📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 একটি প্রশ্ন ও তার জবাব

📄 একটি প্রশ্ন ও তার জবাব


ইসলাম এসেছে ঐক্যের পয়গাম নিয়ে; কিন্তু অজ্ঞতা, মূর্খতা, কুসংস্কার ও গোঁড়ামির কারণে আজ তা মতবিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদের বস্তুতে পরিণত হয়েছে। কোনো সত্যাশ্রয়ী ব্যক্তি যদি কোনো মাসয়ালা নিয়ে দলিলভিত্তিক পর্যালোচনা করেন, আর তা কোনো মাজহাবের বিপরীত চলে যায়, তাহলে কিছু মাজহাবি ভাই তার সমালোচনা করে বলেন- 'ইমাম আবু হানিফা কি ভুল করেছেন? সারাজীবন যা আমল করে এলাম, সব কি ভুল ছিল?' আবার কেউ আরও একধাপ এগিয়ে বলেন- 'তুমি কি আবু হানিফার চেয়ে বড়ো আলিম হয়ে গেছ?' এ রকম অযৌক্তিক কথাবার্তা প্রায় সময়ই শোনা যায়।
যারা এসব বলেন, তারা মূলত হিংসা-বিদ্বেষের কারণেই বলে থাকেন। তিনটি কারণে তাদের এ কথাবার্তা গ্রহণযোগ্য নয়-
এক. আমাদের সমাজে যেসব আমল প্রচলিত, তার সব যে ইমাম আবু হানিফা বা তাঁর ছাত্রদের ফতোয়ার অনুগামী, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। শাহ ওয়লিউল্লাহ (রহ.) বলেন-'হানাফিদের কিছু লোক মনে করে, ফিকাহ ও ফতোয়ার গ্রন্থাবলিতে যত টীকা-টিপ্পনী ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ রয়েছে, তার সবই আবু হানিফার কিংবা সাহাবাইন (ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম আবু ইউসুফ)-এর মতামত। মূল জিনিস আর তাখরিজের মধ্যে তাঁরা কোনো পার্থক্য করে না। দেখবে, হানাফিদের তাখরিজের মধ্যে রয়েছে স্ববিরোধী অনেক কথা। আরও দেখবে, এমন অনেক তাখরিজ যার একটি অন্যটিকে রহিত করে দেয়।'৬৯
আমরাও দেখতে পাই, সমাজে প্রচলিত অনেক ইবাদত হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। এ রকম দুয়েকটা ইবাদত ও আমল নিয়ে সামনে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।
দুই. নবি-রাসূল ছাড়া আর কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। মুজতাহিদের কথা ও কাজ যেমন সঠিক হতে পারে, তেমনি ভুলও হতে পারে। এ নিয়ে হাদিসে স্পষ্ট বক্তব্যও রয়েছে।৭০ সুতরাং ইমাম আবু হানিফার ভুল হতে পারে না, এমন বিশ্বাস আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আকিদা বিরোধী।
শাইখ ইজুদ্দিন আব্দুস সালাম (রহ.)-এর বরাতে শাহ ওয়ালিউল্লাহ বলেন- 'চার মাজহাবের আবির্ভাব ঘটলে লোকেরা হিদায়াতের আসল উৎস থেকে মুখ ফিরিয়ে ইমামদের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাঁদের কোনো বক্তব্য দুর্বল ও দলিলবিহীন হলেও ভাবটা এমন, যেন মুজতাহিদরা মুজতাহিদ নন, আল্লাহর রাসূল। তাদের কাছে ওহি নাজিল হয়। এটা সত্য ও হকের পথ নয়, নির্ঘাত অজ্ঞতা ও ভ্রান্তির পথ।'৭১
তিন. ইমামদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এই ধারণা রাখতে হবে, এসব বিদ্বান নিশ্চয় কোনো দলিলের ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন। মনগড়া দেননি। আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে হয়তো আমরা সেই দলিল বের করতে ব্যর্থ হচ্ছি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি আমার ইমামের মতের পক্ষে দলিল পাইনি; কিন্তু অন্য মতের পক্ষে দলিল পেয়েছি। এ অবস্থায় আমি কার অনুসরণ করব? আমার ইমামের, না অন্য দলিলের? হানাফি বিদ্বানদের কাছ থেকেই আমরা এর উত্তর জানব।
মাসয়ালা-মাসায়েল গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি আরোপ করেছেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.)। তিনি বলেছেন- 'যে ব্যক্তি আমার দলিল জানে না, তার জন্য আমার বক্তব্য বা মাজহাব অনুসারে ফতোয়া দেওয়া উচিত নয়।' ইমাম জুফার বলেন-'আমি শুনেছি, আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন-
لا يحل لمن يفتي من كتبي أن يفتي حتى يعلم من أين قلت -
"কোন দলিলের ভিত্তিতে আমার মত গ্রহণ করেছি, তা না জানা পর্যন্ত আমার বই থেকে ফতোয়া দেওয়া কারও জন্য বৈধ নয়।"৭১
কিছু আলিম বলেন- 'ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর এ উক্তি তার বেলায় প্রযোজ্য, যিনি ইজতিহাদ করার যোগ্যতা রাখেন। সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয়।' এখন প্রশ্ন হচ্ছে-কতটুকু দক্ষতা অর্জন করলে ব্যক্তি ইজতিহাদের যোগ্যতা অর্জন করবে? এই ব্যাপারে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি (রহ.) বলেন-
إِنَّمَا يتم فِيمَن لَهُ ضرب من الاجْتِهَادِ وَلَو فِي مَسْأَلَة وَاحِدَة -
'এ উক্তি তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা একটি মাসয়ালার ক্ষেত্রে হলেও ইজতিহাদ করার যোগ্যতা রাখে।'৭৩
আমার কাছে এটাই গ্রহণযোগ্য ও ইনসাফপূর্ণ কথা। তাই একটি মাসয়ালা নিয়েও কেউ যদি গবেষণা করতে পারে, তাহলে ওই মাসয়ালায় নিজ ইমামের দলিল ও অন্য মতের দলিলের মধ্যে যেটা তার কাছে কুরআন-সুন্নাহর বেশি নিকটবর্তী মনে হবে, সেটার ওপর আমল করবে।
মাওলানা তাকি উসমানি (হাফি.) ইমাম হুমামের বরাত দিয়ে বলেন-'যদি মাজহাব পরিপন্থি কোনো হাদিস পাওয়া যায়, তাহলে হাদিসটির ওপরই আমল করতে হবে। আর এটা তার নিজস্ব মাজহাব বলে বিবেচিত হবে। কেননা, ইমাম আবু হানিফা বলেছেন- “আমার ফতোয়ার বিপরীত কোনো সহিহ হাদিস পাওয়া গেলে সেটাই আমার মাজহাব।”'৭৪
ইমাম হিশাম ইবনে ইউসুফকে (মৃ. ২১৫ হি.) প্রশ্ন করা হলো- 'ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর সাথে আপনার এত মতপার্থক্য কেন?' জবাবে তিনি বললেন- 'ইমাম আবু হানিফার সাথে আমাদের মতপার্থক্যের কারণ হচ্ছে-আবু হানিফা এমন জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন, যা আমরা অর্জন করতে পারিনি। তিনি তাঁর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য দিয়ে যা বুঝতেন, আমরা তা বুঝতে পারিনি। আর না বুঝে তাঁর মতানুসারে ফতোয়া দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।'৭৫
এ কারনেই ইমাম হিশাম অনেক বিষয়ে ইমাম আজমের বিপরীত ফতোয়া দিতেন। ইমাম আজমের দলিল না জানা অবস্থায় তাঁর কাছে যখন অন্য দলিল জোরালো প্রমাণিত হতো, তখন তিনি উক্ত দলিল অনুসারেই ফতোয়া দিতেন।
ইমাম আবু ইউসুফ (মৃ. ১৮২ হি.) ও ইমাম মুহাম্মাদ (মৃ. ১৮২ হি.) প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাসয়ালায় ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ নিজেকে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর চেয়ে বড়ো জ্ঞানী ভাবেননি। মাজহাব থেকেও বের হয়ে যাননি। ইমাম হিশাম এ কথাও বলেননি, আবু হানিফা (রহ.)-এর মাসয়ালার কোনো দলিল নেই। অতএব, এটা ভুল। আবার এটাও বলেননি, আমার জ্ঞান কম, তাই নিজের দলিল বাদ দিয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফতোয়ার ওপর আমল করি; বরং তিনি নিজের দুর্বলতা উল্লেখ করে নিজের দলিলের ওপর ফতোয়া দিয়েছেন।
ইমাম হিশাম ইবনে ইউসুফ (রহ.)-এর কথা থেকে স্পষ্ট, যদি কেউ নিজ ইমামের দলিল জানতে না পারে; তবে অন্য মতের দলিল লাভ করে, তাহলে তাকে নিজ ইমামের প্রতি সুধারণা রেখে দলিলভিত্তিক ফতোয়ার ওপর আমল করতে হবে। দলিল পাওয়ার পরও সে যদি ইমামের অন্ধ অনুসরণ করে, তাহলে শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ.)-এর ভাষ্যমতে, সে সবচেয়ে বড়ো জালিম হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য আল্লাহর দরবারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।৭৬

