুলো তাদের ইলাহ। খ্রীস্টানদের ধারণা তাদের ইলাহ তিনজন— মাসীহ, 'ঈসা ও মারইয়াম। জাহিলী যুগের মুশরিকগণ পূর্বযুগীয় নাবী-রসূল ও তাদের মধ্যে যারা ভালো মানুষ ছিল তাদের নামে মূর্তি তৈরি করে সেগুলোকে ইলাহ বানিয়ে তারা তাদের জন্য 'ইবাদাত করত এগুলো ছিল তাদের ইলাহ। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন,
وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ الهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا ﴾
“আর তারা বলেছিল, তোমাদের দেবদেবীদের কক্ষনো পরিত্যাগ করো না, আর অবশ্যই পরিত্যাগ করো না ওয়াদ সুওয়া'আ-কে, আর না 'ইয়াগূস, ইয়া'ঊক ও নাস্ত্র-কে।” (সূরাহ্ নূহ ৭১ : ২৩)
অর্থাৎ এগুলো সবছিল তাদের বাতিল ইলাহ। অপরদিকে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ও তারা ইলাহ হিসেবে মানত। যারা ইসলামের মধ্যে নতুন নতুন দ্বীন তৈরি করে ইসলামের পাশে দাঁড় করিয়ে ইসলামের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। আল্লাহর দেয়া আইন ও কানুনকে বাদ দিয়ে নিজেদের তৈরি করা আইন ও কানুনকে নিজেদের মতবাদ মতাদর্শকে বাস্তবায়ন করছে। যারা হলেন বিনা দলীলে কথা বলে, এমন ধরনের একশ্রেণীর লেবাসধারী আলেমগণ। গোত্রীয় নেতা, জাতীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক শাসক গোষ্ঠী। এরা সকলেই ইলাহ বা রবের স্থান দখল করে বসে আছে। যেমন ফির'আওন বলেছিল, أَنَارَبُّكُمُ الْأَعْلَى আমি হলাম তোমাদের বড় রব। এখনকার সময় যারা রবের আসন দখল করে বসে আছে এরা যদিও নিজের মুখ দিয়ে 'রব' শব্দটা প্রকাশ করে না কিন্তু কথায় কাজে ফির্ 'আওনকেও যেন হার মানিয়ে দিচ্ছে। ইলাহের বা রবের আসনগুলো আরো দখল করে আছে ঐ সমস্ত পীর ফকীরেরা যারা খানকাহ, দরগাহ, মাজার খুলে বসে আছে যাদের নামে মানুষেরা নজর নিয়াজ, ওরশ মানৎ ও কুরবানী করে। বিপদে যাদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করে। বালা-মুসীবতে তাদের কাছে আশ্রয় কামনা করে। বিভিন্ন ওযর ওযুহাতের কথা তাদের কাছে প্রকাশ করে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদেরকে উদ্ধারকারী মনে করে। এরা সবই হল বাতিল ইলাহ। বাতিল ইলাহদের মধ্যে মানুষের সবচাইতে নিকটতম ইলাহ হল শয়তান ইবলীস। এ মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা তার সম্পর্কে বলেন, أَلَمْ أَعْهَدُ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ * وَأَنِ اعْبُدُونِي هُذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ ﴾ “হে বানী আদম! আমি কি তোমাদের এ মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের গোলামী করো না। কেননা সে হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। আর তোমরা শুধু আমারই 'ইবাদাত কর। এটাই হচ্ছে সহজ, সরল ও সঠিক পথ।” (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬ : ৬০-৬১) মানুষ তার জীবনে যে কাজই করুক না কেন সকল কাজই তার 'ইবাদাত। এটার জন্য সে গুনাহ বা নেকীপ্রাপ্ত হবে। যেমন আল্লাহর বাণী: مَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ﴾ “আমি মানব এবং জিন্ন্দরকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার 'ইবাদাতের জন্য”- (সূরাহ্ আয যা-রিয়া-ত ৫১ : ৫৬)। তাহলে যে কাজে আল্লাহ নারাজ হন আর শয়তান খুশি হয় এমন 'ইবাদত মানুষ অহরহ করে শয়তানকে ইলাহ বানাচ্ছে।
বাতিল ইলাহদের মধ্যে মানুষের নিকটতম আরও একটি ইলাহ রয়েছে। সেটা হল মানুষের নফস্ বা প্রবৃত্তি। যে নফস্ বা অন্তরাত্মা তাকে আল্লাহর নাফরমানী ও বিরুদ্ধাচরণে উৎসাহিত করে। ফলে এক সময়ে সে নফস্রে গোলাম হয়ে নফস্রে 'ইবাদাত শুরু করে। যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন :
