📘 প্রোপাগান্ডা 📄 পাবলিক রিলেশনের সূচনা

📄 পাবলিক রিলেশনের সূচনা


ঊনিশ শতকে উপনিবেশগুলো থেকে ডাকাতি করা সম্পদে ইউরোপে ঘটে যায় শিল্প বিপ্লব। এবং পরবর্তীকালে অ্যামেরিকায় পুঁজিবাদের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্টিং মেশিনের উন্নতির সুবাদে পত্রিকা, বই, টেলিগ্রাম, সাময়িকী বা ম্যাগাজিনের সংখ্যা বেশ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ঐ সময়টাতে অনেকগুলো কোম্পানি স্বল্প সময়েই অগ্রগতি লাভ করে; সেগুলোর মধ্যে একটি হলো 'স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কম্পানি'; তেল বাণিজ্যে যে প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি নিয়ে ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে আইডা টারবেল ‘হিস্ট্রি অব দ্যা স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কম্পানি' শীর্ষক বইটি প্রকাশ করেন। ১৯১৪ সালে কয়লা খনি শ্রমিকদের ধর্মঘট ভণ্ডুল করতে এ কোম্পানির অধীনস্থ কলরাডো ফুয়েল এন্ড আয়রন কম্পানির গার্ডদের আক্রমণে ১৪ জন খনি-শ্রমিক নিহত হয়—ইতিহাসে যা লুডলো ম্যাসাকার হিসেবে খ্যাত—যার পেছনের কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ উঠে স্ট্যান্ডার্ড এর প্রতিষ্ঠাকারী রকফেলার পরিবারের জন রকফেলার জুনিয়রের বিরুদ্ধে (Colorado Coal Field War Project, n.d.)। এতে করে তার এবং তার কোম্পানির ভাবমূর্তি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীকালে তিনি তার 'পারিবারিক ভাবমূর্তি' পুনরায় মশৃণ করতে আইভি লি-কে নিয়োগ করেন। আইভি লি ছিলেন পাবলিক রিলেশন নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। তিনি রকফেলার জুনিয়রকে পরামর্শ দেন, তিনি যেন তার লজ্জা ভুলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে গিয়ে খনি-শ্রমিক ও তার পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলেন, তাদের দুঃখ আর দুর্দশার কথা শোনেন, এমনকি লি তাদেরকে নিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরামর্শও প্রদান করেন (Heath, 2013)। এটা সেই সময়ের গল্প, যেসময় এই ধরনের পরিকল্পনা কেউ চিন্তাও করত না। অতঃপর রকফেলার জুনিয়র যখন তার পরামর্শ অনুসারে কাজ করলেন, কিছুদিন পূর্বেই তার মুণ্ডুপাত করা পত্রিকাগুলো তখন তার 'মানবতা'র প্রশংসা করতে শুরু করল।

পাবলিক রিলেশন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে আইভি লি, জর্জ ক্রিল, ওয়াল্টার লিপম্যান এবং এডওয়ার্ড বার্নেইস ছিলেন অন্যতম। উপরিউক্ত ঘটনার মাত্র কয়েক বছর পর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ক্রিল তার যুগান্তকারী সিপিআই-এর সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা পরিচালনা আরম্ভ করেন। মজার ব্যাপার হলো, লিপম্যান ও বার্নেইস দুজনেই এই সংগঠনের অধীনে কাজ করেছিলেন। যুদ্ধের অব্যবহিত কাল পর লিপম্যান তার যুগান্তকারী Public Opinion (১৯২২) বইটি পাবলিশ করেন। লিপম্যানের ভাষায়, আধুনিক (পশ্চিমা) সমাজ ক্রমেই জাতীয়, আন্তর্জাতিক স্বার্থের প্রতিযোগিতা, প্রতিনিয়ত অগ্রগতি লাভ করা উদীয়মান মিডিয়া আর সংবাদ-মতামতের নতুন সব উৎসের মতো জটিল হয়ে উঠেছে। এই জটিলতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সমাজের শিক্ষিত শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক, রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্ঞান রাখে না ও উপলব্ধি করে না। বিভ্রান্তিকর এই আধুনিক পৃথিবীতে সব বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রায় অসম্ভব ব্যাপার, তাই আমরা বেছে নিই 'শর্টকাট'। আমাদের সমাজ আমাদের জন্য পূর্ব থেকেই যে বাঁধাধরা সংজ্ঞা নির্ধারণ করে রেখেছে সেগুলোই গ্রহণ করে নিই বিনা বাক্য ব্যয়ে। লিপম্যানের মতে, সমাজের অধিপতিদের দায়িত্ব হলো, তারা কিছু প্রতীক ব্যবহার করে বিশাল চিন্তাহীন এই দলকে যৌক্তিক কর্মপ্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত করবে (Soules, 2015, pp. 61-62), যদিও তার সেই পরামর্শ পরবর্তীকালে বহু জননেতা ও প্রভাব বিস্তারকারীগণ গ্রহণ করেছেন, তবে তাদের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এডওয়ার্ড বার্নেইস লিপম্যানের পাবলিক অপিনিয়ন দ্বারা প্রভাবিত হন, সেই সঙ্গে তার আংকেল ফ্রয়েডের 'গণ মনস্তত্ত্ব' তত্ত্বও তাকে প্রভাবিত করে। ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত তার বিখ্যাত বই Propaganda-তে তিনি শিল্পপতি ও শাসকদের উদ্দেশ্যে প্রোপাগান্ডা ও পাবলিক রিলেশন পরিচালনা করার পন্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তার মতে,
'জনগণের সংগঠিত সকল অভ্যাস ও মতামতকে সচেতন ও বুদ্ধিমত্তার সাথে বশে নিয়ে আসা গণতান্ত্রিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যারা সমাজের এই অদেখা পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে তারা এক অদৃশ্য শাসন প্রতিষ্ঠা করে, আর সেটাই আমাদের রাষ্ট্রের সত্যিকারের ক্ষমতাসীন শক্তি' (Bernays, 1928, p. 9)।

এইসকল ব্যক্তিগণ জনসাধারণকে কিভাবে প্রভাবিত করে? বার্নেইসের ভাষায়, 'তারা তাদের নেতৃত্বের প্রাকৃতিক গুণাবলি, প্রয়োজনীয় আইডিয়া দেওয়ার যোগ্যতা আর সামাজিক কাঠামোতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের মাধ্যমে আমাদের পরিচালিত করে।' (Bernays, 1928)।

তার মতে, পাবলিক রিলেশনের উপদেষ্টাগণ জনগণের চিন্তাভাবনার ধরন সম্পর্কে জানে, আর এটাও জানে কিভাবে তাকে প্রভাবিত করতে হয়। তাদের কাজ হলো, 'অদৃশ্য শাসক' আর জনগণের মাঝে মধ্যস্থতা করা। যেমন ধরুন, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে অ্যামেরিকাতে শর্ট স্কার্ট পরার ফ্যাশন ছিল না। ঐ সময়ে যদি কেউ শর্ট স্কার্ট পরত, তাহলে নিউ ইয়র্কের পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে জেলে পুরত (Bernays, 1928, p. 34)। পরবর্তীকালে প্যারিসে ফ্যাশন লিডাররা শর্ট স্কার্টকে ‘ফ্যাশন’ হিসেবে জনপ্রিয় করে, সেখান থেকে প্রভাবিত হয়েই অ্যামেরিকাতে ধীরে ধীরে এটি জনপ্রিয় হয়।

বিংশ শতাব্দীর পূর্বেও ধূমপানের অভ্যাস নারীদের জন্য অনৈতিক ও বেমানান হিসেবে ধর্তব্য ছিল। উনিশ শতকে নারী ধূমপায়ীদের ভাবা হতো ‘নষ্টা মেয়ে’ হিসেবে, ঐ সময়ে ধূমপান ছিল পতিতাবৃত্তির পেশাগত সিম্বল-প্রতীক। তখন নারীদের ধূমপান এতটাই বাজে কাজ হিসেবে গণ্য হতো যে, ১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্ক প্রকাশ্যে ধূমপান করার অপরাধে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয় (Amanda Amos, 2000)।

কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নারীরা যখন পুরুষদের রেখে যাওয়া কর্মক্ষেত্র সচল রাখতে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো, তখন পুরুষদের সংস্পর্শে এসে তাদের অনেক অভ্যাসের মতো ধূমপানের অভ্যাসটাও নারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লো। যুদ্ধের পর, ত্রিশের দশকে মার্কিন নারীদের—বিশেষ করে তরুণীদের—মাঝে ধূমপানের হার ব্যাপক হারে বেড়ে যায় (Waldron, 1991)। ঐ সময় থেকেই পাশ্চাত্যে নারীদের ধূমপানের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলতে শুরু করে। আর সিগারেট কোম্পানিসমূহ তাদের মার্কেটে ক্রেতার সংখ্যা দ্বিগুণ করার স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করে। কিন্তু এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাইলে পতিতাদের প্রতীক ধূমপানকে শুধু সম্মানজনক হিসেবে উপস্থাপন করলেই চলবে না; সেই সাথে বিষয়টিকে সামাজিক, ফ্যাশনেবল, স্টাইলিশ আর নারীসুলভ (!) হিসেবেও ফুটিয়ে তুলতে হবে।

অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির প্রেসিডেন্ট তার প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্য এডওয়ার্ড বার্নেইসকে উনার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করলেন। এর ফলাফল দাঁড়ায়, বার্নেইসের সহযোগিতায় অ্যামেরিকান টোব্যাকো পরবর্তী দু বছরের মধ্যে বেস্ট সেলিং ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি পায়, আর চল্লিশের দশকের শুরুতে অ্যামেরিকায় সবচেয়ে বেশি বিক্রিত সিগারেট কোম্পানিতে পরিণত হয় (Brandt, 2007, p. 75)। প্রোপাগান্ডা বইটি প্রকাশিত হবার পরের বছর বার্নেইসের পরামর্শে—১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে—অ্যামেরিকান টোব্যাকো ইস্টার সানডে প্যারেডে নারী ভাড়া করে আনে যারা সেখানে প্রকাশ্যে অ্যামেরিকান টোব্যাকো'র 'Lucky Strike' সিগারেট দিয়ে ধূমপান করে, যেটাকে তারা ভূষিত করেছিল স্বাধীনতার মশাল হিসেবে, তারা ধূমপানকে নারীর স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে প্রচার করে। সেই সময়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা বেশ বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল, অবশ্য একই সঙ্গে সেটি প্রচুর মিডিয়া কভারেজও লাভ করে। ধীরে ধীরে নারীদের ধূমপান আমেরিকাতে স্বাভাবিক একটি বিষয়ে পরিণত হয়। দেখা গেলো, ১৯২৯ সালে বার্নেইস যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন, মাত্র কয়েক দশকেই সেটি অ্যামেরিকায় বাস্তব সত্যে পরিণত হয়।

ত্রিশের দশকের শেষ দিকে অ্যামেরিকান টোব্যাকোর বিজ্ঞাপনগুলো এতটাই চমকপ্রদ ছিল যে, সেগুলো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিকে প্রভাবিত করার মতো শক্তিশালী ছিল। যেমন : Lucky Strike সিগারেটের বিজ্ঞাপনগুলোতে দাবি করা হতো, এই সিগারেট নারীদের দেহ স্লিম রাখতে সাহায্য করবে! ঐ সময়ে সিগারেটের বিজ্ঞাপনে ডাক্তারদেরকেও অহরহ বিরামহীনভাবে ব্যবহার করা হতো। যেমন : 'অধিকাংশ ডাক্তার ক্যামেলস সিগারেট ফুঁকে' (see Brandt, 2007 for more details)। অর্থাৎ, ডাক্তাররা যখন সিগারেট খাচ্ছে, সেহেতু ধূমপান নিশ্চয়ই এত খারাপ কিছু না! সেখানে থেকে ধীরে ধীরে শুরু হলো বিজ্ঞাপনের স্বর্ণযুগ; কর্পোরেশন কর্ণধাররা অর্থের জন্য ভালো-খারাপ যাচাই-বাছাই না করে কেবল পণ্য ভোগ করাকেই স্বাধীনতা হিসেবে প্রচারণা শুরু করলেন। কর্পোরেট জগত মাঠে নেমে পড়ল ভোগবাদী ক্রেতা 'সৃষ্টি'র কাজে। সেই সঙ্গে জনসংযোগের সেই শিক্ষাকে যুদ্ধ ছাড়াও কিভাবে শান্তিপূর্ণ সময়ে কাজে লাগানো যেতে পারে, সে বিষয়ে পাবলিক রিলেশন্স কর্মকর্তারা হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করতে শুরু করলেন।

