📄 শেষ পাতার আগের কথা
ধরা যাক, আপনার জীবনে কোনো স্বপ্ন ছিল না। আপনি আপনার গল্প নতুন করে লেখার কথা ভাবেননি। আপনার জন্য নতুন কোনো রাস্তাও খুলে যায়নি। কোনো ভালো চিন্তা আপনার মাঝে প্রভাব ফেলেনি। তাহলে কি আপনার জন্য প্রোডাক্টিভিটি লেসনস আর মনোযোগ-সম্পর্কিত বই পড়ার প্রয়োজন নেই? আপনি কি এ বই পড়বেন না?
আমরা বলব, না। বরং আপনি চাকরি জীবনে যেকোনো কাজ করার জন্য হলেও প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে থাকুন, মনোযোগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। কালের পরিক্রমায় এ অভ্যাস আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াবে। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে আপনি কিছু একটা করতে পারবেন; কোনো না কোনো গঠনমূলক অবদান রাখতে একদিন সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।
মনোযোগের এ অভ্যাসটি সন্তান প্রতিপালনেও আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন। ছেলেমেয়ে মানুষ করতে গিয়ে যে অবর্ণনীয় কষ্ট আর ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তার জন্যও তো মনোযোগ দরকার।
আমরা যে পরিবারে সন্তানদের সাথে ২০ বছর বা তারচেয়েও বেশি সময় কাটাই, এ দীর্ঘ সময়টা অর্থবহ করে তোলার জন্য কোন কোন মূল্যবোধের ওপর পরিবার গড়ে তোলা উচিত?
কোন মূলনীতিগুলো সাপ্তাহিক ও মাসিক পারিবারিক সভায় থাকা দরকার? ভ্রমণে বের হলে কিংবা সাপ্তাহিক ছুটিতে কোন ধরনের বিষয়গুলোর যথার্থ প্রয়োগ হওয়া উচিত?
এমন বহু পরিবার আছে যারা জীবনের বড় একটি অংশ অতিবাহিত হওয়ার পরও সন্তানদেরকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো শেখাতে পারে না—
» অন্যদের সাথে ব্যবহার
» মতভেদ হলেও একসাথে থাকা
» জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া
» পারিবারিক ভাঙন রোধে করণীয়
» আশপাশের মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা
» দায়িত্ব ও অধিকার-বিষয়ক জ্ঞান
» অধিকার আদায়ের যথার্থ সময়জ্ঞান ও পন্থা
এ ধরনের আরো অনেক বিষয় প্রতিটা পরিবারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা বাঞ্ছনীয়। এমন যেন না হয়, ছেলেমেয়ে বড় হয়ে বিয়ে করে ফেলেছে অথচ এই মৌলিক বিষয়গুলোই জানে না, বড় বড় ব্যাপারগুলো তো অনেক পরের কথা।
একজন খতিব নিজের এলাকার মসজিদে প্রতি সপ্তাহে কোন কোন বিষয়ের ওপর আলোচনা করবেন তা নির্ণয়ে মনোনিবেশ করা তার কর্তব্য।
» প্রতি জুমার খুতবায় যে বিষয়ে আলোচনা করবেন, সেখানে কোন মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
» খতিব যদি টানা কয়েক সপ্তাহ তাওহিদের বক্তৃতা দেন এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনা বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেন, তাহলে এমন কিছু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হৃদয় মুসল্লিদের মাঝে খুঁজে পাওয়া সম্ভব যারা বাস্তবে যত বড় সমস্যার মুখোমুখিই হোক না কেন, দৃঢ় থাকবে।
ধরা যাক, আপনার জীবনে কোনো স্বপ্ন ছিল না। আপনি আপনার গল্প নতুন করে লেখার কথা ভাবেননি। আপনার জন্য নতুন কোনো রাস্তাও খুলে যায়নি। কোনো ভালো চিন্তা আপনার মাঝে প্রভাব ফেলেনি। তাহলে কি আপনার জন্য প্রোডাক্টিভিটি লেসনস আর মনোযোগ-সম্পর্কিত বই পড়ার প্রয়োজন নেই? আপনি কি এ বই পড়বেন না?