টিকাঃ
৬৯. দেহলভি, ফি বায়ানে আসবাবিল ইখতিলাফ: ৯২
৭০. বুখারি: ৭৩৫২
৭১. দেহলভি, ফি বায়ানে আসবাবিল ইখতিলাফ: ১০০
৭২. উসুলুদ-দ্বীন ইন্দাল ইমাম আবি হানিফা : ১/৬
৭৩. দেহলভি, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ: ১/২৬৪
৭৪. মাজহাব কি ও কেন? পৃষ্ঠা-২১৬
৭৫. আবু হানিফা, আল ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা-: ১৫৯; ড খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, আল ফিকহুল আকবার। বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-২৯৫
৭৬. শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ: ১/২৬৮

📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 প্রকৃত আহলে হাদিস ও প্রকৃত হানাফি কেউ নয়

📄 প্রকৃত আহলে হাদিস ও প্রকৃত হানাফি কেউ নয়


আমাদের দেশে অনেকেই নিজেকে আহলে হাদিস বলে দাবি করে। দুটি কারণে তাদের এই দাবি সঠিক নয়-
এক: আহলে হাদিস বলতে হাদিসের পণ্ডিত বা হাদিসবিশারদদের বোঝায়। প্রসিদ্ধ তাবেয়ি আমাশ (রহ.) ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে বলেন-
يَا مَعْشَرَ الْفُقَهَاءِ أَنْتُمُ الْأَطِبَّاءُ وَنَحْنُ الصَّيَادِلَةُ
'হে ফকিহ সম্প্রদায়! তোমরা (ফকিহগণ) হচ্ছ ডাক্তার, আর আমরা (আহলে হাদিসগণ) হচ্ছি ফার্মাসিস্ট।'৭৭
অর্থাৎ তোমরা রোগ নির্ণয় করে প্রেসক্রিপশন দাও, আমরা তা দেখে ওষুধ দিই। যেহেতু হাদিস যাচাই-বাছাই করে তা বর্ণনা করার চেয়ে হাদিসের মর্মার্থ বুঝে ফতোয়া দেওয়া অনেক কঠিন, তাই তিনি আহলে হাদিস হয়ে ফকিহদের সম্মানার্থে এই মন্তব্য করেছেন।
আহমদ বিন সুরাইজ বলেন-
أهل الحديث أعظم درجة من الفقهاء
'ফকিহদের চেয়ে আহলে হাদিসদের মর্যাদা বেশি।'৭৮
অতীতে এইভাবে আহলে হাদিস বলতে হাদিসের পণ্ডিতদের বোঝানো হতো। কিন্তু বর্তমান আহলে হাদিসগণ এটা দ্বারা হাদিসের অনুসারীদের বুঝিয়ে থাকেন। তাদের কথামতো 'আহলে হাদিস' বলে যদি হাদিসের অনুসারীদের বোঝানো হয়, তাহলে যারা বিভিন্ন মাজহাবের অনুসরণ করেন, তারাও আহলে হাদিস। কেননা, ইমামের তাকলিদের মাধ্যমে তারাও কোনো না কোনো হাদিসের অনুসরণ করছেন।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আহলে হাদিস কারা? উত্তরে তিনি বললেন-
وَنَحْنُ لَا نَعْنِي بِأَهْلِ الْحَدِيثِ الْمُقْتَصِرِينَ عَلَى سَمَاعِهِ أَوْ كِتَابَتِهِ أَوْ رِوَايَتِهِ بَلْ نَعْنِي بِهِمْ : كُلَّ مَنْ كَانَ أَحَقَّ بِحِفْظِهِ وَمَعْرِفَتِهِ وَفَهْمِهِ ظَاهِرًا وَبَاطِنَا وَاتِّبَاعِهِ بَاطِئًا وَظَاهِرًا -
'আহলে হাদিস দ্বারা এর (হাদিস) শ্রবণ, লিখন অথবা এর বর্ণনা করায় যারা সীমিত, আমরা তাদের বোঝাই না। আমরা বরং ওই ব্যক্তিদের বোঝাই, যারা এর (হাদিস) সংরক্ষণ, জ্ঞান লাভ, একে জাহির (বাহ্যিক) ও বাতিন (অভ্যন্তরীণ) থেকে বোঝা এবং জাহির ও বাতিনের দিক থেকে এর অনুসরণের ব্যাপারে অগ্রগণ্য।'৭৯
আহলে হাদিস হওয়ার জন্য ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) যে শর্তারোপ করেছেন, সে অনুযায়ী বাংলাদেশের অল্প কয়েকজন আলিম ছাড়া আর কেউ আহলে হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
দুই. মাজহাবিরা যেমন কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে হাদিসের অনুসরণ করেন, অনুরূপ আহলে হাদিসরাও কোনো না কোনো ব্যক্তির মাধ্যমেই হাদিসের অনুসরণ করেন। হাদিস-শরিয়াহ সম্পর্কে তাদের এত জ্ঞান ও ব্যুৎপত্তি নেই, যার দ্বারা হুকুম-আহকামের বিচার-বিশ্লেষণ করে সরাসরি তার ওপর আমল করতে পারে। মুক্তাদিদের সূরা ফাতিহা পড়া, রফউল ইয়াদাইন করা, উচ্চৈঃস্বরে আমিন বলা, ঈদের নামাজে ১২ তাকবির দেওয়া, একসঙ্গে তিন তালাক দিলে এক তালাক হওয়া ইত্যাদি যে কথাগুলো তারা বলে, সেগুলো মূলত অন্য কারও তাকলিদের ভিত্তিতেই বলে; গবেষণার ভিত্তিতে বলে না।
আহলে হাদিসের কোনো আলিমের কাছে মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন-এই মাসয়ালা সম্পর্কে শাইখ বিন বাজের মত এটি। শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিনের মত এটি। শাইখ আলবানির মত এটি। আর মাজহাবি কোনো আলিমকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন-ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত এটি। ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মত এটি। ইমাম মালেক (রহ.)-এর মত এটি। তাহলে উভয় দলের মধ্যে পার্থক্য থাকল কোথায়? পার্থক্য তো শুধু এই, কেউ ইমামের অনুসরণ করছেন, আর কেউ করছেন শাইখের। সবাই যে কারও না কারও অনুসরণ করছেন, তা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।
আমরা যারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী, তারাও কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রকৃত অনুসরণ করি না। আমরা মূলত নিজ এলাকার ইমামের অনুসরণ করি। নিজ এলাকার আলিমের তাকলিদ করা দূষণীয় নয়। কেননা, আমরা সাধারণ মানুষরা বই-পুস্তক পড়ি না। আবার অনেকে পড়তে জানি না। তাই নিজ এলাকার আলিমদের ফতোয়ার ওপরই আমাদের জীবন নির্ভরশীল।
এ সম্পর্কে শাইখ উসাইমিন (রহ.) বলেন-
فالعامي يجب عليه أن يقلد علماء بلده الذين يثق بهم -
'নিজ এলাকার আলিমদের মধ্যে যিনি বিশ্বস্ত, সাধারণ মানুষের জন্য তার তাকলিদ বা অনুসরণ করা জরুরি।'৮০
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এলাকার আলিম যা ফতোয়া দেন, আমরা যাচাই-বাছাই না করে সেটাই হানাফি মাজহাবের ফতোয়া হিসেবে গ্রহণ করি। মনে করি এটাই ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কথা। বাস্তবে আমাদের সমাজে অনেক আমল প্রচলিত, যা হানাফি মাজহাবে স্বীকৃত নয়। যার ফলে দেখা যায়, বাংলাদেশের হানাফিদের সাথে মিশরের হানাফিদের মিল নেই। একই এলাকার দুজন হানাফি আলিম একই বিষয়ে বিপরীতমুখী ফতোয়া দিচ্ছেন। হয়তো তাদের একজন হানাফি মাজহাবের মাসয়ালা সঠিকভাবে উদ্ধার করতে পেরেছেন। আর অন্যজন পদস্খলনের শিকার হয়েছেন। নিম্নে অতি সংক্ষেপে হানাফি মাজহাববিরোধী কয়েকটা আমল ও আকিদা তুলে ধরছি।

টিকাঃ
৭৭. খতিব বাগদাদি (৪৬৩ হি.), নসিহাতু আহলিল হাদিস: পৃষ্ঠা-৪৫; ইসমাইল হাক্কি, রুহুল বায়ান: ৭/৪০৭
৭৮. আল মুস্তাখরাজ লিল হাকিম: ১৪
৭৯. মাজমুউল ফাতওয়া: ৪/৯৫
৮০. লিকাউল বাবে মাফতুউ: ৩২/২০

ফন্ট সাইজ
15px
17px