টিকাঃ
[১] এই ঘটনার সাথে রাসূল এর শিক্ষার তুলনা করে দেখুন; ১৪০০ বছর পূর্বেই তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতে, তাকে সান্ত্বনা দিতে, তার জন্য দুআ করতে। রাসূল এর চাচাতো ভাই জাফর রা. যখন শহীদ হলেন, তিনি নিজেই তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলেন। তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন শহীদদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার, কিন্তু এ সবই মুসলিমরা করে থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য। কিন্তু সেই কাজ Lee করতে বললেন দুর্নীতিগ্রস্থ এক কোম্পানির ভাবমূর্তি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে—মার্কেটিং পলিসির যেই পরিক্রমাটি পশ্চিমা সভ্যতার কর্ণধাররা আজও ধরে রেখেছে।
[১] দেশীয় সেক্যুলাররা প্রায়ই বলে, 'ফ্রান্স হলো সভ্যতার সূতিকাগার।' তবে তারা 'অসভ্য' শব্দটা বলতে ভুলে যায়। পোশাক খুলে জনসম্মুখে দেহপ্রদর্শনে পশুদের সাথে প্রতিযোগিতা করার দৌড়ে তারাই বাকিদের পথ দেখিয়েছে।
[২] অর্থাৎ, তখনকার সময়ে নারী সম্প্রদায়ের মধ্যে কেবল পতিতাদের ভিতর ধূমপান করার অভ্যাস পরিলক্ষিত হতো। লক্ষ্য করুন, এখনকার ফেমিনিস্টরা একে দাবি করে অধিকার হিসেবে! অথচ যেকোনো সুবিবেচক ব্যক্তি বা দলের কর্তব্য হলো, ক্ষতিকর বিষয়কে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা। পুরুষরা ধূমপান করায় সেটির ক্ষতিকর দিক কখনোই হ্রাস পায়নি যে, এটাকে অধিকার হিসেবে দাবি করতে হবে। তারা যদি সত্যিই সঠিক পথে থাকত, তাহলে তারা বরং পুরুষদের ধূমপানকে নিষিদ্ধ করার আন্দোলন করত। সব ক্ষেত্রে বিজ্ঞান নিয়ে আসা বঙ্গীয় সেক্যুলার-ফেমিনিস্টরা মাদক দ্রব্যের ক্ষেত্রে 'বিজ্ঞান' শব্দটা কেন ভুলে যায়, সেই রহস্য আর কখনোই উন্মোচিত হবে না।
[১] Easter Sunday 'Parade'
[২] Torches of Freedom
[৩] বার্নেইসের টার্গেটই ছিল মিডিয়া আকর্ষণ করা
[৪] যদিও এতে বিজ্ঞাপনদাতাদের পাশাপাশি অ্যামেরিকান সংস্কৃতি, দর্শনের ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। কেননা, মুসলিম সমাজে এ ধরনের প্রচেষ্টা যতটা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়, লিবারেল-সেক্যুলার সমাজে ততটা হয়নি。
[১] ‘More doctors smoke Camels' (Camels একটি সিগারেট ব্র্যান্ডের নাম)
[২] Example of Testimonial Propaganda, coming later in the books.

