📄 উমর (রা.) কর্তৃক প্রচলিত তারাবি
উপরোল্লিখিত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হলো-রাসূল ﷺ-এর তারাবির নামাজ আট রাকাত ছিল, ২০ রাকাত নয়। আয়িশা (রা.)-এর হাদিস থেকে এটাও প্রমাণ হয়, তারাবি ও তাহাজ্জুদ একই নামাজ। দুটি ভিন্ন দুই নামাজ নয়। এ কারণেই ইমাম বুখারি (রহ.) হাদিসটি তারাবি অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ করেছেন তাহাজ্জুদের অধ্যায়েও। এ থেকে বোঝা যায়, তিনিও এই নামাজকে একই নামাজ মনে করতেন। আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (মৃ. ১৩৫৩ হি.) (রহ.) বলেন-
ولم يثبت في رواية من الروايات أنه صلى التরাويح والتهجد على حدة في رمضان بل طول التরাويح
'রমজান মাসে রাসূল ﷺ তারাবি ও তাহাজ্জুদ আলাদা আলাদা পড়েছেন-এমনটি কোনো বর্ণনা দ্বারাই প্রমাণিত নয়। তবে তারাবির নামাজ (তাহাজ্জুদের তুলনায়) দীর্ঘ হতো।'১৮৯
তিনি আরও বলেন-'রাসূল ﷺ-এর যুগে তারাবি ও তাহাজ্জুদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না।'১৯০
আয়িশা (রা.)-এর হাদিসে আমরা দেখেছি, আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রা.) রাসূল ﷺ-এর রমজান মাসের নামাজ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। যদি তারাবি ও তাহাজ্জুদ ভিন্ন হতো, তাহলে আয়িশা (রা.) বলতেন-রাসূল ﷺ এত রাকাত তারাবি এবং এত রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন; কিন্তু তিনি উভয় নামাজের মধ্যে পার্থক্য না করে বললেন-'রাসূল ﷺ রমজানে ও রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না।'
তা ছাড়া রাসূল ﷺ রমজানে রাতের প্রথম অংশে তারাবি পড়েছেন, শেষ অংশে তাহাজ্জুদ পড়েছেন-এমন কোনো বর্ণনাও পাওয়া যায় না। হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি একই নামাজে সারা রাত কাটিয়ে দিয়েছেন; তাহাজ্জুদের জন্য আলাদা কোনো নামাজ পড়েননি।
নুমান বিন বশির (রা.) বলেন-'আমরা রাসূল ﷺ-এর সাথে ২৩ রমজান রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ (আনুমানিক রাত ৮টা থেকে ১০/১১টা) পর্যন্ত সালাত আদায় করেছি। এরপর সালাত আদায় করেছি ২৫ রমজান অর্ধরাত (আনুমানিক ৮টা থেকে ১২টা) পর্যন্ত। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে ২৭ রমজান নামাজে দাঁড়ালেন। তিনি আমাদের এত দীর্ঘ সময় নামাজ পড়ালেন, মনে হচ্ছিল, হয়তো আমরা ফালাহ (আনুমানিক রাত ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত) পাব না। (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা সাহরিকে ফালাহ বলতাম। '১৯১
এই হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল ﷺ সাহাবিদের নিয়ে ২৭তম রাতে সারা রাত তারাবি পড়েছিলেন; এমনকী এতে সাহাবিরা সাহরি ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-তারাবি ও তাহাজ্জুদ যদি পৃথক নামাজ হয়, তাহলে ওই রাতে রাসূল কখন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েছিলেন? কেননা, তাহাজ্জুদ পড়া নবিজির ওপর ফরজ ছিল। এ থেকেও বোঝা যায়, তারাবি ও তাহাজ্জুদ একই নামাজ। একই নামাজ হওয়ার কারণেই তিনি আলাদাভাবে তাহাজ্জুদ পড়া প্রয়োজন মনে করেননি।
উমর (রা.) সাহাবিদের তারাবির নামাজ পড়তে দেখে বললেন-'তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাকো, তা ওই অংশের চেয়ে উত্তম, যে অংশে তোমরা নামাজ পড়ো। এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন। কেননা, তখন লোকেরা রাতের প্রথম অংশে সালাত আদায় করত। '১৯২
উমর (রা.)-এর কথা থেকেও বোঝা যায়, উভয় নামাজ একই। এজন্য তিনি তারাবির নামাজ রাতের প্রথম অংশে না পড়ে শেষরাতে পড়াকে উত্তম বলেছেন।
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) বলেন-'রাসূল একাকী তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করতেন। '১৯৩ তিনি আরও বলেন-'তারাবি আর কিয়ামুল লাইল একই। '১৯৪ মূলত কিয়ামুল লাইল, সালাতুল লাইল, তারাবি, তাহাজ্জুদ সব একই নামাজ। এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো নফল নামাজ পড়াকে কিয়ামুল লাইল বলে।
উমর (রা.) তাঁর খিলাফত আমলে আট রাকাত তারাবির সূচনা করেছিলেন। ইমাম মালিক (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ থেকে ও সাইব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন-
أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً -
'উমর (রা.) উবাই ইবনে কাব ও তামিম দারিকে নির্দেশ দিলেন, যাতে তাঁরা লোকদের নিয়ে (বিতরসহ) ১১ রাকাত তারাবি পড়ে। ১৯৫
এই হাদিসের সনদ সহিহ। আট রাকাতের দাবিদাররা এ হাদিসের ভিত্তিতেই তারাবি নামাজ আট রাকাত পড়ে থাকেন। এ সম্পর্কে শাইখ আলবানি সালাতুত তারাবি গ্রন্থে লিখেছেন- 'তারাবি নামাজ আট রাকাত আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব। এর বেশি পড়া বিদআত।' ১৯৬
সম্ভবত ১৪০০ বছরের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি তারাবি নামাজ আট রাকাতের বেশি পড়া বিদআত বলেছেন। তাঁর ইজতিহাদকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু তাঁর এই ইজতিহাদ মেনে নেওয়া যায় না। কেননা, তা সহিহ হাদিসবিরোধী। রাসূল ﷺ বলেছেন- صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى- 'রাতের নামাজ হচ্ছে দুই রাকাত দুই রাকাত করে। ১৯৭
এ হাদিসে রাসূল ﷺ রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেননি। যদি রাসূল আট রাকাত তারাবি পড়তেন বলে এর বেশি পড়া বিদআত হয়, তাহলে তারাবি নামাজ তিন দিনের বেশি জামাতে পড়াও বিদআত। কেননা, নবি তিন দিনের বেশি জামাতে তারাবি পড়েননি।
উমর (রা.) তাঁর খিলাফত আমলের শুরুর দিকে আট রাকাত তারাবির নির্দেশ দিয়েছিলেন সত্য, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর খিলাফত আমলেই ২০ রাকাত তারাবি আদায় করা হতো। এ সংক্রান্ত সহিহ ও হাসান অনেক হাদিস রয়েছে। সাইব ইবনে ইয়াজিদ বলেন-'উমর (রা.) রমজান মাসে লোকদের উবাই ইবনে কাব ও তামিমে দারি (রা.)-এর ইমামতিতে ২১ রাকাতের (বিতরসহ) ওপর একত্র করেন। '১৯৮
ইমাম বায়হাকি (রহ.) ইয়াজিদ ইবনে খুসাইফা সূত্রে সাইব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন-
كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً
'তাঁরা (সাহাবিরা) উমর (রা.)-এর যুগে রমজান মাসে ২০ রাকাত (তারাবি) পড়তেন। '১৯৯
