📄 গাযওয়া ও সারিয়া সমূহ
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মদীনা জীবনে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যে সব যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেগুলোকে 'গাযওয়া' বলা হয়। আর যে সব অভিযানে তিনি নিজে যাননি বরং কোনো সাহাবীকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করে পাঠিয়েছেন, সেগুলোকে 'সারিয়া' বলা হয়। সীরাত বিশেষজ্ঞদের মতে গাযওয়ার সংখ্যা ২৭টি এবং সারিয়ার সংখ্যা প্রায় ৬০টির মতো। এই প্রতিটি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মদীনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন করা।
📄 গুরুত্বপূর্ণ গাযওয়া, সারিয়া এবং বিবিধ ঘটনা প্রথম সারিয়া হযরত হামযা (রা.) এর নেতৃত্বে
হিজরতের মাত্র সাত মাস পর রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম সারিয়া বা সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন। এর সেনাপতি ছিলেন রাসূল (সা.)-এর প্রিয় চাচা হযরত হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.)। ত্রিশ জন মুহাজির সাহাবীকে নিয়ে তিনি কুরাইশদের একটি বাণিজ্য কাফেলা প্রতিরোধের জন্য 'সফুল বাহর' অভিমুখে রওনা হন। সেখানে কুরাইশদের তিনশো অশ্বারোহীর সাথে মুখোমুখি অবস্থান হলেও মাজদি ইবনে আমর নামক জনৈক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় কোনো রক্তপাত ছাড়াই উভয় পক্ষ নিজ নিজ স্থানে ফিরে যায়। এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রেরিত প্রথম সামরিক পতাকা।
📄 সারিয়ায়ে উবাইদা ইবনে হারিছ (রা.) এবং ইসলামে তীর নিক্ষেপের সূচনা
হযরত হামযা (রা.)-এর অভিযানের পরপরই শাওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বিতীয় অভিযানটি প্রেরণ করেন হযরত উবাইদা ইবনে হারিস (রা.)-এর নেতৃত্বে। ষাট জন মুহাজির সাহাবীর এই দলটি রাবিগ নামক স্থানে কুরাইশদের এক কাফেলার মুখোমুখি হয়। এখানে কোনো সম্মুখ যুদ্ধ না হলেও হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) শত্রুদের লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম তীর নিক্ষেপ। এই অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
📄 তৃতীয় হিজরী : (গাযওয়ায়ে উহুদ, গাতফান, প্রভৃতি ) গাতফান যুদ্ধ এবং নবীজী (সা.) এর উত্তম চরিত্রের মুজিযা
তৃতীয় হিজরীতে কুরাইশরা তাদের বদরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আরবের বিভিন্ন গোত্রকে উসকে দিতে থাকে। গাতফান গোত্রের বনু ছা'লাবা ও বনু মুহারিব মদীনা আক্রমণের জন্য সমবেত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) খবর পেয়ে ৪৫০ জন সাহাবীর এক বাহিনী নিয়ে বের হন। তারা মুসলমানদের আগমনের খবর পেয়ে পাহাড়ে আত্মগোপন করে। এই অভিযানের সময় একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি গাছের নিচে একা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং তাঁর তলোয়ারটি গাছে ঝুলানো ছিল। এই সুযোগে দুশমনদের নেতা গাওরাস ইবনুল হারিস রাসূলের সামনে উপস্থিত হয়ে তলোয়ার উঁচিয়ে ধরে এবং বলে, 'এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে?' রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত শান্তভাবে বললেন, 'আল্লাহ'। এই জওয়াব শুনে গাওরাস কেঁপে ওঠে এবং তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তলোয়ারটি তুলে নিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। রাসূলের এই মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে গাওরাস ও তার কওমের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে।