📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 ইসরায়ে নববী সম্পর্কে চাক্ষুস সাক্ষ্য

📄 ইসরায়ে নববী সম্পর্কে চাক্ষুস সাক্ষ্য


মিরাজ থেকে ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই ভ্রমণের কথা বর্ণনা করলেন, তখন মক্কাবাসীরা একে অসম্ভব বলে উপহাস করতে থাকে। বিশেষ করে যারা বায়তুল মোকাদ্দাস দেখেছিল, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর দরজা, জানালা ও কাঠামোর বিবরণ সম্পর্কে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে। মহান আল্লাহ তখন রাসূলের চোখের সামনে বায়তুল মোকাদ্দাসের দৃশ্য তুলে ধরেন এবং তিনি প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর প্রদান করেন। যারা সেই স্থানটি দেখেছিল, তারা রাসূলের বিবরণের নির্ভুলতা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়।

মিরাজ থেকে ফিরে আসার পর কাফেররা রাসূলকে নানাভাবে জেরা করতে শুরু করল। তারা বায়তুল মাকদিসের বর্ণনা জানতে চাইল। আল্লাহ তাআলা রাসূলের চোখের সামনে সেই চিত্র তুলে ধরলেন এবং তিনি নিখুঁতভাবে সব বর্ণনা দিলেন। এমনকি পথে ফিরে আসার সময় কুরাইশদের যে কাফেলাটি তিনি দেখেছিলেন, তারও নিখুঁত বিবরণ দিলেন। এই চাক্ষুষ সাক্ষ্যগুলো ইসলামের সত্যতাকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। যারা সত্যের সন্ধানী ছিল, তারা এই মু'জিজা দেখে ঈমান এনেছিল।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 স্বয়ং কুরাইশদের প্রত্যক্ষ সাক্ষী

📄 স্বয়ং কুরাইশদের প্রত্যক্ষ সাক্ষী


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের সত্যতা প্রমাণের জন্য কুরাইশদের জানিয়েছিলেন যে, ফেরার পথে তিনি তাদের একটি কাফেলা দেখেছেন যা মক্কার দিকে আসছে এবং একটি উট হারিয়ে যাওয়ার কারণে তারা বিপদে ছিল। তিনি কাফেলাটি কবে মক্কায় পৌঁছাবে তার সঠিক সময়ও বলে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সেই কাফেলাটি মক্কায় পৌঁছালে এবং রাসূলের বলা প্রতিটি কথা সত্য প্রমাণিত হলে কুরাইশদের আর কোনো অজুহাত থাকে না। তবুও হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে তারা ঈমান আনা থেকে বিরত থাকে।

কুরাইশরা নিজেদের চোখে রাসূলের অনেক মু'জিজা প্রত্যক্ষ করেছিল। তারা জানত তিনি 'আল-আমীন' বা পরম বিশ্বস্ত। কিন্তু অহংকার ও আভিজাত্যের মোহে তারা সত্যকে অস্বীকার করত। মিরাজের ঘটনার সত্যতা যখন কাফেলার বর্ণনার সাথে মিলে গেল, তখন তারা নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। তাদের এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও তারা কেবল শত্রুতার খাতিরেই ঈমান আনা থেকে বিরত ছিল। এটি ছিল তাদের হঠকারিতার এক চরম প্রকাশ।

টিকাঃ
১. তিরমিযী।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 মদীনা তাইয়িবায় ইসলাম

📄 মদীনা তাইয়িবায় ইসলাম


মক্কায় দাওয়াতী কাজের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হওয়ার পর হজ্জের মৌসুমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগত বহিরাগতদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। এ সময়ে মদীনার (তৎকালীন ইয়াসরিব) খাজরাজ গোত্রের ছয়জন ব্যক্তি রাসূলের আহবানে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে 'আকাবা' নামক স্থানে মদীনার মানুষেরা রাসূলের কাছে বাইয়াত বা শপথ গ্রহণ করেন। এভাবেই মদীনার ঘরে ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে যেতে থাকে এবং মদীনা ইসলামের এক নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদীনায় হিজরত করলেন তখন আনসারিদের ভালোবাসা ও উদ্দীপনা ছিল দেখার মতো। মদীনা হয়ে উঠেছিল ইসলামের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে এক অপূর্ব ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে উঠল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে একটি আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করলেন। সেখানকার প্রতিটি ধূলিকণা যেন ইসলামের সুবাসে মৌ মৌ করতে লাগল।

টিকাঃ
১. সীরাত ইবনে হিশাম : ২/২৪০।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 মদীনায় সর্ব প্রথম মাদরাসা

📄 মদীনায় সর্ব প্রথম মাদরাসা


মদীনার মানুষেরা যখন ইসলাম গ্রহণ শুরু করেন, তখন তাঁদের দ্বীনি শিক্ষা প্রদানের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম মুয়াল্লিম বা শিক্ষক হিসেবে হযরত মুস'আব ইবনে উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সেখানে প্রেরণ করেন। হযরত মুস'আব রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনার বিশিষ্ট সাহাবী আস'আদ ইবনে যুরারাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে অবস্থান করে মানুষদের কুরআন ও দ্বীন শিক্ষা দিতে শুরু করেন। এটিই ছিল মদীনার ইতিহাসের সর্বপ্রথম মাদরাসা বা দ্বীনি শিক্ষা কেন্দ্র। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই মদীনার প্রতিটি ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে যায়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্র ছিল মসজিদ। মদীনা হিজরতের পর মসজিদে নববী হয়ে উঠল ইসলামের প্রথম পাঠশালা। সেখানে সাহাবীরা সরাসরি রাসূলের কাছ থেকে কুরআনের তালীম গ্রহণ করতেন। জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের এই অধিকার ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কেই দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী সাহাবীদের জন্যও একটি বিশেষ দিন নির্ধারণ করেছিলেন তাঁদের হিতোপদেশ ও আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধ শিক্ষা দান করার জন্য। এই মাদরাসা থেকেই গড়ে উঠেছিল ইসলামের স্বর্ণালী প্রজন্ম।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px