📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 আহলে হাদিসের বাড়াবাড়ি

📄 আহলে হাদিসের বাড়াবাড়ি


বাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে আহলে হাদিসের অবস্থান হানাফিদের চেয়ে একটুও উন্নত নয়। তাদের কিছু কাজ ভালো। যেমন: তারা সহিহ হাদিস মানার চেষ্টা করে। চেষ্টা করে শিরক-বিদআত থেকে দূরে থাকার; কিন্তু তাদেরও একটা ভয়ংকর দিক রয়েছে। তারা শরিয়াহর ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করাকে দ্বীন মনে করে।
সমাজে যে আমল যেভাবে প্রচলিত, সেটাকে সেভাবে করতে দেওয়া উচিত, যদি তা হাদিসসম্মত হয়। যেমন-আস্তে আমিন বলা, রফউল ইয়াদাইন একবার করা, নাভির নিচে বা ওপরে হাত বাঁধা, ঈদের নামাজে ছয় তাকবির বলা ইত্যাদি। এ সবই সুন্নত কর্ম। অথচ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা ফরজ, অনৈক্য সৃষ্টি করা হারাম। তারা সহিহ হাদিসের দোহাই দিয়ে এসবের বিরুদ্ধে কথা বলে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করে। মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করে। এই সব বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে 'আহলে হাদিস' নামে আলাদা মসজিদ তৈরি করে।
বাংলাদেশের যেসব আলিম ফিকহি বিষয়ে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে বলেন, তাদের সমালোচনা করে আহলে হাদিসের একজন প্রসিদ্ধ শাইখ বলেন- 'জোরে আমিন বলা, বুকে হাত বাঁধা, রফউল ইয়াদাইন করা, সালাতে সূরা ফাতিহা পড়া রাসূল -এর সুন্নাহ। কেন আমরা এর বিপরীত আমল করব? যারা নরম স্বরে বলেন-দুটোই সঠিক, তারা দ্বীনের দাওয়াতকে বাধাগ্রস্ত করছেন। যদি মসজিদে জোরে আমিন বলতে না দেয়, রফউল ইয়াদাইন করতে না দেয়, বুকে হাত বাঁধতে না দেয়, তাহলে প্রয়োজনে ঘরে সালাত আদায় করব, তবুও সুন্নতের হেফাজত করব।'৪৯
সুন্নতের হেফাজত করা অবশ্যই জরুরি। এটি প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্বও বটে, কিন্তু একটা সুন্নতের হেফাজত করতে গিয়ে আরেকটা সুন্নতকে জীবন্ত কবর দেওয়া কি শরিয়াহ সমর্থন করে? নাকি সুন্নাহ হেফাজতের নামে ওয়াজিব ত্যাগ করে হারামে লিপ্ত হওয়া অনুমোদন করে?
জোরে কিংবা আস্তে আমিন বলা, রফউল ইয়াদাইন করা বা না করা, বুকে কিংবা নাভিতে হাত বাঁধা, ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়া বা না পড়া, সবই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সবই সাহাবি ও সালফে সালেহিনদের আমল। অতএব, এর প্রত্যেকটার হেফাজত করা মুমিনের কর্তব্য। এটাই সুন্নতের প্রকৃত হেফাজত। এগুলোর কোনো একটির বিরুদ্ধে কথা বলা, রাসূল -এর হাদিস, সাহাবি ও সালফে সালেহিনদের বিরুদ্ধাচরণ করার শামিল।
তা ছাড়া জামাতে নামাজ পড়া ওয়াজিব। ফেরকা সৃষ্টি করা হারাম। তাই এসব সুন্নত কর্মের জন্য জামাত বাদ দিয়ে ঘরে নামাজ পড়া, আলাদা মসজিদ তৈরি করে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করা কোনো মুসলমানের জন্য কি বৈধ হতে পারে?
ইতিহাসে এমন একটা ঘটনাও পাওয়া যাবে না, যেখানে সাহাবিগণ মাসয়ালাগত পার্থক্যের কারণে আলাদা মসজিদ তৈরি করেছেন। তাঁদের নামাজকে অন্যদের থেকে পৃথক করে নিয়েছেন কিংবা ঘরে সালাত আদায় করেছেন। নাভির নিচে হাত বাঁধলে, আস্তে আমিন বললে, ঈদের নামাজে ছয় তাকবির দিলে তাকে পুনরায় নামাজ পড়তে বলেছেন।
রাসূল এসব বিষয়ে গুরুত্ব বেশি দিয়েছেন, নাকি সুদ-ঘুস না খাওয়া, মদ্যপান না করা, দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন? রাসূল যেটার গুরুত্ব বেশি দিয়েছেন, সেটার গুরুত্ব না দিয়ে যেটার প্রতি গুরুত্ব দেননি-সেটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াও একধরনের বিদআত। আহলে হাদিসের ভাইয়েরাও একইভাবে সহিহ হাদিসের নামে জালিয়াতি করে যাচ্ছেন।
মাজহাব মানা জায়েজ, এই ব্যাপারে সকল যুগের আলিম একমত। যারা মাজহাব মানা বা তাকলিদকে হারাম বলেছেন, তারা মূলত অন্ধ তাকলিদকে হারাম বলেছেন।৫০ অন্ধ তাকলিদ ও অন্ধ অনুসরণের বিরুদ্ধে আপনারা যতই নিন্দা করুন, তাতে সমস্যা নেই। সত্যাশ্রয়ী যে কেউ আপনাদের এই নিন্দাকে সমর্থন করবে। আপনারা এটাও বলতে পারেন, বেলায়েত, ইমামত, ইজতিহাদ এবং ইলম ও ফজিলত অতীত বুজুর্গদের মধ্যে শেষ হয়ে যায়নি।
যারা বলেন-চার মাজহাবের ইমামদের পরে ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই নতুন করে আর কেউ ইজতিহাদ করতে পারবে না-তাদের এই কথা সঠিক নয়। ইজতিহাদের দরজা আজও লাভ করা যেতে পারে এবং তা লাভ করার জন্য প্রত্যেকের চেষ্টা করা উচিত, কিন্তু তা না করে কেউ যদি সম্পূর্ণরূপে তাকলিদের বিরোধিতা করেন। ইজতিহাদের শখ দেখিয়ে একগুঁয়েমিভাবে বিরোধিতা করেন অতীত বুজুর্গদের। নিজের বড়োত্ব জাহির করতে গিয়ে উপমহাদেশের বাঘা বাঘা আলিমদের হেয় প্রতিপন্ন করেন, তাঁদের সমালোচনা করেন। কেবল নতুন নতুন পথ ও মত সৃষ্টির পন্থা হিসেবে 'আহলে হাদিস' নামে আরেকটা মাজহাব তৈরি করেন। প্রকৃত যোগ্যতা ছাড়া দু-চারটা বাংলা কিতাব দেখে ইজতিহাদ করা শুরু করেন। আল্লাহর কিতাব ও রাসূল -এর সুন্নাহকে শিশুদের খেলনাতুল্য বানিয়ে দেন, তাহলে এই গোমরাহি হবে অন্ধ তাকলিদের চেয়েও মারাত্মক এবং দ্বীনের জন্য অধিক ক্ষতিকর।
ওপরে আমরা শাইখ আলবানি ও শাইখ উসাইমিনের বক্তব্য দেখেছি। তাঁদের মতে অজ্ঞ লোকের জন্য বিজ্ঞ কোনো আলিমের তাকলিদ করা শুধু জায়েজই নয়; বরং জরুরি। আহলে হাদিসগণ শাইখ আলবানি ও শাইখ উসাইমিনকে ইমাম হিসেবে মানেন। তারা তাঁদের কথার একচুল বাইরে যেতেও নারাজ। অথচ অন্ধভাবে তাকলিদের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে তারাও নিজ শাইখদের উপেক্ষা করে যাচ্ছেন। আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে-তারা একদিকে তাকলিদের বিরোধিতা করছেন, অন্যদিকে নিজেরাই অন্যের তাকলিদ করছেন।