দুটি হাদিসের সনদই বিশুদ্ধ। ইমাম বুখারি-মুসলিমের শর্তে উত্তীর্ণ। সাহাবি, তাবেয়ি ও সালফে সালেহিনদের মধ্যে ২০ রাকাত তারাবিই প্রসিদ্ধি লাভ করে। ইবনে আব্দুল বার (মৃ. ৪৬৩ হি.) ২০ রাকাতের হাদিসকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন-
وَهُوَ قَوْلُ جُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ وَبِهِ قَالَ الْكُوفِيُّونَ وَالشَّافِعِيُّ وَاكْثَرُ الْفُقَهَاءِ
'জমহুর আলিমের মতে, তারাবি নামাজ ২০ রাকাত। কুফাবাসী, ইমাম শাফেয়ি ও অধিকাংশ ফকিহদের এটাই মত।'২০০
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন- فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أَبِي بْنِ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ
'এটা প্রমাণিত যে, উবাই ইবনে কাব (রা.) লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত কিয়ামু রমজান তথা তারাবির সালাত আদায় করতেন। '২০১
উসমান, আলি ও ইবনে মাসউদ (রা.) সহ অধিকাংশ সাহাবি ২০ রাকাত তারাবি পড়তেন। ২০২
ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম সুফিয়ান সাওরি, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারাক, ইবনে তাইমিয়া (রহ.) সহ জমহুর আলিমের মতও এটাই। ২০৩
বিশিষ্ট তাবেয়ি, ফকিহ ও মুহাদ্দিস আতা (মৃ. ১১৪ হি.) (রহ.) বলেন- أَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ يُصَلُّونَ ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِ - 'আমি লোকদের বিতরসহ ২৩ রাকাত সালাত আদায় করতে দেখেছি।'২০৪
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) স্বীয় ওস্তাদ হাম্মাদ (রহ.) থেকে এবং তিনি প্রসিদ্ধ তাবেয়ি ফকিহ ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন- أَنَّ النَّاسَ كَانُوا يُصَلُّونَ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ فِي رَمَضَانَ - 'লোকেরা রমজান মাসে পাঁচ তারবিহা তথা ২০ রাকাত সালাত আদায় করত।'২০৫
এ দুটো আসারই সহিহ সনদে বর্ণিত। এ থেকে বোঝা যায়, উমর (রা.)-এর পরবর্তী সময় সাহাবি ও তাবেয়িদের মধ্যে ২০ রাকাত তারাবির প্রচলন হয়েছিল।
ইমাম তিরমিজি (রহ.) বলেন- 'উমর (রা.), আলি (রা.) ও অন্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত, অধিকাংশ আহলে ইলমই তা মেনে চলেন। অর্থাৎ তারা ২০ রাকাত তারাবি পড়তেন।'২০৬
ইমাম নববি বলেন- فَصَلَاةُ التَّرَاوِيحِ سُنَّةٌ بِإِجْمَاعِ الْعُلَمَاءِ وَمَنْ هَبْنَا أَنَّهَا عِشْرُونَ رَكْعَةً بِعَشْرِ تَسْلِيمَاتٍ وَتَجُوزُ مُنْفَرِدًا وَجَمَاعَةً - 'আলিমদের ঐকমত্যে তারাবির সালাত সুন্নত। আমাদের মতে, এর রাকাত সংখা ২০, যা ১০ সালামে আদায় করা হবে। তা একাকী ও জামাতে দুভাবেই আদায় করা জায়েজ।'২০৭
শাইখ বিন বাজ বলেন- وقد صلى الصحابة رضي الله عنهم فى عهد عمر رضي الله عنه ثلاثا - وعشرين ركعة 'উমর (রা.)-এর যুগে সাহাবিরা ২০ রাকাত সালাত আদায় করতেন।'২০৮
'পিস পাবলিকেশন্স' কর্তৃক প্রকাশিত রাসূল ﷺ-এর প্র্যাক্টিক্যাল নামাজ বইটিতেও বলা হয়েছে-'সুতরাং ২০ রাকাতের অভিন্ন মত গ্রহণ করাই যুক্তিসংগত।'২০৯
কোনো কোনো হাদিসে আবার বিতরসহ ৪১ রাকাত বা তার চেয়েও বেশি তারাবি পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। ২১০
টিকাঃ
১৮৯. আরফুশ-শাজি: ৮০৬
১৯০. প্রাগুক্ত
১৯১. নাসায়ি: ১৬০৬, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ: ৭৬৯৬
