📘 প্রোপাগান্ডা 📄 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ | প্রোপাগান্ডার এক্সপেরিমেন্ট

📄 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ | প্রোপাগান্ডার এক্সপেরিমেন্ট


যুদ্ধের তীব্রতা, হিংস্রতা আর ভয়াবহতার কারণে যুদ্ধকালীন প্রোপাগান্ডার কার্যকারিতা সর্বাধিক হয়ে থাকে। বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সর্বপ্রথম আধুনিক উপায়ে প্রোপাগান্ডা পরিচালনা করা হয়। জনমতকে পাল্টে স্বীয় স্বার্থে ব্যবহারের প্রথম সুচিন্তিত ও অফিসিয়াল প্রচেষ্টা হিসেবে। এর সফলতার হারও ছিল বিশাল (Kingsbury, 2010, p. 06)। বিশ্বব্যাপী এই যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লেখা একটি বইয়ের (১৯৩৮) ভূমিকায় হ্যারল্ড লাসওয়েল বলেন, 'এটি বললে অত্যুক্তি হবে না যে, (প্রথম) বিশ্বযুদ্ধ সাধারণ থেকে শিক্ষিত-সব ধরনের মানুষকেই প্রোপাগান্ডার সাথে পরিচিত করেছে' (Bruntz, 1938)।

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজেদের ভেতর এক ভয়াবহ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯১৪ সালের জুন মাসের ২৮ তারিখে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রানজ ফার্ডিনান্ড বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে এক সার্বের গুলিতে নিহত হন। তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সার্বিয়াকে দায়ী করে এবং ২৮ জুলাই সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে দুই রাষ্ট্রের সহযোগী রাষ্ট্রসমূহ ধীরে ধীরে নিজেরাও এই যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। যুদ্ধে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। একদিকে অক্ষ শক্তি (Central Powers) অপর পক্ষে মিত্র শক্তি (Allied Powers)। অক্ষ শক্তি গঠিত হয় মূলত জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, উসমানী সালতানাত ও বুলগেরিয়ার সমন্বয়ে। অপর পক্ষে মিত্র শক্তির উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্রসমূহ ছিল : বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান, ইতালি, রোমানিয়া-সহ আরও কিছু দেশ।

১৯১৪-এ ইউরোপ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। তখন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া প্রতিটি জাতিই তখন দাবি করে—তারা মহৎ উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে। অথচ নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার ছাড়া আর কিছুই তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। অক্ষ শক্তির অন্তর্ভুক্ত সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচে উচ্চাভিলাষী ছিল জার্মানি। এর অন্য দুটি সাম্রাজ্য অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও উসমানীয় সালতানাত তখন লিপ্ত ছিল নিজেদের রাজ্য রক্ষার সংগ্রামে।

আগস্টের শুরুতে জার্মানি বেলজিয়াম আক্রমণ করে বসে। তখন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেলজিয়াম ও ব্রিটেনের পারস্পরিক সহযোগিতার চুক্তি রক্ষার্থে ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করে। জার্মানির নেতৃবৃন্দ ভেবেছিল ব্রিটেন যুদ্ধে যোগদান করবে না। কিন্তু বেলজিয়াম যখন ব্রিটেনের সাহায্য চাইল, তখন ব্রিটেন তাকে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিল।

জার্মানি যখন বেলজিয়াম আক্রমণ করে বসে, তখন জার্মানদের নির্যাতনের সংবাদ ব্রিটেনের জনগণের মাঝে বেলজিয়ামদের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি করে। সেপ্টেম্বর ২, ১৯১৪, লিবারেল পার্লামেন্ট মেম্বার চার্লস মাস্টারম্যান ব্রিটিশ সিনিয়র লেখকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুজন হলেন আর্থার কোনান ডয়েল এবং এইচ. জি. ওয়েলস। সেপ্টেম্বর ০৭, সিনিয়র লেখক ও জনপ্রিয় ব্রিটিশ পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের নিয়ে দ্বিতীয় বৈঠকের পর চার্লস মাস্টারম্যান লন্ডনে ওয়েলিংটন হাউসে War Propaganda Bureau প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত সংগঠনের প্রধান মিশন ছিল হাঙ্গেরি ব্যতীত অন্যান্য মিত্র ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রসমূহে ব্রিটেনের পক্ষে সহমর্মিতা তৈরি করা। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দের জুনের মধ্যে প্রোপাগান্ডা ব্যুরো ২৫ লক্ষ কপি পুস্তিকা ও অফিশিয়াল বক্তব্য প্রকাশ করে (Rankin, 2009, p. 35)। ১৯১৭ পর্যন্ত এই দফতরটি ব্রিটেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে কাজ করে। এর কার্যক্রম এতটাই গোপনীয় ছিল যে, অধিকাংশ পার্লামেন্ট সদস্য পর্যন্ত এটি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না (Taylor, 1990/2003, p. 177)।

যুদ্ধের শুরুতে অ্যামেরিকার ভূমিকা ছিল নিরপেক্ষ। তবে মার্কিন কোম্পানিসমূহ যুদ্ধে লড়াইরত উভয়পক্ষের কাছেই বিলিয়ন ডলারের খাদ্য, জ্বালানী আর অস্ত্র বিক্রয় করত। ঐ সময়ে অ্যামেরিকার কেউই ভাবেনি, মার্কিনিদের যুদ্ধে যোগদান করা উচিত। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মন্তব্য করেন, 'এটি এমন একটি যুদ্ধ, যার ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই। এটি কারণগুলো আমাদের স্পর্শ করে না।... ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অ্যামেরিকাকে বিশ্বের “সৌভাগ্যশালী” জাতি হিসেবে দেখবে। কারণ এটি শান্তির জন্য কাজ করে এবং যুদ্ধবিগ্রহ থেকে দূরে থাকে।'

তার ভাষায়, জাতি হিসেবে 'অ্যামেরিকান হওয়াটা এতটাই গৌরবের যে, ইউরোপের যুদ্ধে লড়াই করা তাদের শোভা পায় না। মানে ওরা আমাদের লেভেলের না আরকি। তবে যুদ্ধ করা শোভা না পেলেও উভয়পক্ষের সাথে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে অ্যামেরিকার গৌরব কাজ করেনি। বিশ্বায়নের যুগে অন্যান্য শিল্পায়িত রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপরই অ্যামেরিকার অর্থনীতি নির্ভরশীল ছিল। ঐ সময়ে শিল্পায়িত পৃথিবী এতটাই আন্তঃসম্পর্কিত ছিল যে, খুব কমসংখ্যক এলাকাই টিকে ছিল যার (দ্রব্য) মূল্য ভিনদেশের বাজার কর্তৃক প্রভাবিত হতো না।' বিশ্বায়নের প্রথম বিস্ফোরণের যুগে অ্যামেরিকার পুরো অর্থনীতিই বৈদেশিক শ্রম ও পুঁজির অন্তঃপ্রবাহের দ্বারা নির্ধারিত হতো (Olmsted, 2009)।

১৯১৫, উইলসন কোনো সাড়াশব্দ ছাড়াই নিরবে যুদ্ধরত দেশকে ঋণ প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ১৯১৫ থেকে ১৯১৭, এই সময়ের ভেতর অ্যামেরিকান ব্যাংকগুলো মিত্র পক্ষকে $২.৫ বিলিয়ন ঋণ প্রদান করে। অন্যদিকে এর মাত্র এক-দশমাংশ অর্থ দেয় অক্ষ শক্তিকে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিকট বাৎসরিক $৩ বিলিয়ন মূল্যের পণ্য বিক্রয় শুরু করে অ্যামেরিকা। অন্যদিকে সেসময়ে তারা অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও জার্মানির কাছে মাত্র $১ বিলিয়ন মূল্যের পণ্য বিক্রয় করত।

যুদ্ধের প্রারম্ভেই ব্রিটিশ ক্যাবলশিপ জার্মানি ও অ্যামেরিকার মধ্যকার ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে অ্যামেরিকানরা যুদ্ধের সংবাদ পেতে পুরোপুরি ব্রিটিশ সোর্সের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ সময় ব্রিটেন অ্যামেরিকাতে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মিশন নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। আর জার্মানি চেয়েছিল অ্যামেরিকাকে নিরপেক্ষ অবস্থানে স্থির রাখতে। তবে জার্মানদের বোঝাপড়ায় কিছুটা ফাঁক রয়ে যায়; ওরা মূলত জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিনীদের উদ্দেশ্যে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রোপাগান্ডা পরিচালনা করে। তথাপি ভাষার পার্থক্যও সেখানে বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে ব্রিটেন তার প্রোপাগান্ডার টার্গেট হিসেবে অ্যামেরিকান প্রেস, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর-সহ প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে বেছে নেয় (Brewer, 2009, p. 51; Sanders & Taylor, 1982, p. 204)।

ঐ সময়ে ব্রিটিশরা যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা অতিরঞ্জিত করে অ্যামেরিকাতে প্রচার করা শুরু করে, পরবর্তীকালে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল অ্যামেরিকান প্রোপাগান্ডিস্টরা। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রিটিশ প্রোপাগান্ডার বিষয় ছিল বেলজিয়ামে জার্মানদের নৃশংসতা প্রচার। ফ্রান্স, ব্রিটেন, বেলজিয়াম থেকে জার্মানদের নির্মমতার অসংখ্য গুজব প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ে; যদিও সেসব গুজব তখনো পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে—অর্থাৎ অ্যামেরিকাকে যুদ্ধে শামিল করা—পৌঁছাতে পারেনি। অতঃপর ১৯১৫ এর মে ৭-এ জার্মান সাবমেরিন ব্রিটিশদের একটি বিলাসবহুল জাহাজ আরএমএস লুসিতানিয়া আক্রমণ করে ডুবিয়ে দেয়। এই আক্রমণে মৃত্যু হয় হাজারও মানুষের, যাদের মধ্যে ১২৮ জন মার্কিন নাগরিকও ছিল। যদিও জাহাজটিতে তখন অস্ত্র বহন করা হচ্ছিল, তথাপি ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অ্যামেরিকান সেক্রেটারি অব স্টেট ব্রায়ান-কে বলেন, জাহাজটিতে কোনো অস্ত্র ছিল না। মূলত এ ঘটনার পর থেকেই মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর ফলে ব্রিটিশদের অ্যান্টি-জার্মান প্রোপাগান্ডা অ্যামেরিকাতে সফলতা লাভ করতে আরম্ভ করে (Manning & Romerstein, 2004, p. 175)।

এ ঘটনার পাঁচদিন পর ওয়েলিংটন হাউস বেলজিয়ামে জার্মান নৃশংসতা নিয়ে 'দ্যা রিপোর্ট অব দ্য কমিটি অন অ্যালেজড জার্মান আউটরেজেস' নামক একটি রিপোর্ট পাবলিশ করে, ইতিহাসে যেটি ব্রাইস রিপোর্ট নামে অধিক জনপ্রিয়। রিপোর্টটির প্রণয়ন করেন সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লর্ড ব্রাইস, যিনি অ্যামেরিকাতে অত্যন্ত সম্মানিত একজন কূটনৈতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রিপোর্টটিতে বেলজিয়ান বেসামরিক নাগরিকদের ওপর জার্মান সৈন্যদের নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, শিশু হত্যা ও শিশুদের অঙ্গচ্ছেদের মতো ঘটনাসমূহের বিবরণ অ্যামেরিকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দেয়। যদিও জার্মানরা ব্রাইস রিপোর্টে বর্ণিত মিথ্যা আর গুজব মিশ্রিত দাবিগুলোর প্রতিবাদ করে, কিন্তু তাদের প্রতিবাদ এই রিপোর্টের বিপরীতে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি (Sanders & Taylor, 1982, p. 144)।

ইডিথ ক্যাভেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ নার্স, যিনি ১৯১৫-এর অক্টোবরে জার্মানদের দখলকৃত ব্রাসেলসে গ্রেফতার হওয়া আহত ফ্রেঞ্চ ও ব্রিটিশ সৈন্যদের হাসপাতাল থেকে পালাতে সহায়তা করেন। এই অপরাধে তিনি মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্তা হন। যদিও ক্যাভেল তার অপরাধের কথা অস্বীকার করেননি—যে অপরাধ চিকিৎসা বিভাগের নিরপেক্ষতার আইন ভঙ্গ করে—তথাপি ব্রিটেন তার মৃত্যুকে মহিমান্বিত করে প্রচার করতে আরম্ভ করে। ব্রিটেন ও অ্যামেরিকায় ক্যাভেলের 'নারী' ও 'সেবিকা' পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলে পুস্তিকা প্রকাশিত হয়, সেই সাথে তার গোয়েন্দা পরিচয়কেও সম্পূর্ণরূপে গোপন করা হয় (Rankin, 2009, pp. 36-37)।

জার্মানদের 'বর্বরতার' সংবাদসমূহের বাহুল্যতায় অ্যামেরিকায় সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণের দাবি উঠে। যদিও সে দাবি যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হিসেবেই উত্থিত হয়। অপরদিকে শান্তিবাদীরা এ ধরনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন; সমাজতান্ত্রিক দলগুলো চলমান যুদ্ধকে 'পুঁজিবাদী যুদ্ধ' হিসেবে আখ্যায়িত করে।

১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে উড্রো উইলসন দ্বিতীয়বারের মতো অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। উইলসনের পুনঃনির্বাচন ক্যাম্পেইনের স্লোগান ছিল—'তিনি আমাদের যুদ্ধ থেকে বিরত রেখেছেন'। তখন পর্যন্ত অ্যামেরিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যুদ্ধ-বিরোধী মনোভাব লালন করত; কোনো প্রয়োজন ছাড়া এক রক্তক্ষয়ী ইউরোপীয় যুদ্ধে জড়ানোর কোনো তাগিদই তারা অনুভব করেনি (Chomsky, 1991/1997)। কিন্তু, উইলসনের অভিপ্রায় ছিল অন্য রকম। ১৯১৫-১৯১৬-এর শীত মৌসুমেই উইলসন প্রশাসন যুদ্ধে যোগদানের সংকল্প বিবেচনা করতে শুরু করে (Peterson, 1939, p. 210)। ১৯১৭-এর জানুয়ারিতে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার যিমারম্যান অ্যামেরিকা যুদ্ধে জড়ানোর পূর্বেই অক্ষ শক্তির ক্ষমতা বৃদ্ধি করার নিমিত্তে মেক্সিকোকে যুদ্ধে আহ্বান করে একটি টেলিগ্রাম পাঠান এবং প্রস্তাব রাখেন অ্যামেরিকাকে যুদ্ধে হারিয়ে টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো ও অ্যারিজোনা পুনর্দখল করতে। ঘটনাক্রমে ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স টেলিগ্রামটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়; তারা সেটিকে অ্যামেরিকায় পাঠানোর পর ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখে সেটি হোয়াইট হাউসে পৌঁছে (Peterson, 1939, p. 315)। সংকেতলিপিটির পাঠোদ্ধারের পর ০১ মার্চ তা অ্যামেরিকান সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত হয়। বলাই বাহুল্য, প্রচারের পরপরই সেটি অ্যামেরিকার জনগণকে প্রবলভাবে উত্তেজিত করে তোলে।

অ্যামেরিকান অর্থের ওপর মিত্রশক্তির নির্ভরতা, লুসিতানিয়ার ঘটনা-সহ অন্যান্য জাহাজডুবির ঘটনা, ওয়েলিংটন হাউসের বহুল প্রচারিত ব্রাইস রিপোর্ট এবং সর্বশেষ যিমারম্যান টেলিগ্রাম এর ঘটনা উইলসনকে যুদ্ধবিরোধী সিনেটরদের পাশ কাটিয়ে যেতে সহায়তা করে। যদিও সেসময় অনেক যুদ্ধবিরোধী সিনেটর দাবি করেন যে, ব্রিটেনে বিনিয়োগকারী অনেক ব্যাংকার ও শিল্পপতি অ্যামেরিকাকে অহেতুক রক্তস্নাতের দিকে ধাবিত করছে। অবশেষে এপ্রিলের ৬ তারিখ, ১৯১৭, অ্যামেরিকা জার্মানির বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট উইলসনের বক্তব্য ছিল, আমেরিকা যুদ্ধ করবে গণতন্ত্রের জন্য, কিন্তু সিনেটর লাফলেট তার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, 'আমেরিকাকে যদি গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করতেই হয়, তাহলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভেঙে উপনিবেশগুলোর স্বায়ত্বশাসনের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কেন তারা যুদ্ধ করছে না?' (Brewer, 2009, p. 55)। কিন্তু তার কথায় কেউ ভ্রূক্ষেপ করেনি। ঐ সময়ে লাফলেট যে কথাটি বলেছিলেন, তা ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এরপরও বহুবার যুক্তিসঙ্গত এই প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা সেই একই পদ্ধতিতে মানবতা, মানবাধিকার আর গণতন্ত্রের মিথ্যা দোহাই দিয়ে দুর্বল জাতির ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়।

