📄 উপস্থাপনা
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ‘আলামীনের নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম। ইসলাম যারা গ্রহণ করেন তাদের কিছু শর্তাবলীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করতে হয়। যেমন : ইব্রাহীম আলাইহিস্সালাম -কে আল্লাহ বলেছিলেন সাথে সাথে তিনি জবাব দিলেন أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِين অর্থাৎ আমি সমস্ত জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমরা সাধারণত আত্মসমর্পণ বলতে বুঝি যেমন যুদ্ধের ময়দানের কোন যোদ্ধা যখন বিপক্ষ দলের নিকট আত্মসমর্পণ করে তখন তাকে বিপক্ষীয় দলের কিছু শর্তাবলী মেনে আত্মসমর্পণ করে তাদের দলে প্রবেশ করতে হয়। ঠিক তেমনি মানুষ যতদিন শির্ক এবং কুফরের মধ্যে নিমজ্জিত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে মহান আল্লাহর ক্রোধের রোশানলের মধ্যে পতিত থাকে। যখনই সে ইসলামে প্রবেশ করতে চায়, তখন তাকে ঠিক ঐ যুদ্ধের ময়দানের যোদ্ধার মত কিছু নিজেদের নিজস্ব মতবাদ ত্যাগ করে, মহান আল্লাহর কিছু শর্তাবলী মেনে নিয়ে তার প্রতি ওয়া'দা করে তাকে ইসলাম ধর্মে দিক্ষীত হতে হয়।
তাহলে এখন চিন্তার বিষয় কি সেই শর্তাবলী যা ছাড়লাম আর যা ধরলাম আর কি শর্তের প্রতি ওয়াদা করলাম। এখন যা ছাড়লাম আর যা করব ওয়াদা করলাম সেটা হল لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ প্রথম অক্ষর ১ বলছে তুমি বল আজ থেকে সমস্ত প্রকার ত্বাগূতের অনুসরণ এবং সমস্ত প্রকার গাইরুল্লাহর ‘ইবাদাত, নিজস্ব ও মানব তৈরি শির্কী মতবাদ। কুফরী তন্ত্র, মন্ত্র ও বাতিল ইলাহদের সবকিছু ত্যাগ করলাম। অন্তর আত্মা থেকে সব নেহি করে দিয়ে পরিষ্কার হৃদয়ে গ্রহণ করলাম لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ অর্থাৎ সত্যিকার মা’বৃদ আল্লাহ যিনি নিরংকুশ ক্ষমতার মালিক একমাত্র তার দেয়া জীবন বিধানই মেনে নিলাম। সর্বপ্রথম অক্ষর এর দ্বারা যে সমস্ত বাতিল ইলাহদের ত্যাগ করা হয়েছে সেগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যাতে ব্যাপারটা সহজেই অনুধাবন করা যায়। ইসলাম বুঝতে হলে কেউ যদি জাহিলিয়াতের জ্ঞান আগে অর্জন করে তাহলে তার জন্য ইসলাম বুঝা সহজ হয়ে যাবে। এবং সে ইসলামের স্বাদও অনুধাবন করবে অনেক বেশি। নাবী রসূলগণ যখনই এই কালিমার দা’ওয়াত দিতেন তখন কেন একশ্রেণীর মুশরিকেরা তাদের দা’ওয়াতকে গ্রহণ করেনি। কারণ মুশরিকেরা ভালো করে বুঝত যে, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর দাবীকে মেনে নিলে তাদের যে সমস্ত ইলাহ ছিল যেমন, লাত, মানাত, উজ্জা আরো যে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করত তার সব কিছুকেই ছাড়তে হবে। দরগা, মাজার, পীর-ফকির বা গাইরুল্লাহর কাছে আর সাহায্য চাওয়া যাবে না। আল্লাহ ছাড়া আর কারো সামনে মাথা নত করা যাবে না। মানব তৈরি সমস্ত প্রকার নিজস্ব মতবাদ ছাড়তে হবে। বাপ দাদাদের তৈরি মনগড়া ধর্ম আর মানা যাবে না। মোট কথা কালিমার প্রথম অক্ষর এর নিষেধাজ্ঞা বিষয়গুলোকে তারা ভালোভাবে বুঝত। যার কারণে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর দা’ওয়াতকে তারা গ্রহণ করে নেই। পক্ষান্তরে সৃষ্টিকর্তা রবের প্রতি তাদের বিশ্বাস ছিল। শুধু ‘ইবাদাতের ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করত। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহকেই মানতো যার সত্যতা প্রমাণে আল্লাহর বাণী,
“(হে রসূল!) তুমি জিজ্ঞেস কর (হে মুশরিকগণ) যিনি আসমান ও জমিন থেকে তোমাদেরকে রুযীর সংস্থান করেছেন কে সেই (পাক পরওয়ারদেগার) কে তিনি যিনি শ্রবণ ও দর্শনের প্রকৃত অধিকারী এবং কে সেই মহান স্রষ্টা যিনি জীবন্তকে মৃত হতে আবির্ভূত করেন এবং কে সেই প্রভু যিনি কুদরতের সকল ব্যাপারকে সুনিয়ন্ত্রিত করেন। তখন আপনি দেখবেন তারা নিশ্চয় তৎক্ষণাৎ জবাব দিবে। 'আল্লাহ', আপনি বলুন, এই স্বীকারোক্তির পরেও কি তোমরা সংযত হবে না।” (সূরাহ্ ইউনুস ১০: ৩১)
আল্লাহ আরো বলেন, “(হে রসূল!) জিজ্ঞেস করুন, এই যে জমিন এবং তাতে অবস্থিত যা কিছু আছে এসব কার? বল যদি তোমাদের জ্ঞান থাকে। তারা তখন নিশ্চয় জবাব দিবে আল্লাহর। বল তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?” (সূরাহ্ আল মু'মিনূন ২৩: ৮৪-৮৫)
এ ধরনের অসংখ্য আয়াত রয়েছে। যার থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, তারা এক আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করত। কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার দ্বিতীয় অংশকে তারা মানত বুঝত কিন্তু প্রথম অংশ إِلَّااللهُ এর দাবী কিছুতেই মেনে নিতে পারত না তারা বুঝত মানলেই অনেক কিছু বাদ দিতে হবে। যার কারণে তারা মুশরিকদের গণ্ডি থেকে বাহির হয়ে আসতে পারেনি।
বর্তমান যুগের নামধারী একদল মুসলিমেরাও ঠিক তদ্রূপ কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার দ্বিতীয় অংশকে স্বীকার করছে সকলেই। কিন্তু প্রথম অংশকে ছাড়তে পারছে না অনেকেই। তার একটা মূল কারণও আছে যা হচ্ছে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অংশ إِلَّااللهُ এ সঠিক শিক্ষা এবং সঠিক জ্ঞান ও সঠিক দা'ওয়াতের বড় অভাব। আর একারণেই প্রত্যেকটা মুসলিমকে প্রথম অংশ إِلَّااللهُ যে চারটি বিষয়কে পূর্বেই ছাড়তে বলা হয়েছে সে বিষয়ে অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। প্রথমে যে সমস্ত বাতিল মা'বৃদদেরকে ত্যাগ করতে বলা হয়েছে সে সমস্ত বাতিল মা'বৃদদের পরিচয় জানতে পারলেই পাঠকদের জন্য কালিমাতুত্ ত্বইয়িবা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর অর্থ বুঝা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।