📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 নবী করীম (সা.) এর শুভ জন্ম

📄 নবী করীম (সা.) এর শুভ জন্ম


আরবে নারীকে খাটো করে দেখা হতো। অবলা নারীর অধিকার নিয়ে তামাশা করা হতো। তার সম্মান ও সম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হতো। অবশেষে ইসলামের আবির্ভাব হলো। এলো আলোকোজ্জ্বল ও সমুজ্জ্বল জীবনবিধান। স্থাপিত হলো ন্যায়ের ভিত্তি। নারী পেল সত্যিকারের মর্যাদা, মানবতার স্বাদ, অধিকারের আনন্দ, সমাজে সম্মানজনক দায়িত্বপালনের গ্রহণযোগ্যতা। ইসলাম তাকে প্রদান করল সুমহান মর্যাদার তাজ। তাকে ভূষিত করল সর্বোত্তম সম্মানে। সে নারী হিসেবে পরিবারের বোঝা নয়, জাতির জননী; স্ত্রী হিসেবে পুরুষের বোঝা নয়, সম্মানিতা জীবনসঙ্গিনী; মেয়ে হিসেবে সমাজের বোঝা নয়, অমূল্য সম্পদ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারী তো পুরুষের সহোদর।

১. বেঁচে থাকার অধিকার: জাহেলী আরবে কন্যাসন্তানের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করা হয়েছিল। বন্য-বর্বররা অভাব ও অপবাদের দোহাই দিয়ে শিশুকন্যাদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলত। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিলেন, যাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হয়েছিল, জিজ্ঞেস করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? (সুরা তাক্বীর: ৮-৯)।

২. উত্তরাধিকার ও হস্তক্ষেপ: ইসলাম নারীকে উত্তরাধিকার দান করেছে। সে তার সম্পত্তি কেনা-বেচা করতে পারে, দান-সদকা করতে পারে। এতে তার ইচ্ছাই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।

৩. বিবাহপ্রস্তাব গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যান: নারী তার জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রাখে। তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কারও সাথে তাকে জুড়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুমারী ও বিধবা নারীদের সম্মতির গুরুত্ব দিয়েছেন। একবার হযরত খানসা রাদিয়াল্লাহু আনহা এলে তাঁর অনিচ্ছার বিয়েটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেঙে দিয়েছিলেন।

৪. শিক্ষা অর্জনের অধিকার: জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের অধিকার ইসলাম নারীকে দিয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কারও কোনো কন্যাশিশু থাকে, আর সে তার উত্তম শিক্ষা ও শিষ্টাচারের ব্যবস্থা করে, তার জন্য থাকছে দ্বিগুণ প্রাপ্তি।

৫. স্বামী থেকে বিচ্ছেদ-গ্রহণের অধিকার: সাবিত ইবনে কায়েসের স্ত্রী যখন বিচ্ছেদ চাইলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মোহরকৃত বাগানটি ফেরত দেওয়ার শর্তে বিচ্ছেদ কার্যকর করেন।

৬. রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অধিকার: ইসলাম নারীকে জনপ্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার প্রদান করেছে। সাক্ষ্যপ্রদান নারী এবং পুরুষ উভয়ের ওপরই ওয়াজিব। তবে সমাজ-জীবনে বিপর্যয় এড়াতে এবং পরিবারের সংহতি রক্ষায় নারীপ্রকৃতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চ রাজনৈতিক পদ ধারনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। প্রিয় বোন, ভুলে যাবেন না আপনি খানসা-আসমার উত্তরসূরি। ঈমান ও ইসলামের স্বাভাবিক সীমারেখা অতিক্রম করবেন না।

টিকাঃ
১. আবু দাউদ।
১. সহীহ মুসলিম।
১. সহীহ বুখারী।
২. সহীহ বুখারী।
৩. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. আল মারআতু ওয়াল হুকমুস সিয়াসিয়্যাহ্ ফিল ইসলাম : ৪৫০-৪৫১।
২. রিদালাতুন ইসা হাওয়া : ২/৩।
১. আবু দাউদ ও বাইহাকী।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 নবী করীম (সা.) এর সম্মানিত পিতার ইন্তিকাল

📄 নবী করীম (সা.) এর সম্মানিত পিতার ইন্তিকাল


ইসলামের আবির্ভাবের পর মুসলিম নারীগণ অসংখ্য উত্তম গুণাবলিতে বিশিষ্ট হয়েছিলেন। ধৈর্য ও অবিচলতা ছিল পর্বতপ্রমাণ। উম্মুল মুমিনিন হযরত জাওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন বহুমুখী যোগ্যতার অধিকারিণী—একধারে ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির। এমনকি চিকিৎসাবিদ্যায়ও তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ছিল। আবু মূসা আশআরী রাযি. বলেন, আমাদের কাছে কোনো হাদীস অস্পষ্ট লাগলে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলে অবশ্যই সমাধান লাভ করতাম।

উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা বিনতে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহা আরবী লিপিশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাবেয়ী নারী উম্মে দারদা সুগরা ছিলেন অনেক বড় আলেম ও ফকীহা। ফাতেমা বিনতে আলাউদ্দিন সমরকান্দী ছিলেন প্রখ্যাত ফকীহা; তাঁর ফতোয়ায় পিতা ও স্বামীর দস্তখত থাকত। হযরত খাওলা বিনতে সা'লাবা রাযি.-এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সূরা মুজাদালাহ নাজিল হয়েছিল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাইয়াতের মজলিসে হযরত হিন্দ বিনতে উতবা নির্ভীকভাবে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর রাযি. যখন মোহরের সীমা বেঁধে দিতে চাইলেন, তখন জনৈকা কুরাইশ নারী কুরআনের আয়াত দিয়ে তা খণ্ডন করেন এবং উমর রাযি. অকপটে নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, একজন নারী ঠিক বুঝেছেন কিন্তু উমর ভুল বুঝেছেন।

জিহাদের ময়দানেও নারীদের অবদান অবিস্মরণীয়। উম্মে আম্মারা মাযিনিয়া রাযি. ওহুদ যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঢাল হয়ে রক্ষা করেছিলেন। সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব রাযি. পরিখার যুদ্ধে এক ইহুদিকে হত্যা করেছিলেন। হযরত উম্মে আতিয়্যা সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে রসদ ও খাবারের জোগান দিয়েছেন। রাফীদা আনসারিয়্যা আহত সৈনিকদের চিকিৎসা করতেন। এমনকি হযরত যায়নাব রাযি. তাঁর স্বামী আবুল আসকে নিরাপত্তার আশ্রয় দিয়েছিলেন, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন করেছিলেন।

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।
২. হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে জানতে সীরাতে আয়েশা রাযি., সাইয়েদ সুলাইমান নদভী রাহ., রাহনুমা প্রকাশনী বইটি পড়া যেতে পারে।
১. সিয়ার আ’লামিন নুবালা : ২/১৮৭।
২. তিরমিযী।
১. হাকিম।
১. আল বিদায়া ওয়াছছায়ান নিহায়া: ৮/৪৭১
২. আউয়াছছুল হিলম: ২/৮৮১
১. আল ইছাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ : ৪/২৫৫।
১. ফায়াদুল মায়াশা : ৩/২৭২।
১. সীরাত ইবনে হিশাম : ২/২৪০।
১. আল ইসাবাহ ফী তাময়ীযিল সাহাবা : ৮/১৮৮।
১. সীরাত ইবনে হিশাম : ৬/২১৯।
২. সহীহ মুসলিম।
১. আল ইসাবাহ : ৮/৮২।
১. সীরাতে ইবনে হিশাম : ১/৬৫৭-৬৫৮।
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 দুগ্ধপান ও শৈশবকাল

📄 দুগ্ধপান ও শৈশবকাল


মহান আল্লাহ নর ও নারীকে একটি অভিন্ন সত্তা থেকে সৃষ্টি করে একে অপরের পরিপূরক করেছেন। তাদের সম্পর্ক প্রতিযোগিতার নয়, সহযোগিতার। ইসলামী আইনে পরিবার ও সমাজ গঠনের পবিত্র মাধ্যম হলো বিবাহব্যবস্থা। বিবাহের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণের মধ্যে রয়েছে মানবজাতির সংরক্ষণ, চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা এবং মনের স্থিরতা ও প্রশান্তি।

বিবাহের বিধান ও শিষ্টাচার:
ক. প্রাথমিক প্রস্তাব: প্রস্তাবকারী পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতিতে নারীকে দেখে নিতে পারেন, যা সম্পর্কের স্থায়িত্বের জন্য ফলপ্রসূ। তবে নির্জনে সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ।
খ. বিবাহচুক্তি ও মোহর: নারীর সম্মতি অনিবার্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর পরিশোধ করা ওয়াজিব। মোহর নারীর একান্ত অধিকার।
গ. অভিভাবকের উপস্থিতি: অভিভাবকের সম্মতি কন্যার সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সহায়ক।
ঘ. প্রচার ও ওলিমা: মসজিদে প্রকাশ্যে বিবাহের ঘোষণা দেওয়া এবং আড়ম্বরহীন ওলিমা করা সুন্নাহ।

