📘 প্রধান ধর্মসমুহে স্রষ্টার ধারণা 📄 জরথুস্ট্রীয় ধর্মে স্রষ্টা

📄 জরথুস্ট্রীয় ধর্মে স্রষ্টা


প্রাচীন আর্য ধর্মের অন্তর্গত একটি হচ্ছে জরথুস্ট্রীয় ধর্ম। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে পারস্যে এ ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে। যদিও এ ধর্মমতের অনুসারীর সংখ্যা কম তবুও সারা বিশ্বে এর অনুসারির সংখ্যা এক লক্ষ ত্রিশ হাজারের কম নয়। এটা প্রাচীন ধর্মগুলোর একটি। ইরানের জরথুস্ত্র এ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ধরা হয়। এ ধর্ম 'পারসি ধর্ম' হিসেবেও পরিচিত। এ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ হলো 'দসতির' ও 'আবেস্তা'। জরথুস্ত্রীয় ধর্মে স্রষ্টাকে 'আহুরা মাজদা' বলা হয়। 'আহুরা' অর্থ প্রভু, আর 'মাজদা' অর্থ প্রাজ্ঞ। আর তাই 'আহুরা মাজদা' অর্থ 'প্রাজ্ঞ প্রভু।' 'আহুরা মাজদা' দ্বারা এক অদ্বিতীয় প্রভুকে বোঝানো হয়ে থাকে।

স্রষ্টার ৮টি গুণাবলী: জরথুস্ট্রীয় ধর্মের ধর্মগ্রন্থ দসতির অনুসারে স্রষ্টা বা 'আহুরা মাজদা'র ৮টি স্বতন্ত্র গুণাবলি রয়েছে। এগুলো হলো— ১. তিনি একক। ২. কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। ৩. তিনি আদি ও অন্তহীন। ৪. তাঁর কোনো আকার-আকৃতি নেই। ৫. তিনি মানবীয় ধারণা-কল্পনার বহু ঊর্ধ্বে। ৬. তাঁর পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র কিছুই নেই। ৭. তিনি মানুষের নিজের চেয়েও নিকটতর। ৮. দৃষ্টি তাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না এবং কল্পনা শক্তিও তাঁকে আয়ত্ত করতে অক্ষম।

'আবেস্তা'য় স্রষ্টার ৪টি বৈশিষ্ট্য: 'আবেস্তা' বর্ণিত 'গাথা' ও 'ইয়াসনায়' আহুরা মাজদা বা এক অদ্বিতীয় প্রভুর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মতে যিনি প্রভু তিনি হচ্ছেন— ১. আহুরা মাজদা বা সৃষ্টিকর্তা (ইয়াসনা ৩১: ৭ ও ১১) (ইয়াসনা ৪৪: ৭) (ইয়াসনা ৫০: ১১) (ইয়াসনা ৫১: ৭) ২. সর্বশক্তিমান— তথা শ্রেষ্ঠ যার অর্থ (ইয়াসনা ৩৩: ১১), (ইয়াসনা ৪৫: ৬) ৩. 'হুদাই' করুণাময় (ইয়াসনা ৩৩: ১১) (ইয়াসনা ৪৮: ৩) ৪. 'স্পেন্তা' বা দানশীল— (ইয়াসনা ৪৩: ৪, ৫, ৭, ৯, ১১, ১৩, ১৫) (ইয়াসনা ৪৪: ২) (ইয়াসনা ৪৫: ৫) (ইয়াসনা ৪৬: ৯) (ইয়াসনা ৪৮: ৩)

📘 প্রধান ধর্মসমুহে স্রষ্টার ধারণা 📄 ইহুদিধর্মে স্রষ্টা

📄 ইহুদিধর্মে স্রষ্টা


ইয়াহুদি ধর্ম সেমিটিক ধর্মসমূহের অন্যতম। এর অনুসারীদেরকে 'ইয়াহুদি' নামে অভিহিত করা হয়। তারা নিজেদেরকে মুসা (আ) প্রচারিত ধর্মে বিশ্বাসী বলে দাবি করে। বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট তাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ।