আমরা বলব, না। বরং আপনি চাকরি জীবনে যেকোনো কাজ করার জন্য হলেও প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে থাকুন, মনোযোগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। কালের পরিক্রমায় এ অভ্যাস আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াবে। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে আপনি কিছু একটা করতে পারবেন; কোনো না কোনো গঠনমূলক অবদান রাখতে একদিন সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।
মনোযোগের এ অভ্যাসটি সন্তান প্রতিপালনেও আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন। ছেলেমেয়ে মানুষ করতে গিয়ে যে অবর্ণনীয় কষ্ট আর ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তার জন্যও তো মনোযোগ দরকার।
আমরা যে পরিবারে সন্তানদের সাথে ২০ বছর বা তারচেয়েও বেশি সময় কাটাই, এ দীর্ঘ সময়টা অর্থবহ করে তোলার জন্য কোন কোন মূল্যবোধের ওপর পরিবার গড়ে তোলা উচিত?
কোন মূলনীতিগুলো সাপ্তাহিক ও মাসিক পারিবারিক সভায় থাকা দরকার? ভ্রমণে বের হলে কিংবা সাপ্তাহিক ছুটিতে কোন ধরনের বিষয়গুলোর যথার্থ প্রয়োগ হওয়া উচিত?
এমন বহু পরিবার আছে যারা জীবনের বড় একটি অংশ অতিবাহিত হওয়ার পরও সন্তানদেরকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো শেখাতে পারে না—
» অন্যদের সাথে ব্যবহার
» মতভেদ হলেও একসাথে থাকা
» জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া
» পারিবারিক ভাঙন রোধে করণীয়
» আশপাশের মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা
» দায়িত্ব ও অধিকার-বিষয়ক জ্ঞান
» অধিকার আদায়ের যথার্থ সময়জ্ঞান ও পন্থা
এ ধরনের আরো অনেক বিষয় প্রতিটা পরিবারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা বাঞ্ছনীয়। এমন যেন না হয়, ছেলেমেয়ে বড় হয়ে বিয়ে করে ফেলেছে অথচ এই মৌলিক বিষয়গুলোই জানে না, বড় বড় ব্যাপারগুলো তো অনেক পরের কথা।
একজন খতিব নিজের এলাকার মসজিদে প্রতি সপ্তাহে কোন কোন বিষয়ের ওপর আলোচনা করবেন তা নির্ণয়ে মনোনিবেশ করা তার কর্তব্য।
» প্রতি জুমার খুতবায় যে বিষয়ে আলোচনা করবেন, সেখানে কোন মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
» খতিব যদি টানা কয়েক সপ্তাহ তাওহিদের বক্তৃতা দেন এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনা বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেন, তাহলে এমন কিছু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হৃদয় মুসল্লিদের মাঝে খুঁজে পাওয়া সম্ভব যারা বাস্তবে যত বড় সমস্যার মুখোমুখিই হোক না কেন, দৃঢ় থাকবে।
📄 ভারসাম্যে পরিপূর্ণ এক জীবন
এই বইয়ের শেষ পর্যায়ে এসে পাঠক জিজ্ঞেস করতে পারেন, লেখক যে মনোযোগের দিকে আহ্বান করেছেন, দেশ-বিদেশের নানা উদাহরণ টেনেছেন, শত শত উপমা আর উপকারিতা বর্ণনা করেছেন, সেটা কি আমাদের আশা পূরণ করতে পারবে? আমরা যত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, তার সমাধান কি এখান থেকে পাব?
এ প্রশ্নের উত্তরে বলব, এ অভ্যাসের কারণে আপনার দুই-তৃতীয়াংশ সময় আপনি নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং উপকারী চিন্তায় ব্যয় করতে পারবেন। জীবন পরিপূর্ণ হবে অনাবিল সুখের পরশে। আর অতিরিক্ত যে সময়টুকু হাতে থাকবে তা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ কঠিন কাজ। সফলতা অর্জন করা এবং মনোযোগ নিবদ্ধ করার অর্থ এই নয় যে, প্রচেষ্টা, চিন্তা আর ক্ষমতার পেছনে পুরো সময় ব্যয় করে ফেলবেন। অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো সময় থাকবে না—এমনটা নিশ্চয়ই হতে দেওয়া যাবে না। তাহলে কিছু দিনের মধ্যে আপনার ব্যর্থতা অবশ্যম্ভাবী।
যখনই আপনার চিন্তা, পরিকল্পনা ও কাজে আপনি সফল হবেন, কিন্তু পরিবারকে অখুশি করবেন, কর্মে ব্যর্থতার গ্লানি বহন করতে শুরু করবেন, আত্মীয়দের হক আদায়ে পিছপা হবেন, অথবা কোনো দায়িত্ব পালনে অনীহা আসবে, তখন আপনি ব্যর্থদের কাতারে চলে যাবেন। চিন্তা ও পরিকল্পনায় সফল হয়ে আকাশ ছুঁয়ে ফেললেও বাস্তবে আপনি একজন ব্যর্থ মানুষই থেকে যাবেন। প্রবল ভালোবাসায় যে মেঘ ছুঁয়েছেন, তার বজ্রাঘাতেই আপনার সুন্দর জীবনের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটবে।
ভারসাম্য রক্ষা করতে পারাটা খুবই জরুরি। সব বিষয়কে আপনার গুরুত্ব দিতে হবে। যেকোনো ব্যাপারে উদাসীনতা কিংবা অবহেলার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে ব্যর্থতা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভারসাম্যের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে—
‘তোমার রবের ওপর তোমার হক আছে। তোমার নিজের ওপর তোমার হক আছে। তোমার পরিবারের ওপর তোমার হক আছে। প্রত্যেকের হক যথাযথভাবে আদায় করো।’
সফল তো তারাই, যারা তাদের চিন্তা ও পরিকল্পনাকে জীবনে যথার্থরূপে বাস্তবায়ন করতে পারেন। তারা প্রত্যেক বিষয়ে নিপুণভাবে মনোযোগ দিতে পারেন। আবার একই সময়ে তারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সব ক্ষেত্রে তাদের চেষ্টা, কর্ম ও পরিশ্রমের সামঞ্জস্য ঘটে।
একজন মানুষের নিজস্ব পরিকল্পনার বাইরেও কিছু দায়িত্ব থাকে। আশপাশের মানুষের প্রতি তার হক থেকে যায়। আমাদের পরিপূর্ণ বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশ তখনই ঘটবে যখন আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেবো, কোথাও কোনো প্রকার ঘাটতি রাখব না।
এই বইয়ের শেষ পর্যায়ে এসে পাঠক জিজ্ঞেস করতে পারেন, লেখক যে মনোযোগের দিকে আহ্বান করেছেন, দেশ-বিদেশের নানা উদাহরণ টেনেছেন, শত শত উপমা আর উপকারিতা বর্ণনা করেছেন, সেটা কি আমাদের আশা পূরণ করতে পারবে? আমরা যত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, তার সমাধান কি এখান থেকে পাব?
এ প্রশ্নের উত্তরে বলব, এ অভ্যাসের কারণে আপনার দুই-তৃতীয়াংশ সময় আপনি নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং উপকারী চিন্তায় ব্যয় করতে পারবেন। জীবন পরিপূর্ণ হবে অনাবিল সুখের পরশে। আর অতিরিক্ত যে সময়টুকু হাতে থাকবে তা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ কঠিন কাজ। সফলতা অর্জন করা এবং মনোযোগ নিবদ্ধ করার অর্থ এই নয় যে, প্রচেষ্টা, চিন্তা আর ক্ষমতার পেছনে পুরো সময় ব্যয় করে ফেলবেন। অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো সময় থাকবে না—এমনটা নিশ্চয়ই হতে দেওয়া যাবে না। তাহলে কিছু দিনের মধ্যে আপনার ব্যর্থতা অবশ্যম্ভাবী।
যখনই আপনার চিন্তা, পরিকল্পনা ও কাজে আপনি সফল হবেন, কিন্তু পরিবারকে অখুশি করবেন, কর্মে ব্যর্থতার গ্লানি বহন করতে শুরু করবেন, আত্মীয়দের হক আদায়ে পিছপা হবেন, অথবা কোনো দায়িত্ব পালনে অনীহা আসবে, তখন আপনি ব্যর্থদের কাতারে চলে যাবেন। চিন্তা ও পরিকল্পনায় সফল হয়ে আকাশ ছুঁয়ে ফেললেও বাস্তবে আপনি একজন ব্যর্থ মানুষই থেকে যাবেন। প্রবল ভালোবাসায় যে মেঘ ছুঁয়েছেন, তার বজ্রাঘাতেই আপনার সুন্দর জীবনের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটবে।
ভারসাম্য রক্ষা করতে পারাটা খুবই জরুরি। সব বিষয়কে আপনার গুরুত্ব দিতে হবে। যেকোনো ব্যাপারে উদাসীনতা কিংবা অবহেলার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে ব্যর্থতা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভারসাম্যের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে—
‘তোমার রবের ওপর তোমার হক আছে। তোমার নিজের ওপর তোমার হক আছে। তোমার পরিবারের ওপর তোমার হক আছে। প্রত্যেকের হক যথাযথভাবে আদায় করো।’
সফল তো তারাই, যারা তাদের চিন্তা ও পরিকল্পনাকে জীবনে যথার্থরূপে বাস্তবায়ন করতে পারেন। তারা প্রত্যেক বিষয়ে নিপুণভাবে মনোযোগ দিতে পারেন। আবার একই সময়ে তারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সব ক্ষেত্রে তাদের চেষ্টা, কর্ম ও পরিশ্রমের সামঞ্জস্য ঘটে।
