📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 সুন্নাহ ও বিদআত একসাথে মিশ্রিত হলে করণীয়

📄 সুন্নাহ ও বিদআত একসাথে মিশ্রিত হলে করণীয়


আমাদের সমাজে এমন কিছু আমল প্রচলিত, যা জায়েজ ও বিদআত দুটোই হতে পারে। যেমন: ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত মোনাজাত করা। অজুর মধ্যখানে দুআ পড়া। এগুলো বিদআত নাকি জায়েজ, তা সন্দেহযুক্ত। কখন জায়েজ হবে আর কখন বিদআত, তা আমরা ইতঃপূর্বে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। অধিকাংশ আলিম এগুলোকে সর্বাবস্থায় বিদআত বলেছেন। কেননা, এসব জায়েজ কর্ম মানুষকে বিদআতের দিকে আকৃষ্ট করে। আবার কেউ কেউ এগুলোকে সুন্নত ও মুস্তাহাবও বলে থাকেন।

কোনো জায়েজ আমলকে জোর করে সুন্নাহের অন্তর্ভুক্ত করার দ্বারা মূলত প্রকৃত সুন্নাহকে ছোটো করা হয়। এমন সন্দেহযুক্ত বিষয় সুন্নাহ হলেও তা পরিত্যাগ করাই উত্তম। কেননা, রাসূল ﷺ বলেছেন- 'হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট। আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে অনেক সন্দেহযুক্ত বিষয়। যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, সে তাঁর দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত হবে, তার উদাহরণ ওই রাখালের মতো, যে তার পশুপাল বাদশাহর সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়। অচিরেই সেগুলোর সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।১৫১

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যেসব জিনিস বিদআত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা পরিত্যাগ করাই উত্তম। হানাফি মাজহাবের প্রখ্যাত ইমাম আল্লামা সারাখসি (মৃ. ৪৮৩ হি.) (রহ.) বলেন-
وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ الْبِدْعَةِ وَالسُّنَّةِ تَرَكَهُ لِأَنَّ تَرْكَ الْبِدْعَةِ لَا زِمْ وَأَدَاءَ السُّنَّةِ غَيْرُ لَازِمٍ -
'যে কাজটি বিদআত ও সুন্নত উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা বর্জন করতে হবে। কেননা, বিদআত বর্জন করা জরুরি; কিন্তু সুন্নত পালন জরুরি নয়।১৫২

অন্যত্র তিনি বলেন-'যে কাজ মুবাহ ও বিদআত উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা পরিহার করতে হবে। কারণ, বিদআত পরিহার করা ওয়াজিব। তদ্রূপ যা বিদআত ও সুন্নত উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা-ও পরিহার করতে হবে।'১৮৩

টিকাঃ
১৫১. বুখারি: ৫২
১৫২. সারাখসি, আল মাবসুত : ২/৮০; কামালুদ্দিন ইবনু হুমাম, ফাতহুল কাদির : ১/৫২১
১৮৩. সারাখসি, আল মাবসুত: ৩/১৯৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px