📄 গারে সওর থেকে মদীনা অভিমুখে রওনা
তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কুরাইশদের তল্লাশি কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসলে নবী করীম (সা.) ও হযরত আবু বকর (রা.) গুহা ত্যাগ করে পুনরায় মদীনার পথে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্দুল্লাহ ইবনে আরীকাত নামক একজন অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক দুটি উট নিয়ে গুহার সামনে উপস্থিত হন। হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর সেরা উটটি নবীজিকে হাদিয়া দিতে চাইলে নবীজি তা মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করেন। তাঁরা পরিচিত রাজপথ পরিহার করে উপকূলীয় দুর্গম ও অপ্রচলিত পথ দিয়ে মদীনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। হযরত আবু বকর (রা.)-এর ভৃত্য আমির ইবনে ফুহাইরাও তাঁদের সাথে ছিলেন।
📄 পথিমধ্যে সুরাকা ইবনে মালেকের উপস্থিতি ও তার ঘোড়া মাটিতে ধবসে যাওয়ার ঘটনা
হিজরতের পথে নবী করীম (সা.)-কে ধরার জন্য কুরাইশদের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে সুরাকা ইবনে মালেক ঘোড়ায় চড়ে তাঁদের পিছু নেয়। সুরাকা যখন নবীজির কাছাকাছি পৌঁছে গেল, তখন নবীজি ধীরস্থিরভাবে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। সুরাকা নবীজিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করতে উদ্যত হলে অলৌকিকভাবে তার ঘোড়ার পা বালিতে বা শক্ত মাটিতে ধবসে যায়। সুরাকা নিচে পড়ে গেল এবং ভাগ্য পরীক্ষার জন্য তীরের মাধ্যমে লটারি করল যা তার বিপক্ষে এল। সে পুনরায় চেষ্টা করল এবং দ্বিতীয়বারও তার ঘোড়ার পা হাঁটুর ওপর পর্যন্ত মাটিতে দেবে গেল। সুরাকা বুঝতে পারলেন যে কোনো এক অদৃশ্য শক্তি নবীজিকে রক্ষা করছে এবং তার আর কোনো সাধ্য নেই তাঁকে ধরার।
📄 সুরাকার মুখে নবী করীম (সা.) এর নবুওয়াতের স্বীকৃতি
অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে সুরাকা ইবনে মালেকের মন থেকে নবীজির প্রতি শত্রুতা দূর হয়ে গেল। সে নবীজির কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানাল এবং তাঁর নবুওয়াতের সত্যতা স্বীকার করল। নবী করীম (সা.) তাকে অভয় দিলেন এবং সুরাকা যখন নবীজির কাছে কিছু করার আরজ করল, তখন নবীজি তাকে বললেন কুরাইশদের তথ্য গোপন রাখতে। নবীজি সুরাকাকে এক মহিমান্বিত ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে বলেন, 'সুরাকা! তোমার কেমন লাগবে যখন তুমি পারস্য সম্রাট কিসরার স্বর্ণের কঙ্কন পরিধান করবে?' সুরাকা অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। পরবর্তীতে হযরত উমর (রা.)-এর আমলে পারস্য বিজয়ের পর সুরাকা ইবনে মালেককে সত্যি ই সেই কঙ্কন পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
📄 নবী করীম (সা.) এর মুজিযা এবং উম্মে মা'বাদ ও তার স্বামীর ইসলাম গ্রহণ
হিজরতের পথে কাফেলাটি উম্মে মা'বাদ নামক এক বৃদ্ধার তাঁবুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্রামের জন্য থামে। উম্মে মা'বাদ অত্যন্ত দয়াবতী নারী ছিলেন। নবীজি তাঁর কাছে কিছু খাওয়ার বা দুধের সন্ধান চাইলে তিনি জানান যে তাঁর কাছে কিছুই নেই, শুধুমাত্র একটি জরাজীর্ণ ও মৃতপ্রায় বকরি আছে যা পালের সাথে যেতেও অক্ষম। নবীজি সেই বকরিটির ওপর আল্লাহর নাম নিয়ে হাত বুলিয়ে দিলে অলৌকিকভাবে তার ওলান দুধে ভরে যায়। কাফেলার সকলে তৃপ্তিসহকারে দুধ পান করেন এবং একটি বড় পাত্র ভরে উম্মে মা'বাদের জন্যও দুধ রেখে যান। বিকেলে তার স্বামী আবু মা'বাদ ফিরে এসে এই অলৌকিক ঘটনা শুনে এবং নবীজির হুলিয়া বা দৈহিক সৌন্দর্যের বিবরণ শুনে মুগ্ধ হয়ে যান। তাঁরা উভয়েই বুঝতে পারেন যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত কোনো মহাপুরুষের কাজ এবং অবিলম্বে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন।