📄 অভ্যাসের শত উপকার
বহু মানুষ মনোযোগের গুরুত্ব বোঝেন এবং কোনো কিছু অর্জনের পেছনে এর সীমাহীন অবদান স্বীকার করেন। কিন্তু তাদের বড় সমস্যা হলো প্রতিদিনকার অহেতুক কাজের স্রোত সেগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এর কারণ, তারা বিশ্বাসকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে পারেননি।
আপনি যদি কোনো মানুষের দিকে তাকান তাহলে লক্ষ্য করবেন, তার ভালো কিংবা খারাপ পরিণতির পেছনে মূল অবদান এই অভ্যাসেরই।
আপনার আশপাশের কিছু মানুষকে প্রশ্ন করুন, কিতাবুল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক কেমন, তাহলে দেখবেন তাদের বেশিরভাগই অভিযোগের সুরে বলবে, সময়ের অভাবে তারা কুরআন পড়তে পারছে না। অন্যদিকে এমন মানুষও পাবেন যিনি প্রতিনিয়ত কুরআন পড়ছেন এবং তা থেকে উপকৃত হচ্ছেন। তাই তার জীবনে এর প্রভাব সুস্পষ্টরূপে উদ্ভাসিত। কারণ লোকটা নিজের ওপর কাজটাকে আবশ্যক করে নিয়েছে। এরই মাধ্যমে জীবনের অর্থ সে খুঁজে পেয়েছে।
আবার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে দেখবেন অভিযোগের পর অভিযোগ আসছে। আপনার কাছে ভয়াবহ লাগবে। এই দায়িত্ব পালন নিয়ে তারা যে পরিমাণ দুশ্চিন্তার মাঝে থাকে, সেটার বিস্তারিত শুনতে থাকবেন। তথাপি কিছু মানুষ আছেন যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে খুবই যত্নশীল। এর কারণ, তিনি হয়তো সপ্তাহের কোনো একদিন নির্দিষ্ট একটা সময়কে আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়ার জন্য আলাদা করে রেখেছেন। এভাবে সাপ্তাহিক অভ্যাস ধরে রেখে তিনি এটাকে স্বাভাবিক করে নিয়েছেন। এসব কিছু প্রমাণ করে, মনোযোগ অর্জনের অন্যতম উপায় হচ্ছে—মানুষ যা করতে চায় সেটার জন্য একটা সময় নির্দিষ্ট করা।
যে ব্যক্তি সফল হতে চায় তার উচিত তার লক্ষ্যটাকে দৈনিক অভ্যাসে পরিণত করে ফেলা, যা সে কখনো ছেড়ে দেবে না। এতটুকু করতে পারলেই লক্ষ্য অর্জন অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।
মানুষ নিয়মিত যা করে সেটাই তার অভ্যাস। যত সফল মানুষ আছে সবাই তাদের অভ্যাসের তিক্ত গাছের সুমিষ্ট ফল। সেই অভ্যাসগুলোকে চিন্তার মাধ্যমে ফলপ্রসূ করে তারা লক্ষ্য অর্জন করে নিয়েছে। আর যারা বিফল হয়েছে, তারা খারাপ অভ্যাসের কারণেই হয়েছে। এই খারাপ অভ্যাস তার স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হতে পারে বই পড়া। কখনো আমরা সেটা ছেড়ে দেবো না। একই কথা প্রযোজ্য শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও। আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়ার বিষয়টাও অন্তর্ভুক্ত হবে। টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে পারাটাও খুব জরুরি। আর সব অভ্যাসের মাঝে সব থেকে দরকারি হলো প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন পড়া। এসব ধরে রাখলে আমরা লক্ষ্য অর্জন করার পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারব।
ভালো অভ্যাস আমাদের জীবনকে বদলে দেবে। স্বাভাবিক একটা কাজকে সময়ের পরিক্রমায় বিরাট কাজে রূপান্তর করে দেবে। একই সাথে অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে মানুষকে বারবার ভেবেচিন্তে কাজ করতে হয় না, অভ্যাসবশত সেটা করা হয়ে যায় প্রতিদিন।
একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার। অভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে, প্রথম দিনগুলোতে কাজ বেশ কঠিন এবং কষ্টকর মনে হতে পারে। কিন্তু কিছুদিন এগুলে দেখা যাবে সেটা আমাদের প্রতিদিনকার কাজে পরিণত হয়েছে।
📄 ধনুকভাঙা পণ
আপনার সময়ের একটা ছোট অংশ বেছে অভ্যাস ঠিক করে নিন। সেই সময়ে অন্য কোনো দায়িত্ব হাজির হলেও তা দূর করার মানসিকতা তৈরি করতে থাকুন। এতে আপনি সফলতার দিকে এগিয়ে যাবেন। একই কথা প্রযোজ্য এমন প্রতিটি বিষয়ের ব্যাপারে, যেগুলো শুরুতে সামান্য চারাগাছের মতো থাকে, অথচ একটু সময় দিলেই তা পরিণত হতে পারে বিশাল মহিরুহে।
চিন্তার খোরাক
আপনি ঘুমানোর আগে যে ২০ মিনিট সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে কাটান, সেই ২০ মিনিট যদি ভালো কোনো বই পড়েন, কুরআন পড়েন কিংবা কুরআনের দুয়েকটি আয়াত মুখস্থ করেন, তাহলে বছর শেষে কতখানি কাজ হবে ভেবে দেখেছেন কখনো? আপনি এত বেশি কাজ করে ফেলবেন, যা আপনি কখনো ভাবতেও পারেননি। এমনকি নিজের চলমান অগ্রগতি দেখেই আপনি নিজেই বিস্মিত হয়ে যাবেন!
একজন পিএইচডির শিক্ষার্থী কমপক্ষে চার বছর একই বিষয়ে গবেষণা করে, সে একই সাথে বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে এগোয় না। বরং একই প্রজেক্টের জন্য সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সময় ব্যয় করে, সেটাই হয়ে দাঁড়ায় তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। সুপারভাইজারের হাজারো বিরোধিতা, অপমান, উদাসীনতা তার কাজ থামিয়ে দিতে পারে না। কারণ সে স্নাতকের পর যে সংকল্প নিয়ে এগোয় তাতে দৃঢ় থাকতে বদ্ধপরিকর হয়ে লড়ে যায়।
যদি কিছু অর্জন করতে চান, সফল হতে চান কিংবা কোনো কিছুর শেষ দেখতে চান, তাহলে একটা পরিকল্পনায় নিজেকে সীমিত রাখুন। সেটা অতিক্রম করতে যাবেন না। আপনার শক্তি, সক্ষমতা আর সম্ভাবনাকে একমাত্র উদ্দেশ্যের দিকে নিবদ্ধ করুন। সেটিই হোক আপনার প্রথম আর শেষ চিন্তা। আপনার জীবনের একমাত্র পরিকল্পনা হোক সেটি, অন্য কিছু নয়। আপনি অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হতে যাবেন না। আপনার দিনটা যেন আর কিছু টেনে নিয়ে যেতে না পারে। আপনার পথে যে বাধাই আসুক সেটার সামনে আপনি মাথা নোয়াবেন না, আত্মসমর্পণ করবেন না, থেমে যাবেন না।
আপনি আপনার দুর্বলতাগুলো সমাধান করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না। বরং শক্তিগুলো পর্যবেক্ষণ করুন, পরিকল্পনা সফল করতে সেগুলো কাজে লাগান। জীবনের গল্প রচনা করতে চিন্তা, অনুভূতি আর আত্মাকে নিবিষ্ট করুন। পথের মাঝে নিজেই থেমে গিয়ে পরিস্থিতিকে দোষ দেওয়া বন্ধ করুন, অহেতুক বিরক্তি প্রকাশ করে কোনো লাভ নেই।
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠুন পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই। স্বপ্ন আর চিন্তাকে বাস্তবায়নের অভিপ্রায় নিয়েই দিন শুরু হবে, অন্য কিছু যেন মাথার ভেতর না ঢুকে যায়।
📄 দায়িত্ব নিতে শিখুন
কোনো চিন্তায় এককভাবে নিবিষ্ট হওয়া দ্রুত ফলাফল বয়ে আনে। একটা মাত্র পরিকল্পনায় নিবদ্ধ হলে প্রতিদিন আপনার স্বপ্নের সীমানা একটু একটু করে কমতে থাকে, সাফল্যের রেখা একটু একটু করে কাছে আসতে থাকে। দিনশেষে আপনি হয়ে উঠবেন গল্পের নায়ক।
আপনাকে আহ্বান করছি! ঘুম থেকে উঠলে আপনার লক্ষ্য যেন হয় কেবল আপনার পরিকল্পনা, আপনার গল্পের প্লট নির্মাণ। নিরন্তর পা চালান, পথটা সুগম করুন। স্বপ্নের দিকে ছুটে চলুন। আশপাশের সবকটা পথ ছেড়ে দিন, সেগুলো দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন। যে পথে চলেছেন, সেই ঊষর মরুময় পথ কালের আবর্তে বসন্তে পরিণত হবে। আপনি যে মানুষগুলোকে দূর থেকে এতদিন দেখে চলেছেন, একদিন তাদের কাছাকাছি যেতে পারবেন; লক্ষ্যে পৌঁছানোর কারণে তারা আপনাকে স্বীকৃতি দেবে, যদিও তাদের স্বীকৃতি পেতে আপনি কোনো কাজ করেননি।
একেই বলে আগ্রহ-উদ্দীপনার টান। দুনিয়ার যত বাধা-বিপত্তি আসুক, কখনো আপনি এটা ছেড়ে যাবেন না।
পানি আমাদের শেখায় কীভাবে ফোঁটা ফোঁটা করে পতিত হয়েও একটা শক্ত পাথরের বুকে গর্ত করা যায়। দিন যতই গড়িয়ে যাক, আমরা যেন নির্দিষ্ট স্থানে ফোঁটার মতো করে পতিত হওয়া বন্ধ না করি। তাই কখনো বিক্ষিপ্ত হবেন না।
আপনি যখন নিজের পরিকল্পনায় অগ্রসর হবেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগ্রাম করতে শিখবেন, সেটার জন্য প্রচেষ্টা চালাবেন, পথ ছেড়ে যাবেন না; তখন কোনো একদিন সারাবিশ্ব আপনাকে ঘিরে বসবে আপনার অভিনব অর্জনের কাহিনি শোনার জন্য, যদিও বা তাদের অবাক করা আপনার উদ্দেশ্য ছিল না। তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘কীভাবে আপনি পাহাড়ে উঠলেন? কীভাবে এত পথ পাড়ি দিলেন? কীভাবে নিজেকে এতদূর নিয়ে যেতে পারলেন যেখানে যাওয়ার আগে বহু লোক হতাশ হয়ে মারা পড়ে?’
আমাদের যুগে জীবনের একটা আরাধ্য বিষয় হলো একাগ্রতা ধরে রাখা। বিক্ষিপ্ততার এ ঘোর অন্ধকারে সফলতার মশাল হলো মনোযোগ। দিনশেষে মানুষ জীবনের মিনার হিসেবে যে জিনিসটাকে নিতে পারে সেটা হলো মনঃসংযোগ। আপনি যদি অন্যদের জন্য আদর্শ হতে চান, সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে চান; তাহলে বাকি জীবনটা ‘মনোযোগ’ তৈরিতে কাটিয়ে দিন।
চিন্তার খোরাক
সিবাওয়াই ছিলেন আরবি ব্যকরণশাস্ত্রের ইমাম। ইবনুল মুকাফফা বক্তৃতার সর্দার। আবু তাম্মাম কবিদের রাজা। তারা সবাই ৩৬ বছরের আগে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু আজও তাদের স্মৃতি অমলিন। তারা তাদের লক্ষ্য জীবনের শুরুতেই নির্ধারণ করতে পেরেছিলেন, তাই অল্প বয়সে সেটার জন্য নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছিলেন।
অভিনবত্ব বা বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার অর্থ হলো আপনিই হবেন পতাকাবাহী কিংবা আলোকবর্তিকা বহনকারী।
📄 সঙ্গদোষে লোহা ভাসে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথাটা বেশ চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করে বলেছেন—
‘উত্তম সঙ্গী ও খারাপ সঙ্গীর উদাহরণ হলো আতর-বিক্রেতা ও হাপরে ফুঁ দানকারী ব্যক্তির মতো। আতর-বিক্রেতা তোমাকে সুগন্ধি লাগিয়ে দেবে কিংবা তার পোশাক থেকে তুমি সুগন্ধ পাবে, নতুবা তার থেকে আতর কিনতে হবে। অন্যদিকে হাপরে ফুঁ দানকারী হয় তোমার পোশাক পুড়িয়ে ফেলবে অথবা তুমি তার থেকে দুর্গন্ধ পাবে।’