একজন মানুষের নিজস্ব পরিকল্পনার বাইরেও কিছু দায়িত্ব থাকে। আশপাশের মানুষের প্রতি তার হক থেকে যায়। আমাদের পরিপূর্ণ বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশ তখনই ঘটবে যখন আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেবো, কোথাও কোনো প্রকার ঘাটতি রাখব না।
📄 মনোযোগ লাভের কার্যকরী পন্থা
মনোযোগ লাভের সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা হলো আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
যে ব্যক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুখী হতে চায়, তাকে আল্লাহর সাথে উত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতেই হবে।
পেছনের অধ্যায়গুলোতে মনোযোগ অর্জনের যত কলাকৌশল বলা হয়েছে তার সবই নির্ভর করে এই বিষয়টির ওপর। যে এটি অর্জন করতে পারবে না, তার বাকি সব অর্জন বৃথা।
এটিই জীবনের প্রকৃত অর্থ, সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য। যদি কারো ন্যূনতম জ্ঞান-বুদ্ধি থাকে, সে যেন এর আঙিনায় নিজেকে স্থাপন করে নেয়। এক মুহূর্ত সময়ও যেন হাত ফসকে পালিয়ে না যায়। সময় যতই অতিবাহিত হোক, বসন্ত একদিন আসবেই জীবনে।
আপনি যদি আপনার কোনো স্বপ্ন পূরণ করতে চান, তাহলে মসজিদমুখী হতে শিখুন। সালাতের হক আদায় করুন। যখনই শুনতে পাবেন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’, তখন যত ব্যস্ততাই আপনাকে ঘিরে থাক না কেন, ক্ষণিকের জন্য সেসব ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে রাখুন। আপনি কোন সভায় আছেন, তার পরোয়া করবেন না। হৃদয়ের আহ্বান ও মনের প্রশান্তির পথে যা কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাকে কখনো গুরুত্ব দেবেন না। যে ব্যক্তি এমন কিছুকে গুরুত্ব দেয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়েন! আর যে ব্যক্তি সুখের সময়েও আল্লাহকে আকুলভরে স্মরণ করে, আল্লাহ তাকে দুঃসময়ে আগলে রাখেন।
আমাদের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আগ্রহ মিশে আছে। সিজদায় গিয়ে কিংবা দুআয় যখন মহান রবকে আহ্বান করা হয়, তখন যে স্বাদ পাওয়া যায়, তার বিবরণ শুধু সেই দিতে পারবে যে তা অনুভব করেছে দুনিয়ার বুকে। আর যদি তার সাথে যুক্ত হয় একান্তে নফল সালাত পড়া কিংবা শেষ রাতে জায়নামাজে কিছু সময় কাটানো, তার চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। সেই সাথে কেউ যদি এ কাজটি অভ্যাসে পরিণত করতে পারে, তাহলে সে দুনিয়ায় থেকেই জান্নাতের খানিকটা নিয়ামত পেয়ে গেল।
আপনার হৃদয়কে কুরআনের আঙিনায় ছেড়ে দিন। কুরআনের সাথে বেশ ভালো একটি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। কুরআনের কিছু পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করাকে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত করুন। প্রতিদিন কুরআন নিয়ে ভাবার যেন নির্দিষ্ট সময় থাকে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আপনি ধীরে ধীরে অনুভব করবেন, সব কিছু পেয়ে গেছেন। এমন অনাবিল প্রশান্তির স্বর্গীয় স্বাদ আর কিছুতেই পাবেন না।
আল্লাহর আনুগত্য (সালাত, সিয়াম, সাদাকা, যিকর, তিলাওয়াত, তাদাব্বর, আত্মীয়তার সম্পর্ক, উমরাহ) যত রকমের হতে পারে, সবগুলোতে যেন আপনার সামান্য হলেও অংশ থাকে। আল্লাহর নিদর্শনকে সম্মান করুন। হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতে থাকুন। যদি আপনার রব এবং তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে কোনো আদেশ জানতে পারেন, তবে তা পালনে আত্মনিয়োগ করুন।
যে কাজে আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জনের সামান্যতম আশঙ্কা থাকে, তা নির্দ্বিধায় ছেড়ে দিন। হারাম কাজ থেকে আরো দূরে থাকুন। আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের খেয়াল রাখুন। কোনো পাপ কাজে ভুলেও জড়াবেন না। হ্যাঁ, যদি অভ্যাসবশত কিছু হয়ে যায়, সেটা ভিন্ন কথা। আশা করা যায়, পরম করুণাময় তা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে আপনার জীবনে বাধাগুলো সরে যাবে।
