📄 সুরাকার মুখে নবী করীম (সা.) এর নবুওয়াতের স্বীকৃতি
অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে সুরাকা ইবনে মালেকের মন থেকে নবীজির প্রতি শত্রুতা দূর হয়ে গেল। সে নবীজির কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানাল এবং তাঁর নবুওয়াতের সত্যতা স্বীকার করল। নবী করীম (সা.) তাকে অভয় দিলেন এবং সুরাকা যখন নবীজির কাছে কিছু করার আরজ করল, তখন নবীজি তাকে বললেন কুরাইশদের তথ্য গোপন রাখতে। নবীজি সুরাকাকে এক মহিমান্বিত ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে বলেন, 'সুরাকা! তোমার কেমন লাগবে যখন তুমি পারস্য সম্রাট কিসরার স্বর্ণের কঙ্কন পরিধান করবে?' সুরাকা অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। পরবর্তীতে হযরত উমর (রা.)-এর আমলে পারস্য বিজয়ের পর সুরাকা ইবনে মালেককে সত্যি ই সেই কঙ্কন পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
📄 নবী করীম (সা.) এর মুজিযা এবং উম্মে মা'বাদ ও তার স্বামীর ইসলাম গ্রহণ
হিজরতের পথে কাফেলাটি উম্মে মা'বাদ নামক এক বৃদ্ধার তাঁবুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্রামের জন্য থামে। উম্মে মা'বাদ অত্যন্ত দয়াবতী নারী ছিলেন। নবীজি তাঁর কাছে কিছু খাওয়ার বা দুধের সন্ধান চাইলে তিনি জানান যে তাঁর কাছে কিছুই নেই, শুধুমাত্র একটি জরাজীর্ণ ও মৃতপ্রায় বকরি আছে যা পালের সাথে যেতেও অক্ষম। নবীজি সেই বকরিটির ওপর আল্লাহর নাম নিয়ে হাত বুলিয়ে দিলে অলৌকিকভাবে তার ওলান দুধে ভরে যায়। কাফেলার সকলে তৃপ্তিসহকারে দুধ পান করেন এবং একটি বড় পাত্র ভরে উম্মে মা'বাদের জন্যও দুধ রেখে যান। বিকেলে তার স্বামী আবু মা'বাদ ফিরে এসে এই অলৌকিক ঘটনা শুনে এবং নবীজির হুলিয়া বা দৈহিক সৌন্দর্যের বিবরণ শুনে মুগ্ধ হয়ে যান। তাঁরা উভয়েই বুঝতে পারেন যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত কোনো মহাপুরুষের কাজ এবং অবিলম্বে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন।
📄 কুবায় অবতরণ
৮ই রবিউল আউয়াল নবী করীম (সা.) মদীনার উপকণ্ঠ কুবায় পদার্পণ করেন। কুবাবাসী নবীজিকে বরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। নবীজি সেখানে কুলসুম ইবনুল হিদমের বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে নবীজি কয়েকদিন অবস্থান করেন এবং ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ 'মসজিদে কুবা'র ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি সাহাবীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাথর বহন করে এই মসজিদ নির্মাণে অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআনে এই মসজিদটিকে 'তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
📄 হযরত আলী (রা.) এর হিজরত এবং কুবায় রাসূল (সা.) এর সাথে সাক্ষাত
মক্কায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমানতসমূহ মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়ার পর হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু একাকী মদীনার পথে যাত্রা করেন। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রাতের বেলা পথ চলতেন এবং দিনের বেলা লুকিয়ে থাকতেন। পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার ফলে তাঁর পা ফুলে গিয়েছিল এবং তা থেকে রক্ত ঝরছিল। অবশেষে তিনি কুবায় পৌঁছে নবী করীম (সা.)-এর সাথে মিলিত হন। নবীজি আলীকে রক্তাক্ত ও ক্লান্ত অবস্থায় দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তাঁর পায়ের ওপর নিজের লালা মুবারক লাগিয়ে দেন, ফলে অলৌকিকভাবে আলীর পায়ের ক্ষত ও ব্যথা তৎক্ষণাৎ সেরে যায়।