📄 মনোযোগের নিগূঢ় তত্ত্ব
আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ‘মনোযোগ’ বলতে আসলে কী বোঝায়?
আপনার এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য হোক আর বইয়ের শুরুতে শব্দটার ব্যবচ্ছেদের জন্য হোক, পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা দরকার।
মনোযোগের অর্থ হলো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে আপনার হৃদয়াবেগ, অনুভূতির মতিগতি আর সময় ব্যয় করতে থাকা, যতক্ষণ না আপনি গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।
একাগ্রতা মানে হলো একটা বিষয় সারাদিন আপনার ভাবনাজুড়ে থাকবে। সকাল থেকে সেটার পেছনে ছুটতে শুরু করবেন, সমস্ত দিন তাকেই তাড়া করে বেড়াবেন, সন্ধ্যাবেলাতেও আপনার মন ও মননে সেই বিষয়টাই থাকবে।
একনিষ্ঠতা হচ্ছে সারাদিনে আপনার লক্ষ্যকে ততক্ষণ ছেড়ে যাবেন না, যতক্ষণ আপনি পুরোপুরি তৃপ্ত না হচ্ছেন, শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে না পড়ছে।
মনোযোগের অর্থ হলো, সারাক্ষণ আপনার মাথায় থাকবে আপনি কোথায় যাচ্ছেন। আপনি যখন কর্মক্ষেত্রে যাবেন, তখন আপনার মনে কেবল সেই লক্ষ্য আর দায়িত্ববোধ কাজ করবে। দিবা-দ্বিপ্রহর আসার আগেই আপনি সে কাজের বড় একটি অংশ শেষ করে ফেলবেন।
এ বিষয়ে এক জার্মান প্রাচ্যবিদ ও মাহমুদ আত-ত্বানাহির মধ্যকার একটি গল্প বলা যাক। একদিন তারা প্রাচীন নথিপত্র নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত হঠাৎ কবিতার এই পঙ্ক্তিটি তাদের চোখে পড়ল—
ملك منشد القريض لديه... يضع الثوب في يدى بزاز
প্রাচ্যবিদ ত্বানাহিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই পঙ্ক্তিটা কোন প্রকার ‘বাহ্র’ (ছন্দ)-এর?’
ত্বানাহি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রাখলেন। তারপর একটা লজ্জামাখা হাসি দিয়ে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। প্রাচ্যবিদ বিস্ময়ের সাথে বললেন, ‘আযহারের দারুল উলুম থেকে পাশ করা একজন ছাত্র ছন্দশাস্ত্র জানে না, এ কেমন কথা!’
ত্বানাহি বলেন, সেদিন আমি যখন বসা থেকে উঠি, তখন আমার মাথায় দুশ্চিন্তার ঝড় বইতে শুরু করেছে। প্রাচ্যবিদের কথা আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আমি বাড়ি ফিরে সরাসরি লাইব্রেরিতে ঢুকে পড়ি। শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ শারাকি রচিত আল-মুযাক্কিরাতুল ওয়াফিয়া ফি ইলমাইল আরুদ ওয়াল কাফিয়া বইটি বের করে নিলাম। এই বই আযহারে পাঠ্য ছিল। বইটিতে আমি পুরোপুরি ডুবে গেলাম। সকাল-বিকাল এভাবে কেটে যেতে লাগল। অবশেষে একদিন আমার জন্য কবিতার ছন্দ একদম পানির মতো সহজ হয়ে গেল, যাকে বলে একেবারে জলবৎ তরলং। আমি নতুন করে সেগুলো আবার শিখলাম।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এরই নাম মনোযোগ, যা নিয়ে আমরা কথা বলছি।