📄 আবুল আসের ইসলাম গ্রহণ
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কন্যা হযরত যায়নাব (রা.) তাঁর স্বামীর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বদরের যুদ্ধে তাঁর স্বামী আবুল আস ইবনে রবি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরায়শদের পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বন্দি হন। হযরত যায়নাব (রা.) জানতে পেরে আবুল আসের মুক্তিপণস্বরূপ নিজের গলার হার পাঠিয়ে দেন। মক্কায় অবস্থানরত মেয়ের গলার হার দেখে স্নেহশীল পিতার হৃদয়ে দহন-যন্ত্রণা শুরু হয়। তিনি সাহাবীদের সম্মতিতে আবুল আসকে মুক্তি দেন। পরবর্তীতে আবুল আস মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় চলে আসেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়নাব রাযিয়াল্লাহু আনহাকে পুনরায় তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেন।
📄 ইসলামী রাজনীতি ও শিক্ষার উন্নতি
বদর যুদ্ধের বিজয়ের পর মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রের প্রভাব ও মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এই বিজয় কেবল একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামী রাজনীতি ও সমাজ গঠনের এক নতুন দিগন্ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বদর যুদ্ধে বন্দি হওয়া কুরাইশদের মধ্যে যারা শিক্ষিত ছিল, তাদের মুক্তিপণ হিসেবে ধার্য করা হয়েছিল যে, তারা প্রত্যেকে দশজন করে মুসলিম শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দান করবে। এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে শিক্ষা বিস্তারের এক অনন্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে মদীনার আনসার ও মুহাজিরদের সন্তানদের মধ্যে দ্রুত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শী হতে শুরু করে।
📄 এ বছরের বিবিধ ঘটনা
দ্বিতীয় হিজরীর শেষার্ধ এবং তৃতীয় হিজরীর শুরুর দিকে মদীনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো হযরত আলী (রা.) ও খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা (রা.)-এর শুভ বিবাহ। এই সাধারণ অথচ বরকতময় বিবাহের মাধ্যমে নবী পরিবারের এক নতুন ধারার সূচনা হয়। এছাড়া এ বছরেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জ্যেষ্ঠ দৌহিত্র হযরত হাসান (রা.) জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মীয় বিধানের ক্ষেত্রে কিবলা পরিবর্তন এবং যাকাত ও রমযানের রোযা ফরয হওয়ার বিধানসমূহ এই সময়কালেই পূর্ণতা লাভ করে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মদীনা একটি আদর্শ জনপদে পরিণত হতে থাকে।