📄 সঙ্গদোষে লোহা ভাসে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথাটা বেশ চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করে বলেছেন—
‘উত্তম সঙ্গী ও খারাপ সঙ্গীর উদাহরণ হলো আতর-বিক্রেতা ও হাপরে ফুঁ দানকারী ব্যক্তির মতো। আতর-বিক্রেতা তোমাকে সুগন্ধি লাগিয়ে দেবে কিংবা তার পোশাক থেকে তুমি সুগন্ধ পাবে, নতুবা তার থেকে আতর কিনতে হবে। অন্যদিকে হাপরে ফুঁ দানকারী হয় তোমার পোশাক পুড়িয়ে ফেলবে অথবা তুমি তার থেকে দুর্গন্ধ পাবে।’
যে বন্ধু সফল হতে সাহায্য করে, চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়, মনে উৎসাহ জোগায়; তাকেই তো আপনি বাছাই করবেন।
আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু যে এতটা প্রশংসিত হতে পেরেছিলেন, সাহাবিদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হয়েছিলেন, তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যের বদৌলতেই। তার সঙ্গ গ্রহণ করে অবশেষে জান্নাতের আটটি দরজাই তার জন্য খুলে গিয়েছিল।
আবু তালিব যে বিভ্রান্তির চোরাবালিতে আটকে ছিলেন, সেটাও কেবল সঙ্গীদের প্রভাবেই হয়েছিল।
মনোযোগ আনতে হলে, অভ্যাসটা নিজের মাঝে ধারণ করতে হলে, এমন এক সঙ্গী বাছাই করতে হবে যিনি সুচিন্তাকে জাগ্রত করে দুশ্চিন্তা দূর করেন। যিনি বন্ধুকে ঠেলে দেন কর্মমুখর জীবনের দিকে। যার সাথে পৌঁছানো যায় পথের শেষ প্রান্তে। সাবধান! অকর্মণ্যদের সঙ্গ গ্রহণে বিস্তর ঝুঁকি রয়েছে। তাদের কোনো লক্ষ্য থাকে না। তারা পথেই নিজেদের যোগ্যতাকে বিনষ্ট করে আর দুনিয়ার খেল-তামাশায় মগ্ন হয়ে পড়ে।
সাংবাদিক মুহাম্মাদ হাতহুত একটি ঘটনা বর্ণনা করেন—
‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের স্কোর খুব কম ছিল। এক পর্যায়ে সে বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনাকে চিরতরে বিদায় জানায়। পরে আমেরিকায় একটা স্কলারশিপ পায়। সেখানেও সে একই ভুল করে বসে। পড়ালেখা চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়বার ভুল করার পর একবুক হতাশা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসে। তার ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার এটা সে নিশ্চিত হয়ে যায়। তবু সে কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে। সেখানে চান্সও পেয়ে যায়। তখন সে আমার সাথে যোগাযোগ করে বলে, ‘এটা আমার শেষ সুযোগ, মনে হচ্ছে এবারও আমি ব্যর্থ হব। আপনি প্লিজ আমাকে এমন কোনো উপায় বলে দিন, যার মাধ্যমে আমি হোঁচট খাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারব। অতীতের সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাব।’
আমি তাকে বললাম, ‘আমি তোমাকে বেশি উপদেশ দিয়ে চাপে ফেলব না। কেবল একটি পথ বাতলে দেবো যা অনুসরণ করলে তোমার কষ্টও হবে না, সময়ও ব্যয় হবে না। কিন্তু তুমি তোমার লক্ষ্যে ঠিকই পৌঁছে যেতে পারবে।’ এ বিষয়ে তাকে প্রতিজ্ঞাও করালাম। তারপর বললাম, ‘যে বুদ্ধিটা দেবো সেটা খুবই সাধারণ। নতুন কোনো কিছু না। কিন্তু নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। কাজটা হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমি কেবল মেধাবী ছাত্রদের সাথেই চলবে। খাঁটি বাংলায় যাদেরকে আমরা আঁতেল বলে থাকি, তুমি তাদের সাথে চলাফেরা করবে। ক্লাসের ফাঁকে, খেলাধুলা, ঘোরাঘুরি, আড্ডা দেওয়া, চা-কফি খেতে গিয়ে সবসময় তাদের সাথেই সময় কাটাবে।’
সেও জানাল, ‘আমি কথা দিচ্ছি, আপনার এই পরামর্শ আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’
প্রায় এক বছর পর সে আমায় আবার ফোন দিলো। আমি তার পড়াশোনার খবর জানতে চাইলে সে ফার্স্ট ইয়ারে তার জিপিএ এসেছে ৪.৯০। সাথে পছন্দমতো বিভাগ বেছে নিতে পেরেছে এবং যে সাবজেক্টে ইচ্ছা পড়তে পারছে। আমার প্রতি সে কৃতজ্ঞতা জানাল।