বিবাহপূর্ব প্রেম একটি ভুল পথ। এটি নারীর আবেগ নিয়ে প্রতারণা এবং পবিত্র জীবনের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে। এই অনিষ্ট রোধে তাকওয়া, ঘরে প্রবেশে অনুমতি-প্রার্থনা, পরপুরুষের সাথে একান্ত সাক্ষাৎ পরিহার এবং দৃষ্টির হেফাজত অত্যন্ত জরুরি।

হিজাব ও পর্দা:
নারীকে হিজাব অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সুরক্ষিত থাকে। হিজাব শরীয়াহ-সম্মত হতে হলে তা আপাদমস্তক ঢাকনাযুক্ত, ঢিলেঢালা, মোটা কাপড়ের এবং চাকচিক্যহীন হতে হবে। এটি কোনো বন্দিত্ব নয়, বরং আভিজাত্যের প্রতীক। পর্দা করেও নারী শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে, যেমনটি আদি ইসলামের পর্দানশীনরা করেছেন।

দাম্পত্যজীবন:
পরিবার হবে শান্তির নীড়। পুরুষ হবে নারীর দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো, আর নারী হবে পুরুষের জীবনে প্রশান্তিময় উদ্যান। উভয়ই একে অপরের অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দেবে।

টিকাঃ
১. বাইহাকী, সুনানে কুবরা : ৭/৭৮।
১. হাকেম, সহীহুল ইবনুল।
২. সহীহ বুখারী।
১. সহীহ মুসলিম।
১. তিরমিযী।
২. মুসনাদে আহমাদ।
৩. সহীহ বুখারী।
১. আবু দাউদ।
২. আবু দাউদ।
১. সহীহ মুসলিম।
২. হাকেম।
৩. আহমদ, তিরমিযী।
৪. বাইহাক্বী ও শুআবুল ঈমান।
৫. সহীহ বুখারী।
১. সহীহ বুখারী।
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিযী।
২. আবু দাউদ, হাকেম।
১. আবু দাউদ।
২. আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ।
৩. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. সহীহ বুখারী।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 নবী করীম (সা.) - এর সর্ব প্রথম কথা

📄 নবী করীম (সা.) - এর সর্ব প্রথম কথা


ইসলামী আইন একটি মধুর দাম্পত্যজীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে। শ্রেষ্ঠ নারী সে, যার দিকে তাকালে স্বামী আনন্দিত হয় এবং ন্যায়সঙ্গত আদেশ হাসিমুখে পালন করে।

ভালো স্ত্রীর গুণাবলি:
১. উত্তম আনুগত্য: আল্লাহর নাফরমানি ছাড়া ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব।
২. পারিপাট্য ও সৌন্দর্য: পরিচ্ছন্ন থাকা এবং স্বামীর সামনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। নারীর প্রকৃত সৌন্দর্য তার চরিত্রে ও ব্যবহারে।
৩. ভালোবাসা অর্জন: স্বামীর মন জয় করা, ছোট উপহারে কৃতজ্ঞতা জানানো এবং স্বামীর রাগ ভাঙানো।
৪. অল্পেতুষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি: যা আছে তা নিয়েই খুশি থাকা এবং বিলাসিতার পেছনে না ছোটা।
৫. হতাশ না হওয়া: মনোমালিন্য হলে ধৈর্য ধরা এবং অতীত ঝামেলা টেনে না আনা। শয়তান যেন কোনো সুযোগ না পায়।
৬. সবর ও তাওয়াক্কুল: অভাবের সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করা। হযরত হাজেরা আ.-এর ধৈর্য ও বিশ্বাস আমাদের জন্য অনুপম আদর্শ।
৭. সুখে-দুখে পাশে থাকা: হযরত খাদিজা রাযি. যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা আদর্শ স্বরূপ।
৮. কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততা: আমৃত্যু এবং মৃত্যুর পরও স্বামীর স্মৃতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকা। যেমন হযরত উসমানের স্ত্রী নায়েলা তাঁর শাহাদতের পর অন্য কাউকে বিয়ে করেননি।

টিকাঃ
১. আবু দাউদ, নাসাঈ।
১. সহীহ মুসলিম।
২. আহমাদ।
১. সহীহ মুসলিম।
২. তিরমিযী।
১. তাহরাবী।
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
৩. সহীহ বুখারী।
৪. বুখারী।
৫. নাসায়ীকুবরাহী।
১. আহকামুন নিসা লিবনিল জাওযী : ৩১৫-৩১৬।
১. তিরমিযী।
১. জামে সগীর।
১. হযরত খাদিজা রাযি. সম্পর্কে জানতে রাহনুমা প্রকাশনী হতে প্রকাশিত 'গড়ে ওঠো মহীয়সী খাদিজা রাযি.' বইটি পড়া যেতে পারে।
১. সহীহ বুখারী।
১. আল আল্লাম রিফাইয়াতালী : ৭/৩৮৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px