ওল্ড টেস্টামেন্টে স্রষ্টার গুণাবলী: বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট এর 'ডিউটেরনমি' অধ্যায়ে উদ্ধৃত মূসা (আ) এর উপদেশনামায় উল্লেখ আছে— "শামা ইজরাঈলিউ আদোনাই ইলা হাইনো আদনা ইখাদ।" এটা হিব্রু ভাষার বাইবেল ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে উদ্ধৃত একটা শ্লোক। এর অর্থ— "ইসরাঈলীরা শোনো, আমাদের প্রভু ঈশ্বর একক।" (বাইবেল, ডিউটেরনমি ৬: ৪)। বাইবেলের 'ঈসাইয়্যাহ' অধ্যায়ে উল্লিখিত নিম্নোক্ত শ্লোকগুলো লক্ষ করুন— "আমি, আমিই একমাত্র প্রভু এবং আমি ছাড়া অন্য কোনো ত্রাণকর্তা নেই।" (বাইবেল, ঈসাইয়্যাহ ৪৩: ১১)। "আমি-ই প্রভু, এবং এ ছাড়া আর কেউ নেই; আমি ছাড়া আর কোনো ঈশ্বর নেই।” (বাইবেল, ঈসাইয়্যাহ ৪৫: ৫)। "আমি-ই প্রভু এবং এ ছাড়া আর কেউ নেই; আমি-ই প্রভু এবং আমার সদৃশ কেউ নেই।" (বাইবেল, ঈসাইয়াহ ৪৬: ৯)। "আমার পাশাপাশি তুমি অন্য কাউকে ঈশ্বর হিসেবে গ্রহণ করবে না; তুমি নিজের জন্য কোনো প্রতিমা তৈরি করবে না; অথবা ঊর্ধ্বাকাশে অথবা পৃথিবীতে আছে অথবা ভূ-গর্ভে কিংবা জলে আছে এমন কোনো কিছুর সদৃশ স্থির করবে না; তুমি তাদের সামনে বিনীত হবে না, আর না তাদের দর্শন করবে; কেননা আমি-ই একমাত্র প্রভু, তোমার ঈশ্বর, ঈর্ষাপরায়ণ ঈশ্বর...।" (বাইবেল, এক্সোডাস ২০: ৩-৫)। অর্থাৎ ইয়াহুদি ধর্মে প্রতিমা পূজাকে শ্লোকসমূহে নিন্দা করা হয়েছে। বাইবেলের ডিউটেরনমিতে একই কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে— "আমার পাশাপাশি অন্য কাউকে ঈশ্বর হিসেবে গ্রহণ করবে না; তুমি কোনো কিছুর প্রতিমা তৈরি করবে না; অথবা ঊর্ধ্বাকাশে, পৃথিবীতে অথবা ভূ-গর্ভে কিংবা জলে যা কিছু আছে তার কোনো কিছু সদৃশ তৈরি করবে না; এসবের সামনে তুমি কখনো বিনীত হবে না, আর তাদের উপাসনাও করবে না; কেননা, আমি একমাত্র প্রভু, তোমার ঈশ্বর ঈর্ষাপরায়ণ ঈশ্বর....।" (বাইবেল, ডিউটেরনমি ৫: ৭-৯)

📘 প্রধান ধর্মসমুহে স্রষ্টার ধারণা 📄 খ্রিস্টধর্মে স্রষ্টা

📄 খ্রিস্টধর্মে স্রষ্টা


খ্রিস্টধর্ম একটি সেমিটিক ধর্ম। খ্রিস্টানদের দাবি অনুসারে সারা বিশ্বে রয়েছে এ ধর্মের প্রায় দুই শত কোটি অনুসারী। এ ধর্মের নামকরণ করা হয়েছে যীশু খ্রিস্ট তথা ঈসা (আ) এর নামানুসারে। ঈসা (আ) ইসলাম ধর্মেও অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। খ্রিস্ট ধর্ম ছাড়া অন্য সকল ধর্মমতের মধ্যে একমাত্র ইসলামই ঈসা (আ) এর নবুওয়াতে বিশ্বাস স্থাপন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। তাই খ্রিস্টধর্মে ঈশ্বরের ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করার আগে ইসলামে ঈসা (আ) এর মর্যাদা আলোচনার দাবী রাখে।

ইসলামে ঈসা (আ) এর মর্যাদা: অ-খ্রিস্টান ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলাম-ই একমাত্র ধর্ম যাতে ঈসা (আ) এর ওপর বিশ্বাস পোষণ করাকে ঈমান তথা বিশ্বাসের অপরিহার্য মৌলিক নীতি হিসেবে মনে করা হয়। ঈসা (আ) কে নবী হিসেবে বিশ্বাস না করে কোনো মুসলিম-ই পুরোপুরি মুসলমান হতে পারে না। কেননা— আমরা বিশ্বাস করি, তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন মর্যাদাবান নবী ছিলেন, যার ওপর কিতাব নাযিল হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কোনো পুরুষের সংস্রব ছাড়া অলৌকিকভাবে পিতৃবিহীন জন্মগ্রহণ করেছেন, যা আধুনিককালের অনেক খ্রিস্টান মানতে চান না। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহর হুকুমে তিনি মৃতকে জীবন দান করতে পারতেন। আমরা বিশ্বাস করি তিনি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধকে দৃষ্টিদান করতে এবং কুষ্ঠ রোগীকে আরোগ্য দানে সক্ষম ছিলেন।

মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ধারণাগত পার্থক্য: মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়ই যদি ঈসা (আ) কে ভালোবাসে ও সম্মান করে, তাহলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায়— প্রসঙ্গত এ প্রশ্ন আসতেই পারে। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা ঈসা (আ) কে ঐশ্বরিক গুণসম্পন্ন সত্তা ও উপাস্যের যোগ্য মনে করে, যা ইসলাম স্বীকার করে না। খ্রিস্টধর্মের পবিত্র গ্রন্থ অধ্যয়নে জানা যায় যে, ঈসা (আ) কখনো নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেননি। মূলত বাইবেলের নতুন নিয়মে এ জাতীয় দাবি সম্বলিত একটি বাক্যও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে তিনি বলেছেন, 'আমি ঈশ্বর' অথবা 'আমাকে উপাসনা করো।' বরং বাইবেলে এমন একাধিক বাক্য রয়েছে যা এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে। দেখা যাক বাইবেলে উদ্ধৃত তার বাক্যগুলোতে কী আছে— "My Father is Greater than I." অর্থ— "আমার পিতা আমার চেয়ে মহান।" (যোহন ১৪: ২৮)। "My Father is Greater than all." অর্থ— “আমার পিতা সকলের চেয়ে মহান।" (যোহন ১০: ২৯)। "... I cast out devils by the spirit of God..." অর্থ— "... আমি সকল মন্দ আত্মাকে তাড়াই ঈশ্বরের শক্তিতে...।" (মথি ১২: ২৮)। "... With the finger of God cast out devils..." অর্থ— "... ঈশ্বরের সাহায্যেই আমি মন্দ দূর করি।" (লুক ১১: ২০)।

