📄 ব্যবসার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার সিরিয়া সফর
বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের মন-মানসিকতা ও চিন্তাভাবনায় এক ধরনের পরিপক্বতা আসে। এ সময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে তারা প্রায়ই অস্থিরতা ও কৌতূহলের শিকার হয়। বর্তমান সময়ের বেপরোয়া অপসংস্কৃতি, অশ্লীল মিডিয়া এবং অবাধ মেলামেশার সুযোগ তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই নাজুক সময়ে মা-বাবার উচিত সন্তানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া। তাদের সাথে সময় কাটানো, মনের ভাব বুঝতে চেষ্টা করা এবং প্রতিটি কাজে সঠিক দিক-নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। ঘরের ভেতর আন্তরিক পরিবেশ না থাকলে সন্তান বাইরে গিয়ে খারাপ আশ্রয়ে চলে যেতে পারে, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়।
ইসলামী সমাজব্যবস্থায় বয়ঃসন্ধিকালীন এই বিচ্যুতি রোধে দৃষ্টির হেফাজত ও পবিত্র জীবনযাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। সক্ষমতা থাকলে দ্রুত বিবাহ সম্পন্ন করা দৃষ্টি রক্ষায় এবং চরিত্রের সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর। তরুণদের বোঝাতে হবে যে তারা পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি এবং তাদের জীবনের লক্ষ্য অত্যন্ত মহৎ।
আমাদের সন্তানদেরকে পশ্চিমা সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ থেকে রক্ষা করে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান করতে হবে। ইলম ও আমলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী চরিত্র গঠন করাই হবে তাদের সফলতার মূল ভিত্তি।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. তিরমিযী।
১. আল ওয়াও আল ইসলাম : ৪৭১।
📄 হযরত খাদীজা (রা.) এর সঙ্গে নবীজীর বিবাহ
বর্তমান যুগের তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া একটি দ্বিধারী তলোয়ারের মতো। এর সঠিক ব্যবহার যেমন কল্যাণ বয়ে আনতে পারে, তেমনি অপব্যবহার ধ্বংস করে দিতে পারে একটি আস্ত প্রজন্ম। মুসলিম উম্মাহর উচিত মিডিয়া শক্তির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া এবং একে দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করা।
প্রচারমাধ্যমগুলো বর্তমানে জনমত গঠন এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রধান হাতিয়ার। বিশেষ করে মুসলিম পরিবার ও মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানার জন্য সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। অভিভাবক হিসেবে আমাদের সন্তানদের ওপর মিডিয়ার কুপ্রভাব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তাদের সময়ের হিসাব নিতে হবে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
একজন মা তার সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য কোনো পেশায় দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি তাকে দীনের দাই হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে থেকেও ইসলামের বাণী প্রচার করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের স্বকীয়তা ও ঈমানী মজবুতি বজায় রাখার সাহস জোগাতে হবে।
ইমাম বুখারী ও ইমাম শাফেঈর মতো মহান মনীষীদের জীবন থেকে আমরা দেখতে পাই, মায়েদের আন্তরিক চেষ্টা ও দুআ কীভাবে তাঁদেরকে বিশ্ববিখ্যাত করেছেন। আজকের মায়েদেরও সেই ধৈর্য ও অবিচলতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদেরকে এমনভাবে গড়তে হবে যেন তারা মিডিয়া আগ্রাসনে ভেসে না যায়, বরং স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্যের কথা বলতে পারে।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা : ১২/৩৩১।
📄 হযরত খাদীজার গর্ভে নবীজীর (সা.) সন্তানাদি
আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া সর্বোত্তম কাজ। নবী-রাসূলদের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিটি মুমিন নারী ও পুরুষের ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে যখন আধুনিকতার নামে অশ্লীলতা ও ধর্মহীনতা ছড়িয়ে পড়ছে, তখন মুসলিম নারীদের এগিয়ে আসা একান্ত কর্তব্য।
দাওয়াতের সফলতার জন্য প্রথমে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ইখলাস থাকতে হবে। অন্তরের পবিত্রতা অর্জন করতে হলে দুনিয়ার মায়া, হিংসা, ক্রোধ ও অহংকার বর্জন করা আবশ্যক। এছাড়া পর্যাপ্ত ধর্মীয় ও আধুনিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে, যাতে যুক্তি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী প্রোপাগান্ডার মোকাবিলা করা যায়।
নিজের আমল ও আখলাক সুন্দর না হলে দাওয়াতের কোনো প্রভাব পড়ে না। একজন দায়িয়াকে ধৈর্য ও সহনশীলতার চরম পরীক্ষা দিতে হয়। হযরত সুমাইয়া, উম্মে শারিক এবং আধুনিক যুগের যায়নাব আল গাযালির মতো মহীয়সী নারীদের জীবন আমাদের জন্য প্রেরণা। প্রতিকূল পরিবেশে দমে না গিয়ে অবিচল থেকে সত্যের বাণী পৌঁছে দেওয়াই প্রকৃত মুমিনার কাজ।
বিশেষ করে ফিলিস্তিনের শহীদ ও বন্দীদের মায়েদের যে ত্যাগ, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মুসলিম তরুণীদের উচিত ফ্যাশন ও বিজাতীয় সংস্কৃতির মোহ ত্যাগ করে হিজাব ও লজ্জাশীলতাকে অলঙ্কার বানিয়ে ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসা। প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ এবং নিজের সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. তাবারানী, তিরমিযী।
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. তারবিয়াতুল আওলাদ ফিল ইসলাম : ২/৮১০।
১. তিরমিযী।
📄 নবীজী (সা.) এর কন্যা চতুষ্টয়
আধুনিক বিশ্বে দাওয়াতের ময়দানে সমন্বিত প্রচেষ্টার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার ফলে ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে এবং শক্তির অপচয় হচ্ছে। একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপনের জন্য দাওয়াতের কাজে পর্যায়ক্রমতা এবং দায়িত্বশীলদের আনুগত্য অপরিহার্য।
আজকাল অনেক অনৈসলামিক সংস্থা সেবার নামে মুসলিম নারীদেরকে টার্গেট করছে এবং তাদের ঈমান ও ঐতিহ্য বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। এর বিপরীতে মুসলিম নারীদেরকে এমন শক্তিশালী সংস্থা ও কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে যা পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার শরীআহ-সম্মত সমাধান দেবে।
দাওয়াতের ময়দানে প্রজ্ঞা ও কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরে মানুষের হৃদয়ে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে হবে। যারা ইসলামকে পশ্চাদপদ বলে প্রচার করে, তাদের মোকাবিলায় বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে অচিরেই মুসলিম নারীসমাজ বিশ্বব্যাপী সত্য ও সুন্দরের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী।
১. আল ইসরাহ্ কী তায়হীদিস সাহাবাহ্ : ৯৭।