১৯২. বুখারি: ২০১০; মালেক, আল মুয়াত্তা: ২৪১
১৯৩. আল ফিকহুল আকবার : বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, (আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঝিনাইদহ, ২০১৪), পৃষ্ঠা-৩৬১
১৯৪. ড খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, জিজ্ঞাসা ও জবাব: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ০০
১৯৫. মালেক, আল মুয়াত্তা : ৩৭৯; শরহে মাআনিল আছার: ১৭৪০; মিরকাতুল মাফাতিহ : ১৩০২, বায়হাকি, আস-সুনানুল কুবরা, ২/৬৯৮
১৯৬. আলবানি, সালাতুত তারাবিহ: পৃষ্ঠা-৮৬
১৯৭. বুখারি: ৪৭২, মুসলিম: ৭৪৯, আবু দাউদ: ১৩২৬
১৯৮. আবদুর রাজ্জাক, আল মুসান্নাফ: ৭৭৩০, উমদাতুল কারি: ১১/১২৭
১৯৯. বায়হাকি, আস-সুনানুল কুবরা, ২/৬৯৮; উমদাতুল কারি, ৫/২৬৭; মিরকাতুল মাফাতিহ, ৩/৩৭১
২০০. ইবনে আবদুল বার, আল ইসতিযকার : ২/৭০
২০১. মাজমুউল ফতওয়া: ২৩/১১২
২০২. আইনি, উমদাতুল কারি: ৭/১৭৮
২০৩. ইবনে আবদুল বার, আল ইসত্যিকার, ২/৭ ইবনে কুদামা, আল মুগনি : ১/৪৫৭
২০৪. মুসান্নাফে আবি শায়বা : ৭৬৮৮; মুহাম্মদ নাসর আল মারওয়াজি (২৯৪ হি.), মুখতাসারু কিয়ামুল লাইল: ২২১; আল ইসতিজকার: ২/৭০
২০৫. আবু ইউসুফ, কিতাবুল আসার: ২১১
২০৬. তিরমিজি: ৮০৬
২০৭. আল মাজমুউ: ৪/৩১
২০৮. মাজমুউ ফতওয়া ইবনে বাজ: ১১/৩৩৫
২০৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আত-তুওয়াইজিরি, রাসূল ﷺ-এর প্র্যাক্টিক্যাল নামাজ, (পিস পাবলিকেশন-ঢাকা, ২০১৩), পৃষ্ঠা-২২২
২১০. ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফতওয়া: ২২/২৭২; মাজমুউ ফতওয়া ইবনে বাজ, ১৫/১৯
📄 কোয়ানটিটি বনাম কোয়ালিটি
উপরোল্লিখিত হাদিস, দলিল ও মতামতগুলো নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করে আমরা বলতে পারি, রাসূল ﷺ আট রাকাত তারাবি পড়েছেন। উমর (রা.)-এর খিলাফত আমলে প্রথমে আট রাকাত, পরে ২০ রাকাত তারাবির প্রচলন হয়।
রাসূল ﷺ দীর্ঘ সময় ধরে তারাবির নামাজ পড়তেন। উমর (রা.)-এর খিলাফত আমলেও জামাতের সাথে দীর্ঘ সময় তারাবির নামাজ পড়া হতো। তাঁরা রাত ৮/৯ টা থেকে ৩/৪টা পর্যন্ত প্রায় ৬/৭ ঘণ্টা তারাবি পড়তেন।
তারাবির নামাজ আট রাকাতের পক্ষে যেমন বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে, তেমনি সহিহ হাদিস রয়েছে ২০ রাকাতের পক্ষেও। এই দুই ধরনের বিপরীতমুখী হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে মুহাদ্দিসগণ বলেন-প্রথম প্রথম দীর্ঘ সময় নিয়ে আট রাকাত তারাবি পড়া হতো। পরে সময়ের পরিমাণ ঠিক রেখে রাকাত ও বিশ্রাম সংখ্যা বাড়ানো হয়। কেননা, ৬/৭ ঘণ্টায় ৮ রাকাত নামাজ পড়ার বদলে বিশ রাকাত পড়া ছিল সহজতর।'২১১
ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন-'এ দুটি বর্ণনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা যায়-তাঁরা প্রথমে ১১ রাকাত পড়তেন; পরবর্তী সময়ে ২০ রাকাত তারাবি এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। '২১২
ইবনে হাজার আসকালানি (মৃ. ৮৫২ হি.) (রহ.) বলেন- وَالْجَمْعُ بَيْنَ هَذِهِ الرِّوَايَاتِ مُمْكِنٌ بِاخْتِلَافِ الْأَحْوَالِ وَيُحْتَمَلُ أَنَّ ذَلِكَ الاخْتِلَافَ بِحَسَبِ تَطْوِيلِ الْقِرَاءَةِ وَتَخْفِيفِهَا فَحَيْثُ يُطِيلُ الْقِرَاءَةَ تَقِلُّ الزَّكَعَاتُ وَبِالْعَكْسِ وَبِذَلِكَ جَزَمَ الدَّاوُدِيُّ وَغَيْرُهُ 'এই বর্ণনাগুলোর মাঝে অবস্থার ভিন্নতার ভিত্তিতে সমন্বয় করা সম্ভব। সম্ভবত এই ভিন্নতা ছিল কিরাত দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত করার বিবেচনায়। অর্থাৎ, কিরাত দীর্ঘ হলে রাকাত কম হতো। রাকাত বেশি হলে কিরাত সংক্ষিপ্ত হতো। ইমাম দাউদি ও অন্যরা এ মতকে চূড়ান্ত সাব্যস্ত করেছেন। '২১৩
ইবনে হিব্বান (রহ.) বলেন- أن التراويح كانت أولا إحدى عشرة ركعة، وكانوا يطيلون القراءة فثقل عليهم فخففوا القراءة وزادوا في عدد الركعات فكانوا يصلون عشرين ركعة ، ثم خففوا القراءة وجعلوا الركعات ستا وثلاثين 'তারাবির নামাজ প্রথমে (বিতরসহ) ১১ রাকাত ছিল। তাঁরা কিরাত লম্বা করতেন। ফলে (দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা) তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ল। তাই তাঁরা কিরাত ছোটো করে রাকাত সংখ্যা বাড়ালেন এবং ২০ রাকাত তারাবি পড়া আরম্ভ করলেন। তাঁদের কেউ কেউ কিরাতকে আরও সংক্ষিপ্ত করলেন এবং ৩৬ রাকাত তারাবি পড়া শুরু করলেন। '২১৪
এইভাবে তাঁরা পরস্পরবিরোধী হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করেছেন। একটিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অন্যটিকে বাতিল বা ভুল বলেননি। উমর (রা.) কর্তৃক আট রাকাত ও ২০ রাকাত তারাবির দুটি বর্ণনাই ইমাম মালেক (রহ.) মুয়াত্তা গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, কিন্তু তিনি এ দুই মতের কোনোটাই গ্রহণ না করে নিজে মসজিদে নববিতে ৩৬ রাকাত তারাবির ইমামতি করেছেন। ২১৫
নবিজির হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম ও সালফে সালেহিনদের আমল নিয়ে পর্যালোচনা করলে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাঁদের কাছে রাকাত সংখ্যার কোনো গুরুত্ব ছিল না। গুরুত্ব ছিল না আট রাকাত বা ২০ রাকাতের। তারাবির রাকাত সংখ্যা যদি গুরুত্বপূর্ণ হতো, তাহলে যে তিন দিন রাসূল ﷺ সাহাবিদের নিয়ে জামাতে তারাবি পড়েছিলেন, সে তিন দিনের রাকাত সংখ্যা সহিহ সনদে অবশ্যই বর্ণিত হতো; কিন্তু একজন সাহাবিও রাকাত সংখ্যা উল্লেখ করে হাদিস বর্ণনা করেননি। সে নামাজের ধীরস্থিরতা ও কিয়াম কত লম্বা ছিল, তা তাঁদের প্রত্যেকেই গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছেন।
অতএব, কেউ যদি আট রাকাতে দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। আর অন্যজন ব্যয় করেন ২০ রাকাতে এক ঘণ্টা, তাহলে ২০ রাকাতের থেকে আট রাকাত নামাজই উত্তম হবে। আবার কেউ যদি আট রাকাতে ৩০ মিনিট ব্যয় করেন। অন্যজন ২০ রাকাতে ব্যয় করেন এক ঘণ্টা, তাহলে আট রাকাত থেকে ২০ রাকাত নামাজই উত্তম হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً - 'তিনি জীবন-মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন এটা পরীক্ষা করার জন্য, তোমাদের কার থেকে কার আমল উত্তম।' সূরা মুলক: ২
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা উত্তম (اَحْسَنُ) শব্দ ব্যবহার করেছেন। বেশি (اَكْرُ) শব্দ ব্যবহার করেননি। তাই ইবাদতে সংখ্যার গুরুত্ব না দিয়ে সৌন্দর্যের গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কোয়ানটিটির বদলে কোয়ালিটির প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু তা না করে শুধু কোয়ানটিটি দেখছি। কে কত রাকাত পড়ল, তা নিয়ে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করছি। অথচ কার নামাজ কতটুকু শুদ্ধ হলো, কার নামাজ কতটুকু সুন্দর হলো-তা নিয়ে কোনো আলিমের মাথাব্যথা নেই, কোনো ফতোয়া নেই।
টিকাঃ
২১১. ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফতওয়া: ২২/২৭২, ড খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, আল-ফিকহুল আকবার বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, (আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঝিনাইদহ, ২০১৪): পৃষ্ঠা-৩৬৩
২১২. বায়হাকি, আস সুনানুল কুবরা: ২/৪৯৬
২১৩. ফাতহুল বারি: ৪/২৫৩
২১৪. শরহে জারকানি: ২৪৫: সাইয়্যেদ সাবিক, ফিকহুস সুন্নাহ: ১/২০৬
২১৫. ইবনে কুদামা, আল মুগনি: ১/৪৫৭
📄 তারাবি কত রাকাত পড়ব
তারাবির নামাজ নফল নামাজের অন্তর্ভুক্ত। নফল নামাজের ক্ষেত্রে শরিয়াহর নির্দেশ হলো, এর নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই। ব্যক্তি তার সাধ্য অনুযায়ী যত রাকাত ইচ্ছা পড়তে পারে। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন- وَلَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنْ هَذَا ضَيقٌ، وَلَا حَدٌّ يُنْتَهَى إِلَيْهِ؛ لِأَنَّهُ نَافِلَةٌ 'এ (তারাবির রাকাত সংখ্যার) ক্ষেত্রে কোনো সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা নেই। কারণ, এটি একটি নফল নামাজ। '২১৬
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেন- قَدْ قِيلَ فِيهِ الْوَانٌ نَحْوًا مِنْ أَرْبَعِينَ، إِنَّمَا هُوَ تَطَوَّعْ 'তারাবির নামাজের (রাকাত সংখ্যা) নিয়ে ৪০টির মতো ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। বাস্তবে এটি একটি নফল নামাজ। '২১৭
রমজানে কিংবা রমজানের বাইরে নফল নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ-এর সাধারণ নির্দেশনা হচ্ছে- صَلَاةُ اللَّইْلِ مَثْنَى مَثْنَى 'রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে। '২১৮
অতএব, ব্যক্তি দুই রাকাত দুই রাকাত করে আট রাকাত, ২০ রাকাত, ৪০ রাকাত কিংবা সারা রাতই কিয়ামুল লাইল করতে পারে। সম্পূর্ণরূপে এটা তার ইচ্ছা ও সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। কারণ, নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই নিজের আমির (الْمُطَوَّعُ أَمِيرُ عَلَى نَفْسِهِ)। ২১৯
শাইখ বিন বাজ বলেন- 'রমজানের ভেতরে হোক বা বাইরে, সালাতুল লাইল এমন নির্দিষ্ট নয়, যা কমবেশি করা যাবে না। রাসূল ﷺ-এর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেননি। ' ২২০
শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন- لو صلاها الإنسان ثلاث وعشرين رকعة فإنه لا ينكر عليه؛ لأن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لم يحدد صلاة الليل بعدد معين- 'যদি কেউ (বিতরসহ) ২৩ রাকাত তারাবি পড়ে, তাহলে তাকে তিরস্কার করা যাবে না। কেননা, রাসূল ﷺ সালাতুল লাইলের রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেননি।'২২১
এ আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট হলো, তারাবি নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই। যার যতটুকু সাধ্য, সে ততটুকু পড়বে। যে যত বেশি পড়বে, যত বেশি সময় ব্যয় করবে, যার নামাজ যত সুন্দর হবে, সে তত বেশি সওয়াব পাবে। তবে জামাতে নামাজ পড়লে ইমামের সাথে শেষ রাকাত পর্যন্ত তারাবি পড়া উচিত। নবি ﷺ বলেছেন- مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ - 'যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত (তারাবি) নামাজ পড়বে, তার জন্য সারা রাত নামাজ পড়ার সওয়াব লেখা হবে।'২২২
ইমাম সাহেব যদি আট রাকাত তারাবি পড়ান, আর মুক্তাদিরাও তা-ই পড়ে, তাহলে তারা এ হাদিসের পূর্ণ ফজিলত লাভ করবে। তবে মুক্তাদি ইচ্ছা করলে, এরপর একা একা আরও পড়তে পারে। কিন্তু ইমাম সাহেব যদি ২০ রাকাত পড়ান আর মুক্তাদিরা ৮/১০ রাকাত পড়ে চলে যায়, তাহলে তারা এই হাদিসের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হবে। এ সম্পর্কে শাইখ বিন বাজ বলেন- السنة الإتمام مع الإمام ، ولو صلى ثلاثا وعشرين لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب الله له قيام ليلة فالأفضل للمأموم أن يقوم مع الإمام حتى ينصرف، سواء صلى إحدى عشرة ركعة أو ثلاث عشرة أو ثلاثاً وعشرين أو غير ذلك - 'ইমামের সাথে সালাত পূর্ণ করা সুন্নত। যদিও তিনি ২৩ রাকাত পড়ান। কেননা, রাসূল ﷺ বলেছেন-"যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত (তারাবি) নামাজ পড়বে, তার জন্য সারা রাত নামাজ পড়ার সওয়াব লেখা হবে।" অতএব, মুক্তাদির জন্য উত্তম হচ্ছে, ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত নামাজ পড়া। চাই তিনি ১১ রাকাত পড়ান বা ১৩ রাকাত; ২৩ রাকাত পড়ান কিংবা তার চেয়ে কম বেশি।'২২৩
টিকাঃ
২১৬. মুহাম্মদ নাসর আল মারওয়াজি, মুখতাসারু কিয়ামিল লাইল : ২২২; বায়হাকি, মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার: ৪/৪২
২১৭. মুহাম্মদ নাসর আল মারওয়াজি, মুখতাসারু কিয়ামিল লাইল, ১/২২২; তুহফাতুল আহওয়াজি, ৩/৪৪৮
২১৮. বুখারি: ৯৯০
২১৯. মুসনাদে আহমদ: ২৬৯০৮ (হাদিসটি দুর্বল)
২২০. মাজমুউ ফতওয়া ইবনে বাজ: ১৫/১৯, ৩০/২৪
২২১. মাজমুউ ফতওয়া ও রাসায়েলে উসাইমিন: ১৪/১৯২
২২২. তিরমিজি: ৮০৬; নাসায়ি: ১৬০৫; ইবনে খুজাইমা: ২২০৬
২২৩. মাজমুউ ফাতওয়া ইবনে বাজ: ১১/৩২৫
📄 ইমাম ইবনে তাইমিয়ার অভিমত
তারাবির রাকাত সংখ্যা এবং পড়ার ধরন নিয়ে সর্বোত্তম সমাধান দিয়েছেন ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)। তিনি বলেন- أَنَّ نَفْسَ قِيَامِ رَمَضَانَ لَمْ يُوَقِّتُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ عَدَدًا مُعَيَّنًا، بَلْ كَانَ هُوَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ لَا يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَا غَيْرِهِ عَلَى ثَلَاثَ عَشْرَةِ رَكْعَةً لَكِنْ كَانَ يُطِيلُ الزَّكَعَاتِ فَلَمَّا جَمَعَهُمْ عُمَرُ عَلَى أبي بْنِ كَعْبٍ كَانَ يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَةً ثُمَّ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ وَكَانَ يُخِفُ الْقِرَاءَةَ بِقَدْرِ مَا زَادَ مِنْ الزَّكَعَاتِ لِأَنَّ ذَلِكَ أَخَفُ عَلَى الْمَأْمُومِينَ مِنْ تَطْوِيلِ الرَّكْعَةِ الْوَاحِدَةِ ثُمَّ كَانَ طَائِفَةٌ مِنَ السَّلَفِ يَقُومُونَ بِأَرْبَعِينَ رَكْعَةً وَيُوتِرُونَ بِثَلَاثِ وَآخَرُونَ قَامُوا بِسِتِّ وَثَلَاثِينَ وَأَوْتَرُوا بِثَلَاثِ وَهَذَا كُلُّهُ سَائِغٌ فَكَيْفَمَا قَامَ فِي رَمَضَانَ مِنْ হ্যালো-وجوه فقد أحسن والأفضل يختلف باختلاف أحوال المصلين فإن كان فيهم احتمال لطول القيام فالقيام بعشر ركعات وثلاث بعدها. كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي لنفسه في رمضان وغيره هو الأفضل وإن كانوا لا يحتملونه فالقيام بعشرين هو الأفضل وهو الذي يعمل به اكثر المسلمين فانه وسط بين العشر وبين الاربعين وان قام باربعين وغيرها جاز ذلك ولا يكره شيء من ذلك. وقد نص على ذلك غير واحد من الأئمة كأحمد وغيره، ومن ظن أن قيام رمضان فيه عدد موقت عن النبي صلى الله عليه وسلم لا يزاد فيه ولا ينقص منه فقد أخطأ -
'তারাবির রাকাত সংখ্যা রাসূল ﷺ নির্দিষ্ট করে দেননি। তিনি রমজান ও রমজানের বাইরে ১৩ রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি রাকাতগুলো দীর্ঘ করতেন। পরবর্তী সময়ে উমর (রা.) যখন উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর পেছনে সবাইকে একত্র করলেন, তখন তিনি ২০ রাকাত তারাবি এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। তিনি রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করে সেই অনুপাতে কিরাত (তিলাওয়াত) কম করতেন। কারণ, রাকাত দীর্ঘায়িত করার চেয়ে এ পদ্ধতি মুসল্লিদের জন্য আরামদায়ক ছিল।
সালফে সালেহিনদের মধ্যে এক দল ৪০ রাকাত তারাবি এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। আবার কেউ কেউ ৩৬ রাকাত তারাবি এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। এ পদ্ধতিগুলোর সবকটিই বৈধ। রমজানে এগুলোর যে পদ্ধতিতেই কিয়াম করা (তারাবি পড়া) হবে, তা উত্তম বিবেচিত হবে।
তবে সর্বোত্তম হচ্ছে, মুসল্লিদের ভিন্নতার ভিত্তিতে রাকাত সংখ্যাও ভিন্ন ভিন্ন হওয়া। অর্থাৎ, মুসল্লিদের যদি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা থাকে, তাহলে ১০ রাকাত তারাবি এবং তিন রাকাত বিতর পড়া উত্তম। যেমনটি রাসূল ﷺ নিজে রমজানে ও রমজানের বাইরে পড়তেন। যদি তাদের ধৈর্যক্ষমতা ও দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি কম থাকে, তাহলে ২০ রাকাত পড়া উত্তম। অধিকাংশ মুসলমান এ পদ্ধতিতে (২০ রাকাত) আমল করে থাকেন। কারণ, এটি ৪০ ও ১০-এর মাঝামাঝি পদ্ধতি। কেউ যদি ৪০ রাকাতের কিংবা অন্য পদ্ধতি অনুসারে তারাবি পড়ে, তাহলে তাও বৈধ। এ পদ্ধতিগুলোর কোনোটাই মাকরুহ নয়। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) সহ অনেকেই এমনটি বলেছেন। কেউ যদি মনে করে, তারাবির ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ থেকে নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে। তাই সে নির্দিষ্ট রাকাতের চেয়ে কমবেশি করা যাবে না, এমন মনে করলে সে মারাত্মক ভুলের মধ্যে রয়েছে। '২২৪
টিকাঃ
২২৪. ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতওয়া: ২২/২৭২