﴿أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُوْنُ عَلَيْهِ وَكِيْلًا ﴾ “তুমি কি দেখনি যে, তার নফস্ বা প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে, তবুও কি তুমি তার জিম্মাদার হবে?” (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫ : ৪৩)
এভাবে আরো অসংখ্য দলীল রয়েছে যা বিচার বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় মানুষ এক সত্যিকার ইলাহের সঙ্গে আরো অসংখ্য ইলাহ, রব ও মা'বৃদেরও 'ইবাদাত করে থাকে। সেই ক্ষেত্রে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর অর্থ যদি বলা হয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই তাহলে সত্য মা'বৃদের সঙ্গে বাতিল মা'বৃদও সংমিশ্রণ হয়ে যায়। সত্য আল্লাহকে মিথ্যা আল্লাহদের সঙ্গে মিলিয়ে একাকার করে দেয়া হয়। এ জন্য لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর সঠিক অর্থ তখনই হবে যখনই আপনি সমস্ত বাতিল ইলাহ থেকে সত্য ইলাহকে পার্থক্য করবেন বা আলাদা করবেন। তাহলে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর সঠিক অর্থ দাঁড়াবে لَا مَعْبُودَ بِحَقِّ إِلَّا اللَّهُ অর্থাৎ নেই কোন সত্য মা'বুদ আল্লাহ ছাড়া। আর এটাই সঠিক অর্থ।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ-এর আসল অর্থ ও তাৎপর্য

📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ-এর আসল অর্থ ও তাৎপর্য


لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর আসল অর্থ হচ্ছে لَا مَعْبُودَ بِحَقِّ إِلَّا اللَّهُ অর্থাৎ নেই কোন সত্য মা'বুদ আল্লাহ ছাড়া। যোগ্য ও সত্যিকার ইলাহ, মা'বূদ ও উপাস্য এক, একক, অদ্বিতীয়, যার কোন অংশীদার বা শরীক নেই। আর তিনিই হলেন মহান আল্লাহ। যুগে যুগে নাবী রসূলগণ কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার যে দা'ওয়াত নিয়ে এসেছিলেন তার আসল উদ্দেশ্য ছিল এক আল্লাহর গোলামীর বাস্তবায়ন। শুধুমাত্র এর শব্দগুলো মুখে উচ্চারণই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক অর্থের উপর 'আমালের বাস্তবায়ন। জাহেল কাফিরগণও এ কথা জানত যে, এই কালিমার আসল উদ্দেশ্য হল যাবতীয় সৃষ্ট বস্তুর সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করা। তার সঙ্গে বান্দার একমাত্র সম্পর্ক খালেক ও মাখলুক তথা মা'বূদ ও 'আবেদ সম্পর্ক। তাকে ছেড়ে আর যাকে বা যে বস্তুর উপাসনা করা হয় তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। এর থেকে তাকে সম্পূর্ণ পাক ও পবিত্র রাখা। কেননা যখন রসূলুল্লাহ কাফিরদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা বল لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) অর্থাৎ নেই কোন সত্য মা'বুদ আল্লাহ ছাড়া। তখন তারা বলে উঠল,
أَجَعَلَ الْأَلِهَةَ إِلَهَا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٍ عُجَابٌ
“এই লোকটি কি বহু উপাস্যদের এক উপাস্যে পরিণত করে ফেলছে? এতো ভারী এক আশ্চর্য ব্যাপার।” (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ৫)
ওরা আরো বলছিল, হে মুহাম্মাদ! কা'বা ঘরে আমাদের ৩৬০ টি মা'বুদ রয়েছে আমরা একেক সমস্যার জন্য একেকজন মা'বৃদের কাছে সাহায্য চাই। এতগুলো মা'বুদ থাকতেও পারে না আমাদের দুঃখ দুর্দশা মিটাতে, আর তুমি মাত্র একজন ইলাহের কথা বলছ এটা কি করে সম্ভব যে সে একাই আমাদের সকল দুর্দশা মিটাবে। এটা সম্ভব নয়। তাই তাদের অনেকেই এক ইলাহের প্রতি ঈমান আনতে পারেনি।
