📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 আজকের কাজগুলো আজই করে ফেলুন

📄 আজকের কাজগুলো আজই করে ফেলুন


আপনার চিন্তা-চেতনা আর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো কাজ জমিয়ে রাখা। মনোযোগ নামক অভ্যাসটিকে ধ্বংস করার সব থেকে সহজ উপায় হলো এই মুলতবি রাখার মানসিকতা।
i
আমরা প্রায়ই ভাবি, অমুক কাজটা কাল থেকে শুরু করব। এখনো হাতে অনেক সময় আছে! এই রকম চিন্তা এলেই তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। এই অভ্যাসটিকে বড় হতে দেবেন না; তা আপনি যেমন পরিস্থিতি বা সমস্যারই মুখোমুখি হোন না কেন।
যতই বাধা-বিঘ্ন আসুক না কেন, হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা রাখা যাবে না। আপনার পরিকল্পনায় মনোনিবেশ করুন। আপনি দৈনিক যে প্রায়োরিটি লিস্ট ঠিক করেছেন তা থেকে একচুলও নড়বেন না। যদি অন্যকোনো কাজ একান্তই জরুরি হয়ে পড়ে এবং কোনোভাবে ঠেকানো সম্ভব না হয়, কিংবা স্থগিত রাখাও না যায়; তাহলেও কৌশলে কাজ সারতে হবে। আপনার লক্ষ্য থেকে যতখানি সম্ভব অল্প পরিমাণে হলেও কাজ করতে হবে, যাতে কোনোভাবে আপনার দিনটা একেবারে বিফলে না যায়। এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েই তো ইমাম শাওকানি বলেছেন, ‘দুয়েক লাইন হলেও লিখি।’
আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, পরিকল্পনা নিয়ে থেমে যাওয়াটা মারাত্মক ক্ষতিকর। বড় মানুষদের কাজ কখনো এমন হতে পারে না। নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাটাই সাফল্যের পূর্বশর্ত। আপনার জীবনে উন্নতির সুযোগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না, সাবধান!
আখিরাতে সফলতা অর্জনের কত সুযোগ যে এভাবে নষ্ট হয়ে গেছে, আর দুনিয়ার সুযোগ তো বাদই দিলাম। কুরআনে আছে, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা লাভের প্রয়াসে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হও।’[১] এসব কিছু ইতিবাচক কাজের দিকে উদ্বুদ্ধ করে বলা, জীবনের সময়টা অনর্থক নষ্ট না করার দিকে আগ্রহী করে তোলার জন্য বলা।
বুখারিতে উকবা ইবনু হারিসের বর্ণিত হাদিসে আছে, আমি মদিনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষ হলে তিনি সালাম ফিরিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। এরপর মানুষের কাঁধ ডিঙিয়ে তার কোনো এক স্ত্রীর ঘরে চলে গেলেন। লোকজন নবিজির এমন তাড়াহুড়ো দেখে বেশ অবাক হলো। পরে তিনি ফিরে এসে সবাইকে বললেন, ‘আমার মনে পড়ল ঘরে একটি সোনা কিংবা রুপার টুকরো রয়ে গেছে। আমার ভয় হচ্ছিল, না-জানি কাল হাশরের ময়দানে এর জন্য আমার কত কঠিন হিসেব নেওয়া হবে। তাই সালাত শেষ করে তাড়াতাড়ি সেগুলো বিলিয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়ে এলাম।’[২]

টিকাঃ
[১] সুরা হাদিদ, আয়াত: ২১
[২] সহিহ বুখারি: ১২২১

📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 কাজগুলো সব সহজ করুন

📄 কাজগুলো সব সহজ করুন


যদি কারো কাজের প্রতি আগ্রহ না থাকে, তার কাছে যদি এ কাজের গুরুত্বই না থাকে কিংবা কাজটা যে দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে সেই বোধ জাগ্রত না হয়, তখনই কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা চলে আসে। সে মূলত কাজটা করতেই চায় না। এ সমস্যাটি দূর করার জন্য সে তার মনমতো আনন্দদায়ক কোনো পরিকল্পনা হাতে নিতে পারে।
কাজ ফেলে রাখার মানসিকতা আসার আরেকটা কারণ, লক্ষ্যের মাত্রা বড় হওয়া। এটা ব্যক্তিকে চাপের মুখে ফেলে দেয়। সে তখন দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বাঁচতে চেষ্টা করে।
কাজ ফেলে রাখার আরও কারণ হলো, লিখে রাখা বিষয়টা একজন মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে পরিণত না হওয়া। অর্থাৎ সে যদি দিনের মাঝে এটার জন্য সময় নির্ধারণ না করে, তাহলে তার পেছানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
একজন মানুষের উচিত শুরু থেকেই তার চিন্তা আর পরিকল্পনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা। এরপর সে তার সাধ্যের মাঝে যেসব চিন্তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো লিখে রাখবে। কতটুকু সময়ের মধ্যে সেগুলো সে শেষ করতে চায় এটাও লিখতে হবে। এই তিনটা জিনিস ঠিক থাকলে আর কোনো কিছু তার পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না। অন্য কোনো ব্যাপার জীবনে যত প্রভাব বিস্তারই করুক না কেন, সেটা তার লক্ষ্য অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হবে না।
মনে রাখবেন, কাজ পিছিয়ে রাখা কিংবা আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখা নিজের ওপর জুলুম করা, নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে পুড়িয়ে ফেলা এবং সক্ষমতাকে অকার্যকর করার নামান্তর। এটা নিয়মিত করলে আপনার কর্মক্ষমতা যেমন নষ্ট হবে, তেমন আপনার বিশ্রামের মুহূর্তও ফুরিয়ে যাবে। আপনি যখন রাতে ঘুমাতে যাবেন তখন আপনার মাঝে দুশ্চিন্তা এসে ভর করবে। আপনি কেন কাজ শেষ করলেন না, সে জন্য হতাশা ঘিরে ধরবে আপনাকে। অবশেষে আপনি আবিষ্কার করবেন, সব কিছু আপনি হারিয়ে ফেলেছেন।
এই সমস্যার সমাধান হলো, আপনি যে কাজগুলো প্রায়োরিটি লিস্টে রেখেছেন সেগুলোর জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ রাখবেন, ঐ সময়টাতে সেই কাজগুলো করে ফেলবেন। তারপর কিছুক্ষণের জন্য থেমে আপনার পছন্দনীয় কোনো একটা কাজে জড়াবেন। কিছুক্ষণ সেটায় ব্যস্ত থেকে আবার ফিরে আসবেন, যাতে করে প্রত্যেকবার আপনি প্রায়োরিটি লিস্টে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন।
এই পদ্ধতির সবচেয়ে ভালো দিক হলো এতে করে আপনার জন্য পথটা সহজ হয়ে যাবে। আপনার মাঝে ইতিবাচক অনুভূতি জন্ম নেবে। আপনি নিজেই নিজের কাজের অগ্রগতি অনুভব করতে পারবেন। ছোট ছোট টার্গেটগুলো পূরণ হবে। দিনে দিনে কাজ মুলতবি রাখার বদ অভ্যাসও দূর হয়ে যাবে।

📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 আশায় আশায় দিন কেটে যায়

📄 আশায় আশায় দিন কেটে যায়


জীবনে মনোযোগ অর্জনের অন্যতম সহায়ক বিষয় হলো আশাবাদী হওয়া, রবের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করা। সবসময় মনে রাখবেন, আপনার জীবনের পরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। আপনি ভবিষ্যতে ব্যতিক্রমী কিছু করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আপনার জন্য মনোযোগ অর্জন করা সম্ভব। এই অভ্যাসের গুণে আপনি লক্ষ্য অর্জনও করতে পারবেন। তাই ভয়, দুশ্চিন্তা, হতাশা, দুর্ভাবনা সবকিছু ঝেড়ে ফেলুন। এসব বৈশিষ্ট্য আপনার উত্তম গুণাবলিকে মুছে দেবে।
আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আশাবাদী ছিলেন। তিনি জীবনে এত পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন, এত নির্যাতন-অত্যাচার সয়েছেন, অথচ কখনোই হতাশ হননি, বিরক্তি প্রকাশ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে ভালো ধারণা পছন্দনীয়।’ তিনি খারাপ কিছু আশা করা কিংবা কোনো কিছুকে অশুভ লক্ষণ মনে করতে নিষেধ করতেন। কোনো মানুষ যদি এটা বলত ‘লোকে ধ্বংস হয়ে গেছে’—সেটাও তিনি অপছন্দ করতেন।
আপনার উন্নত রুচির প্রমাণ এটাই যে, আপনি সুধারণার ওপর বহাল থাকবেন। এই ধারণা রাখবেন, কোনো মানুষ যদি দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং তৌফিকপ্রাপ্ত হওয়ার সকল আলামত নিজের মাঝে জড়ো করতে পারে; তবে সে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে এবং উভয় জগতে সাফল্য অর্জন করবে।
তাই আপনার লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করার পর মনের দেওয়ালে এই নোটিশ ঝুলিয়ে দিন, আপনি ভবিষ্যতে কিছু একটা করতে যাচ্ছেন। আপনি যে লক্ষ্যে পৌঁছতে চান, সেখানে পৌঁছবেনই; তা যত দীর্ঘ পথই হোক না কেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাওহিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৩ বছর সংগ্রাম করলেন, তখন অবর্ণনীয় দুঃখকষ্টে নিপতিত হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজয় তারই হলো। দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার আগে তিনি সারা পৃথিবীর বুকে শান্তি ছড়িয়ে দিয়েছেন।
আসুন আমরা অসাধারণ সব অভ্যাস দ্বারা নিজেদের জীবন গড়ে তুলি। আমরা আশা রাখি, পথের শেষে আমরা পৌঁছাবই। আল্লাহর সাহায্যে আমরা শেষ নাগাদ পৌঁছে যাই। তাই সফলতা দেরিতে আসছে বলে থেমে যাবেন না। হয়তো একদিন আপনি সামান্য পেছাবেন, কিন্তু দেখা যাবে পরদিনই সাফল্য আপনাকে ঘিরে ধরবে।

📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 অভ্যাসের শত উপকার

📄 অভ্যাসের শত উপকার


বহু মানুষ মনোযোগের গুরুত্ব বোঝেন এবং কোনো কিছু অর্জনের পেছনে এর সীমাহীন অবদান স্বীকার করেন। কিন্তু তাদের বড় সমস্যা হলো প্রতিদিনকার অহেতুক কাজের স্রোত সেগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এর কারণ, তারা বিশ্বাসকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে পারেননি।
আপনি যদি কোনো মানুষের দিকে তাকান তাহলে লক্ষ্য করবেন, তার ভালো কিংবা খারাপ পরিণতির পেছনে মূল অবদান এই অভ্যাসেরই।
আপনার আশপাশের কিছু মানুষকে প্রশ্ন করুন, কিতাবুল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক কেমন, তাহলে দেখবেন তাদের বেশিরভাগই অভিযোগের সুরে বলবে, সময়ের অভাবে তারা কুরআন পড়তে পারছে না। অন্যদিকে এমন মানুষও পাবেন যিনি প্রতিনিয়ত কুরআন পড়ছেন এবং তা থেকে উপকৃত হচ্ছেন। তাই তার জীবনে এর প্রভাব সুস্পষ্টরূপে উদ্ভাসিত। কারণ লোকটা নিজের ওপর কাজটাকে আবশ্যক করে নিয়েছে। এরই মাধ্যমে জীবনের অর্থ সে খুঁজে পেয়েছে।
আবার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে দেখবেন অভিযোগের পর অভিযোগ আসছে। আপনার কাছে ভয়াবহ লাগবে। এই দায়িত্ব পালন নিয়ে তারা যে পরিমাণ দুশ্চিন্তার মাঝে থাকে, সেটার বিস্তারিত শুনতে থাকবেন। তথাপি কিছু মানুষ আছেন যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে খুবই যত্নশীল। এর কারণ, তিনি হয়তো সপ্তাহের কোনো একদিন নির্দিষ্ট একটা সময়কে আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়ার জন্য আলাদা করে রেখেছেন। এভাবে সাপ্তাহিক অভ্যাস ধরে রেখে তিনি এটাকে স্বাভাবিক করে নিয়েছেন। এসব কিছু প্রমাণ করে, মনোযোগ অর্জনের অন্যতম উপায় হচ্ছে—মানুষ যা করতে চায় সেটার জন্য একটা সময় নির্দিষ্ট করা।
যে ব্যক্তি সফল হতে চায় তার উচিত তার লক্ষ্যটাকে দৈনিক অভ্যাসে পরিণত করে ফেলা, যা সে কখনো ছেড়ে দেবে না। এতটুকু করতে পারলেই লক্ষ্য অর্জন অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।
মানুষ নিয়মিত যা করে সেটাই তার অভ্যাস। যত সফল মানুষ আছে সবাই তাদের অভ্যাসের তিক্ত গাছের সুমিষ্ট ফল। সেই অভ্যাসগুলোকে চিন্তার মাধ্যমে ফলপ্রসূ করে তারা লক্ষ্য অর্জন করে নিয়েছে। আর যারা বিফল হয়েছে, তারা খারাপ অভ্যাসের কারণেই হয়েছে। এই খারাপ অভ্যাস তার স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হতে পারে বই পড়া। কখনো আমরা সেটা ছেড়ে দেবো না। একই কথা প্রযোজ্য শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও। আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়ার বিষয়টাও অন্তর্ভুক্ত হবে। টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে পারাটাও খুব জরুরি। আর সব অভ্যাসের মাঝে সব থেকে দরকারি হলো প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন পড়া। এসব ধরে রাখলে আমরা লক্ষ্য অর্জন করার পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারব।
ভালো অভ্যাস আমাদের জীবনকে বদলে দেবে। স্বাভাবিক একটা কাজকে সময়ের পরিক্রমায় বিরাট কাজে রূপান্তর করে দেবে। একই সাথে অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে মানুষকে বারবার ভেবেচিন্তে কাজ করতে হয় না, অভ্যাসবশত সেটা করা হয়ে যায় প্রতিদিন।
একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার। অভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে, প্রথম দিনগুলোতে কাজ বেশ কঠিন এবং কষ্টকর মনে হতে পারে। কিন্তু কিছুদিন এগুলে দেখা যাবে সেটা আমাদের প্রতিদিনকার কাজে পরিণত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00