📄 বিদআতের পরিণতি ও বিদআত থেকে বাঁচার উপায়
বিদআতের পরিণতি খুব ভয়াবহ। বিদআত সম্পর্কে হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসূল ﷺ বলেছেন-
وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
'তোমরা নিত্য-নতুন বিষয় থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।'১৪৬
রাসূল ﷺ আরও বলেছেন-
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَةٌ
'যে ব্যক্তি এমন কোনো কর্ম করল, যা আমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত।'১৪৭
ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন-'তোমরা অবশ্যই ইলম অর্জন করো। আর খবরদার! কখনো বিদআতে লিপ্ত হয়ো না।'১৪৮
রাসূল ﷺ বলেছেন-'কিয়ামতের দিন আমি হাউজে কাউসারে তোমাদের অপেক্ষায় থাকব। কিছু লোককে আমার কাছে আসতে বাধা দেওয়া হবে। আমি বলব-“হে আমার প্রতিপালক! এরা তো আমার সাহাবি।" তখন বলা হবে-
إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ
"আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী কী বিদআত সৃষ্টি করেছে।”১৪৯
অতএব, বিদআত থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। বিদআত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। মানুষ যখন সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যায়, তখনই সে বিদআতি কার্যকলাপে লিপ্ত হয়।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন-'প্রতিবছরই মানুষ কিছু বিদআত উদ্ভাবন করবে, আর কিছু সুন্নাহ মেরে ফেলবে। একপর্যায়ে পৃথিবীতে শুধু বিদআতই বেঁচে থাকবে, আর সুন্নাহসমূহ বিলীন হয়ে যাবে।'১৫০
ইবনে আব্বাস (রা.)-এর এ বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট, বিদআত ও সুন্নাহ কখনো একত্র হতে পারে না। এ দুটির একটি অন্যটির বিপরীত। তাই মানুষ যতক্ষণ সুন্নাহকে লালন করবে, ততক্ষণ সে বিদআত থেকে বেঁচে থাকবে। সুন্নাহ থেকে দূরে গেলেই বিদআত তাকে গ্রাস করবে। তাই জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে হবে। বিদআত ত্যাগ করতে হবে। পরিত্যাগ করতে হবে তাও, যা বিদআত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
টিকাঃ
১৪৬. আবু দাউদ: ৪৬০৭
১৪৭. মুসলিম : ১৭১৮
১৪৮. দারেমি: ১৪৫
১৪৯. বুখারি: ৪৬২৫, মুসলিম: ২২৯৭
১৫০. তাবরানি, মুজামুল কাবির: ১০৬১০
📄 সুন্নাহ ও বিদআত একসাথে মিশ্রিত হলে করণীয়
আমাদের সমাজে এমন কিছু আমল প্রচলিত, যা জায়েজ ও বিদআত দুটোই হতে পারে। যেমন: ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত মোনাজাত করা। অজুর মধ্যখানে দুআ পড়া। এগুলো বিদআত নাকি জায়েজ, তা সন্দেহযুক্ত। কখন জায়েজ হবে আর কখন বিদআত, তা আমরা ইতঃপূর্বে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। অধিকাংশ আলিম এগুলোকে সর্বাবস্থায় বিদআত বলেছেন। কেননা, এসব জায়েজ কর্ম মানুষকে বিদআতের দিকে আকৃষ্ট করে। আবার কেউ কেউ এগুলোকে সুন্নত ও মুস্তাহাবও বলে থাকেন।
কোনো জায়েজ আমলকে জোর করে সুন্নাহের অন্তর্ভুক্ত করার দ্বারা মূলত প্রকৃত সুন্নাহকে ছোটো করা হয়। এমন সন্দেহযুক্ত বিষয় সুন্নাহ হলেও তা পরিত্যাগ করাই উত্তম। কেননা, রাসূল ﷺ বলেছেন- 'হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট। আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে অনেক সন্দেহযুক্ত বিষয়। যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, সে তাঁর দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত হবে, তার উদাহরণ ওই রাখালের মতো, যে তার পশুপাল বাদশাহর সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়। অচিরেই সেগুলোর সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।১৫১
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যেসব জিনিস বিদআত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা পরিত্যাগ করাই উত্তম। হানাফি মাজহাবের প্রখ্যাত ইমাম আল্লামা সারাখসি (মৃ. ৪৮৩ হি.) (রহ.) বলেন-
وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ الْبِدْعَةِ وَالسُّنَّةِ تَرَكَهُ لِأَنَّ تَرْكَ الْبِدْعَةِ لَا زِمْ وَأَدَاءَ السُّنَّةِ غَيْرُ لَازِمٍ -
'যে কাজটি বিদআত ও সুন্নত উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা বর্জন করতে হবে। কেননা, বিদআত বর্জন করা জরুরি; কিন্তু সুন্নত পালন জরুরি নয়।১৫২
অন্যত্র তিনি বলেন-'যে কাজ মুবাহ ও বিদআত উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা পরিহার করতে হবে। কারণ, বিদআত পরিহার করা ওয়াজিব। তদ্রূপ যা বিদআত ও সুন্নত উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তা-ও পরিহার করতে হবে।'১৮৩
টিকাঃ
১৫১. বুখারি: ৫২
১৫২. সারাখসি, আল মাবসুত : ২/৮০; কামালুদ্দিন ইবনু হুমাম, ফাতহুল কাদির : ১/৫২১
১৮৩. সারাখসি, আল মাবসুত: ৩/১৯৫