মনোযোগ লাভের সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা হলো আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
যে ব্যক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুখী হতে চায়, তাকে আল্লাহর সাথে উত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতেই হবে।
পেছনের অধ্যায়গুলোতে মনোযোগ অর্জনের যত কলাকৌশল বলা হয়েছে তার সবই নির্ভর করে এই বিষয়টির ওপর। যে এটি অর্জন করতে পারবে না, তার বাকি সব অর্জন বৃথা।
এটিই জীবনের প্রকৃত অর্থ, সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য। যদি কারো ন্যূনতম জ্ঞান-বুদ্ধি থাকে, সে যেন এর আঙিনায় নিজেকে স্থাপন করে নেয়। এক মুহূর্ত সময়ও যেন হাত ফসকে পালিয়ে না যায়। সময় যতই অতিবাহিত হোক, বসন্ত একদিন আসবেই জীবনে।
আপনি যদি আপনার কোনো স্বপ্ন পূরণ করতে চান, তাহলে মসজিদমুখী হতে শিখুন। সালাতের হক আদায় করুন। যখনই শুনতে পাবেন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’, তখন যত ব্যস্ততাই আপনাকে ঘিরে থাক না কেন, ক্ষণিকের জন্য সেসব ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে রাখুন। আপনি কোন সভায় আছেন, তার পরোয়া করবেন না। হৃদয়ের আহ্বান ও মনের প্রশান্তির পথে যা কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাকে কখনো গুরুত্ব দেবেন না। যে ব্যক্তি এমন কিছুকে গুরুত্ব দেয়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়েন! আর যে ব্যক্তি সুখের সময়েও আল্লাহকে আকুলভরে স্মরণ করে, আল্লাহ তাকে দুঃসময়ে আগলে রাখেন।
আমাদের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আগ্রহ মিশে আছে। সিজদায় গিয়ে কিংবা দুআয় যখন মহান রবকে আহ্বান করা হয়, তখন যে স্বাদ পাওয়া যায়, তার বিবরণ শুধু সেই দিতে পারবে যে তা অনুভব করেছে দুনিয়ার বুকে। আর যদি তার সাথে যুক্ত হয় একান্তে নফল সালাত পড়া কিংবা শেষ রাতে জায়নামাজে কিছু সময় কাটানো, তার চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। সেই সাথে কেউ যদি এ কাজটি অভ্যাসে পরিণত করতে পারে, তাহলে সে দুনিয়ায় থেকেই জান্নাতের খানিকটা নিয়ামত পেয়ে গেল।
আপনার হৃদয়কে কুরআনের আঙিনায় ছেড়ে দিন। কুরআনের সাথে বেশ ভালো একটি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। কুরআনের কিছু পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করাকে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত করুন। প্রতিদিন কুরআন নিয়ে ভাবার যেন নির্দিষ্ট সময় থাকে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আপনি ধীরে ধীরে অনুভব করবেন, সব কিছু পেয়ে গেছেন। এমন অনাবিল প্রশান্তির স্বর্গীয় স্বাদ আর কিছুতেই পাবেন না।
আল্লাহর আনুগত্য (সালাত, সিয়াম, সাদাকা, যিকর, তিলাওয়াত, তাদাব্বর, আত্মীয়তার সম্পর্ক, উমরাহ) যত রকমের হতে পারে, সবগুলোতে যেন আপনার সামান্য হলেও অংশ থাকে। আল্লাহর নিদর্শনকে সম্মান করুন। হৃদয়ের গভীরে অনুভব করতে থাকুন। যদি আপনার রব এবং তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে কোনো আদেশ জানতে পারেন, তবে তা পালনে আত্মনিয়োগ করুন।
যে কাজে আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জনের সামান্যতম আশঙ্কা থাকে, তা নির্দ্বিধায় ছেড়ে দিন। হারাম কাজ থেকে আরো দূরে থাকুন। আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের খেয়াল রাখুন। কোনো পাপ কাজে ভুলেও জড়াবেন না। হ্যাঁ, যদি অভ্যাসবশত কিছু হয়ে যায়, সেটা ভিন্ন কথা। আশা করা যায়, পরম করুণাময় তা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে আপনার জীবনে বাধাগুলো সরে যাবে।