📘 প্রোপাগান্ডা 📄 পাবলিক রিলেশন ও প্রোপাগান্ডার সম্পর্ক ও পার্থক্য

📄 পাবলিক রিলেশন ও প্রোপাগান্ডার সম্পর্ক ও পার্থক্য


তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ-ব্যবস্থার উন্নয়নের শতাব্দীতে জনসংযোগ পরিণত হয়েছে কমার্শিয়াল সাইট, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমগুলোর অবিচ্ছেদ্য এক অংশে। জনসংযোগের সাথে প্রোপাগান্ডার ঘনিষ্ঠ যোগসূত্রও রয়েছে। জনসংযোগ কর্মীরা তাদের মক্কেল বা খদ্দেরদের স্বার্থ চরিতার্থ করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। এক্ষেত্রে খদ্দেরদের স্বার্থ উদ্ধারই তাদের প্রধানতম কর্তব্য। উক্ত স্বার্থোদ্ধারের কর্মপদ্ধতিও অনেকাংশে তারাই ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করেন। বার্নেইস (১৯২৮) উভয়ের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, জনসংযোগ যেখানে শেষ, প্রোপাগান্ডার সেখানে শুরু। যদিও তিনি তার অনেক অনৈতিক কাজকেই প্রোপাগান্ডা হিসেবে চিহ্নিত করতে নারাজ ছিলেন, তার কাছে সেগুলো শুধুই জনসংযোগ। প্রকৃতপক্ষে, জনসংযোগ কর্মীরা যেহেতু শুধুমাত্র ক্লায়েন্টদের দেওয়া দায়িত্ব বাস্তবায়ন করেন, সেহেতু এটি সর্বদাই প্রোপাগান্ডাতে রূপান্তরিত হবার সম্ভাবনা রাখে না。

ধরুন, কোনো কমার্শিয়াল অথবা অলাভজনক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ টিম তাদের শিক্ষা বিষয়ক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারণা করল কিংবা কোনো সাইটে তাদের পণ্যের প্রচারণা করল। আপনি তাদের এই কর্মকাণ্ডকে প্রোপাগান্ডা বলতে পারবেন না, যতক্ষণ না তাদের 'সামাজিক' কর্মকাণ্ড LGBTQ+ টাইপের কোনো 'সামাজিক' কর্মকাণ্ডের প্রচারণা হয়, যা ইসলাম-বিরোধী। সাধারণত পাবলিক রিলেশন প্রোপাগান্ডা ছড়ায় না, বরং তা ক্লায়েন্টের স্বার্থ রক্ষার্থে চেষ্টা চালায়। কিন্তু, ঐ জনসংযোগ টিম যদি LGBTQ+ এর পরোক্ষ প্রচারণা করে? কিংবা ধরুন, কোনো আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক প্রোমোটকারী দাতব্য সংগঠন সব ধর্মের অনুসারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তার 'নির্দিষ্ট' একটা অংশ দুঃস্থদের জন্য ব্যয় করে। হঠাৎ একদিন আপনি দেখতে পেলেন, সংগঠনটি মুসলিমদের যাকাতের টাকা নিয়ে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত যাকাতের আটটি খাতের বাইরে যথেচ্ছভাবে অন্য ধর্মের উৎসবে ব্যয় করছে। এ বিষয়ে জনরোষের সৃষ্টি হলে তারা তাদের জনসংযোগ টিমকে দিয়ে দুঃস্থ মুসলিমদের খাদ্যসামগ্রী প্রদান, মাদরাসার ছেলেদের খাবার খাওয়ানোর ছবি প্রচার করতে শুরু করল, তাদের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করল, আবেগি বক্তব্য দিয়ে সহমর্মিতা অর্জন করতে লাগলো; কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের কোনো সন্তোজক জবাব তারা দিচ্ছে না। তখন সেটা আর শুধুই জনসংযোগ থাকে না, সেখানে প্রোপাগান্ডাও যুক্ত হয়ে গেছে। কারণ, ঐ সংগঠনের ইসলাম-বিরোধী কর্মকাণ্ড 'ন্যায়সঙ্গত' করতে তারা তাদের জঘন্য কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি না করে এর পরিবর্তে অন্য একটি বিষয় তুলে এনে জনসংযোগ এক্টিভিটি পরিচালনা করছে。