যীশু খ্রিস্টের মিশন: যীশু কখনো নিজের ঐশ্বরিকতার দাবি করেননি। অর্থাৎ তিনি নিজেকে 'ঈশ্বর' বা 'ঈশ্বরের পুত্র' বলে দাবি করেননি। তিনি তাঁর মিশনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার করে বলেছেন। ইতিপূর্বের কিতাব তাওরাতকে পূর্ণতা দানের জন্য ঈশ্বর তাকে পাঠিয়েছেন, যা ইয়াহুদিদের হাতে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। মথি লিখিত সুসমাচারের (Gospel) নিম্নোক্ত বর্ণনায় ঈসা (আ) এর নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিতে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুঠে উঠেছে— "তোমরা মনে করো না যে, আমি আইন তথা মূসা (আ) এর তাওরাতের বিধান অথবা নবীদের বিধান ধ্বংস করতে এসেছি। আমি ধ্বংস করতে আসিনি, বরং সেসব পূর্ণ করতে এসেছি। আমি তোমাদেরকে সত্যই বলছি— আকাশ ও পৃথিবী যতদিন চলতে থাকবে ততদিন সেই বিধানের কোনো একটি মাত্রা বা একটি বিন্দুও মুছে যাবে না, যতক্ষণ না পরিপূর্ণ হয়।" "আমি নিজ থেকে কিছুই করতে পারি না; আমি যেমন শুনি তেমন-ই বিচার করি এবং আমার বিচার সঠিক। কেননা আমি নিজের ইচ্ছায় কিছু করতে চাই না; বরং যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, সেই পিতার ইচ্ছা অনুসারেই আমি কাজ করতে চাই।" "অতঃপর যে কেউ এসব বিধানের ছোট একটি বিধানও অমান্য করবে এবং মানুষকে তা অমান্য করতে শিক্ষা দেবে, তাকে স্বর্গরাজ্যে সবচেয়ে ছোট মনে করা হবে। অপরদিকে যে কেউ বিধানসমূহ পালন করবে এবং মানুষকে তা পালন করতে শিক্ষা দেবে, তাকে স্বর্গরাজ্যে অত্যন্ত মর্যাদাবান মনে করা হবে।" (বাইবেল, মথি ৫: ১৭-২০)।

যীশু স্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত পুরুষ: বাইবেল বেশ কিছু শ্লোকে যীশুর মিশনের ঐশ্বরিক প্রকৃতি সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। নিম্নে সূত্রসহ উদ্ধৃতিগুলো উপস্থাপন করা হলো— "... and the word which ye hear is not mine, but the Father's which has sent me." অর্থ: "... এবং তোমরা যা আমার থেকে শোনো, তা-তো আমার কথা নয়, বরং সেসব কথা পিতার যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।” (বাইবেল যোহন ১৪: ২৪)। "And this is life eternal, that they might know thee, the only true God and Jesus christ, whom thou has sent." অর্থ: "এবং এটাই শাশ্বত জীবন যে, তারা তোমাকে তথা সত্য ঈশ্বরকে আর তুমি যাকে পাঠিয়েছ সেই যীশু খ্রিস্টকে জানবে।" (বাইবেল যোহন ১৭: ৩)।

যীশু তার ওপর দেবত্ব আরোপের বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন: বাইবেলে উল্লিখিত নিচের ঘটনার প্রতি লক্ষ করলে তা যে কেউ বুঝতে সক্ষম। বাইবেলে বলা হয়েছে— "And behold, one came and said unto him, Good master, what good thing shall I do, that I may have eternal life?" And he said unto him "Why callest thou me good? There is none good but one, that is God; but if thou will enters into life, keeps the commandments." অর্থ: "এবং দেখো, একজন লোক আসলো এবং যীশুকে বললো— ওহে ভালো প্রভু! আমাকে এমন ভালো কাজ সম্পর্কে বলুন, যা করলে আমি অনন্ত জীবন লাভ করতে পারবো।' যীশু তাকে বললেন, "আমাকে ভালো বলছো কেন, একক ছাড়া কেউ ভালো নেই, আর তিনি হলেন 'ঈশ্বর'; তুমি যদি অনন্ত জীবন লাভ করতে চাও, তবে তাঁর সব আদেশ পালন করো।' বাইবেলে উপস্থাপিত উপরোক্ত ঘটনাটি যীশুর 'ঈশ্বর' হওয়া সংক্রান্ত খ্রিস্টানদের মতবাদ এবং যীশুর আত্মত্যাগের মাধ্যমে তাদের পরিত্রাণ লাভের মতবাদ বাইবেল প্রত্যাখ্যান করেছে। মথির বর্ণনা অনুসারে যীশু মানবজাতির চূড়ান্ত মুক্তি লাভের জন্য স্রষ্টার আদেশ-নিষেধ মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। (বাইবেল; মথি ৫: ১৭-২০ দ্রষ্টব্য)।

