📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


নিশ্চয় সকল প্রশংসা ঐ মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীনের জন্য যিনি সকল মানব এবং দানবকে একটি মাত্র কালিমাতুত্ ত্বইয়িবাহ্ গ্রহণের মাধ্যমে চির সুখময় বেহেশতের শুভসংবাদ দিয়েছেন দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সে নাবী জনাবে মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ-এর প্রতি যার মাধ্যমে পবিত্র সেই বাক্য কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার জ্ঞান শুভসংবাদ ও বাস্তবরূপ নিজে মডেল হয়ে শিখিয়ে গেছেন। মানব জাতির মাঝে বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাস, বিভিন্ন ‘আকীদা, ও বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ রয়েছে। তার মধ্যে যারা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী তারাই হলেন প্রকৃত মানব। মহান আল্লাহ বলেন, যারা ঈমান এনেছে ও নেক 'আমাল করেছে তারাই সৃষ্টির সেরা। আর সৃষ্টির সেরা মানব জাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্ত হল সত্যিকারভাবে সত্য ইলাহের প্রতি ঈমান আনা। আর ঈমান গ্রহণের পূর্ব শর্ত হলো কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার সঠিক জ্ঞান অর্জন করা ও বাস্তবে তার প্রতি 'আমাল করা। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন,
﴿فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ﴾
“সুতরাং জেনে রাখ যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই।” (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭ : ১৯)
দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজ বহু মুসলিমের কাছে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবাহ্ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ -এর সঠিক জ্ঞান সঠিক শিক্ষা সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়েছে। মানুষ শুধু মুখের উচ্চারণটাকেই যথেষ্ট মনে করেছে। আসলে কিন্তু এটা ঠিক নয়। সঠিক হল তার জ্ঞান অর্জন করে বর্জনীয় বিষয়গুলোকে প্রথমে বাদ দিয়ে পরে যেগুলো গ্রহণ করার। তা গ্রহণ করে বাস্তবে তার 'আমল করা ও কথায় কাজে মিল রাখা।
বর্তমান গোটা বিশ্বের মানুষ অশান্তির দাবানলে দাউ দাউ করে জ্বলছে সর্বদা হাহাকার ভাব বিরাজ করছে। বিভিন্ন দলে, উপদলে, মাযহাবে মাযহাবে, তরীকায়, ফিরকায় ভাগ ভাগ হয়ে আল্লাহর 'ইবাদাতকেও ভাগাভাগি করে নিয়েছে। কারণ একটাই তা হল এক আল্লাহর গোলামী থেকে বহু দূরে সরে গেছে। যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: “তাঁর অভিমুখী হও, আর তাঁকে ভয় কর, সলাত প্রতিষ্ঠা কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা নিজেদের দীনকে বিভক্ত করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গেছে, প্রত্যেক দল নিজেদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে উল্লসিত”- (সূরাহ্ আর্ রূম ৩০ : ৩১-৩২)। মানুষ যেন সেই জাহিলিয়্যাতের যুগকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। কারণ একটিই, মানুষ তাওহীদের সেই কালিমাকে ভুলে গেছে। কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার শিক্ষা থেকে বহু দূরে সরে গেছে। যে আরব জাতি ছিল পৃথিবীর বুকে সবচাইতে দুর্ধর্ষ ও অশান্ত শির্ক-বিদ'আতের মধ্যে নিমজ্জিত গুরুজনদের পূজা, পীর পূজা, কবর-মাজার পূজা ছিল যাদের নিত্যদিনের সাথী। সেই আরবজাতি পরিণত হল স্বর্ণের মানুষে