📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 জন্মের পূর্বে প্রকাশিত নবী করীম (সা.) এর বরকত সমূহ

📄 জন্মের পূর্বে প্রকাশিত নবী করীম (সা.) এর বরকত সমূহ


গ্রিক সভ্যতায় প্রথম পর্যায়ে নারী ছিল সতীসাধ্বী, সুরক্ষিত। তার পুরো জীবন ও জগৎ ছিল চার দেয়ালের ভেতর। জনজীবনে ছিল না কোনো অংশগ্রহণ; কিন্তু পরিণতি ছিল হিতে বিপরীত—বড় ভয়াবহ। সে ছিল অবহেলিত, অত্যাচারিত। তাকে ভাবা হতো সমাজের বোঝা, পরিবারের বোঝা, স্বামীর বোঝা। এমনকি, স্বাধীনতা হরণ করে তাকে বানানো হয়েছিল দাসী-বাঁদি। বেচাকেনা চলত অহরহ। সাধ-আহ্লাদ ছিল কল্পনাজগতের কথা। জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে পাওয়া না-পাওয়া ছিল অন্যদের দান-দক্ষিণার ব্যাপার। নারী ছিল পুরুষের শুধুই ভোগের বস্তু। এক সময় গ্রিক সভ্যতার জয়জয়কার শুরু হলো। বাস্তব জীবনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে নারীরা পুরুষের সাথে পাল্লা দিতে শুরু করল। সতীত্ব-চরিত্র যেমন পুরুষের কাছে হয়ে উঠল মূল্যহীন, তেমনই নারীর কাছেও হয়ে পড়ল অর্থহীন। কর্মমুখর জীবনের বাঁকে বাঁকে শুরু হলো নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা। দেখা দিল অনিয়ম-অনাচার, বেহায়াপনা-ব্যভিচার।

রোমক সভ্যতার পরিবারব্যবস্থায় গৃহকর্তাই ছিলেন পরিবারের প্রভু। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে তার অধীন। ছেলেদের তাবৎ সম্পদ তার হস্তগত। মেয়েদের কথাই নেই—কী ঘরে, কী বাইরে; কী নিজের, কী পরের—কোনো কিছুতেই তার হস্তক্ষেপ চলত না। অবশ্য একসময় রোমকরা সজাগ হতে চাইল। তাই 'ন্যায়সঙ্গত' আইনও বানাল। আইন অনুযায়ী নারীকে স্বত্ব প্রদান করল—সে নিজে যা কামাই করবে সব তার, অভিভাবক মারা গেলে সে নিজেকে যে কারও কাছে বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য তারা বিশেষ চুক্তিনামাও অবতারণা করল। নাম দিল—'নারীর ওপর পুরুষের স্বত্বমুক্তি'। নারী এতে স্বাক্ষর করলে বলা হতো—'নারীর স্বত্ব-স্বীকৃতি'।

'মনু'র ধর্মে পিতা, ভাই ও স্বামী থেকে আলাদা স্বয়ংসম্পন্ন কোনো সত্তা নারীর ছিল না। এমনকি, স্বামীর মৃত্যুর পর বেঁচে থাকারই অধিকার ছিল না তার। সহমরণ বা স্বেচ্ছায় স্বামীর চিতায় গমন ছিল দুর্লভ বিধান। মৃত স্বামীর চিতায় জীবন্ত পুড়ে যাওয়া ছাড়া জীবনে যে ময়লা থেকে যেত! শুধু তাই নয়, দেবদেবীকে প্রসন্ন করতে বলি হিসেবে পেশ করা হতো নারীকে। নারীর প্রতি অবজ্ঞা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা মনে করত—কপালের ক্লেশ, প্রলয়, নিদান, নরক, গর্ভ, অগ্নিকাণ্ড নারীর চেয়ে মন্দ কিছু নয়।

ইহুদি ধর্মে নারীর অবস্থান পরিচারিকার মতো। উত্তরাধিকার বলতে কিছু নেই। তাদের কাছে নারী অভিশপ্ত; কেননা, তার কারণেই আদম ধোঁকা খেয়েছিলেন এবং জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। মাসিক সময়ের সময় তারা নারীর সাথে পানাহার বর্জন করত। কাছেও ভিড়তে দিত না তাকে। তাদের বিতৃষ্ণা এতটাই যে, তাদের গ্রন্থে আছে: অর্থ : নারী মৃত্যুসম। আল্লাহর কাছে সেই সে, যে নারী থেকে বাঁচতে পারবে। এইসব লোকের মধ্যে একজন পুরুষ পেয়েছি; কিন্তু ওইসব লোকের পুরো দলের মধ্যে একজন নারীও পাইনি।

খ্রিস্টানরা ধরে নিয়েছিল যত অনিষ্টের মূল নারীই, যত দায় নারীরই। তারা মনে করেছিল, বিবাহ একটি গর্হিত কাজ, একে পরিহার করতে হবে। নারী—ট্রাটোলিয়ারের ভাষ্যমতে—শয়তানের দ্বার, ইবলিসের হাতিয়ার, আল্লাহর বিধানের ক্ষতিসাধনকারী; আল্লাহর প্রকৃতিতে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী। পাদোভা শহরে একটি সেমিনার হয়। আলোচ্য বিষয় ছিল—নারী কি মানুষ না অন্য কিছু? আলোচনা পর্যালোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, নারী সৃষ্টি পুরুষের সেবা-শুশ্রূষার জন্য। সে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; স্বামী ও অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া অর্থসম্পদের হস্তক্ষেপের অধিকার তার নেই।

প্রাক-ইসলামী আরবে নারীর অধিকার বলতে কিছুই ছিল না; উত্তরাধিকার তো দূরের কথা। স্বামীর ওপর তার কোনো জোর কল্পনাও করা যেত না। স্বামী তাকে তালাক দিতে পারত—যখন খুশি, যত খুশি। কন্যাসন্তান জন্ম হলে লজ্জায় মুখ লুকানোর জায়গা পেত না। বিষয়টি এত দূর গড়িয়েছিল যে, তারা অভাব ও কলঙ্কের ভয়ে মেয়েদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলত।

টিকাঃ
১. সুরা বাক্বারাঃ ৮-৯।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 নবী করীম (সা.) এর শুভ জন্ম

📄 নবী করীম (সা.) এর শুভ জন্ম


আরবে নারীকে খাটো করে দেখা হতো। অবলা নারীর অধিকার নিয়ে তামাশা করা হতো। তার সম্মান ও সম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হতো। অবশেষে ইসলামের আবির্ভাব হলো। এলো আলোকোজ্জ্বল ও সমুজ্জ্বল জীবনবিধান। স্থাপিত হলো ন্যায়ের ভিত্তি। নারী পেল সত্যিকারের মর্যাদা, মানবতার স্বাদ, অধিকারের আনন্দ, সমাজে সম্মানজনক দায়িত্বপালনের গ্রহণযোগ্যতা। ইসলাম তাকে প্রদান করল সুমহান মর্যাদার তাজ। তাকে ভূষিত করল সর্বোত্তম সম্মানে। সে নারী হিসেবে পরিবারের বোঝা নয়, জাতির জননী; স্ত্রী হিসেবে পুরুষের বোঝা নয়, সম্মানিতা জীবনসঙ্গিনী; মেয়ে হিসেবে সমাজের বোঝা নয়, অমূল্য সম্পদ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারী তো পুরুষের সহোদর।

১. বেঁচে থাকার অধিকার: জাহেলী আরবে কন্যাসন্তানের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করা হয়েছিল। বন্য-বর্বররা অভাব ও অপবাদের দোহাই দিয়ে শিশুকন্যাদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলত। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিলেন, যাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হয়েছিল, জিজ্ঞেস করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? (সুরা তাক্বীর: ৮-৯)।

২. উত্তরাধিকার ও হস্তক্ষেপ: ইসলাম নারীকে উত্তরাধিকার দান করেছে। সে তার সম্পত্তি কেনা-বেচা করতে পারে, দান-সদকা করতে পারে। এতে তার ইচ্ছাই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।

৩. বিবাহপ্রস্তাব গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যান: নারী তার জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রাখে। তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কারও সাথে তাকে জুড়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুমারী ও বিধবা নারীদের সম্মতির গুরুত্ব দিয়েছেন। একবার হযরত খানসা রাদিয়াল্লাহু আনহা এলে তাঁর অনিচ্ছার বিয়েটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেঙে দিয়েছিলেন।

৪. শিক্ষা অর্জনের অধিকার: জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের অধিকার ইসলাম নারীকে দিয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কারও কোনো কন্যাশিশু থাকে, আর সে তার উত্তম শিক্ষা ও শিষ্টাচারের ব্যবস্থা করে, তার জন্য থাকছে দ্বিগুণ প্রাপ্তি।

৫. স্বামী থেকে বিচ্ছেদ-গ্রহণের অধিকার: সাবিত ইবনে কায়েসের স্ত্রী যখন বিচ্ছেদ চাইলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মোহরকৃত বাগানটি ফেরত দেওয়ার শর্তে বিচ্ছেদ কার্যকর করেন।

৬. রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অধিকার: ইসলাম নারীকে জনপ্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার প্রদান করেছে। সাক্ষ্যপ্রদান নারী এবং পুরুষ উভয়ের ওপরই ওয়াজিব। তবে সমাজ-জীবনে বিপর্যয় এড়াতে এবং পরিবারের সংহতি রক্ষায় নারীপ্রকৃতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চ রাজনৈতিক পদ ধারনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। প্রিয় বোন, ভুলে যাবেন না আপনি খানসা-আসমার উত্তরসূরি। ঈমান ও ইসলামের স্বাভাবিক সীমারেখা অতিক্রম করবেন না।

টিকাঃ
১. আবু দাউদ।
১. সহীহ মুসলিম।
১. সহীহ বুখারী।
২. সহীহ বুখারী।
৩. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. আল মারআতু ওয়াল হুকমুস সিয়াসিয়্যাহ্ ফিল ইসলাম : ৪৫০-৪৫১।
২. রিদালাতুন ইসা হাওয়া : ২/৩।
১. আবু দাউদ ও বাইহাকী।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 নবী করীম (সা.) এর সম্মানিত পিতার ইন্তিকাল

📄 নবী করীম (সা.) এর সম্মানিত পিতার ইন্তিকাল


ইসলামের আবির্ভাবের পর মুসলিম নারীগণ অসংখ্য উত্তম গুণাবলিতে বিশিষ্ট হয়েছিলেন। ধৈর্য ও অবিচলতা ছিল পর্বতপ্রমাণ। উম্মুল মুমিনিন হযরত জাওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন বহুমুখী যোগ্যতার অধিকারিণী—একধারে ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির। এমনকি চিকিৎসাবিদ্যায়ও তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ছিল। আবু মূসা আশআরী রাযি. বলেন, আমাদের কাছে কোনো হাদীস অস্পষ্ট লাগলে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করলে অবশ্যই সমাধান লাভ করতাম।

উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা বিনতে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহা আরবী লিপিশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাবেয়ী নারী উম্মে দারদা সুগরা ছিলেন অনেক বড় আলেম ও ফকীহা। ফাতেমা বিনতে আলাউদ্দিন সমরকান্দী ছিলেন প্রখ্যাত ফকীহা; তাঁর ফতোয়ায় পিতা ও স্বামীর দস্তখত থাকত। হযরত খাওলা বিনতে সা'লাবা রাযি.-এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সূরা মুজাদালাহ নাজিল হয়েছিল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাইয়াতের মজলিসে হযরত হিন্দ বিনতে উতবা নির্ভীকভাবে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর রাযি. যখন মোহরের সীমা বেঁধে দিতে চাইলেন, তখন জনৈকা কুরাইশ নারী কুরআনের আয়াত দিয়ে তা খণ্ডন করেন এবং উমর রাযি. অকপটে নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, একজন নারী ঠিক বুঝেছেন কিন্তু উমর ভুল বুঝেছেন।

জিহাদের ময়দানেও নারীদের অবদান অবিস্মরণীয়। উম্মে আম্মারা মাযিনিয়া রাযি. ওহুদ যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঢাল হয়ে রক্ষা করেছিলেন। সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব রাযি. পরিখার যুদ্ধে এক ইহুদিকে হত্যা করেছিলেন। হযরত উম্মে আতিয়্যা সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে রসদ ও খাবারের জোগান দিয়েছেন। রাফীদা আনসারিয়্যা আহত সৈনিকদের চিকিৎসা করতেন। এমনকি হযরত যায়নাব রাযি. তাঁর স্বামী আবুল আসকে নিরাপত্তার আশ্রয় দিয়েছিলেন, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন করেছিলেন।

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম।
২. হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে জানতে সীরাতে আয়েশা রাযি., সাইয়েদ সুলাইমান নদভী রাহ., রাহনুমা প্রকাশনী বইটি পড়া যেতে পারে।
১. সিয়ার আ’লামিন নুবালা : ২/১৮৭।
২. তিরমিযী।
১. হাকিম।
১. আল বিদায়া ওয়াছছায়ান নিহায়া: ৮/৪৭১
২. আউয়াছছুল হিলম: ২/৮৮১
১. আল ইছাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ : ৪/২৫৫।
১. ফায়াদুল মায়াশা : ৩/২৭২।
১. সীরাত ইবনে হিশাম : ২/২৪০।
১. আল ইসাবাহ ফী তাময়ীযিল সাহাবা : ৮/১৮৮।
১. সীরাত ইবনে হিশাম : ৬/২১৯।
২. সহীহ মুসলিম।
১. আল ইসাবাহ : ৮/৮২।
১. সীরাতে ইবনে হিশাম : ১/৬৫৭-৬৫৮।
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

📘 প্রশ্নোত্তরে সীরাত 📄 দুগ্ধপান ও শৈশবকাল

📄 দুগ্ধপান ও শৈশবকাল


মহান আল্লাহ নর ও নারীকে একটি অভিন্ন সত্তা থেকে সৃষ্টি করে একে অপরের পরিপূরক করেছেন। তাদের সম্পর্ক প্রতিযোগিতার নয়, সহযোগিতার। ইসলামী আইনে পরিবার ও সমাজ গঠনের পবিত্র মাধ্যম হলো বিবাহব্যবস্থা। বিবাহের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণের মধ্যে রয়েছে মানবজাতির সংরক্ষণ, চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা এবং মনের স্থিরতা ও প্রশান্তি।

বিবাহের বিধান ও শিষ্টাচার:
ক. প্রাথমিক প্রস্তাব: প্রস্তাবকারী পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতিতে নারীকে দেখে নিতে পারেন, যা সম্পর্কের স্থায়িত্বের জন্য ফলপ্রসূ। তবে নির্জনে সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ।
খ. বিবাহচুক্তি ও মোহর: নারীর সম্মতি অনিবার্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর পরিশোধ করা ওয়াজিব। মোহর নারীর একান্ত অধিকার।
গ. অভিভাবকের উপস্থিতি: অভিভাবকের সম্মতি কন্যার সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সহায়ক।
ঘ. প্রচার ও ওলিমা: মসজিদে প্রকাশ্যে বিবাহের ঘোষণা দেওয়া এবং আড়ম্বরহীন ওলিমা করা সুন্নাহ।

বিবাহপূর্ব প্রেম একটি ভুল পথ। এটি নারীর আবেগ নিয়ে প্রতারণা এবং পবিত্র জীবনের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে। এই অনিষ্ট রোধে তাকওয়া, ঘরে প্রবেশে অনুমতি-প্রার্থনা, পরপুরুষের সাথে একান্ত সাক্ষাৎ পরিহার এবং দৃষ্টির হেফাজত অত্যন্ত জরুরি।

হিজাব ও পর্দা:
নারীকে হিজাব অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সুরক্ষিত থাকে। হিজাব শরীয়াহ-সম্মত হতে হলে তা আপাদমস্তক ঢাকনাযুক্ত, ঢিলেঢালা, মোটা কাপড়ের এবং চাকচিক্যহীন হতে হবে। এটি কোনো বন্দিত্ব নয়, বরং আভিজাত্যের প্রতীক। পর্দা করেও নারী শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে, যেমনটি আদি ইসলামের পর্দানশীনরা করেছেন।

দাম্পত্যজীবন:
পরিবার হবে শান্তির নীড়। পুরুষ হবে নারীর দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো, আর নারী হবে পুরুষের জীবনে প্রশান্তিময় উদ্যান। উভয়ই একে অপরের অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দেবে।

টিকাঃ
১. বাইহাকী, সুনানে কুবরা : ৭/৭৮।
১. হাকেম, সহীহুল ইবনুল।
২. সহীহ বুখারী।
১. সহীহ মুসলিম।
১. তিরমিযী।
২. মুসনাদে আহমাদ।
৩. সহীহ বুখারী।
১. আবু দাউদ।
২. আবু দাউদ।
১. সহীহ মুসলিম।
২. হাকেম।
৩. আহমদ, তিরমিযী।
৪. বাইহাক্বী ও শুআবুল ঈমান।
৫. সহীহ বুখারী।
১. সহীহ বুখারী।
১. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিযী।
২. আবু দাউদ, হাকেম।
১. আবু দাউদ।
২. আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ।
৩. সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
১. সহীহ বুখারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px