মূলত, জনসংযোগ বিষয়ক কার্যক্রম তার সীমানা ছাড়িয়ে প্রোপাগান্ডার গণ্ডিতে পা দিয়েছে কি না, এটি নির্ভর করবে দুটি বিষয়ের ওপর। এক, খদ্দেরের উদ্দেশ্য; দুই, জনসংযোগ কর্মপ্রক্রিয়ার ধরন। অনেক সময় দেখা যায়, স্বয়ং প্রোপাগান্ডিস্টরাই জনসংযোগ টিম নিয়োগ করে, সেক্ষেত্রে প্রোপাগান্ডা আর জনসংযোগ একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে যায়, যেভাবে স্বচ্ছ জলে গলে যায় লবণ। তাই, দুটির মধ্যে যেকোনো একটি বিষয় ইসলামের বিপক্ষে চলে গেলে, তখন সেটি প্রোপাগান্ডা হিসেবে বিবেচিত হবে, এটি ছাড়া ঢালাওভাবে জনসংযোগ ইন্ডাস্ট্রিকে প্রোপাগান্ডা ইন্ডাস্ট্রি বলার কোনো যৌক্তিকতা নেই。

টিকাঃ
[১] Interfaith Relation

📘 প্রোপাগান্ডা 📄 পাবলিক রিলেশন ও সাংবাদিকতা

📄 পাবলিক রিলেশন ও সাংবাদিকতা


সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব 'মূল্যবোধ'সমূহ যদি বিবেচনা করা হয়, তাহলে সাংবাদিকতা ও পাবলিক রিলেশন বিষয়ক কার্যক্রমের মধ্যে একটি কল্পিত নিরপেক্ষতার দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। সাংবাদিকদের কাছে জনগণ যে প্রত্যাশা করে, জনসংযোগ কর্মীদের নিকট তারা সেই আশা করে না। এই দুটি প্রফেশন যখন তাদের মধ্যকার ব্যবধান দূর করে ফেলে, তখন ক্ষতিটা হয় মূলত জনসাধারণের; তারা তাদের আকাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত সত্য, নিরপেক্ষ, ভারসাম্যপূর্ণ, প্রয়োজনীয় ও তাৎক্ষনিক জরুরি তথ্য পাবার সুযোগটুকু হারিয়ে ফেলে。

পঞ্চাশের দশকে ভ্যান্স প্যাকার্ড আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মিডিয়া-রিসার্চ এবং 'ইমেজ' বিল্ডিং প্রসেস ব্যবহার করে মিডিয়া মানুষকে প্রভাবিত করার কাজে লাগাতে পারে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক নিক ডেভিয়েস দাবি করেন যে, সাংবাদিকতা নামক পেশাটি ক্রমেই পাবলিক রিলেশন ও স্পিন পদ্ধতির অব্যাহত প্রসারণের ফলে সংকুচিত হয়ে আসছে। তার মতে, পাবলিক রিলেশন বলতে—'...শুধু প্রেস কনফারেন্স আর প্রেস রিলিজ প্রদানই নয়, বরং মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মিডিয়া কভারেজের ব্যবস্থা করা, নকল 'ফ্রন্ট গ্রুপ' তৈরি করে নির্দিষ্ট ইস্যুতে সংবাদ সৃষ্টি করা, আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ 'বিশেষজ্ঞ' সরবরাহ করা—যারা গোপন কোনো জনসংযোগ এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কথা বলবে—এবং বিভিন্ন মিডিয়া কভারেজ ক্যাম্পেইনের সঙ্গে লবিং ও সমন্বয় করে সরকারি পলিসিতে রদবদল ঘটানো'—ও পাবলিক রিলেশনের আওতাধীন হয়ে পড়েছে।