তাহলে বুঝা গেল যে, তখনকার জাহিল কাফিরগণও لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর সঠিক অর্থ বুঝে নিয়েছিল। এটা কত বড় আশ্চর্যের বিষয় যে, এখনকার একশ্রেণীর ইসলামের দাবীদাররা মুসলিম নাম নিয়েও لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর সঠিক অর্থ বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না। বরং এরা মনে করছে যে, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর আক্ষরিক উচ্চারণই যথেষ্ট। তার প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করে অন্তর দিয়ে প্রত্যয় পোষণ করার প্রয়োজন নেই। কাফিরদের মধ্যে যারা ছিল বুদ্ধিমান তারাও لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর অর্থ সম্পর্কে জানত যে সত্যিকার ইলাহ একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া নেই কোন সৃষ্টিকর্তা, নেই কোন রুযীদাতা, নেই কোন বিপদ উদ্ধারকারী হুকুম দানকারী এবং 'ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য শুধুমাত্র তিনিই। আর তিনিই হলেন সকল কিছুর পরিচালক, সকল বিষয়ের ব্যবস্থাপক। অতএব ঐ মুসলিম নামধারীর মধ্যে কি মঙ্গল থাকতে পারে যার চেয়ে জাহিল কাফিরগণও لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর অর্থ বেশী বুঝত।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ পবিত্র এই কালিমার শুরুতে কেন আল্লাহ لاَ إِلَٰهَ অর্থাৎ নেই কোন মা'বূদ শব্দটি ব্যবহার করলেন

📄 لاَ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ পবিত্র এই কালিমার শুরুতে কেন আল্লাহ لاَ إِلَٰهَ অর্থাৎ নেই কোন মা'বূদ শব্দটি ব্যবহার করলেন


মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এত শব্দ বা অক্ষর থাকতে إِلَهَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর শুরুতে কেন শব্দটি ব্যবহার করলেন তার জবাব হল إِلَّا اللهُ অর্থ অর্থ হলো নেই কোন মা'বুদ إِلَّا اللهُ যদিও একটি মাত্র শব্দ কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার মধ্যে রয়েছে শিক্কের সাগর। আর আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন তিনি তো এমন যে, সব তিনি বরদাস্ত করতে পারেন কিন্তু শিক্ককে বড় অপছন্দ করেন। তার কাছে সবচাইতে ঘৃণিত হল তার সাথে অন্য কাউকে শরিক করা। এজন্য কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করেন।
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ “নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৭২)
মহান আল্লাহ আরো বলেন : إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
"নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না যে তার সাথে শরীক করবে। এছাড়াও যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১১৬)
আল্লাহ চান তার বান্দা وَإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বা এক আল্লাহর উলুহিয়‍্যাতকে গ্রহণ করার, আগে, সমস্ত প্রকার শির্ক থেকে পরিষ্কার হয়ে আসুক। এজন্যেই প্রথমে لَا বর্ণনা-সূচক শব্দ দ্বারা সমস্ত শিক্ককারীর শির্ককে অস্বীকার করে দিয়ে হৃদয় আত্মাকে সমস্ত শির্ক এবং পাপাচার থেকে মুক্ত করে পরিষ্কার হৃদয়ে একমাত্র ইলাহকেই যেন গ্রহণ করে। আর এ কারণেই মহান আল্লাহ কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার শুরুতে لَا এ অক্ষরটি ব্যবহার করে إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর ঘোষণা দিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00