আমেরিকা যখন যুদ্ধ ঘোষণা করেই ফেলল, তখন সেখানে ব্রিটিশদের প্রোপাগান্ডা চালানোর আর কোনো প্রয়োজন রইল না। অ্যামেরিকার ইতিহাসে প্রথম ড্রাফটিং-এর ফলে ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক সকলকেই মৃত্যুপুরীর উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হলো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের 'স্বাধীনতা' হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। প্রেসিডেন্ট উইলসন জার্মানদের বিরুদ্ধে অ্যামেরিকার অভ্যন্তরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুললেন। গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের মাধ্যমে মার্কিন সরকার অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট, যুদ্ধ ও সরকারবিরোধী সমালোচনাকে—তথা যুদ্ধ-বিরোধিতাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে। সরকার শত শত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করে। সমাজতান্ত্রিক নেতা ইউজিন বলেন, এই যুদ্ধ গরিবরা ধনীদের জন্য লড়ছে; আর সে কারণে তাকে জেলে পাঠানো হয়। যদিও যুদ্ধ শেষে মিলিয়ন অ্যামেরিকান নাগরিক উক্ত দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছিল, কিন্তু ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে কেউ এই দাবি করলে সে নিজেকে আবিষ্কার করত কারাগারে। যুদ্ধ ঘোষণার এক সপ্তাহ পর উইলসন তার বিশেষ আদেশে অ্যামেরিকার নিজস্ব প্রোপাগান্ডা অর্গানাইজেশন কমিটি অন পাবলিক ইনফরমেশন বা CPI প্রতিষ্ঠা করেন, যেটি মূলত ক্রিল কমিশন হিসেবেই ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। এই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল, যুদ্ধে মার্কিনীরা কিভাবে সর্বোত্তম পন্থায় সহায়তা করতে পারে, সে ব্যাপারে অ্যামেরিকার প্রতিটি নাগরিকের কাছে তাদের দেশপ্রেম-নির্ভর বার্তাসমূহ একাধিক বার পৌঁছে দেওয়া। ক্রিল কমিশন নিজেদের কার্যক্রম দুটি অংশে বিভক্ত করে নেয়। একটি অংশ অ্যামেরিকাতে জার্মান বিরোধী প্রোপাগান্ডা পরিচালনা করে, অপর অংশটি কমপক্ষে ত্রিশটি দেশে তাদের প্রোপাগান্ডা কার্যক্রম আরম্ভ করে (Taylor, 1990/2003, pp. 183-185)। সিপিআই-এর চেয়ারম্যান জর্জ ক্রিল তার সংগঠনে যে শুধুমাত্র প্রথিতযশা লেখকদেরই সন্নিবেশ ঘটান তা-ই নয়, বরং এছাড়াও হাজার হাজার লোককে তিনি প্রোপাগান্ডা প্রচারে নিয়োগ করেন (Bruntz, 1938, p. 32)। তারা আমেরিকার মিত্ররাষ্ট্র-সমূহের প্রশংসা সংবলিত মুদ্রিত রচনা বিলি করে, পোস্টার ছাপায়, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় এবং টার্গেটকৃত রাষ্ট্রে তাদের এজেন্ট পাঠায় (Manning & Romerstein, 2004, pp. 65-66)। সিপিআই সংবাদ বিভাগ চব্বিশ ঘণ্টা চালু রাখে; সাংবাদিকগণ সেখান থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে প্রচার করত। এটি 'অফিসিয়াল বুলেটিন' শীর্ষক নিজেদের একটি দৈনিক সংবাদ পত্র-ও পাবলিশ করে, যেখানে সরকারি বিভাগসমূহের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি ছাপা হতো।

প্রেসিডেন্ট উইলসন তার সেনাবাহিনীকে ৩ মিলিয়নে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তরুণদেরকে বাহিনীতে যোগদান করার জন্য উৎসাহিত করতে সিপিআই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বিখ্যাত পোস্টারটি-আঙ্কেল স্যাম-এর 'I WANT YOU'-৫ মিলিয়ন কপি প্রিন্ট করে। সিপিআই এর আর্টিস্টরা ২৫০০ টি ভিন্ন ভিন্ন চিত্তাকর্ষক ও দর্শনীয় ডিজাইন তৈরি করে, যেগুলো সর্বমোট ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) কপি প্রিন্ট করা হয়; যা যুদ্ধরত বাকি সবগুলো রাষ্ট্রের করা প্রিন্টিং-এর মোট সংখ্যা থেকেও বেশি (Brewer, 2009, p. 60)।

১৯১৭ এর ২৫ সেপ্টেম্বর সিপিআই-এর একটি অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় দ্যা ডিভিশন অব ফিল্মস (Ward, 1985, p. 48)। এই বিভাগের মাধ্যমে সিপিআই, মোশন পিকচার বা চলচ্চিত্র বিতরণ করতে শুরু করে। অপরদিকে, মোশন পিকচার ইন্ডাস্ট্রি স্বেচ্ছায় তাদের চলচ্চিত্রে সিপিআই প্রদর্শিত মিত্রশক্তির 'বীরত্ব' ও 'মহানুভবতা' এবং জার্মানদের 'নৃশংসতা', 'নির্মমতা'র চিত্র ফুটিয়ে তোলার পদ্ধতি অনুসরণ করতে আরম্ভ করে। এছাড়াও সিপিআই 'ফোর মিনিট ম্যান' নামে ভলান্টিয়ারদের একটি দল প্রস্তুত করে, ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে যাদের সংখ্যা ৪০,০০০-এ পৌঁছায়। এসব ভলান্টিয়াররা নিয়মিত যুদ্ধের সমর্থনে মুভি থিয়েটারে বিরতি চলাকালীন চার মিনিট বক্তব্য প্রদান করত। ধারণা করা হয়, তাদের বক্তব্য প্রায় ত্রিশ কোটি বার শোনা হয় (Manning & Romerstein, 2004, p. 110)। থিয়েটার মালিকরাও ভলান্টিয়ারদের এই কাজে আন্তরিকভাবে সহায়তা করেন। পরবর্তীকালে জার্মান-বিরোধী বা হিংসাত্মক চলচ্চিত্রগুলো অ্যামেরিকার জনগণের মনে জার্মান জনগণ ও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে এক কুৎসিত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়।

এসকল চলচ্চিত্রে দেখা যায়, জার্মান সৈন্যরা নিষ্ঠুর যান্ত্রিক খুনির মতো হামলা করছে, কিংবা জার্মান অফিসারগণ পাশবিকতার রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বেলজিয়ান নারীদের ধর্ষণ করছে, শিশুদের জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলছে, বৃদ্ধা নারীদেরকে হত্যা করছে। একই সাথে, এই চলচ্চিত্রগুলোতে যুদ্ধবিরোধী নাগরিকদের কাপুরুষ বা ভীতু হিসেবে অভিহিত করা হয়; তাদের দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় (see Ward, 1985, for more details)। চার্লি চ্যাপলিন ও অন্যান্য বিখ্যাত চলচ্চিত্র তারকারা তাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে লিবার্টি বন্ড ক্রয় করতে উৎসাহিত করে।

বলা চলে, সিপিআই ও অন্যান্য যুদ্ধপন্থী অর্গানাইজেশনগুলো শুধুমাত্র প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে যুদ্ধবিরোধী পেসিফিস্ট অ্যামেরিকানদের এতটাই জার্মান-বিরোধী করে তুলতে সক্ষম হয় যে, ১৯১৮-এর এপ্রিলে রবার্ট প্রেগার নামের এক জার্মান অভিবাসী ব্যক্তিকে উত্তেজিত জনতার একটি দল অ্যামেরিকার পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে ফেলে তাকে হত্যা করে। যেসব খনির সত্ত্বাধিকারী কোম্পানিগুলো মন্টানার স্টেটভিত্তিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত, যারা যুদ্ধকে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু সেসময় খনিগুলোর বাসিন্দা অভিবাসী কর্মীরা-যারা তখনো মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেনি অথচ বাধ্যতামূলক ড্রাফ্ট-এর শিকার-যুদ্ধের বিরোধিতা করে। যুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ভারী দল দেখে মার্কিনীরা মন্ট্যানাতে ষড়যন্ত্র 'খুঁজে' পেতে শুরু করল। অতি উৎসাহী নাগরিকরা রিপোর্ট পেশ করল, তারা রাস্তাগুলোতে জার্মান স্পাই দেখতে পেয়েছে, আকাশে জার্মান 'এয়ারশিপ' তাদের নজরে এসেছে। ড্রাফ্ট নিয়ে হাঙ্গামা চরমে পৌঁছুলে মন্ট্যানার যুদ্ধপন্থি নাগরিকরা ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওয়ার বন্ডস্ কেনা এবং জনসম্মুখে দেশপ্রেমের পরিচায়ক কাজ—যেমন : পতাকায় চুম্বন—করতে বাধ্য করে। তাদেরকে আলকাতরা মেখে গায়ে পালক ঢেলে দেওয়া হয়, পেটানো হয়, এমনকি অনেককে জনসম্মুখে হত্যা করা হয়। এই শ্রেণির কিছু ব্যক্তি ইউনিয়ন লিডার ফ্র্যাঙ্ক লিটল-কে বিছানা থেকে ধরে নিয়ে ফাঁসিতে ঝোলায়। অ্যামেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট উচ্ছৃঙ্খল জনতার প্রশংসা করে বলেন, এই ফাঁসির 'উপকারী প্রভাব' রয়েছে।

পরবর্তীকালে আদালত এই ঘটনাকে 'দেশের জন্য হত্যা' হিসেবে অভিহিত করে হত্যকারীদের নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তিদের নির্দোষ ঘোষণা করে (Stehman, 2018)। অথচ সেই সময়ে মার্কিন অভিবাসীদের মধ্যে জার্মানরাই অ্যামেরিকাতে সবচেয়ে সম্মানিত অভিবাসী হিসেবে অভিহিত ছিল।

১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে ঘোষিত দেশদ্রোহ আইন অনুযায়ী পাবলিক অফিসিয়ালরা সরকার সম্পর্কে যেকোনো 'অননুগত, অবজ্ঞাকারী, অমার্জিত, ঘৃণাপূর্ণ বা অবমাননাকর কথা' বলা বা প্রকাশ করা ব্যক্তিকে—অর্থাৎ, যেকোনো ব্যক্তি, যে যুদ্ধ বিরোধী কোনো কথা বলবে—গ্রেফতার করার অনুমোদন লাভ করে। সরকার যেকোনো ব্যক্তিকে যুদ্ধে ড্রাফট করতে পারত, যুদ্ধ-বিরোধী যে কাউকে জেলে বন্দি করতে পারত, ভিন্নমত পোষণকারীদের দমন করতে পারত (Olmsted, 2009)।

মোটকথা, যুদ্ধবিরোধী অ্যামেরিকান জনগণকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জার্মানদের হত্যা করতে উন্মাদ এক জাতিতে পরিণত করার যে কৃতিত্ব, তার একটা বড় অংশই ক্রিল ও তার পরিচালিত সিপিআই-র প্রাপ্য। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে বারো অগাস্ট সিপিআই ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে জর্জ ক্রিল তার যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা 'How We Advertised America' শীর্ষক বইতে বলেন, 'এই বৃহৎ যুদ্ধের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যা আমরা স্পর্শ করিনি, এমন কোনো মাধ্যম নেই যা আমরা ব্যবহার করিনি। ছাপার অক্ষর, কথা, চলচ্চিত্র, টেলিগ্রাফ, ক্যাবল, ওয়্যারলেস, পোস্টার, সাইনবোর্ড—এই সবগুলো উপকরণই অ্যামেরিকা কেন যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে, জনগণকে তার কারণ বোঝাতে আমরা আমাদের ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করেছি।' (Creel, 1920, p. 05)।