যে বন্ধু সফল হতে সাহায্য করে, চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়, মনে উৎসাহ জোগায়; তাকেই তো আপনি বাছাই করবেন।
আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু যে এতটা প্রশংসিত হতে পেরেছিলেন, সাহাবিদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হয়েছিলেন, তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যের বদৌলতেই। তার সঙ্গ গ্রহণ করে অবশেষে জান্নাতের আটটি দরজাই তার জন্য খুলে গিয়েছিল।
আবু তালিব যে বিভ্রান্তির চোরাবালিতে আটকে ছিলেন, সেটাও কেবল সঙ্গীদের প্রভাবেই হয়েছিল।
মনোযোগ আনতে হলে, অভ্যাসটা নিজের মাঝে ধারণ করতে হলে, এমন এক সঙ্গী বাছাই করতে হবে যিনি সুচিন্তাকে জাগ্রত করে দুশ্চিন্তা দূর করেন। যিনি বন্ধুকে ঠেলে দেন কর্মমুখর জীবনের দিকে। যার সাথে পৌঁছানো যায় পথের শেষ প্রান্তে। সাবধান! অকর্মণ্যদের সঙ্গ গ্রহণে বিস্তর ঝুঁকি রয়েছে। তাদের কোনো লক্ষ্য থাকে না। তারা পথেই নিজেদের যোগ্যতাকে বিনষ্ট করে আর দুনিয়ার খেল-তামাশায় মগ্ন হয়ে পড়ে।
সাংবাদিক মুহাম্মাদ হাতহুত একটি ঘটনা বর্ণনা করেন—
‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের স্কোর খুব কম ছিল। এক পর্যায়ে সে বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনাকে চিরতরে বিদায় জানায়। পরে আমেরিকায় একটা স্কলারশিপ পায়। সেখানেও সে একই ভুল করে বসে। পড়ালেখা চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়বার ভুল করার পর একবুক হতাশা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসে। তার ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার এটা সে নিশ্চিত হয়ে যায়। তবু সে কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে। সেখানে চান্সও পেয়ে যায়। তখন সে আমার সাথে যোগাযোগ করে বলে, ‘এটা আমার শেষ সুযোগ, মনে হচ্ছে এবারও আমি ব্যর্থ হব। আপনি প্লিজ আমাকে এমন কোনো উপায় বলে দিন, যার মাধ্যমে আমি হোঁচট খাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারব। অতীতের সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাব।’
আমি তাকে বললাম, ‘আমি তোমাকে বেশি উপদেশ দিয়ে চাপে ফেলব না। কেবল একটি পথ বাতলে দেবো যা অনুসরণ করলে তোমার কষ্টও হবে না, সময়ও ব্যয় হবে না। কিন্তু তুমি তোমার লক্ষ্যে ঠিকই পৌঁছে যেতে পারবে।’ এ বিষয়ে তাকে প্রতিজ্ঞাও করালাম। তারপর বললাম, ‘যে বুদ্ধিটা দেবো সেটা খুবই সাধারণ। নতুন কোনো কিছু না। কিন্তু নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। কাজটা হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমি কেবল মেধাবী ছাত্রদের সাথেই চলবে। খাঁটি বাংলায় যাদেরকে আমরা আঁতেল বলে থাকি, তুমি তাদের সাথে চলাফেরা করবে। ক্লাসের ফাঁকে, খেলাধুলা, ঘোরাঘুরি, আড্ডা দেওয়া, চা-কফি খেতে গিয়ে সবসময় তাদের সাথেই সময় কাটাবে।’
সেও জানাল, ‘আমি কথা দিচ্ছি, আপনার এই পরামর্শ আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’
প্রায় এক বছর পর সে আমায় আবার ফোন দিলো। আমি তার পড়াশোনার খবর জানতে চাইলে সে ফার্স্ট ইয়ারে তার জিপিএ এসেছে ৪.৯০। সাথে পছন্দমতো বিভাগ বেছে নিতে পেরেছে এবং যে সাবজেক্টে ইচ্ছা পড়তে পারছে। আমার প্রতি সে কৃতজ্ঞতা জানাল।