শুভসংবাদ পেল জান্নাতের। তার একটিই মাত্র কারণ তারা সব ছেড়ে দিয়ে গ্রহণ করল কালিমা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর সঠিক শিক্ষা। যার শিক্ষক হলেন স্বয়ং আল্লাহ নিজেই। আল্লাহ তার বাণী প্রথম শিখালেন তার নাবী আদম আলায়হিস-কে সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে নূহ আলায়হিস সেখান থেকে ইব্রাহীম আলায়হিস সেখান থেকে ইসমা'ঈল আলায়হিস সেখান থেকে মূসা আলি সেখান থেকে 'ঈসা আলি সেখান থেকে নাবী মুহাম্মাদ থেকে সেখান হতে আসতে আসতে আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে। তাহলে এটা পূর্ববর্তীদের থেকে আসা শিক্ষা বর্তমানের শিক্ষা নয়। বর্তমানে যারা পূর্ববর্তীদের তরীকা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের মনগড়া তরীকায় এই কালিমার শিক্ষা, কালিমার যিক্র, কালিমার অর্থ শিক্ষা দিচ্ছে এরা মানুষদের ভুল বুঝিয়ে মানুষদের পথভ্রষ্টতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যেমনভাবে টিউবওয়েলে অল্প পাইপ দিয়ে নিকটবর্তী গভীর থেকে পানি তুললে তাতে আর্সেনিকের মত ক্ষতিকারক পানি পাওয়া যায়। সেই ক্ষেত্রে যদি অধিক পাইপ ব্যবহার করে দূরবর্তী গভীর থেকে পানি তুললে তাতে ক্যালসিয়াম আয়োডিন, মিনারেল ইত্যাদি যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তেমন প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায়। দুঃখের বিষয় বর্তমান যুগে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিকটবর্তীদের জ্ঞান থেকে অভিনব ও ভ্রান্ত পদ্ধতিতে কালিমার শিক্ষা দিয়ে আর্সেনিকের মত ভয়াবহ ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে যার শেষ পরিণতি হল শির্কের শিক্ষা বা জাহান্নাম। কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার সঠিক শিক্ষা পেতে হলে ফিরে যেতে হবে পূর্ববর্তী নাবী এবং রসূলদের শিক্ষা বা তরীকার দিকে। যুগে যুগে যত নাবী এবং রসূলগণ পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন সকলের মূল দা'ওয়াত ছিল لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ বা এক আল্লাহর গোলামি করা। মানুষ যাতে অসংখ্য মা'বুদদের 'ইবাদাত বাদ দিয়ে এক মা'বৃদকে গ্রহণ করে এ জন্য আল্লাহর শিখানো ভাষায় তারা দা'ওয়াত দিতেন لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ প্রথম বাক্য সূর্য্য বলছে আগে অস্বীকার কর, ত্যাগ কর, পরে । সাঁ বলছে একমাত্র সত্য ইলাহ আল্লাহকেই গ্রহণ কর। তাহলে বিষয়টা দাঁড়ায় প্রথম বর্জন পরে গ্রহণ। একজন কালিমাতুত্ ত্বইয়িবাহ্ পড়া মুসলিমকে কালিমা পড়ার আগে যে বিষয়গুলোকে আগে বর্জন করতে হবে এবং পরবর্তীতে যে বিষয়গুলোকে গ্রহণ করতে হবে। তার উপর ভিত্তি করেই গোটা বইখানিকে সাজানো হয়েছে।
আল্লাহর রসূল বলেন, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে সত্যিকার অর্থে এক আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মা'বুদ নেই সেই ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারী- ও মুসলিম)