১৯২৮ সালে জনসংযোগের যে বীজ বার্নেইস রোপণ করেছিলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে অভিযোজিত হয়ে আজ তা এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সাংবাদিক এবং জনসংযোগ বিষয়ক পরামর্শদাতারা নিয়মিতই সংবাদ 'তৈরি' করতে একত্রে কাজ করে থাকেন। ফলাফলে সাংবাদিকতা পরিণত হয়েছে বাণিজ্যে; সংগৃহীত সংবাদের পরিবর্তে প্রচারিত হয় প্রেস রিলিজ, নিউজ এজেন্সি কর্তৃক প্রদানকৃত ও অন্যান্য পূর্ব-প্রস্তুতকৃত সংবাদ। সংবাদের পরিবর্তে জনসংযোগধর্মী আর্টিকেল প্রচারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমে প্রতিনিয়তই হ্রাস পাচ্ছে সংবাদপত্রের সংখ্যা。

অ্যামেরিকাতে ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতি এক লক্ষ নাগরিকের বিপরীতে কাজ করত ৩৬ জন সাংবাদিক এবং ৪৫ জন জনসংযোগ কর্মকর্তা। ২০০৯ সালে এসে প্রতি এক লক্ষ নাগরিকের বিপরীতে সাংবাদিকের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৫ জনে, অপরদিকে জনসংযোগ কর্মীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ জন। অর্থাৎ, প্রতি ১ জন সাংবাদিকের পরিবর্তে ৩ জনেরও বেশি জনসংযোগ কর্মী কর্মরত (McChesney & Nichols, 2009, chapter 1, chart 6), যারা সাংবাদিকদের থেকেও বেশি অর্থের যোগান প্রাপ্ত (Sullivan, 2011)। ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে জনসংযোগ সেক্টরের আয় $৩.৫ বিলিয়ন থেকে $৮.৭৫ বিলিয়নে উন্নীত হয়। অপরদিকে একই সময়ের ভিতর পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে আয় হ্রাস পেয়েছে অর্ধেকেরও বেশি (Barthel, 2017)।

মার্গারেট থ্যাচার যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন, তখন ব্রিটিশ সরকার-এর সেন্ট্রাল অফিস অব ইনফরমেশন-এর বার্ষিক ব্যয় ছিল £২৭ মিলিয়ন। ব্রিটিশ জনসংযোগ বিভাগ এই সেন্ট্রাল অফিস অব ইনফরমেশন-এর অধীনে কাজ করত। দশ বছর পর তাদের বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছায় £১৫০ মিলিয়নে। টনি ব্লেয়ার প্রধানমন্ত্রী হবার প্রথম দু বছরে ৩১০ জন প্রেস অফিসার নিয়োগ প্রদান করেন, সেই সাথে জনগণের মিলিয়ন মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করতে শুরু করেন প্রাইভেট জনসংযোগ এজেন্সির পিছনে। অ্যামেরিকার কথাই ধরুন; ফেডারেল সরকার ২০০৬-২০১৭, এই এক দশকে জনসংযোগ ও বিজ্ঞাপনের পেছনে বার্ষিক $১ বিলিয়ন হারে ব্যয় করেছে! ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে ফেডারেল পাবলিক রিলেশন অফিসারের সংখ্যা ছিল ৫০৮৬ জন, যা মার্কিন শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সংখ্যা থেকেও বেশি (Boehm, 2016)। বাস্তবিক অর্থে, এই সেক্টরে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ কখনোই স্তিমিত হয়নি, বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পেয়েছে (Davies, 2008)。

নিক ডেভিয়েস ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের পাঁচটি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদের উৎস নিয়ে কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের স্পেশালিষ্ট গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেন। পত্রিকা পাঁচটি হলো দ্যা টাইমস, দ্যা গার্ডিয়ান, দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্যা টেলিগ্রাফ এবং দ্যা ডেইলি মেইল। পরপর দু' সপ্তাহ এই পত্রিকাগুলোর (ইংল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ) সবগুলো দেশীয় সংবাদ (২২০৭টি) চিহ্নিত করে তারা 'গার্ডিয়ান' পত্রিকার নিউজ ডেস্কের সাহায্য নিয়ে ঐ দু সপ্তাহে সবগুলো সংবাদ সংগ্রহ করে। কোনো সংবাদ বা তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে তারা সংশ্লিষ্ট পত্রিকার রিপোর্টারদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ঐ তথ্যের একেবারে গোড়া পর্যন্ত পৌঁছে যান。

