📄 প্রথম হিজরী : জিহাদ প্রবর্তন ও অনুমোদন সারিয়ায়ে হামযা ও সারিয়ায়ে উবাইদা
হিজরতের প্রথম বছরেই মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রকে বাহ্যিক শত্রু ও কুরাইশদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহ জিহাদের অনুমতি প্রদান করেন। কুরাইশরা মক্কায় মুসলমানদের ওপর যে অন্যায় ও অত্যাচার চালিয়েছিল এবং তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছিল, তার প্রতিকার এবং সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, "যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো; কারণ তারা নির্যাতিত হয়েছে।" এই অনুমোদনের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) কুরাইশদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের বাণিজ্য কাফেলা প্রতিরোধের জন্য ছোট ছোট অভিযান প্রেরণ শুরু করেন, যা ইতিহাসে 'সারিয়া' নামে পরিচিত। এর মধ্যে সারিয়ায়ে হামযা এবং সারিয়ায়ে উবাইদা ছিল অন্যতম প্রাথমিক পদক্ষেপ।
📄 ইসলাম স্বীয় প্রচার-প্রসারে তলোয়ারের মুখাপেক্ষী নয়
ইসলামের ইতিহাসে জিহাদ বা যুদ্ধের অনুমতি কেবল আত্মরক্ষা এবং মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেওয়া হয়েছিল। ইসলাম কখনোই তলোয়ারের জোরে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ইসলামের প্রচার ও প্রসারের মূলে ছিল এর সুমহান আদর্শ, নবী করীম (সা.)-এর অতুলনীয় চরিত্র এবং কুরআনের অকাট্য সত্য। মানুষের হৃদয় জয় করার মাধ্যমেই ইসলাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। তলোয়ার কেবল সেই সব শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে যারা মানুষের বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুতরাং যারা মনে করে ইসলাম তলোয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তারা ইতিহাসের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ।
📄 রাজনীতি বর্জিত ধর্ম ও অস্ত্র বিবর্জিত রাজনীতি পূর্ণাঙ্গ নয়
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যা কেবল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি রাষ্ট্রনীতি ও সমাজনীতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা বিদ্যমান। ধর্মহীন রাজনীতি যেমন লক্ষ্যহীন, তেমনি রাজনীতি বর্জিত ধর্মও বাস্তব জীবনে কার্যকর হতে পারে না। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়, যা অন্যায়ের পথ রোধ করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনায় যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, তা ছিল ধর্ম ও রাজনীতির এক অপূর্ব সমন্বয়, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে অস্ত্রের ব্যবহারকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
📄 গাযওয়া ও সারিয়া সমূহ
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মদীনা জীবনে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যে সব যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেগুলোকে 'গাযওয়া' বলা হয়। আর যে সব অভিযানে তিনি নিজে যাননি বরং কোনো সাহাবীকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করে পাঠিয়েছেন, সেগুলোকে 'সারিয়া' বলা হয়। সীরাত বিশেষজ্ঞদের মতে গাযওয়ার সংখ্যা ২৭টি এবং সারিয়ার সংখ্যা প্রায় ৬০টির মতো। এই প্রতিটি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মদীনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডীন করা।