হাদীসের প্রকৃত অর্থ শুধু মুখ দিয়ে উচ্চারণই যথেষ্ট নয়। আসল অর্থ হল যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে খালেছ অন্তরে এ কথার সাক্ষ্য দিবে। আর কালিমার যে পাঁচটি দাবী রয়েছে প্রকৃত পক্ষে তা বাস্তবায়ন করবে। একমাত্র সেই ব্যক্তিই ওয়ারিস হবেন ঐ জান্নাতের যা আল্লাহ দেয়ার ওয়াদা করেছেন। শুধুমাত্র মুখের উচ্চারণই যথেষ্ট হলে অনেক ইয়াহুদী, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, নাসারা ক্ষেত্র বিশেষে তারাও তো কতবার এই কালিমাকে মুখে উচ্চারণ করে থাকে তাহলে তারাও জান্নাতে চলে যেত। অথচ আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন জান্নাত তাদের জন্য চিরতরে হারাম ঘোষণা করে দিয়েছেন। তাহলে وَإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ এর মূল অর্থ হল তার সঠিক জ্ঞান অর্জন করে। প্রথমে সমস্ত গাইরুল্লাহকে বর্জন ও পরে এক আল্লাহকে গ্রহণ।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দের সহযোগিতা পেলে যে কোন ধরনের ভুল ভ্রান্তি পরবর্তী সংস্করণে সংশোধনের চেষ্টা করব। ইন্‌শা-আল্লা-হ। সবশেষে মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে যেন কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রকৃত হাক্বদার এবং প্রকৃত 'আর্শ বাহক হয়ে বর্ণিত আয়াতের 'আমলদার হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার তাওফীক দান করেন। আমীন।
“(হে আল্লাহ!) আপনিই হলেন আমার দুনিয়া এবং আখিরাতের উভয় জাহানের অভিভাবক। মৃত্যুর সময় আমাকে মুসলিম হালাতে মরার তৌফিক দিন এবং মৃত্যুর পর সৎ নেককার পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন।” (সূরাহ্ ইউনুস ১২ : ১০১)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 উপস্থাপনা

📄 উপস্থাপনা


إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ‘আলামীনের নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম। ইসলাম যারা গ্রহণ করেন তাদের কিছু শর্তাবলীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করতে হয়। যেমন : ইব্রাহীম আলাইহিস্সালাম -কে আল্লাহ বলেছিলেন সাথে সাথে তিনি জবাব দিলেন أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِين অর্থাৎ আমি সমস্ত জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমরা সাধারণত আত্মসমর্পণ বলতে বুঝি যেমন যুদ্ধের ময়দানের কোন যোদ্ধা যখন বিপক্ষ দলের নিকট আত্মসমর্পণ করে তখন তাকে বিপক্ষীয় দলের কিছু শর্তাবলী মেনে আত্মসমর্পণ করে তাদের দলে প্রবেশ করতে হয়। ঠিক তেমনি মানুষ যতদিন শির্ক এবং কুফরের মধ্যে নিমজ্জিত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে মহান আল্লাহর ক্রোধের রোশানলের মধ্যে পতিত থাকে। যখনই সে ইসলামে প্রবেশ করতে চায়, তখন তাকে ঠিক ঐ যুদ্ধের ময়দানের যোদ্ধার মত কিছু নিজেদের নিজস্ব মতবাদ ত্যাগ করে, মহান আল্লাহর কিছু শর্তাবলী মেনে নিয়ে তার প্রতি ওয়া'দা করে তাকে ইসলাম ধর্মে দিক্ষীত হতে হয়।
তাহলে এখন চিন্তার বিষয় কি সেই শর্তাবলী যা ছাড়লাম আর যা ধরলাম আর কি শর্তের প্রতি ওয়াদা করলাম। এখন যা ছাড়লাম আর যা করব ওয়াদা করলাম সেটা হল لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ প্রথম অক্ষর ১ বলছে তুমি বল আজ থেকে সমস্ত প্রকার ত্বাগূতের অনুসরণ এবং সমস্ত প্রকার গাইরুল্লাহর ‘ইবাদাত, নিজস্ব ও মানব তৈরি শির্কী মতবাদ। কুফরী তন্ত্র, মন্ত্র ও বাতিল ইলাহদের সবকিছু ত্যাগ করলাম। অন্তর আত্মা থেকে সব নেহি করে দিয়ে পরিষ্কার হৃদয়ে গ্রহণ করলাম لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ অর্থাৎ সত্যিকার মা’বৃদ আল্লাহ যিনি নিরংকুশ ক্ষমতার মালিক একমাত্র তার দেয়া জীবন বিধানই মেনে নিলাম। সর্বপ্রথম অক্ষর এর দ্বারা যে সমস্ত বাতিল ইলাহদের ত্যাগ করা হয়েছে সেগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যাতে ব্যাপারটা সহজেই অনুধাবন করা যায়। ইসলাম বুঝতে হলে কেউ যদি জাহিলিয়াতের জ্ঞান আগে অর্জন করে তাহলে তার জন্য ইসলাম বুঝা সহজ হয়ে যাবে। এবং সে ইসলামের স্বাদও অনুধাবন করবে অনেক বেশি। নাবী রসূলগণ যখনই এই কালিমার দা’ওয়াত দিতেন তখন কেন একশ্রেণীর মুশরিকেরা তাদের দা’ওয়াতকে গ্রহণ করেনি। কারণ মুশরিকেরা ভালো করে বুঝত যে, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর দাবীকে মেনে নিলে তাদের যে সমস্ত ইলাহ ছিল যেমন, লাত, মানাত, উজ্জা আরো যে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করত তার সব কিছুকেই ছাড়তে হবে। দরগা, মাজার, পীর-ফকির বা গাইরুল্লাহর কাছে আর সাহায্য চাওয়া যাবে না। আল্লাহ ছাড়া আর কারো সামনে মাথা নত করা যাবে না। মানব তৈরি সমস্ত প্রকার নিজস্ব মতবাদ ছাড়তে হবে। বাপ দাদাদের তৈরি মনগড়া ধর্ম আর মানা যাবে না। মোট কথা কালিমার প্রথম অক্ষর এর নিষেধাজ্ঞা বিষয়গুলোকে তারা ভালোভাবে বুঝত। যার কারণে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর দা’ওয়াতকে তারা গ্রহণ করে নেই। পক্ষান্তরে সৃষ্টিকর্তা রবের প্রতি তাদের বিশ্বাস ছিল। শুধু ‘ইবাদাতের ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করত। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহকেই মানতো যার সত্যতা প্রমাণে আল্লাহর বাণী,
“(হে রসূল!) তুমি জিজ্ঞেস কর (হে মুশরিকগণ) যিনি আসমান ও জমিন থেকে তোমাদেরকে রুযীর সংস্থান করেছেন কে সেই (পাক পরওয়ারদেগার) কে তিনি যিনি শ্রবণ ও দর্শনের প্রকৃত অধিকারী এবং কে সেই মহান স্রষ্টা যিনি জীবন্তকে মৃত হতে আবির্ভূত করেন এবং কে সেই প্রভু যিনি কুদরতের সকল ব্যাপারকে সুনিয়ন্ত্রিত করেন। তখন আপনি দেখবেন তারা নিশ্চয় তৎক্ষণাৎ জবাব দিবে। 'আল্লাহ', আপনি বলুন, এই স্বীকারোক্তির পরেও কি তোমরা সংযত হবে না।” (সূরাহ্ ইউনুস ১০: ৩১)
আল্লাহ আরো বলেন, “(হে রসূল!) জিজ্ঞেস করুন, এই যে জমিন এবং তাতে অবস্থিত যা কিছু আছে এসব কার? বল যদি তোমাদের জ্ঞান থাকে। তারা তখন নিশ্চয় জবাব দিবে আল্লাহর। বল তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?” (সূরাহ্ আল মু'মিনূন ২৩: ৮৪-৮৫)
এ ধরনের অসংখ্য আয়াত রয়েছে। যার থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, তারা এক আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করত। কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার দ্বিতীয় অংশকে তারা মানত বুঝত কিন্তু প্রথম অংশ إِلَّااللهُ এর দাবী কিছুতেই মেনে নিতে পারত না তারা বুঝত মানলেই অনেক কিছু বাদ দিতে হবে। যার কারণে তারা মুশরিকদের গণ্ডি থেকে বাহির হয়ে আসতে পারেনি।
বর্তমান যুগের নামধারী একদল মুসলিমেরাও ঠিক তদ্রূপ কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার দ্বিতীয় অংশকে স্বীকার করছে সকলেই। কিন্তু প্রথম অংশকে ছাড়তে পারছে না অনেকেই। তার একটা মূল কারণও আছে যা হচ্ছে কালিমাতুত্ ত্বইয়িবার প্রথম অংশ إِلَّااللهُ এ সঠিক শিক্ষা এবং সঠিক জ্ঞান ও সঠিক দা'ওয়াতের বড় অভাব। আর একারণেই প্রত্যেকটা মুসলিমকে প্রথম অংশ إِلَّااللهُ যে চারটি বিষয়কে পূর্বেই ছাড়তে বলা হয়েছে সে বিষয়ে অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। প্রথমে যে সমস্ত বাতিল মা'বৃদদেরকে ত্যাগ করতে বলা হয়েছে সে সমস্ত বাতিল মা'বৃদদের পরিচয় জানতে পারলেই পাঠকদের জন্য কালিমাতুত্ ত্বইয়িবা لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর অর্থ বুঝা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية