📄 হিরোশিমাতে আর্তনাদ
আগস্ট ৬, ১৯৪৫, জাপানের হিরোশিমায় আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান ঘোষণা করেন, হিরোশিমায় বোমা হামলা করা হয়েছে। হিরোশিমাকে তিনি একটি মিলিটারি বেইস হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর তিন দিন পর নাগাসাকিতে আরও একটি পারমাণবিক বোমা হামলা করা হয়। পরপর এই দুটি বোমা হামলায় ১৮০,০০০ জাপানি হত্যার শিকার হয়। এরা ছাড়াও অ্যাটমিক রেডিয়েশন পয়জনে আরও হাজার হাজার নাগরিক ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। তবে এ তথ্যকে মার্কিন সেনারা জাপানের প্রোপাগান্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
বোমা হামলার কিছুকাল পরেই এক Gallup পোলে দেখা যায়, ৮৫% অ্যামেরিকান জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলা সমর্থন করেন। এর বহু বছর পর, ১৯৯১ সালের একটি জরিপের¹ ফলাফলে দেখা যায়, ৬৩% অ্যামেরিকান তখনো পারমাণবিক হামলাকে সমর্থন করেন। এর চেয়েও বিস্ময়কর তথ্য হলো, খোদ ২৯% জাপানিও বোমা হামলাকে বৈধ বলে মনে করেন!² তবে ২০১৫ সালে জাপানিদের বৈধতা দানের হার ১৪%-এ নেমে এসেছে। জাপানে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পক্ষে অ্যামেরিকানদের অধিকাংশ ব্যক্তির মত প্রকাশ করার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি কারণ হয়তো-বা প্রচলিত একটি মিথের প্রভাব। এই বিশ্বাস যে, ট্রুম্যান-এর হাতে হয়তো শুধু দুটি অপশন ছিল, একদিকে পারমাণবিক বোমা, অন্যদিকে জাপানে চূড়ান্ত হামলার নির্দেশ। অনেক ইতিহাসবিদও এই মতবাদ প্রচার করেন। প্রকৃতপক্ষে, জনপ্রিয় এই মতামতটি আসলে একটি মিথ ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ-
১. পারমাণবিক হামলা এবং চূড়ান্ত আক্রমণ ছাড়াও অন্য পথ খোলা ছিল। ট্রুম্যান ও তার উপদেষ্টামণ্ডলী বিশ্বাস করত যে, জাপান এতটাই দুর্বল যে, চূড়ান্ত আক্রমণ আবশ্যিক ছিল না।
২. পরিস্থিতি যদি খুব বাজেও হয়ে যেত, তবুও ১৯৪৫-এর গ্রীষ্মে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা যে পরিমাণ অ্যামেরিকান সৈন্যের হতাহত হবার আশঙ্কা করেছিল, সেটি পরবর্তী সময় ট্রুম্যান আর তার উপদেষ্টাদের দাবি করা লক্ষ লক্ষ সৈন্য অপেক্ষা অনেক কম।
এপ্রিল ১২, ১৯৪৫, প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের আকস্মিক মৃত্যুর দিনই ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তখন পর্যন্ত তিনি পারমাণবিক বোমা তৈরির ম্যানহাটন প্রজেক্ট³ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানতেন না। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন রুজভেল্ট তাকে এ বিষয়ে তেমন কিছু জানাননি। ট্রুম্যান যখন ন্যাশনাল ডিফেন্স প্রোগ্রাম তদন্ত করার লক্ষ্যে গঠিত স্পেশাল কমিটিতে চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তিনি জানতে পারেন, নতুন একটি মারণাস্ত্র আবিষ্কার করতে অত্যন্ত গোপন এক প্রকল্প চলমান। কিন্তু কোনো বিশদ বর্ণনা তাকে দেয়া হয়নি। প্রেসিডেন্ট হবার পর সেক্রেটারি অব ওয়ার স্টিমসন সবচেয়ে জরুরি একটি ব্যাপারে তাকে বুঝিয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করলেন। অতঃপর, তৎকালীন সিনেটর বাইন্স⁴ প্রেসিডেন্টকে এ ব্যাপারে ব্রিফ করলেন। তিনি জানালেন, প্রকৃতপক্ষে একটি পারমাণবিক বোমা বানানোর কাজ চলছে। এটা এতটাই শক্তিশালী হবে যে, সম্ভবত একটা আস্ত শহরকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা যাবে।
কিছুদিন পর স্টিমসনের উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টাদের নিয়ে গঠিত একটি স্পেশাল কমিটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান অনুমোদন প্রদান করেন। যে কমিটির কাজ হবে নতুন এই মারণাস্ত্রের প্রভাব পর্যালোচনা করা। মে ০৯ থেকে জুন ০১, এই সময়ের মধ্যে আয়োজিত পাঁচটি বৈঠকে এই পরিষদের সদস্যরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু, জাপানে এই বোমা ব্যবহার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে তারা কোনো আলোচনাই করেননি। কমিটির সদস্যদের হাতে খুবই সীমিত সময় অবশিষ্ট ছিল। তারা ঐকমত্যে পৌঁছালেন যে, এটমিক বোমা কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই ফেলা হবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কোনেন্ট⁵ পরামর্শ প্রদান করলেন, সবচেয়ে ভালো লক্ষ্যবস্তু হবে কোনো যুদ্ধের উৎপাদনশীল এলাকা, যেখানে প্রচুর কর্মী রয়েছে এবং যার চারপাশ যুদ্ধকর্মীদের বাড়ি দিয়ে ঘেরা। স্টিমসন এই পরামর্শটি গ্রহণ করলেন। অর্থাৎ তারা প্রত্যেকেই এ বিষয়ে জ্ঞাত ছিল যে, প্রচুর বেসামরিক নারী ও শিশুরাও এ হামলার শিকার হবে।
তবে, কমিটিটি সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই বোমার প্রভাব বিশ্লেষণে। এই আলোচনার ফোকাস ছিল—সোভিয়েতের সাথে অ্যামেরিকার সম্পর্কের স্বরূপ নির্ধারণ। অ্যামেরিকা কি সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক সহজ করবে, নাকি বোমাকে হুমকি হিসেবে ব্যবহার করে অ্যামেরিকার স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যাবে। কমিটিতে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি বাইন্স এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বলেন, 'সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত কাজ হবে—আমরা যেন অগ্রগামী থাকি, সেটি নিশ্চিত করতে রিসার্চ ও প্রোডাকশনের কাজকে যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে নিয়ে যাওয়া' এবং স্ট্যালিনকে এ বিষয়ে কিছু না জানানো। এটমিক বোমার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক স্বার্থ আদায় করে নেয়ার ব্যাপারে ট্রুম্যান বাইন্সের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন।
যুদ্ধের সময়টাতে অ্যামেরিকানরা জাপানিদেরকে বেশি বর্বর হিসেবে জানত। মার্কিন জনগণ জাপানিদের থেকে নিচু প্রজাতি হিসেবে দেখত; তারা তাদেরকে ইঁদুর, সরীসৃপ কিংবা বনমানুষ হিসেবে চিত্রায়িত করত। একই অবস্থা ছিল জাপানেও। জাপানিরাও অ্যামেরিকানদের সম্পর্কে একই প্রকার ধারণা পোষণ করত। যাই হোক, তীব্র রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে দ্বীপাঞ্চলের যুদ্ধ ক্যাম্পেইন-এর⁶ শেষ দিকে মার্কিন সফলতাই জাপান সাম্রাজ্যের অন্ধকার ভবিষ্যতের সম্ভাব্যতা পূর্ণ করে দেয়। পরবর্তীকালে অ্যামেরিকান সৈন্যবাহিনী জাপানি দ্বীপগুলোতে সিরিজ বোমা হামলার ক্যাম্পেইন শুরু করে, যে মিশনের দায়িত্বে ছিলেন হ্যান্সেল। তিনি চেয়েছিলেন আবাসিক এলাকা এড়িয়ে জাপানি শিল্প কারখানাগুলো লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করতে। কিন্তু, এখানে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল, B-২৯ বিমানগুলো নিরাপদে হামলা পরিচালনা করতে ৩০,০০০ ফিট উচ্চতায় উড্ডীন অবস্থায় টার্গেটকে কেন্দ্র করে বোমা ফেলত। সেই সঙ্গে এত উচ্চতায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বোমাগুলোর মাত্র ১০% কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। ১৯৪৫ এর প্রথম দিকে কমান্ডিং ডিরেক্টর অব আর্মি এয়ার ফোর্স, হেনরি আর্নল্ড জেনারেল লুমেকে হ্যান্সেলের স্থলাভিষিক্ত করেন। পরবর্তীকালে আর্নল্ড জাপানের শহরগুলোতে বোম্বিং-এর জন্য চাপ বৃদ্ধি করায় এটি পরিষ্কার হয় যে, বোমা হামলা কেবল মিলিটারি টার্গেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হ্যান্সেল, আর্নল্ডের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। কিন্তু ঐ সময়ে লুমে নীতি-নৈতিকতার মারপ্যাঁচের হিসেব না কষে বরং সবচেয়ে কার্যকরী উপায়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের উপায় খুঁজছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি মন্তব্য করেছিলেন, 'নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক বলতে কিছু নেই'।
লুমে তার নয়া কৌশলে নির্ধারণ করলেন, রাতের আঁধারে বি-২৯ যুদ্ধ বিমানগুলো নিম্ন উচ্চতা দিয়ে টোকিওতে আক্রমণ করবে। লুমের লক্ষ্য ছিল—টোকিওতে এমন নির্মম আঘাত করা যেন এটি 'জ্বলে ছারখার হয়ে মানচিত্র থেকে মুছে যায়'। মার্চ ০৯, অ্যামেরিকার বোমা হামলায় এত অধিক সংখ্যক মানুষ হত্যার শিকার হয় যে, নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া B-২৯ এর পাইলটরা মাংস পোড়ার দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মার্চ ০৯-১০, এই দুই দিনের আক্রমণে ৮৭,০০০ অপেক্ষা বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়। টোকিও সহ অন্যান্য শহরে বোমা হামলা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে লাগল। কিন্তু, অ্যামেরিকান এয়ার ফোর্স তাদের পাবলিক বিবৃতিতে পূর্বের অবস্থানেই অটল থাকে আর বিবৃতি দেয়, তারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলার পলিসি গ্রহণ করেনি।
এপ্রিল ১৯৪৫, এডমিরাল সুজুকি⁷ জাপানের প্রিমিয়ার পদে অধিষ্ঠিত হন। নিযুক্ত হয়ে তার সর্বপ্রথম গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল—চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সাকমিজু⁸-কে জাপানের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করতে বলা। সাকমিজু খোলাখুলি আর সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, পরিস্থিতির উন্নতি হবার কিংবা জাপানের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কোনো আশা নেই। যুদ্ধ চালিয়ে যাবার বিষয়ে জাপানের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর দ্যা ডিরেকশন অব দ্যা ওয়ার-এর ছয় সদস্যের মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও জাপানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জাপানের সম্রাটের মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে সকলেই একমত ছিলেন। জুনের শেষ দিকে জাপানের সম্রাট সুপ্রিম কাউন্সিলকে তলব করেন এবং তাদের জানান, মস্কোকে শান্তিচুক্তি করার ব্যাপারে তার ইচ্ছার কথা যেন জানানো হয়। সম্রাটের ব্যক্তিগত সিল-মোহরের রক্ষক কিডোর এই পরামর্শ গ্রহণে তিনি প্রস্তুত। ততদিনে জাপান, অ্যামেরিকা উভয় রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দের কাছেই এটি পরিষ্কার যে, জাপানের নিশ্চিত হারই হবে যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল।
জুন ১৮, ১৯৪৫, জাপানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার উপায় ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করতে হোয়াইট হাউসে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফদের বৈঠক হয়। ট্রুম্যান ও তার প্রধান লেফটেন্যান্টরা অনুধাবন করেন, জাপান পতনের অতি নিকটবর্তী। কিন্তু তখনো তারা জাপানকে দ্রুত আত্মসমর্পণে বাধ্য করার উপায় খুঁজছিলেন। ঐদিনের বৈঠকে চিফ অব স্টাফরা জানান যে, জাপানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কিউশু দখল করলেই জাপান হাল ছেড়ে দিবে। কিন্তু, সেটি দখল করতে গিয়ে অ্যামেরিকান বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা কেমন হতে পারে? তারা নির্ধারিত সংখ্যা উল্লেখ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ধারণা করেন যে, আক্রমণের প্রথম ৩০ দিনের হতাহতের সংখ্যা এর পূর্বে লুজন দ্বীপ দখলের সময়কার হতাহতের সংখ্যা অপেক্ষা বেশি হবে না। অর্থাৎ, কিউশুতে আক্রমণ করলে প্রথম মাসে সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা ৩১,০০০ জন। এটিই একমাত্র হিসেব, যা ট্রুম্যান যুদ্ধ সমাপ্ত হবার পূর্বে শুনেছিলেন। তাই, যুদ্ধের পর ট্রুম্যান ও তার উপদেষ্টামণ্ডলী যুদ্ধের পর যেমনটি দাবি করেন: যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রেসিডেন্ট ইনফরমেশন পেয়েছিলেন, জাপানে চূড়ান্ত আক্রমণ করলে ৫০০,০০০ থেকে ১ মিলিয়ন হতাহত বা নিহত হবে। তার সেই দাবির কোনো আর্কাইভ নেই, কোনো প্রাইমারি এভিডেন্স বা প্রমাণ নেই।
জাপানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত শিথিল করার ধারণা ১৩ জুলাই শক্তিশালী সমর্থন পায়। ঐ সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূতকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোগোর দেয়া একটি কূটনৈতিক বার্তার পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয় অ্যামেরিকা। ঐ বার্তাটির মূল বক্তব্য ছিল—যুদ্ধ জাপানের নাগরিকদের জীবনে শুধু ধ্বংস আর মন্দভাগ্যই বয়ে আনছে। মহান সম্রাট আন্তরিকভাবে কামনা করেন যে, এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটুক। টোগোর মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একমাত্র বাধা বিনাশর্তে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তে অ্যামেরিকার অটল থাকা।
যুদ্ধ শেষ হবার পর, ১৯৪৬ সালের জুলাইতে ইউনাইটেড স্টেটস স্ট্রাটেজিক বম্বিং সার্ভে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, (জাপানের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ 'নিশ্চিতভাবে ১৯৪৫ শেষ হবার আগেই সমাপ্ত হতো। খুব সম্ভবত ১ নভেম্বর ১৯৪৫ এর আগেই... যদিও রাশিয়া পেসিফিক ওয়ার-এ যোগদান না করত, যদিও বোমা ব্যবহৃত না হতো, এমনকি যদিও কোনো (চূড়ান্ত) আক্রমণ করার পরিকল্পনাও করা না হতো।' কিন্তু ১৯৪৫ এ যুদ্ধের শেষ দিকের দিনগুলোতে ট্রুম্যান প্রশাসন বোমা ব্যবহার করার পথ পরিত্যাগ করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল না, বরং তারা ব্যস্ত ছিল দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্ত করার পথ আবিষ্কারে। হিরোশিমার তৎকালীন জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪০,০০০। এটি ছিল জাপানের একটি আঞ্চলিক হেডকোয়ার্টার; কিন্তু এটি কোনো গুরুত্ব বহনকারী মিলিটারি কেন্দ্রও ছিল না। নতুবা B-২৯ বম্বিং ক্যাম্পেইনের লিস্টে হিরোশিমার নামও থাকত। শহরটিকে B-২৯ Raid-এর লিস্ট থেকে আলাদা রাখা হয়, যেন পারমাণবিক বোমার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার চূড়ান্ত নাটকীয় প্রদর্শনী সম্ভব হয়। অ্যামেরিকা খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাচ্ছিল কারণ, তারা চাচ্ছিল সোভিয়েত সৈন্যদের চীন থেকে এবং সোভিয়েত অফিশিয়াল কর্মকর্তাদের জাপান থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে। বার্নস্টেইন¹⁰-এর ভাষায়, পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে এই সবগুলো পরিকল্পনার বাস্তবায়নই হবে অ্যামেরিকার প্রধান উদ্দেশ্যের সঙ্গে 'বোনাস'।
আগস্ট ৬, ১৯৪৫। কর্নেল টিবেটস¹¹ তার মায়ের নামে নাম রাখা এনোলা গে¹² নামক বি-২৯ প্লেনে করে পারমাণবিক বোমা লিটল বয় নিয়ে টিনিয়ান দ্বীপ থেকে হিরোশিমার দিকে রওনা হন। আবহাওয়া ছিল পরিষ্কার, ইও জিমা দ্বীপ থেকে তার সঙ্গী হয় আরও দুটি বি-২৯, যেগুলোর পাইলট ও ক্রু'রা উদ্দেশ্য ছিল, তারা বোমা বিস্ফোরণের ছবি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবে। বিমানগুলো যখন হিরোশিমার আকাশে পৌঁছল, মাত্র তিনটি প্লেনের আগমনের ফলে হিরোশিমায় কোনো ওয়ার্নিং সাইরেন বাজানো হয়নি। নগরের বাসিন্দারাও সেদিন ভয়ে নিরাপদ স্থানে লুকানোর কোনো কারণ দেখতে পায়নি। সকাল ০৮:১৫। এনোলা গে তার গচ্ছিত লিটল বয়কে ধ্বংসলীলা চালাতে অবমুক্ত করে দেয়। নগরের ভূমি থেকে ১৯০০ ফিট উচ্চতায় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে হিরোশিমা উদ্ভাসিত হয় এক তীক্ষ্ণ আলোর ঝলকানিতে; আর তারপর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এক প্রচণ্ড দমকা হাওয়া; কান স্তব্ধ করে দেয়া বিক্ষুব্ধ গর্জন; সেই সঙ্গে দেয়াল ভাঙার বিকট সব শব্দ। বোমা বিস্ফোরণের স্পটের অর্ধ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে যা কিছু ছিল, সবকিছু আক্ষরিক অর্থেই তাৎক্ষণিক নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই সীমানার ভিতরে থাকা প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যায় মুহূর্তের ব্যবধানে। অর্ধমাইল ব্যাসার্ধের পর থেকে ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা ক্রমশ হ্রাস পায়। বিস্ফোরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে আসে অদৃশ্য—এবং শুরুতে অনুপলব্ধ—গামা রেডিয়েশন¹³ এবং নিউট্রন; যারা তখনো আক্রান্ত হননি তাদের অনেকের দেহে এগুলো প্রবেশ করে। আকাশে ধুলো আর ধোঁয়া জমে সৃষ্টি হয় বিষণ্ণ কালো মেঘ, যা দেড় ঘণ্টা যাবৎ বর্ষণ করে ধূসর কালো বৃষ্টি। হিরোশিমা প্লাবিত হয় তেজস্ক্রিতায়।
বিস্ফোরণ আর রেডিয়েশন হিটের ভুক্তভোগী যারা ছাই হওয়ার হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যায়, তাদের অধিকাংশ-ই আলোর তীব্র ঝলকানিতে দৃষ্টি শক্তি হারায়, আঘাতের তীব্রতায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে, প্রচণ্ড উত্তাপে ঝলসে যায়, শরীর জুড়ে ফোস্কা পড়ে। উড়ন্ত কাচের আঘাতে তাদের দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অধিকাংশের গায়ের জামা তীব্র উত্তাপে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, কিন্তু পুনরায় গায়ে জামা দেবার শক্তি তাদের ছিল না, সেই অবস্থাতেই তারা সাহায্যের আশায় উঠবার চেষ্টা করতে থাকে। যাদের তখনো নড়ার শক্তি অবশিষ্ট ছিল, তারা ধ্বংসস্তূপে ধূলাবালি আর ধোঁয়ার সাগরে হোঁচট খেতে খেতে ইতস্তত এদিক সেদিক ভূতুড়ে গতিতে এগুবার চেষ্টা করছিল। কিছু মানুষের শরীর থেকে চামড়া ঝুলে ঝুলে পড়ছিল। চারিদিকে তখন মৃতদেহের খণ্ডিত অংশ ইতস্তত ছড়ানো ছিটানো। বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবানরাও এতটাই দুর্বল ছিল যে, জখম আর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে পরবর্তীকালে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করে। অনেকেই মৃত্যুবরণ করে ক্যান্সার ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে।
হিরোশিমার বাসিন্দারা ৬ আগস্ট সকালের যে ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি মনে রেখেছিল, সেটি হচ্ছে—স্তব্ধতা। ২০ মাইল দূরে Island Sea-তে থাকা এক মাঝি বলেন, তিনি সেখান থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। কিন্তু হিরোশিমার গুটিকয়েক বাসিন্দাই কেবল কান স্তব্ধ করে দেয়া সেই শব্দ শুনতে পেয়েছিল। বোমা বিস্ফোরণের আলোক ঝলকানি, দেহ পুড়িয়ে দেয়া প্রচণ্ড উত্তাপ—এ সবের পর হিরোশিমার বুকে নেমে আসে এক প্রগাঢ় নীরবতা। যারা নিহত হয়, তারা নিঃশব্দে দেহ ত্যাগ করে। আহতরা ছিল নিশ্চুপ, কেউ কান্না করা তো দূর—একটু কাতর শব্দও করেনি। বাচ্চারাও স্তব্ধ হয়ে যায়, হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তিই কেবল কথা বলতে সক্ষম হয়েছিল। পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো দু'বাহু ঊর্ধ্বে উত্তোলিত করে রাখছিল, যেন দেহের সঙ্গে বাহুর ঘর্ষণে উৎপন্ন তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অনেক আহত ব্যক্তি যন্ত্রণার উপশম করার আশায় (Ota) নদীর তীরে যায়। তারা মৃতদেহের সাথে জলে ভাসতে ভাসতে স্রোতের টানে এগিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তীকালে নদীর জলেই তাদের সলিল সমাধি হয়। তেজস্ক্রিয়তার উত্তাপে দগ্ধ-আহত ব্যক্তিদের মুখ, হাত পুড়ে ফুলে যায়, শরীরের ত্বক পাতলা খোসার মতো আলগা হয়ে ঝুলতে থাকে, ঠিক যেন ময়লা ন্যাকড়া। তারা দু হাত উত্তোলিত করে শব্দহীন যন্ত্রণা নিয়ে কাকতাড়ুয়ার মতো এমনভাবে Ota নদীতে গিয়ে পড়ছিল, যেন সবাই কোনো এক অদ্ভুত অলস প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সেই দুঃস্বপ্নের দিনের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক মুদি দোকানদার বলেন, 'মানুষের ত্বক পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিল... তাদের কোনো চুল ছিল না, সব পুড়ে যায়।' প্রথম দেখাতে তিনি আহতদের সামনের দিক আর পিছনের দিকের পার্থক্য করতে পারছিলেননা। তাদের হাত, মুখ, দেহের চামড়া ঝুলছিল, তার ভাষায়—ঠিক যেন চলন্ত কোনো প্রেতাত্মা। তারা এক বিশেষ গতিতে হাঁটছিল—খুব ধীরে ধীরে।
