📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 হযরত হাফসা ও যয়নবের বিবাহ

📄 হযরত হাফসা ও যয়নবের বিবাহ


তৃতীয় হিজরীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত উমর (রা.)-এর কন্যা হযরত হাফসা (রা.)-কে বিবাহ করেন। হযরত হাফসার স্বামী বদর যুদ্ধে আহত হয়ে পরবর্তীতে ইন্তেকাল করেছিলেন। হযরত উমরের মনের কষ্ট দূর করতে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন। এর কিছুকাল পরেই তিনি হযরত যয়নব বিনতে খুযাইমা (রা.)-কে বিবাহ করেন। হযরত যয়নব ছিলেন একজন অত্যন্ত দয়াবতী নারী, যাকে তাঁর দানশীলতার জন্য 'উম্মুল মাসাকীন' বা মিসকীনদের জননী বলা হতো। দুর্ভাগ্যবশত বিবাহের কয়েক মাস পরেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 উহুদ যুদ্ধ

📄 উহুদ যুদ্ধ


শাওয়াল মাসে ৩য় হিজরীতে মক্কার কুরাইশরা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে তিন হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মদীনা আক্রমণের জন্য উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে এসে পৌঁছায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক হাজার সৈন্য নিয়ে মদীনা থেকে বের হন, কিন্তু মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তার ৩০০ সৈন্য নিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। ফলে মাত্র ৭০০ জন ঈমানদার সাহাবীকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) কাফেরদের মোকাবিলা করেন। যুদ্ধের শুরুতে মুসলমানরা প্রবল বিক্রমে আক্রমণ চালায় এবং কুরাইশ বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। কিন্তু যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে একটি কৌশলগত ভুলের কারণে যুদ্ধের চিত্র পাল্টে যায় এবং মুসলমানরা সাময়িক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 সৈন্য বিন্যস্তকরণ ও স্বল্প বয়সী সাহাবীদের জিহাদী প্রেরণা

📄 সৈন্য বিন্যস্তকরণ ও স্বল্প বয়সী সাহাবীদের জিহাদী প্রেরণা


উহুদ পাহাড়ের একটি গিরিপথে রাসূলুল্লাহ (সা.) আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজ নিযুক্ত করেন এবং নির্দেশ দেন যে, জয়-পরাজয় যাই হোক তারা যেন স্থান ত্যাগ না করেন। যুদ্ধের ময়দানে অল্পবয়সী সাহাবীদের জিহাদী প্রেরণা ছিল বিস্ময়কর। হযরত রাফে ইবনে খাদীজ ও সামুরা ইবনে জুনদুব নামক দুই কিশোর সাহাবী যুদ্ধে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেন। প্রথমে ছোট বলে তাদের অনুমতি দেওয়া না হলেও পরবর্তীতে তাদের সাহস ও কুস্তি যুদ্ধের পারদর্শিতা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের যুদ্ধে নেওয়ার অনুমতি দেন। শাহাদতের এই প্রবল আকাঙ্ক্ষা মুসলিম বাহিনীকে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 রাসূল (সা.) এর নূরানী চেহারা যখম হওয়া

📄 রাসূল (সা.) এর নূরানী চেহারা যখম হওয়া


উহুদ যুদ্ধের এক পর্যায়ে যখন মুসলিম বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তখন কাফেররা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। ইবনে কামিয়া নামক এক কাফেরের আঘাতে রাসূলের শিরস্ত্রাণ ভেঙে দুটি আংটা তাঁর নূরানী চেহারার গণ্ডদেশে বিঁধে যায় এবং তাঁর একটি দাঁত মুবারক শহীদ হয়। তাঁর পবিত্র চেহারা রক্তে ভিজে যায়। তিনি নিজ হাতে মুখ থেকে রক্ত মুছে বলছিলেন, "ঐ জাতি কীভাবে সফল হবে যারা তাদের নবীকে রক্তাক্ত করেছে?" এই কঠিন মুহূর্তেও তিনি তাদের জন্য হেদায়েতের দুআ করেছিলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية