📘 প্রোপাগান্ডা 📄 আম আমেরিকায় ফ্ল্যাক : ইসরায়েলি লবিং

📄 আম আমেরিকায় ফ্ল্যাক : ইসরায়েলি লবিং


২০০৯ এর মার্চ মাসে ব্রিটিশ এমপি জর্জ গ্যালয়ে কানাডাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হন। তার অপরাধ—ফিলিস্তিনে হামাসের সমর্থন এবং আফগানিস্তানে কানাডিয়ান সৈন্যদল পাঠানোর বিরোধিতা করা (Summers, 2009)। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গ্যালয়ে বলেন, বিচারকের এই সিদ্ধান্ত বাইরের লবিং ও রাজনৈতিক প্রভাবের ফল (Wallace & MacCharles, 2009)। গ্যালয়ে এখানে মূলত প্রো-ইসরায়েলি লবি-এর কানাডিয়ান একটি সংস্করণকে ইঙ্গিত করে কথাটি বলেন। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অত্যাচারের সংবাদ প্রকাশে এই লবি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁধা।

প্রো-ইসরায়েলি লবি বলতে আসলে কী বোঝায়? মূলত, এর দ্বারা সেসব সংগঠন ও ব্যক্তিদের নির্দেশ করা হয়, যারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন বৈদেশিক নীতিকে ইসরায়েল-বান্ধব হিসেবে পরিচালিত করতে কাজ করে থাকে। এই লবি কোনো কেন্দ্রীয় একক নেতৃত্বের অধীনে সমন্বিত কার্যক্রম নয়। বরং অনেক ব্যক্তি বা দলে সমন্বয়। কেউ এই লবির অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে তার ইহুদি হওয়া জরুরি নয়। কেননা, অনেক খ্রিষ্টান যায়োনিস্ট নিরবচ্ছিন্নভাবে ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে (Mearsheimer & Walt, 2007, pp. 112-113)। জাতিগতভাবে অ্যামেরিকান ইহুদিরা তুলনামূলক বিত্তশালী। মার্কিন রাজনীতিতেও তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। তাই, অ্যামেরিকার জনসংখ্যার শতকরা তিন ভাগের কম হওয়ার পরও মার্কিন ইহুদিরা ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিক উভয় দলেই প্রচুর অর্থায়ন করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সময়ে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ ছিলেন হ্যামিল্টন জর্ডান। প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে লিখিত একটি গোপন ফাইলে তিনি বলেন যে, তৎকালীন ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল ফাইন্যান্স কাউন্সিলের মোট ১২৫ জন সদস্যের মধ্যে ৭০ জনই (৫৬%) ইহুদি। অপরদিকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনকালীন ক্যাম্পেইনের ৬০% অর্থ আসে ইহুদি দাতাদের পক্ষ থেকে (Jordan, 1977)। এই ফাইলটি ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে উন্মুক্ত করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদিদের অর্থায়নের হার বেশ কম, তথাপি ডেমোক্রেটদের অর্থের একটা বড় অংশ (২০%-৫০%) যোগান দেয় ইহুদিরা (Mearsheimer & Walt, 2007, p. 163)।

রাজনীতির পাগলা ঘোড়ার মুখে লাগাম পরানোর সাথে সাথে ইসরায়েলি লবির অন্যতম এজেন্ডা হলো—গণমাধ্যম, থিংক ট্যাঙ্ক, এমনকি একাডেমিয়াতে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট আলোচনাকে প্রভাবিত করা। কেননা, এই তিনটি সেক্টরসমূহ জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে (Mearsheimer & Walt, 2007, p. 168)। কোনো ব্যক্তি ইসরায়েলের সমালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে ইহুদী-বিদ্বেষের অভিযোগ আনা হয় কিংবা তার ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়। অথচ অ্যামেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) মতো সংগঠনগুলো মার্কিন রাজনীতিতে তাদের প্রভাবের কথা সগর্বে প্রচার করে বেড়ায়, যেটি বহু বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি নির্যাতনে ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করে। নিউ ইয়র্ক তে ইসরায়েলি দূতাবাসের সাবেক মুখপাত্র শালেভ বলেন,
'সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদরা যদি জানতে পারে যে, কয়েক ঘণ্টার ভেতর তারা হাজারও উত্তেজিত ফোন কল পেতে যাচ্ছে, তাহলে ইসরায়েলের সমালোচনা করার আগে তারা দুবার ভাববে। চাপ প্রয়োগের বিষয়ে ইহুদি লবির কার্যকারিতা প্রশংসনীয়' (Friedman, ১৯৮৭)।

মিডল ইস্ট ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল পাইপস ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের স্টুডেন্টদের নজরদারি করার লক্ষ্যে তার বিতর্কিত ওয়েবসাইট 'ক্যাম্পাস ওয়াচ' তৈরি করেন। পাইপস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত স্কলারশিপ, ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রমে ইসরায়েল-বিরোধী কোনো বক্তব্য বা আচরণ সম্পর্কে স্টুডেন্টদের রিপোর্ট প্রদান করতে উৎসাহিত করেন (McNeil, 2002)। জার্নালিস্ট ডেভিয়েস বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম উল্লেখ করেন, যারা ইসরায়েলের সমালোচকদের নিন্দার ব্যাপারে রীতিমতো বিশেষজ্ঞ। অনেস্ট রিপোর্টিং, GIYUS, MEMRI, BICOM এবং অন্যান্য সংগঠনগুলো নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের ওপর ফিলিস্তিনি 'সন্ত্রাস'-এর নিন্দা ও ইসরায়েলি 'শান্তিরক্ষা' মিশনের প্রশংসা করতে চাপ প্রয়োগ করে (Davies, 2008)।

বিংআমটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস প্রফেসর জেমস পেট্রাস বলেন, ইসরায়েলের বিপক্ষে কোনো সমালোচনা করলে একদল প্রো-ইসরায়েলি 'বিশেষজ্ঞ' বাহিনী দ্বারা সকল মেজর পত্রিকাগুলোর অপ-এড পাতায় অসৎ আক্রমণের শিকার হতে হয়। সেই সাথে চাকরিচ্যুত করার দাবি, পদ থেকে বিতাড়ন, কিংবা প্রোমোশন ও নতুন করে এপয়েন্টমেন্ট প্রত্যাখ্যান করার দাবির ঝড় বয়ে যায় (Petras, 2007)। আর এর ফলাফল হিসেবে সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলের স্লো মোশন গণহত্যার ব্যাপারে খুব কমই লেখা ছাপা হয়। তাই ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো অনেক সময়ই মার্কিন নাগরিকদের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়。

মতাদর্শ : হারম্যান ও চমস্কি তাদের প্রোপাগান্ডা মডেলের ধারণাটি পাবলিশ করেন ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানের মাটিতে চরম মার হজম করে তার সাম্রাজ্যের ক্রান্তিকালে এসে পৌঁছেছে। লেখকদ্বয়ের মতে, তৎকালীন সময়ে মিডিয়ার সর্বশেষ ফিল্টারটি ছিল কমিউনিজম-বিরোধী এজেন্ডা। এই মতবাদটি এক অভিন্ন 'শত্রু'র বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণকে পরিচালিত করতে সহায়ক ছিল। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার পর এই মতবাদটি আর ততটা শক্তিশালী রূপে অবশিষ্ট রইল না। ফলে অভিন্ন শত্রুর ধারণার সে শূন্যস্থানটি পূরণের লক্ষ্যে তারা নিয়ে আসল 'মুক্ত বাজার', আর 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ'-এর মতো মতবাদগুলো (Mullen, 2009)। অর্থাৎ, অভিজাত শ্রেণির স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট মতবাদের পক্ষে থাকবে মিডিয়া। আর তাদের স্বার্থ-বিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফিল্টারের ভূমিকা পালন করবে।

'অভিজাত' (Elite) শব্দটির মর্মার্থ সুস্পষ্টভাবে নিরূপণ করা বেশ কঠিন। বর্তমান পৃথিবীতে এলিট শব্দটিকে ক্ষমতা, অর্থ, পদমর্যাদা, কর্তৃত্বের মতো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়। এলিট শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে মিডিয়া সচরাচর কোনো আপস করে না। প্রকৃতপক্ষে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ব্যাপারে এলিট শ্রেণির ঐক্যমতই মিডিয়ার বৈধতা প্রদানের ছাড়পত্র। মিডিয়া সর্বশক্তি নিয়ে এলিটদের স্বার্থবিরোধী মতবাদের বিরোধিতা করে আসবে, সে মতবাদ যতই যৌক্তিক হোক না কেন। পুঁজিবাদী স্বত্বাধিকারীগণ পুঁজিবাদকে বৈধতা প্রদান করতে মিডিয়া সিস্টেমকে এমন ছাঁচে গড়ে নিয়েছে, যেন এটি তাদের স্বার্থবিরোধী যেকোনো মতাদর্শকে নেতিবাচক হিসেবে প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়। যেসব সাংবাদিক এই ফ্রেমওয়ার্কের নির্ধারিত সীমার বাইরে কাজ করে, তাদেরকে মৌলবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

লিবারেল মিডিয়া সংস্থাসমূহ সমালোচনাকারী পাঠকদের দাবি পূরণ করতে অল্প সংখ্যক সমালোচক ব্যক্তি ও সাংবাদিকদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও ঐ সকল ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের পরিবেশিত তথ্যাদি নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবহিত রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই সকল সাংবাদিকগণ সংবাদ জগতের অত্যন্ত নগণ্য একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এটা প্রমাণ করে যে, কর্পোরেট-বান্ধব মিডিয়া-সিস্টেমে তাদের সে অবস্থান মূলত পূর্বপরিকল্পিত নিস্ফল অর্থহীন কর্মকাণ্ড (Pedro-Carañana et al., 2018)।

এই ধরনের নাটকীয়তার মাধ্যমে কর্পোরেট মিডিয়া গণতান্ত্রিক সমাজের বহুমুখিতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় এক দুর্লভ বিভ্রমের সৃষ্টি করে। এলিটদের সেবাদাস সংবাদমাধ্যমের সৃষ্ট সুবিশাল ও তপ্ত এক পৃথিবীতে কপূরের ন্যায় উড়ে যায় এই কয়েক ফোঁটা বিকল্প চিন্তা। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান প্রগতিশীল মিডিয়া কাজ করে নব্য লিবারেল প্রভাবের আওতাধীন হয়ে। এই মিডিয়া নিজেরাই নিজেদের বৈধতা প্রদান করে, অতঃপর স্বীয় তৃপ্তির কথা সগর্বে প্রচার করে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে। প্রতিষ্ঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার 'মূলধারা'র সমালোচকরা যে ধরনের সমালোচনার অনুশীলন করেন, চমস্কির ভাষায় তা হলো 'বিরোধিতার ছল'। যদিও এগুলো ক্ষমতার দোষ কিছুটা তুলে ধরে, কিন্তু আদতে তা ক্ষমতার শক্তিই বৃদ্ধি করে (Chomsky, 1988/2004)। হারম্যান বলেন, মেইনস্ট্রীম মিডিয়াগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সরবরাহে উদাসীন থাকে। তারা বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার চাইতে বিনোদনমূলক সংবাদ প্রদানে বেশি সফল বলা চলে (Pedro-Carañana et al., 2018)। এলিটশ্রেণি যেসব সমস্যার কথা বলতে প্রস্তুত নয়, মিডিয়া সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সেসব থেকে সরিয়ে অন্য কোনো ইস্যুর দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে।

বাংলাদেশে মিডিয়ার এই সর্বশেষ ফিল্টারটি যে কাল্পনিক মতাদর্শকে টার্গেট করে ব্যবহৃত হয়, সেটি হলো 'মৌলবাদ'। এর আভিধানিক অর্থ মূলের দিকে ফিরে যাওয়া। যারা কলকাত্তাই উদ্ভট বাঙালি তত্ত্ব সংস্কৃতি ত্যাগ করে ইসলামের দিকে ফিরে যায়, তাদেরকেই মৌলবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। মিডিয়া ইসলামের মৌলিক শিক্ষাকে বাঙালিত্বের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে এক অভিনব ন্যারেটিভ সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ করা মানে ১৪০০ বছর পিছিয়ে যাওয়া। তাই মৌলবাদ একটি ঘৃণিত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের বোরকা, ছেলেদের দাড়ি, টাখনুর ওপর জামা মানেই 'জঙ্গি' বলে সন্দেহ করার ট্রেন্ড বেশ ভালোভাবেই চালানো হয়েছিল। তখন বামপন্থী পরগাছাদের সাথে সাথে জুড়ে গিয়েছিল অপর একটি সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন। জঙ্গিবাদের ধোঁয়া তুলে বহু সাধারণ ছাত্রদের জীবন যারা নষ্ট করেছে।

মাঝে বেশ কয়েক বছর দেশীয় ইসলাম-বিদ্বেষী কাফির-মুরতাদগুলো 'হীরক রাজার দেশে'র মতো স্বাধীনতা পেয়ে তরুণ সমাজকে নষ্ট করার পাঁয়তারা করছিল। কিন্তু মুসলিমদের জাগরণে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ মাঠে মারা গেছে। ইসলামপ্রেম মানেই 'পাকিস্তান-প্রেম', মৌলবাদী মুসলিমরা সব নব্য 'রাজাকার'—এই গাঁজাখুরি ন্যারেটিভ বেচে খাওয়ার দিন শেষ। সেক্যুলাররা খোঁড়া যুক্তি নিয়ে আর কতদিন বিশুদ্ধ ইসলাম চর্চাকে ট্যাকল দিতে পারে, মুসলিমরা এই নাটকের শেষটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।

সর্বোপরি, মূলত এই পাঁচটি ফিল্টার মিডিয়ার 'সংবাদ' বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে সংক্ষিপ্ত ও সংকীর্ণ করে তোলে। এবং কোন ধরনের সংবাদ প্রচারণা পাবার উপযোগী—সেটি নির্ধারণ করে (Herman & Chomsky, 1988/2002, p. 31)। আরও অনেক ছোটখাটো ফ্যাক্টর রয়েছে, তবে সেগুলো এই পাঁচটি ফিল্টারের মতো এতটা প্রভাব বিস্তারকারী নয়。

টিকাঃ
[১] Confidential Memorandum
[২] Anti-Semitism
[১] Campus Watch
[২] Honest Reporting, Give Israel Your United Support, the Middle East Media Research Institute, Britain Israel Communications and Research Center
[৩] Binghamton University
[৪] Op-ed: সম্পাদকীয় পৃষ্ঠার বিপরীতে একটি পৃষ্ঠা, যা পাঠকদের মন্তব্য, অনুভূতি ইত্যাদি প্রকাশ করে থাকে。
[১] Feigned Dissent

ফন্ট সাইজ
15px
17px