আহত ব্যক্তিদের যন্ত্রণা বৃদ্ধি করতে হিরোশিমায় অবস্থিত ৪৫টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র তিনটি হাসপাতাল-ই সেবা চালিয়ে যাওয়ার মতো অক্ষত ছিল। বাকি সবগুলো ধুলোয় মিশে যায়। ৯০% ডাক্তার ও নার্স আহত-নিহত হন। যেসব নাগরিক সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছিলেন, তাদের সেখানেই ফেলে রাখা হয় মৃত্যুর অপেক্ষায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন হিরোশিমায় বোমা হামলার সংবাদ পান, তখন তিনি সাগরের বুকে অবস্থান করছিলেন। USS Augusta-তে অবস্থানরত ট্রুম্যান হিরোশিমায় 'সফলতা'র ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট হাতে পান। বিজয় উল্লাসে গর্বিত ট্রুম্যান সাথে থাকা একদল নাবিকদেরকে এই ঘটনার ব্যাপারে মন্তব্য করেন, 'এটাই ইতিহাসের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা'। এ ঘটনাটি পরবর্তীকালে তিনি তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন।
৯ আগস্ট অপর একটি B-২৯ তিনিয়ান দ্বীপ থেকে ফ্যাট-ম্যান নামক প্লুটোনিয়াম বোমা নিয়ে Kokura-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে বিমানটির পাইলট Kokura যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলে নাগাসাকিতে রওনা হন। সেখানে একটি স্টেডিয়ামকে আক্রমণের কেন্দ্র হিসেবে ফোকাস করে বোমাটি অবমুক্ত করা হয়। তিন দিন পূর্বে হিরোশিমাতে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড মঞ্চায়িত হয়েছিল, নাগাসাকিতেও পুনরায় সেই একই 'মৃত্যুময়' দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো। আক্রমণের দিন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নাগাসাকিতে প্রায় সত্তর হাজার লোক নিহত হয়।¹⁵ আগস্ট এর ৯ তারিখ সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর আগের দিন, ৮ আগস্ট ট্রুম্যান, Potsdam থেকে আসার পর স্টিমসন তার সঙ্গে দেখা করেন। প্রেসিডেন্টকে দেয়া তার ডকুমেন্টগুলোর একটিতে বোমার আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণে উঠে আসা তথ্য ছিল। ঐ রিপোর্ট অনুযায়ী, হিরোশিমাতে কমপক্ষে এক লাখ ব্যক্তি নিহত হয়।
পারমাণবিক বোমা হামলার ব্যাপারে অ্যামেরিকার নেতৃবৃন্দই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই হামলার ব্যাপারটা কিভাবে গ্রহণ করেছিল? আগস্ট ২৬, ১৯৪৫, এক গ্যালপ পোলে-এ দেখা যায়, ৮৫% জনগণ পারমাণবিক হামলাকে অনুমোদন করে। মাত্র ১০% এই হামলার বিরোধিতা করে। ট্রুম্যান তার স্মৃতিকথায় (১৯৫৫) দাবি করেন যে, সেক্রেটারি অব স্টেট মার্শাল তাকে জানিয়েছিল, 'শত্রুকে নিজ ভূমিতে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে অর্ধ-মিলিয়ন অ্যামেরিকান নাগরিকের প্রাণ বিসর্জনের ঘটনা ঘটবার সম্ভাবনা রয়েছে।' ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বলেন, এই বোমা ব্যবহার করে তিনি ২৫০,০০০ অ্যামেরিকান নাগরিকের জীবন বাঁচিয়েছেন, পরবর্তীকালে দাবি করলেন সিকি মিলিয়ন (২৫০,০০০) অ্যামেরিকান ও সমান সংখ্যক জাপানি তরুণ (১৯৪৮), সম্ভাব্য অর্ধ-মিলিয়ন হতাহত (১৯৪৯), মিলিয়ন (১৯৫৯), ১২৫,০০০ অ্যামেরিকান ও সমান সংখ্যক জাপানি নওজোয়ান (১৯৬৩)। অর্থাৎ, ট্রুম্যান কখনোই একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার ওপর স্থির হতে সক্ষম হননি। কারণ, তিনি কখনো এ ধরনের কোনো বার্তাই পাননি।¹⁶