যীশু স্রষ্টার মনোনীত ব্যক্তি: বাইবেলের নিম্নোক্ত বিবরণ ইসলামি এ বিশ্বাসকে সমর্থন করে যে যীশু আল্লাহর নবী ছিলেন— "Ye men of Israel, hear these words: Jesus of Nazareth, man approved of God among you by miracles and wonders and signs, which God did by him in the midst of you, as ye yourselves also know." অর্থ: "হে ইসরাঈলীরা এ কথাগুলো শোনো: নাজারাথবাসী যীশু ঈশ্বরের মনোনীত একজন মানুষ যিনি ঈশ্বরের অলৌকিক, আশ্চর্যজনক নিদর্শন। ঈশ্বর তার দ্বারা যা করেছেন তা তোমাদের মধ্য থেকেই করেছেন যা তোমরা নিজেরাই জানো।'

ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়: খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদ বাইবেল কখনো সমর্থন করে না। একদা বাইবেলের একজন লিপিকার যীশুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, ঈশ্বরের সর্বপ্রথম নির্দেশ কোনটি? এর উত্তরে তিনি তা-ই পুনরুক্তি করলেন যা মূসা (আ) বলেছিলেন— 'শামা ইসরাঈলু আদোনাই ইলা হাইনো আদনা ইখাদ'— এটা একটা হিব্রু উদ্ধৃতি যার অর্থ হলো— 'হে ইসরাঈলীরা শোনো। আমাদের প্রভু ঈশ্বর একক প্রভু।' (মার্ক ১২: ২৯)

📘 প্রধান ধর্মসমুহে স্রষ্টার ধারণা 📄 ইসলামে আল্লাহর অস্তিত্ব

📄 ইসলামে আল্লাহর অস্তিত্ব


কুরআন ও অপরাপর আসমানী কিতাবসমূহে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া রয়েছে। সারা বিশ্বে ইসলামের প্রায় একশত বিশ কোটি অনুসারী রয়েছে। এটি একটি সেমিটিক ধর্ম। 'ইসলাম' অর্থ আল্লাহর ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণ। মুসলিমজাতি কুরআনকে আল্লাহর বাণী হিসেবে গ্রহণ করে, যা হযরত মুহাম্মদ (স) এর ওপর নাযিল করা হয়েছিল। ইসলাম বলে যে, আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে একত্ববাদের দাওয়াত এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জবাবদিহিতার বার্তাসহ তাওহীদের নবী ও রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। সুতরাং, ইসলাম অতীতকালের সকল নবী-রাসূল তথা আদম (আ) থেকে শুরু করে যত নবী-রাসূল দুনিয়াতে এসেছেন তাদের সকলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাকে তার বিশ্বাসের মূলনীতি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন— হযরত নূহ (আ), ইবরাহীম (আ), ইসমাঈল (আ), ইসহাক (আ), ইয়াকুব (আ), মূসা (আ), দাউদ (আ), ইয়াহইয়া (আ) ও ঈসা (আ) এবং অন্য সকল আম্বিয়ায়ে কিরাম।

আল্লাহর সংক্ষিপ্ত পরিচয়: কুরআন মাজীদের ১১২ নং সূরা ইখলাসের চারটি আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেয়া হয়েছে— ১. قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدُ - বলুন, তিনি আল্লাহ একক (অদ্বিতীয়)। ২. اللَّهُ الصَّمَدُ - আল্লাহ মুখাপেক্ষিহীন। ৩. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - তিনি কাউকে জন্মদান করেননি, কারো থেকে তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। ৪. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدًا - আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। (সূরা ইখলাস: ১-৪)। সূরাটির দ্বিতীয় আয়াতে উল্লিখিত 'আস-সামাদ' আরবি শব্দটির যথার্থ অনুবাদ একটু কঠিন। তবে এর মূল অর্থের কাছাকাছি অর্থ হলো Absolute existence অর্থাৎ পরম অস্তিত্ব। এই বিশেষণটি একমাত্র আল্লাহর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; কেননা অন্য সকল কিছুর অস্তিত্ব অস্থায়ী ও শর্তসাপেক্ষ। এ শব্দ দ্বারা এ অর্থ প্রকাশিত হয় যে, আল্লাহ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর নির্ভরশীল নন বরং সকল ব্যক্তি বা বস্তু তাঁর ওপরই নির্ভরশীল এবং তাঁরই মুখাপেক্ষী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px