📄 সিদ্দীকে আকবর (রা.) এর ইমামতি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা যখন অত্যন্ত বেড়ে গেল এবং তাঁর পক্ষে মসজিদে গিয়ে ইমামতি করা অসম্ভব হয়ে পড়ল, তখন তিনি নির্দেশ দিলেন, "আবু বকরকে বলো মানুষের নামাযে ইমামতি করতে।" হযরত আয়েশা (রা.) রাসূলের কাছে আরজ করলেন যে, আবু বকর অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ, নামাযে আপনার জায়গায় দাঁড়ালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়বেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় দৃঢ়তার সাথে হযরত আবু বকরকে (রা.) ইমামতি করার নির্দেশ দিলেন। রাসূলের জীবদ্দশায় হযরত আবু বকর (রা.) টানা ১৭ ওয়াক্ত নামাযে ইমামতি করেছিলেন। এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হযরত আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্ব ও পরবর্তী নেতৃত্বের এক পরোক্ষ ইঙ্গিত।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
২. আল-কামিল ফিত তারিখ।
📄 শেষ নবীর শেষ ভাষণ
ইন্তেকালের কয়েকদিন আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় একটি পট্টি বেঁধে সাহাবীদের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে নববীতে উপস্থিত হন। তিনি মিম্বরে বসে সমবেত সাহাবীদের উদ্দেশ্যে তাঁর জীবনের শেষ ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বললেন, "আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়ার বিলাসিতা অথবা তাঁর সান্নিধ্য— এই দুটির একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন, আর সেই বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্যকেই বেছে নিয়েছে।" এই কথা শুনে হযরত আবু বকর (রা.) কান্নায় ভেঙে পড়লেন, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বিদায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তিনি আরও বললেন, "আবু বকরের বন্ধুত্বের ঋণ পরিশোধ করা আমার সাধ্য নেই। মসজিদে আবু বকরের দরজা ছাড়া অন্য সকল দরজা যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।"
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৬৬।
২. তারিখুল খুলাফা।
📄 রাসূলে করীম (সা.) এ অন্তিম বাণী সমূহ
জীবনের শেষ মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অসিয়ত ও বাণী রেখে যান। তিনি বারবার বলছিলেন, "নামায! নামাযের ব্যাপারে সতর্ক থাকো এবং তোমাদের অধীনস্তদের (ক্রীতদাস ও দুর্বলদের) অধিকার রক্ষা করো।" এছাড়া তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আরবে দুটি ধর্ম অবশিষ্ট না থাকে (অর্থাৎ পুরো আরব উপদ্বীপ যেন তাওহীদের ছায়াতলে থাকে)। তাঁর শেষ কথা ছিল— "হে আল্লাহ! আর-রফিকিল আ'লা (মহান বন্ধুর সান্নিধ্য চাই)।" ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার বিকেলে মানবতার এই মহান শিক্ষক ও সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রত্ন তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান। তাঁর প্রস্থান ছিল মুসলিম উম্মাহর জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
২. সীরাতুন নবী, আল্লামা শিবলী নোমানী।