অবশেষে জাপানের বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এক ক্লান্তিকর দীর্ঘ সর্বনাশা যুদ্ধের অফিশিয়াল সমাপ্তি ঘোষিত হয়। জাপান পরিণত হয় আধুনিক মার্কিন উপনিবেশ রাষ্ট্রে। যুদ্ধের বছরগুলো পেরিয়ে আসা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র অ্যামেরিকাই পূর্বাপেক্ষা ধনী আর শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়। দেখা গেল, যুদ্ধে শেষে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ স্বর্ণ অ্যামেরিকার কাছে মজুদ হয়েছে; বিশ্বের অর্ধেক ম্যানুফেকচারিং প্রোডাক্ট তারা উৎপাদন করছে। তেলের খনিসমূহ, শিপিং, ইলেক্ট্রনিক ইন্ডাস্ট্রি তাদের নিয়ন্ত্রণে। সর্ববৃহৎ মিলিটারি ফোর্স, এয়ারফোর্স তাদের নিয়ন্ত্রণে; আর বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক বোমার প্রযুক্তির অধিকারী অ্যামেরিকা। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, আইএমএফ আর ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাহায্যে অ্যামেরিকা নিজেদেরকে 'পৃথিবীর ব্যাংক' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যেখানে সবাই অর্থের ভালোমন্দের ব্যাপারে তাদের ওপর নির্ভরশীল হবে।
অ্যামেরিকার নাগরিকরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রোপাগান্ডা ভার্সনটিকেই মনে রাখতে বেশি পছন্দ করেন। তারা এই যুদ্ধকে গণতন্ত্রের জন্য, দাসত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ হিসেবে মনে রাখেন, যে যুদ্ধে নিরপরাধ মানুষেরা নিজেদের নির্মম শত্রুর হাত থেকে রক্ষার্থে লড়েছেন; যে যুদ্ধ তাদেরকে দিয়েছে পূর্বাপেক্ষা উন্নত একটি জীবন। কিন্তু তারা ভুলে যায়, এই যুদ্ধে তারা আফ্রিকান অ্যামেরিকানদের অনুরোধ করেছে স্বাধীনতার জন্য লড়তে—যে স্বাধীনতা অ্যামেরিকার মাটিতে খোদ আফ্রিকান অ্যামেরিকানদের নিজেদেরই ছিল না। যুদ্ধের পর স্বাধীনতার ফেরিওয়ালা সেজে যে অ্যামেরিকা দেশের পর দেশে নিজেদের স্বার্থে শাসক পরিবর্তন করা শুরু করে, সে অ্যামেরিকা তাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করেছিল বেলজিয়ামের দখলকৃত উপনিবেশ কঙ্গো থেকে। পশ্চিমা অসভ্যতার কী এক নির্মম পরিহাস! এটি ছিল এমন এক যুদ্ধ, যেখানে অ্যামেরিকা হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে একটি মাত্র বোমার আঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের উড়িয়ে দিয়েছিল কপূরের মতো। অবশেষে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটলেও শেষ হলো না বিশ্বের মানুষদের পরাধীনতা; বিশ্বব্যাপী 'স্বাধীনতা'র নামে নিজেদের স্বার্থ আদায়ের এক নতুন লড়াই শুরু করল নব্য সৃষ্ট পুঁজিবাদী, সুদি মহাজন আধুনিক সাম্রাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র।
টিকাঃ
১. Detroit Free Press Survey
২. আমাদের দেশেও অনেকেই মনে করেন, ব্রিটিশরা এসে আমাদের 'সভ্য' বানিয়েছে। ঔপনিবেশিক শিক্ষার প্রোডাক্ট সব দেশেই বিদ্যমান।
৩. Manhattan Project
৪. James F. Byrnes
৫. James B. Conant
৬. জাপানী দ্বীপগুলোতে যুদ্ধে
৭. Baron Kantaro Suzuki
৮. Hisatsune Sakomizu
৯. Nyushu (Kyushu)
১০. Barton Bernstein
১১. Colonel Paul W. Tibbets
১২. Enola Gay
১৩. Gama radiation
১৪. Ground Zero
১৫. according to conservative estimation
১৬. ট্রুম্যান কখনোই একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার ওপর স্থির হতে সক্ষম হননি। কারণ, তিনি কখনো এ ধরনের কোনো বার্তাই পাননি।