মজার বিষয় হলো, বিংশ শতাব্দীর আলোচিত-সমালোচিত মনোবিজ্ঞানী সিগম্যান্ড ফ্রয়েডের একই সঙ্গে ভাতিজা ও ভাগিনা, জনসংযোগ-এর জনক এডওয়ার্ড বার্নেইস ছিলেন এই বিখ্যাত সিপিআই-এরই একজন গ্র্যাজুয়েট (Manning & Romerstein, 2004, p. xxix)। বার্নেইস সিপিআই-এর লাতিন আমেরিকা ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন (Tye, 1998; Osgood & Frank, 2010)। পরবর্তীকালে সিপিআইতে থাকাকালীন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি 'সম্মতির প্রকৌশলবিদ্যা' নামক পরিভাষাটির বিকাশ ঘটান।

যাই হোক, স্বীয় রাষ্ট্রের জনগণের মতামত পরিবর্তনের যে দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট উইলসন তার অনুগত ক্রিলের ওপর অর্পণ করেছিলেন, সেই দায়িত্ব তিনি সফলতার সাথে পালন করতে সক্ষম হন। যুদ্ধের পুরোটা সময় সিপিআই ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আমেরিকানদেরকে যুদ্ধে সমর্থন অব্যাহত ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। ব্রিটেনই সর্বপ্রথম ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রে যুদ্ধকালীন প্রোপাগান্ডার সফল এক্সপেরিমেন্ট পরিচালনা করলেও অ্যামেরিকা, বিশেষ করে বললে জর্জ ক্রিল প্রোপাগান্ডাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। সিপিআই-এর সফলতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রোপাগান্ডিস্টদের জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করে, সেই সঙ্গে প্রোপাগান্ডার প্রাথমিক যুগের রথী-মহারথীদের জন্য আদর্শ একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

টিকাঃ
[১] Pope Gregory XV
[২] Sacra Congregatio de Propaganda Fide
[৩] Manipulate- দুঃখজনকভাবে এটিরও সঠিক অর্থ প্রকাশে সক্ষম কোনো বাংলা প্রতিশব্দ নেই।
[১] RMS Lusitania
[২] The Report of the Committee on Alleged German Outrages
[৩] Bryce Report
[৪] Edith Cavell
[১] Pacifist
[২] He Kept Us Out of War
[৩] Arthur Zimmermann
[১] LaFollette
[২] সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ
[৩] Espionage
[4] Sedition
[৫] Eugene V. Debs
[৬] Committee on Public Information
[৭] Creel Commission
[১] George Creel
[২] বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে (১৯১০-১৯১৯) সবচেয়ে জনপ্রিয় গণমাধ্যম ছিল সংবাদপত্র, মাসিক, ষাণ্মাসিক পত্রিকা ইত্যাদি। তখন পর্যন্ত রেডিও প্রযুক্তির ততটা অগ্রগতি হয়নি, আর রেডিও এতটা সহজলভ্যও ছিল না। সেই সাথে সাদাকালো নির্বাক চলচ্চিত্র ছিল জনগণের বিনোদনের অন্যতম উৎস। উপরিউক্ত দুটি সেক্টর এবং পোস্টার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
[৩] Uncle Sam, কাল্পনিক চরিত্র
[১] উদাহরণ: ‘The Kaiser’, ‘The Beast of Berlin’ etc.
[২] Montana, অ্যামেরিকার একটি অঙ্গরাজ্য
[১] যুদ্ধে সামরিক আক্রমণের অর্থায়নের জন্য জনগণ কর্তৃক সরকারকে 'ঋণ' দেওয়ার একটি উপায়। ক্রয়কৃত বন্ড পরবর্তীকালে বিক্রয় করা যায়, তবে এতে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই বন্ড বিক্রয় করতে 'দেশপ্রেম'-এর বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রয়োজন পড়ে।
[২] Patriotic Murder
[১] Double Nephew
[২] Engineering Consent'

📘 প্রোপাগান্ডা 📄 যুদ্ধোত্তর জনপ্রতিক্রিয়া

📄 যুদ্ধোত্তর জনপ্রতিক্রিয়া


প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করে মিত্র পক্ষ; যুদ্ধ জয়ের পর যুদ্ধের সূচনা ঘটানো ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে জার্মানিকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা করা হয়। মুসলিমদের শেষ ভরসা ও ঐক্যের প্রতীক উসমানীয় সালতানাত ভেঙে মিত্রশক্তি নিজেদের মাঝে ভাগ করে নেয়। পশ্চিমাদের সাম্রাজ্য বৃদ্ধির নেশায় শুরু করা গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারায় ০৮ মিলিয়ন মানুষ, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক ছিল বেসামরিক (Howard, 2002, Appendix-II)। যুদ্ধ চলাকালীন প্রেসিডেন্ট Wilson এর স্লোগান ছিল, 'এই যুদ্ধ সকল যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য যুদ্ধ', এবং 'গণতন্ত্রের জন্য পৃথিবীকে নিরাপদ করার যুদ্ধ'।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যখন সিপিআই-এর কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়ে গেল, তখন চারদিক থেকে শুরু হলো এর তীব্র সমালোচনা। অ্যামেরিকায় 'যাইহোক, এটা শুধুই একটা প্রোপাগান্ডা' পরিণত হয় জনপ্রিয় একটি প্রবাদে (Manning & Romerstein, 2004)। সেই সময় সর্বপ্রথম প্রোপাগান্ডা শব্দটিকে সকলেই নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করতে শুরু করে। প্রোপাগান্ডা শব্দের প্রতিশব্দ হয়ে গেল প্রতারণা, ধোঁকা ইত্যাদি। জার্মানদের নির্মমতার যে কাহিনী অ্যামেরিকাতে ছড়িয়েছিল, অধিকাংশ তদন্তে দেখা গেল, ওইসব কাহিনিতে সত্য আর মিথ্যা মিলে একাকার। ফলস্বরূপ, জনমনে ধারণা তৈরি হয়ে গেল, প্রোপাগান্ডা মানেই মিথ্যা আর প্রবঞ্চনা।

যুদ্ধ শেষে যারা প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাচ্ছিল, তাদের জন্য বিরাট এক বিস্ময় লুকিয়ে ছিল রাশিয়ার সিজারের গোপন আর্কাইভে। বলশেভিক বিপ্লবীরা পশ্চিমা স্কলারদের সেখানে থাকা মিত্রপক্ষের গোপন চুক্তির কপি যাচাই করার অনুমতি প্রদান করে। এই চুক্তিগুলোতে দেখা যায়, যুদ্ধ সমাপ্ত হবার আগেই মিত্রপক্ষ পরিকল্পনা করে রেখেছিল যে, যুদ্ধের পর তারা উত্তর ইউরোপ দখল করবে। এতসব বিতর্কের কোনো সমাধান হলো না; তাই যুদ্ধ পরবর্তী বিশ বছর যাবৎ অ্যামেরিকানরা WWI-এ তাদের অংশগ্রহণের কারণ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত থাকল। অ্যামেরিকা আসলে কীসের জন্য যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল? জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বর্ণ, স্বাধীনতা, ব্রিটেন, গণতন্ত্র নাকি এলিট শ্রেণির স্বার্থের জন্য? (Olmsted, 2009)।

এই যুদ্ধ শেষ হবার এক দশকেরও বেশি সময় পর, ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন সিনেট প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অস্ত্রশিল্পের সম্পৃক্ততা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় এবং কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটি পরবর্তী দু বছর ধরে প্রায় মার্কিন সরকারের দুই দশক পূর্বে করা ত্রুটিসমূহ তদন্তের কাজ হাতে নেয়। কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জেরাল্ড নাই-এর তদন্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান যে, যুদ্ধের সময়ে অস্ত্র বাণিজ্যের স্বত্বাধিকারীগণ স্টেট ডিপার্টমেন্ট-এর শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। অনেকেই যুদ্ধে করা বাণিজ্য থেকে বিশাল সৌভাগ্যশালী বনে যায়, আর অন্যান্য ব্যবসায়ীরা যুদ্ধকে দক্ষিণ অ্যামেরিকা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করে। নাই-কমিটির তদন্ত জনগণকে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে যে, 'মৃত্যু বণিক' তথা অস্ত্র-ব্যবসায়ীগণ যুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। যদিও 'নাই' কমিটি এই অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় যে, অস্ত্র ব্যবসায়ীগণ প্রেসিডেন্টকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে কি না।

আঠারো মাস তদন্তের পর যুদ্ধের সঙ্গে অস্ত্র-ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ 'অনৈতিক' সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়ে নাই-কমিটি যুদ্ধের পর যাদের দিকে প্রথম অভিযোগের তীর ছোঁড়া হয়েছিল, সেই ব্যাংকারদের দিকে ফোকাস করে। ইউরোপে যুদ্ধ শুরুর পর উইলসন প্রশাসন মিত্রপক্ষকে অধিক ঋণ প্রদান করতে ব্যাংকারদের অনুমোদন দেয়, এজন্য তাদের পলিসিতেও পরিবর্তন নিয়ে আসে। আর এসব ব্যাংকের মধ্যে সর্বপ্রথম অবস্থানে ছিল 'হাউস অব মরগান'। ১৯১৫ থেকে ১৯১৭-এর মধ্যে অ্যামেরিকা থেকে কেনা মিত্রপক্ষের যুদ্ধোপকরণের ৮৪% লেনদেন হয় মরগান ব্যাংক-এর মাধ্যমে। ব্রিটিশদের যখন অস্ত্র ক্রয়ের সক্ষমতা শেষ হয়ে যায়, তখন মরগান ব্যাংক তাদেরকে শত শত মিলিয়ন ডলার ধার দেয়। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে ওয়াল স্ট্রীট-এর বিনিয়োগকারী ব্যাংকারদের ওপর এক তদন্তে বেরিয়ে এল যে, আগের দু বছর ব্যাংকটির সত্ত্বাধিকারী মরগান কোনো আয়কর পরিশোধ করেননি। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও নাই-কমিটি প্রমাণ করার মতো কিছু খুঁজে পেল না। নাই-কমিটি একটি প্রশ্নের উত্তর বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বের করার চেষ্টা করছিল, মার্কিন সরকার কেন প্রথমে অক্টোবর, ১৯১৪-এ এবং আগস্ট, ১৯১৫-এ পুনরায় মিত্রপক্ষকে ঋণ প্রদানের অনুমোদন দেয়। যেখানে যুদ্ধের শুরুতে অ্যামেরিকায় উভয়পক্ষকেই ঋণ প্রদান নিষিদ্ধ ছিল।

যাইহোক, কমিটির তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয় যে, আগস্ট, ১৯১৫-এ প্রেসিডেন্ট কর্তৃক দ্বিতীয় দফায় লোন অনুমোদনের সময় গুরুতর কিছু ঘটে। ১৯১৫-এ ব্রিটেন অ্যামেরিকার সঙ্গে বিশাল আকারের পণ্য লেনদেন করছিল, যা বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ডলারের বিপরীতে পাউন্ড-এর মূল্য পতন ঘটে; উভয়পক্ষই বুঝতে পারে যে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্রিটেনকে অ্যামেরিকান পণ্য ক্রয় বন্ধ করে দেওয়া লাগতে পারে। মার্কিন কোষাগার এর সেক্রেটারি, উইলিয়াম ম্যাকএডু এবং সেক্রেটারি অব স্টেট রবার্ট ল্যানসিং দাবি করে যে, পাউন্ড-এর দরপতন অ্যামেরিকারও অর্থনৈতিক ধ্বংসের কারণ হতে পারে। ম্যাকএডু প্রেসিডেন্টের কাছে লিখল, অ্যামেরিকার সমৃদ্ধি চলমান ও বিশাল বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল; তাই এই সমৃদ্ধি সুরক্ষিত রাখতে তাদের অবশ্যই তাদের ক্রেতাকে ক্রয় করতে সর্বপ্রকার সহায়তা করা উচিত। তার মতে, গ্রেট ব্রিটেন সবসময়ই তাদের সেরা ক্রেতা ছিল এবং আছে। ল্যানসিং আরও এক ধাপ এগিয়ে ধারণা করলেন, অ্যামেরিকা যদি ব্রিটেনকে ক্রয় করার ব্যাপারে সহায়তা না করে, তাহলে শিল্পক্ষেত্রে মন্দা, অলস পুঁজি আর শ্রম, অসংখ্য ঘাটতি, আর্থিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, জনসাধারণের মাঝে অস্থিরতা এবং শ্রমিক শ্রেণির মাঝে ভোগান্তি নেমে আসবে।

