📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 জীবনে আপনি কী হতে চান

📄 জীবনে আপনি কী হতে চান


আপনি যদি এটা মনে করেন, মোবাইল ফোনের সাথে আপনার বিচ্ছেদ সম্ভব নয়, তাহলে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আপনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে চাচ্ছেন, অথচ সবচেয়ে ক্ষতিকারক বস্তুটি থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছেন না। প্রশ্ন করুন নিজেকে, ‘লোহার বেড়ি পায়ে জড়িয়ে আমি কি খুব সহজে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব?’
সেক্ষেত্রে আপনার পথ দীর্ঘায়িত হবে। আপনার চাওয়া-পাওয়ার মাঝে অনেক বাধা আসবে। অথচ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করে নিজের পথ নিজে প্রস্তুত করার সম্ভাবনা ছিল।
আমি যা বললাম তা মানতে যেহেতু আপনি রাজি নন, তাহলে বিকল্প রাস্তায় আপনাকে হাঁটতে হবে। যদি মোবাইল ফোনের এই আসক্তি পুরোপুরি ছাড়তে না পারেন, তাহলে একে সীমিত করে ফেলুন। নিজের লক্ষ্য অর্জনে একটা চ্যালেঞ্জ ঠিক করুন। প্রতিদিন এক ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে কাজ করার পর বিশ্রাম হিসেবে ১০ মিনিট করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন। ছোট্ট এই বিশ্রাম আপনার শক্তি ফিরিয়ে দেবে। এরপর আবার পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করতে পারেন।

চিন্তার খোরাক
যদি আপনি মোবাইলে ব্যয় করা সময় থেকে প্রতিদিন এক ঘণ্টা আর সপ্তাহে একদিন বাঁচাতে পারেন তাহলে বোঝা যাবে, ভবিষ্যৎ গঠনে এবং লক্ষ্য পূরণে আপনার সত্যিকারের ইচ্ছা আছে।

মনোযোগের অভ্যাস গড়ে তোলার পরবর্তী ধাপ হলো পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হওয়া। এই ধাপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যেন নিজেকে নির্দিষ্ট কাজে ধরে রাখা যায়।
সকালে দিনের শুরুতেই চিন্তার বেশিরভাগজুড়ে সেই লক্ষ্য থাকবে। আবার রাতে যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরবেন তখনও যেন সেই চিন্তা আপনার মাথায় ঘুরপাক খায়।
প্রতিভা নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ বিক্ষিপ্ততা। আমরা আসলে কী চাই সেটাই জানি না। আমাদের মাঝে অনেকেই আছে, যারা একই সাথে অনেকগুলো কাজে গা ভাসিয়ে দিয়েছি। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ছাড়াই স্রোতের সাথে ভেসে চলেছি। রাফ খাতায় যেমন সব কিছুই জায়গা পায়, আমাদের অবস্থাও তেমন। হয়তো আমার বন্ধু কোনো প্রকল্পে যোগ দিচ্ছে তা দেখে আমিও কোনো চিন্তাভাবনা না করে অংশ নিলাম, অথচ সব ভালো কাজ সবার জন্য নয়। প্রতিটি মানুষের ভিন্ন ভিন্ন বিশেষত্ব থাকে, সবার একই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতেই হবে এমন তো নয়। যেকোনো কাজ শুরুর আগে কেন কাজটি করছি জানতে হবে, আসলেও কাজটা আমার জন্য কি না, কাজে জড়াব কি না—সেই সিদ্ধান্ত নিতে জ্ঞানীদের পরামর্শ নেব এবং ইস্তিখারার সালাত আদায় করব। সাহাবিরা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ইস্তিখারা পড়তেন। কিন্তু হুজুগে কাজ করতে থাকলে ভবিষ্যতেও ভালো কিছু করা সম্ভব না।
নিজেকে মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিন। সফল মানুষদের নিয়ে ভাবুন, যারা ইতিহাসে পদচিহ্ন রেখে গেছে, সভ্যতা গড়েছে, যারা কর্মের জন্য মুসলিম জাতির কাছে চিরস্মরণীয়। এমন স্মরণীয় ব্যক্তিরা একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, সে কারণেই ইতিহাসে তাদের নাম লেখা আছে সোনালি হরফে। কিন্তু আপনি এমন একজন মানুষেরও উদাহরণ দিতে পারবেন না, যে ব্যক্তিটি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বড় অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে!
প্রত্যেক বড় মানুষ, যারাই জীবনে উল্লেখযোগ্য কিছু করেছে; তারা একটা স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়েছে। সেই লক্ষ্যের প্রতি তাদের ছিল সীমাহীন আগ্রহ। সেখানে সবটুকু মনোযোগ ঢেলে দিয়ে তবেই তারা ইতিহাস গড়তে সক্ষম হয়েছিল। আমি নিশ্চিতভাবেই বলছি, ‘আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য না থাকে, জীবনের কোনো পরিকল্পনা না থাকে; তাহলে হাজার হাজার বই পড়ে, শত শত কোর্স করেও বিশেষ কিছু লাভ হবে না। তাই একটু থেমে ক্ষণিকের জন্য হলেও নিজেকে নিয়ে ভাবুন।

📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 লিখিয়া করিয়ে কাজ, করিয়া লিখিয়ো না

📄 লিখিয়া করিয়ে কাজ, করিয়া লিখিয়ো না


আপনি যদি আপনার পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারেন, আপনার জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে সফল হন, আপনার সক্ষমতা আর সম্ভাবনার সাথে খাপ খায় এমন কাজের সন্ধান পেয়ে যান; তাহলে আপনি ইতোমধ্যেই এই অভ্যাসের ভিত্তি স্থাপন করে ফেলেছেন। এবার এর ওপর আপনার স্বপ্নের নান্দনিক ইমারত গড়ে তুলুন, আশার মিনার তৈরি করুন। লিখতে শুরু করে দিন জীবনের গল্প। জীবনের বৃহত্তম মর্যাদার অধ্যায় রচনা করুন।
আপনার পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা লিখে ফেলুন। আগামী পাঁচ বছর পর আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আপনার জীবনে কোনো পরিকল্পনা থাকা এক কথা, আর এর জন্য রূপরেখা প্রণয়ন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কেবল পরিকল্পনা থাকলেই একজন মানুষের পক্ষে যথেষ্ট পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। বরং একজন মানুষের এমন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন যার মাধ্যমে পথের শেষটা দেখতে পাবে, যা তাকে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই স্বপ্নের পানে ছুটে চলতে সহায়তা করবে।
এমন অনেকে আছে যাদের মনে স্বপ্ন আছে। সে স্বপ্ন পানে ছুটে চলতে গিয়ে তারা পুলকিত হয়। কিন্তু তারা জানে না, কী করে সেই স্বপ্ন পূরণ করবে, কীভাবে সে গন্তব্যে পৌঁছবে। তাদের স্বপ্নের পথ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। দিনশেষে এরা সুখকর কিছু খুঁজে পায় না। তাদের কিছু অর্জন অবশ্য হয়, তবে রূপরেখা না থাকায় দুর্বলতা থেকেই যায়। এজন্য প্রথমেই রূপরেখা তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। তারপর সেটার আলোকে প্রতিটি দিন, সপ্তাহ, মাস কিংবা বছর অগ্রসর হওয়া যাবে। এই রূপরেখাই আপনাকে বিক্ষিপ্ততা থেকে রক্ষা করে স্বপ্নপূরণে মনোযোগী করে তুলবে। তাই পরবর্তী পাঁচটা বছরের জন্য আপনার রূপরেখা রচনা করে ফেলুন।

আমার পরিকল্পনা :





পরিকল্পনা যেভাবে বাস্তবায়ন করব :





उदाहरण হিসেবে নিচের রূপরেখাগুলো দেখতে পারেন :
যিনি জ্ঞানার্জনের পদক্ষেপ নিয়েছেন, তিনি আগামী ১০ বছরের জন্য নিজের রূপরেখা প্রণয়ন করতে পারেন। তার মধ্যে ৫ বছর শারয়ি জ্ঞানের প্রতিটি মৌলিক ক্ষেত্র (আকিদা, তাফসির, হাদিস, ফিকহ, সিরাহ) আর সহায়ক ক্ষেত্রের (নাহু[১], উসুল[২], কাওয়ায়িদুল ফিকহ[৩], কাওয়িদুত তাফসির[৪], মুস্তালাহ[৫]) মৌলিক জ্ঞান অর্জন করবেন। প্রধান লক্ষ্য হবে ৫ বছরের মধ্যে এই সব বিষয়ে মূল জ্ঞানটুকু আত্মস্থ করা। শেষ হলে পরের ৫ বছর এই বিষয়গুলোর মাঝে যেকোনো একটি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জনে সময় দেবে। এভাবে নিজের বিশেষত্বের ক্ষেত্রে সে অভিনব কিছু করার জন্য নিজেকে উপযোগী করে তুলবে।
যিনি সাংবাদিকতা সেক্টরে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তার আগামী পাঁচ বছরের একটা পরিকল্পনা থাকবে। সেই পরিকল্পনায় তিনি শারয়ি কিছু মৌলিক জ্ঞান অর্জন করার বিষয়টা অন্তর্ভুক্ত করবেন যাতে ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে পদস্খলন না ঘটে। আর সাংবাদিকতা সম্পর্কে সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন করে নেবেন। এরপর একটি নির্দিষ্ট শাখায় বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করবেন। সেটা হতে পারে প্রেজেন্টেশন, ডিজাইনিং, ফটোগ্রাফি কিংবা অন্য কিছু। এভাবে তিনি সফলতার দিকে এগিয়ে যাবেন।

