📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 কয়েকটি মুজিযা

📄 কয়েকটি মুজিযা


তাবুক যুদ্ধের দীর্ঘ ও কষ্টকর সফরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত ধরে বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা বা মুজিযা প্রকাশিত হয়। আরবের তপ্ত মরুভূমিতে যখন মুসলিম বাহিনী পানির তীব্র সংকটে পড়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআয় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় এবং প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যার ফলে পুরো বাহিনী ও তাঁদের বাহনসমূহ তৃষ্ণা নিবারণ করে। এছাড়া এক পর্যায়ে যখন খাদ্যের চরম অভাব দেখা দেয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতে সামান্য পরিমাণ খাদ্য দিয়ে পুরো বাহিনী পরিতৃপ্ত হয়। এমনকি একটি বর্ণনায় এসেছে, জাবালাহ নামক স্থানে তাঁর আঙ্গুল মুবারক থেকে ঝরনার মতো পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এই মুজিযাসমূহ সাহাবায়ে কেরামের ঈমানকে আরও মজবুত করেছিল এবং চরম প্রতিকূলতায় তাঁদের অবিচল থাকতে সহায়তা করেছিল।

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাদাইল।
২. দালায়েলুন নবুওয়াহ।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 মসজিদে যিরারে অগ্নি সংযোগ

📄 মসজিদে যিরারে অগ্নি সংযোগ


তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনার নিকটবর্তী 'যুল আওয়ান' নামক স্থানে পৌঁছান, তখন মহান আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে তাঁকে মুনাফিকদের নির্মিত 'মসজিদে যিরার' সম্পর্কে অবহিত করেন। মুনাফিকরা ইবাদতের আড়ালে এই জায়গাটিকে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আস্তানা এবং মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। তারা চেয়েছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে গিয়ে সালাত আদায় করার মাধ্যমে এর বৈধতা দান করেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করে সেখানে দাঁড়াতে নিষেধ করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সাহাবীকে পাঠিয়ে সেই কুচক্রী আস্তানাটি ভেঙে ফেলার এবং তাতে অগ্নি সংযোগ করার নির্দেশ দেন। সাহাবীরা দ্রুত গিয়ে সেই ভবনটি ধ্বংস করে দেন এবং ষড়যন্ত্রের সেই কেন্দ্রটি চিরতরে মিটিয়ে দেন।

টিকাঃ
১. সূরা তাওবা : ১০৭-১০৮।
২. সীরাতে ইবনে হিশাম।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 প্রতিনিধি দলের আগমন এবং দলে দলে মানুষের ইসলাম গ্রহণ

📄 প্রতিনিধি দলের আগমন এবং দলে দলে মানুষের ইসলাম গ্রহণ


মক্কা বিজয়ের পর এবং তাবুক যুদ্ধের সফল সমাপ্তির পর আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে প্রতিনিধি দল (ওফুদ) মদীনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে। এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসের এক অনন্য সন্ধিক্ষণ, যা ইতিহাসে 'আমুল ওফুদ' বা প্রতিনিধি দলের বছর হিসেবে পরিচিত। আরবের বিভিন্ন গোত্র যারা এতোদিন কুরাইশদের পরিণতির অপেক্ষায় ছিল, তারা এখন বুঝতে পারল যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সত্য নবী। ফলে দলে দলে মানুষ ইসলামে দাখিল হতে শুরু করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে বসে এসব প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাতেন, তাঁদেরকে ইসলামের শিক্ষা দিতেন এবং তাঁদের গোত্রে ফিরে গিয়ে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ দিতেন।

টিকাঃ
১. সূরা নসর : ১-২।
২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 বনী কাহতান ও বনী হারিসের প্রতিনিধি দল

📄 বনী কাহতান ও বনী হারিসের প্রতিনিধি দল


বনী কাহতান এবং বনী হারিসের প্রতিনিধি দলগুলো যখন মদীনায় উপস্থিত হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন। বনী হারিস ইবনে কাব গোত্রের প্রতিনিধি দলে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদও (রা.) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বীরত্ব ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাঁদেরকে এক আল্লাহর ইবাদত ও ইসলামের বিধি-বিধানের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজেদের এলাকায় ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের দ্বীনি তালীম ও মাসয়ালা-মাসায়েল শিখিয়ে দেওয়ার জন্য আমীর ও মুয়াল্লিম নিযুক্ত করেন।

টিকাঃ
১. তাবারী, ইতিহাস গ্রন্থ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px