📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 গুরুত্বপূর্ণ গাযওয়া, সারিয়া এবং বিবিধ ঘটনা প্রথম সারিয়া হযরত হামযা (রা.) এর নেতৃত্বে

📄 গুরুত্বপূর্ণ গাযওয়া, সারিয়া এবং বিবিধ ঘটনা প্রথম সারিয়া হযরত হামযা (রা.) এর নেতৃত্বে


হিজরতের মাত্র সাত মাস পর রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম সারিয়া বা সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন। এর সেনাপতি ছিলেন রাসূল (সা.)-এর প্রিয় চাচা হযরত হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)। ত্রিশ জন মুহাজির সাহাবীকে নিয়ে তিনি কুরাইশদের একটি বাণিজ্য কাফেলা প্রতিরোধের জন্য 'সফুল বাহর' অভিমুখে রওনা হন। সেখানে কুরাইশদের তিনশো অশ্বারোহীর সাথে মুখোমুখি অবস্থান হলেও মাজদি ইবনে আমর নামক জনৈক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় কোনো রক্তপাত ছাড়াই উভয় পক্ষ নিজ নিজ স্থানে ফিরে যায়। এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রেরিত প্রথম সামরিক পতাকা।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 সারিয়ায়ে উবাইদা ইবনে হারিছ (রা.) এবং ইসলামে তীর নিক্ষেপের সূচনা

📄 সারিয়ায়ে উবাইদা ইবনে হারিছ (রা.) এবং ইসলামে তীর নিক্ষেপের সূচনা


হযরত হামযা (রা.)-এর অভিযানের পরপরই শাওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বিতীয় অভিযানটি প্রেরণ করেন হযরত উবাইদা ইবনে হারিস (রা.)-এর নেতৃত্বে। ষাট জন মুহাজির সাহাবীর এই দলটি রাবিগ নামক স্থানে কুরাইশদের এক কাফেলার মুখোমুখি হয়। এখানে কোনো সম্মুখ যুদ্ধ না হলেও হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) শত্রুদের লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম তীর নিক্ষেপ। এই অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 তৃতীয় হিজরী : (গাযওয়ায়ে উহুদ, গাতফান, প্রভৃতি ) গাতফান যুদ্ধ এবং নবীজী (সা.) এর উত্তম চরিত্রের মুজিযা

📄 তৃতীয় হিজরী : (গাযওয়ায়ে উহুদ, গাতফান, প্রভৃতি ) গাতফান যুদ্ধ এবং নবীজী (সা.) এর উত্তম চরিত্রের মুজিযা


তৃতীয় হিজরীতে কুরাইশরা তাদের বদরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আরবের বিভিন্ন গোত্রকে উসকে দিতে থাকে। গাতফান গোত্রের বনু ছা'লাবা ও বনু মুহারিব মদীনা আক্রমণের জন্য সমবেত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) খবর পেয়ে ৪৫০ জন সাহাবীর এক বাহিনী নিয়ে বের হন। তারা মুসলমানদের আগমনের খবর পেয়ে পাহাড়ে আত্মগোপন করে। এই অভিযানের সময় একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি গাছের নিচে একা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং তাঁর তলোয়ারটি গাছে ঝুলানো ছিল। এই সুযোগে দুশমনদের নেতা গাওরাস ইবনুল হারিস রাসূলের সামনে উপস্থিত হয়ে তলোয়ার উঁচিয়ে ধরে এবং বলে, 'এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে?' রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত শান্তভাবে বললেন, 'আল্লাহ'। এই জওয়াব শুনে গাওরাস কেঁপে ওঠে এবং তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তলোয়ারটি তুলে নিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। রাসূলের এই মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে গাওরাস ও তার কওমের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 চতুর্থ হিজরীঃ সারিয়ায়ে মুনযির বীরে মাউনাহ অভিমুখে

📄 চতুর্থ হিজরীঃ সারিয়ায়ে মুনযির বীরে মাউনাহ অভিমুখে


চতুর্থ হিজরীতে এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যা 'বীরে মাউনাহ'র ট্রাজেডি নামে পরিচিত। আরবের জনৈক গোত্রপতি আবু বারা রাসূলের কাছে এসে তার কওমকে ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্য একদল মুয়াল্লিম বা শিক্ষক প্রার্থনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) মুনযির ইবনে আমরের নেতৃত্বে ৭০ জন হাফেজ ও আলেম সাহাবীকে প্রেরণ করেন। কিন্তু বীরে মাউনাহ নামক স্থানে পৌঁছালে কাফেররা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁদের ঘিরে ফেলে। মুনযির (রা.) এবং তাঁর প্রায় সকল সঙ্গী অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করে শাহাদতবরণ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ঘটনায় অত্যন্ত শোকাহত হন এবং দীর্ঘ এক মাস ফজরের নামাযে 'কুনুতে নাযিলা'র মাধ্যমে ঘাতকদের জন্য দুআ করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px