দু সপ্তাহের তদন্ত শেষে তারা যে ফলাফল হাতে পেলেন, তাতে তারা বিস্মিত-ই হলেন—দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও মর্যাদাশালী পত্রিকাগুলো প্রতিনিয়ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেকেন্ড-হ্যান্ড সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছে। আর এই ধরনের খবরগুলো প্রধানত দুই ধরনের প্রাথমিক সোর্স থেকে আসে : ওয়্যার এজেন্সি-সমূহ ও পাবলিক রিলেশন ফার্মসমূহ, যারা প্রধানত বিশেষ কোনো কমার্শিয়াল বা পলিটিকাল উদ্দেশ্যে কাজ করে। সংবাদগুলোর ৬০%-ই সম্পূর্ণ বা প্রধানত কোনো তারবার্তা বা জনসংযোগ বিষয়ক পেপার। ২০% সংবাদ তারবার্তা বা জনসংযোগ মেটারিয়ালের সাথে কম-বেশি তথ্য যোগ করে প্রস্তুত করা হয়। ৮% তথ্যের ক্ষেত্রে রিসার্চারদের দল কোনো উৎস নির্ধারণ করতে সক্ষম হননি। কেবল মাত্র ১২% সংবাদের ক্ষেত্রেই রিসার্চারগণ নিশ্চিতভাবে বলতে সক্ষম হন যে, আর্টিকেলগুলো রিপোর্টারদের নিজেদের প্রস্তুতকৃত。

কিন্তু, দুঃখের বিষয় হলো—পত্রিকাগুলো এ কথা বেমালুম অস্বীকার করে। কার্ডিফের রিসার্চাররা দেখতে পেলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো 'স্টাফ রিপোর্টার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত' টাইপের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া থাকত। অপরদিকে জনসংযোগ কর্মীরা সচরাচর সংবাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে নিজেদের আইডেন্টিটি প্রকাশ করতে চান না, যার ফলে সাংবাদিকরা তাদের প্রদানকৃত তথ্য নিজেদের নামে চালিয়ে দিলে সেটা বরং দু'পক্ষের জন্যই লাভজনক হয়। পরিশেষে রিসার্চারগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক কোনো অর্থবহ স্বাধীন সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট কর্মপ্রক্রিয়া এখন আর বিধিবিধান হিসেবে বিদ্যমান নেই, বরং তা 'ব্যতিক্রম' হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বা প্রতিটি সাংবাদিকই যে নিজেদের মূল্যবোধ বিকিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টা তেমন নয়। কিন্তু, এখন আর সেটি 'স্বাভাবিক' কোনো ঘটনা নয়।

টিকাঃ
[১] ফ্রন্ট গ্রুপ হলো এমন একটি সংস্থা, যা একটি এজেন্ডাকে প্রতিনিধিত্ব করার অভিপ্রায় প্রকাশ করে, কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এটি অন্য কোনো পক্ষ বা স্বার্থের জন্য কাজ করে, যে পক্ষের অর্থায়ন হয়তো লুকানো থাকে বা খুব কমই উল্লেখ করা হয়।
[২] ১৯৭৯
[৩] ১৯৮৮
[১] ৪৫০০
[২] The Times, The Guardian, The independent, The Telegraph এবং The Daily Mail.
[৩] ওয়্যার এজেন্সি বা নিউজ এজেন্সি হলো সেসব ব্যবসায়ী সংগঠন, যেগুলো সংবাদ সংগ্রহ করে পত্রিকা, ম্যাগাজিন, রেডিও, টিভি, বা অন্যান্য সংবাদ-মাধ্যমের কাছে বিক্রয় করে।
[১] 'Prepared by Stuff Reporter' বা নির্দিষ্ট কোনো রিপোর্টারের নাম যিনি এজেন্সি কপিটা নিজের ভাষায় পুনর্লিখন করেন。

ফন্ট সাইজ
15px
17px