টিকাঃ
[১] মাসিরির আত্মজীবনী গ্রন্থ রিহালাতি আল-ফিকরিয়‍্যা থেকে নেওয়া।
[১] আরবি ব্যাকরণশাস্ত্র
[২] ইসলামি আইনের মূলনীতি
[৩] ফিকহশাস্ত্রে মূলনীতি
[৪] তাফসিরশাস্ত্রের নীতিমালা
[৫] হাদিস ও ফিকহের মৌলিক পরিভাষা সমগ্র

📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 লক্ষ্যবিহীন জীবন যেন এক হালবিহীন নৌকা

📄 লক্ষ্যবিহীন জীবন যেন এক হালবিহীন নৌকা


এই পৃষ্ঠায় পৌঁছানোর আগেই আপনি জীবনের পরিকল্পনা সাজিয়ে নিয়েছেন, নিজের ভাবনা-চিন্তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন, এই প্রত্যাশাই করছি।
আপনি ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই আপনার ক্ষেত্র ঠিক করে ফেলেছেন, যেথায় আপনি আজীবন টিকে থাকতে চান। যে পরিচয় আপনি ভবিষ্যতে বহন করবেন, মৃত্যুর সময় আপনি যে স্মরণিকা রেখে যেতে চান সেটাও এর ওপর নির্ভর করে। যেমনটা কুরআনে পাওয়া যায়—
وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ
আমাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখুন।[১]
আপনি বাস্তব জীবনে নিশ্চয় এর প্রয়োগ চান। হয়তো আগামী ১০/১৫ বছরের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন। নিশ্চয়ই তার ফলাফল কেমন কিংবা ভবিষ্যতে সেই চিন্তার কী পরিণতি ডেকে আনতে পারে তা বুঝতে পারছেন।
এই দুই ধাপ পেরিয়ে আসলে তৃতীয় ধাপের সূচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আপনি প্রতিদিন লক্ষ্যের কতটুকু অর্জন করতে চান তা নির্ণয় করতে হবে এবার। এটা করলে আপনার রূপরেখা কিংবা স্বপ্ন অনেকাংশে বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। সময়ের পরিক্রমায় আপনাকে পৌঁছে দেবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।
রূপরেখা প্রণয়ন জীবনে অনুপ্রেরণা দেয়, চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আগ্রহ সৃষ্টি করে, পুনর্জাগরণের চিন্তা মূর্ত করে তোলে। কিন্তু প্রতিদিন লক্ষ্যের একটা নির্দিষ্ট মঞ্জিল অতিক্রম করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে দিনশেষে লক্ষ্য অর্থহীন হয়ে পড়ে। লক্ষ্যহীন জীবন আসলে না থাকার মতোই। এমন অনেক লক্ষ্য আছে যা ব্যক্তিকে উভয় জগতে মর্যাদার স্বাদ অনুভব করিয়েছে!
লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারলেই যুদ্ধের অর্ধেক জেতা হয়ে যায়। স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে যুদ্ধের বাকি অর্ধেক। রূপরেখায় প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট গন্তব্য না থাকলে একসময় তা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
একবার এক লোক তার বন্ধুদের উদ্দেশে প্রশ্ন করল, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছ, যে একাই একটা উট খেয়ে ফেলতে পারবে?’ কেউই হাত তোলার সাহস করল না। তখন সে বলল, ‘তোমরা কিন্তু প্রত্যেকেই আস্ত একটা উট একা খেতে পারবে। কীভাবে জানো? উটটাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রেখে দেবে। এরপর প্রতিদিন অল্প অল্প করে মাংস খেতে থাকবে। একদিন না একদিন উটের সবটুকু মাংস শেষ হবেই।’
পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি নিয়মিত ছোট ছোট লক্ষ্য থাকা খুব জরুরি। এ গল্পটা তারই একটা ব্যাবহারিক উদাহরণ।
আপনার রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়ে গেলে এবার প্রতিদিনকার কাজ নির্ধারণ করে ফেলুন, যেন সেই সুদীর্ঘ পথ নিয়মমাফিক পাড়ি দেওয়া যায়। আপনি যদি কুরআনকে অন্তরে ও মগজে ধারণ করতে চান, তাহলে পূর্ব শর্ত হিসেবে তাজবিদ তো ঠিক করবেনই, সেই সাথে নিয়মিত অল্প করে মুখস্থ করার পাশাপাশি বিশেষভাবে আরবি ভাষা, তাফসির শিক্ষায় সময় দেবেন। অনুরূপভাবে ফিকহ, হাদিস, তাফসির, সিরাত-সহ বিভিন্ন শাস্ত্রের ছাত্রদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
আবার আপনার যদি শিক্ষা, মিডিয়া, সমাজ, অর্থনীতি-কেন্দ্রিক এমন কোনো পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সেটা শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন তার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করাও জরুরি; হোক সেই লক্ষ্য আত্মোন্নয়ন কিংবা পরিকল্পনার যথাযথ পরিচালনা।

টিকাঃ
[১] সুরা শুআরা, আয়াত : ৮৪

📘 প্রোডাক্টিভ লেসনস > 📄 গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে শেষ করুন

📄 গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে শেষ করুন


এখন পর্যন্ত মনোযোগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উপাদান (পরিকল্পনা, রূপরেখা ও লক্ষ্য) আপনি অর্জন করেছেন। আপনার একটি সাপ্তাহিক রুটিন আছে। আপনি দৃঢ় এবং বিচক্ষণ হলে আশপাশের কিছুই আপনাকে পরিকল্পনা থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না, তা যতই ভয়াবহ এবং প্রভাবশালী হোক না কেন।
যার একটা পরিকল্পনা আছে, চমৎকার একটা রূপরেখা আছে, লক্ষ্য আছে—তার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবেই। ইতিহাস তার জ্বলজ্যান্ত সাক্ষী। যারাই জীবনে সফল হয়েছে, ইতিহাস রচনা করেছে, মর্যাদায় আসীন হয়েছে, বড় প্রভাব রাখতে পেরেছে; তারা সবাই পরিকল্পনা, রূপরেখা আর লক্ষ্যকে জীবনে ধারণ করতে পেরেছে।
আপনি যদি আপনার মনোযোগ-সৃষ্টির কাজে এতদূর পৌঁছে গিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য আরেকটা কাজ করা জরুরি হয়ে গেছে। প্রতিদিন কাজ শুরু করার আগে আপনি হ্যান্ডবুক খুলে লিখে রাখা লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করুন, ‘আজকের দিনে কোন তিনটি লক্ষ্য সবার আগে পূরণ করা দরকার?’
প্রত্যেক দিন আপনার লক্ষ্যের তালিকায় থাকা সবগুলো দায়িত্ব পূর্ণ করার পরিকল্পনা থাকবে আপনার। রাতে বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে সকল দায়িত্বকে সম্পন্ন করে আসতে পারাই হবে আপনার সর্বাত্মক চেষ্টা। কিন্তু এ-কথা সবারই জানা, সবসময় সব লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আপনার দিনের সূচনা করবেন সেটাও ভেবে রাখা দরকার। যাতে কখনো কোনো বাধা এসে পড়লেও আপনার খুব একটা অসুবিধা না হয়। আমি আপনাকে বেশ জোর দিয়ে এবং দায়িত্ব নিয়েই বলছি, ‘চারদিক থেকে নানা রকমের বাধা-বিপত্তি এসে পড়লেও কোনোভাবেই এই অগ্রাধিকার তালিকাটি অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না।’
সফল মানুষদের অন্যতম গুণ হলো, তাদের প্রতিদিনের লক্ষ্য আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। আর তাদের সবচেয়ে ভালো গুণ হলো তারা তাদের দৈনিক লক্ষ্যের মধ্যে অগ্রাধিকার তালিকার প্রথম তিনটি কাজ মার্ক করে রাখে। তাই হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হলেও তারা সেই কাজগুলো শেষ না করে নিজের জায়গা থেকে একচুলও নড়ে না।
ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ৮০/২০ বলে একটা কথা আছে। এর মানে হলো আপনার ৮০ ভাগ শ্রম ২০ ভাগ লক্ষ্যে ব্যয় করুন। তাহলে ৮০ ভাগ ফলাফল অর্জন করতে পারবেন।
মূলত প্রত্যেক মানুষের জীবনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। সাথে সাপ্তাহিক একটা টার্গেট সেট করা থাকবে। সেই পরিকল্পনার শর্ত হলো কিছু বিষয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করা। যেমন: পরিকল্পনা, ঈমান, চিন্তা, পরিবার, সমাজ, স্বাস্থ্য, অর্থ। আর এ জন্য নিজের পরিকল্পনাটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ভীষণ প্রয়োজন। প্রতিদিন সকালে অন্য কোনো কাজ সামনে আসার আগে নিজের পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তবেই দিন শুরু করুন। কিন্তু একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না—সবার আগে আমাদের ঈমান! কারণ ঈমানের শক্তিতেই তো জীবন পরিচালনা করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00