📄 নবী করীম (সা.) এর কয়েকটি মুজিযা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণের জন্য মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অসংখ্য মুজিযা বা অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশ করেছেন। ইমাম বাইহাকী এবং ইবনুল কাইয়্যুমের মতে এই মুজিযার সংখ্যা কয়েক হাজার। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরন্তন মুজিযা হলো পবিত্র কুরআন। এছাড়া পার্থিব জীবনে যেসব মুজিযা প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নরূপ:
১. চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণ: মক্কার কাফেরদের দাবির প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অঙ্গুলি সংকেতে চন্দ্রকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেখান। এটি একটি ঐতিহাসিক মুজিযা যা কাফেররাও প্রত্যক্ষ করেছিল।
২. আঙ্গুল মুবারক থেকে পানি প্রবাহ: হুদায়বিয়া এবং বিভিন্ন যুদ্ধের সময় যখন সাহাবীদের পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙ্গুলসমূহ থেকে ঝরনার মতো পানি প্রবাহিত হয়েছিল, যা দিয়ে হাজার হাজার সাহাবী ও তাঁদের বাহন তৃষ্ণা নিবারণ করেছিলেন।
৩. স্বল্প খাদ্যে বরকত: খন্দক যুদ্ধের সময় জাবের (রা.)-এর ঘরে সামান্য আটা ও একটি ছাগল দিয়ে রান্না করা খাবার দিয়ে প্রায় এক হাজার সাহাবীর পরিতৃপ্ত হওয়া রাসূলের এক অনন্য মুজিযা।
৪. পশুর অভিযোগ ও সাক্ষ্য প্রদান: একদা একটি উট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে কান্নাকাটি করে তার মালিকের জুলুমের অভিযোগ জানায়। এছাড়া হরিণের কথা বলা এবং রাসূলের সত্যতার সাক্ষ্য দেওয়ার ঘটনাও বর্ণিত আছে।
৫. কংকর ও গাছের তাসবীহ পাঠ: রাসূলের হাতের তালুতে কঙ্করের তাসবীহ পাঠ করা এবং তাঁর আহ্বানে বনের গাছের মাটি ফেড়ে চলে আসা ও পুনরায় নিজ স্থানে ফিরে যাওয়া সাহাবীরা প্রত্যক্ষ করেছেন।
৬. মিরাজ গমন: এক রাতে মক্কা থেকে বায়তুল মোকাদ্দাস এবং সেখান থেকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত সশরীরে ভ্রমণ ও আল্লাহর সাথে কথোপকথন রাসূলের এক বিস্ময়কর মুজিযা।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
২. দালায়েলুন নবুওয়াহ - ইমাম বাইহাকী।
📄 জাওয়ামিউল কালিম বা নবীজী (সা.) এর চল্লিশ হাদীস
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল 'জাওয়ামিউল কালিম' বা সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলা। তিনি অত্যন্ত অল্প কথায় বিশাল জীবন দর্শন ও হাকীকত প্রকাশ করতে পারতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছেন, 'আমাকে জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত ব্যাপক অর্থপূর্ণ ভাষণ) প্রদান করা হয়েছে।' তাঁর এই সংক্ষিপ্ত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীসমূহ উম্মতের জন্য হেদায়েতের আলোকবর্তিকা। উলামায়ে কেরাম রাসূলের এই ব্যাপক অর্থবোধক হাদীসসমূহ একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন। ইমাম নববী (রাহ.) তাঁর বিখ্যাত 'আরবাঈন' বা চল্লিশ হাদীস সংকলনে ইসলামের এমন কিছু বানি অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা দ্বীনের এক একটি মূল স্তম্ভ। যেমন— 'নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল', 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম', 'যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না'। এই বাণীগুলো যেমন সাহিত্যিক মানে সমৃদ্ধ, তেমনি আধ্যাত্মিক ও জাগতিক শিক্ষায় অনন্য। একজন মুমিনের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ হাদীসসমূহ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ।
২. আরবাঈন নববী - ইমাম নববী।