এই বিপর্যয় ঠেকাতে দুজন মিলে ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডকে তাদের লোন প্রদানের নীতি শিথিল করতে প্ররোচিত করেন, যা ব্রিটেনকে অধিক অস্ত্র কেনার অনুমোদন দেবে। কমিটির কয়েকজন সদস্যের মতে, তারা দুজন ব্যাংকসমূহের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এই তথ্যের উন্মোচনের ফলে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশ্বাস এ ব্যাপারে আরও দৃঢ় হচ্ছিল যে, ব্যাংকাররা মার্কিন পলিসিকে যুদ্ধের দিকে ধাবিত করেছে। দুজন ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড মেম্বার-পল ওয়ারবার্গ ও অ্যাডলফ মিলার, দুজনেই জার্মান বংশোদ্ভূত-ঐ সময়ে আইনে পরিবর্তন আনার ব্যাপারে বিরোধিতা করেন। ওয়ারবার্গ ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের গভর্নরকে লিখিত মন্তব্য করেন যে, বাণিজ্য চলমান রাখতে এই যুদ্ধ চলমান রাখতে হবে—এ ধরনের চিন্তা কদর্যতা ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু ম্যাকএডু প্রেসিডেন্টকে বলেন, তারা দুজন তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি টান থেকে এই বিরোধিতা করছে।

১৯১৫, ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড আইন শিথিল করে, অতঃপর হাউস অব মরগান ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে দ্রুতই বিশাল লোন প্রদান করল। যদিও কমিটি আলাদাভাবে কোনো ব্যাংককে দোষী সাব্যস্ত করতে ব্যর্থ হয়, তথাপি তারা আবিষ্কার করে, অ্যামেরিকান সরকারের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। লোন প্রদানের বিতর্ক কংগ্রেসে না হয়ে হয়েছিল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের গোপন মিটিং-এ। সবচেয়ে বিস্ফোরক যে তথ্য তারা আবিষ্কার করে, সেটি হচ্ছে-প্রেসিডেন্ট উইলসন অ্যামেরিকান নাগরিকদেরকে ও কংগ্রেসকে যুদ্ধে মিত্রপক্ষের প্রকৃত লক্ষ্যের ব্যাপারে মিথ্যা বলেছেন। তদন্তের শেষ দিকে গোপন ডকুমেন্ট থেকে কমিটি জানতে পারে যে, ১৯১৭-এর এপ্রিলে অ্যামেরিকার আক্রমণের পরপরই প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি অব স্টেট মি. ল্যানসিং জানতে পারেন যে, মিত্রপক্ষ যুদ্ধে বিজয় অর্জন করার পর রাজ্যাংশ ভাগাভাগির ব্যাপারে গোপন চুক্তি করে, কিন্তু তিনি সে বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। ল্যানসিং-এর ডায়েরি আর অন্যান্য পূর্ববর্তী গোপন ডকুমেন্ট প্রমাণ করে যে, প্রেসিডেন্ট ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই গোপন চুক্তির কথা জানতেন (Olmsted, 2009)।

নাই-কমিটি তাদের তদন্তে প্রমাণ করে দেয় যে, বিশ-এর দশকে যুদ্ধবিরোধীরা যে দাবি করত, সেটি সঠিক ছিল—প্রেসিডেন্ট সত্য লুকিয়েছিলেন। কমিটির চেয়ারম্যান নাই তাই সরাসরিই মন্তব্য করেন, উইলসন জাতির কাছে মিথ্যা বলেছে।

পরবর্তীকালে বার্নেইস মন্তব্য করেন, ঐ সময়টাতে প্রোপাগান্ডা এতটাই নেতিবাচক শব্দ হিসেবে প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল যে, তিনি এটিকে পাবলিক রিলেশন দিয়ে প্রতিস্থাপিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর এভাবেই বার্নেইস সূচনা করেন নতুন এক ইন্ডাস্ট্রির-পাবলিক রিলেশন।

টিকাঃ
[৩] উসমানীয় সালতানাত ভাঙার পর থেকেই মুসলিমদের চূড়ান্ত দুর্দশার সূচনা। মুসলিমরা হতাশার সাগরে হাবুডুবু খেয়ে উত্তরণের কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। অতঃপর কেউ মুক্তির উপায় হিসেবে বিজয়ীদের অনুসরণ করে পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে শুরু করল, কেউ-বা অন্য আরেক ভ্রান্ত মতবাদ সমাজতন্ত্রকে বেছে নিল, কেউ বা জাতীয়তাবাদ, আবার কেউ-বা দুটি মতবাদের মিশেলে নব্য বিপ্লব ঘটাতে চাইল। খুব কম সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীই ইসলামের আদি বৈশিষ্ট্য আঁকড়ে ধরে রাখার দুঃসাহস দেখিয়েছিল। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদের পতাকার আশ্রয়ে স্বায়ত্বশাসন লাভ করলেও ইসলামি শাসন আর কেউ ফিরিয়ে আনতে পারেনি, একমাত্র তালিবান ব্যতীত।
[১] প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
[২] Death merchants

ফন্ট সাইজ
15px
17px