টিকাঃ
৪৯. বক্তব্য লিংক, www.youtube.com/c/BanglaLecture
৫০. দেহলভী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ: ১/২৬৩

📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 উগ্রপন্থা নয়, মধ্যমপন্থাই কাম্য

📄 উগ্রপন্থা নয়, মধ্যমপন্থাই কাম্য


কুরআনের সকল বক্তব্য সুস্পষ্ট না হলেও, মানুষের হিদায়াতের জন্য যা জানা জরুরি, আল্লাহ তায়ালা তা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় কুরআনে বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও আলিমদের মধ্যে মতবিরোধের কারণ হলো-
এক. কেউ যখন কুরআনি সত্য নিজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে প্রবৃত্ত হয় এবং কুরআনের সীমা অতিক্রম করে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা পেশ করে, তখন মতের পার্থক্য ও মতবিরোধিতা দেখা দেয়।
দুই. মানুষ যখন এমন ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে ফতোয়াবাজি শুরু করে-যার দায়িত্ব আল্লাহ এবং রাসূল তার ওপর অর্পণ করেননি-ফলে ফিতনা-ফ্যাসাদের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়।
কিছু আহলে হাদিস ও হানাফি এই দুইটি কাজে খুব দক্ষ। তারা নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে সহিহ হাদিসকে জয়িফ আর জয়িফ হাদিসকে সহিহ বানিয়ে ফেলে। তাদের কাছে নিজের পক্ষের সবগুলো হাদিস সহিহ আর বিপক্ষের সবগুলো জয়িফ।
উদাহরণ হিসেবে ঈদের নামাজের তাকবিরসংক্রান্ত হাদিসের কথা বলা যায়। ঈদের নামাজের অতিরিক্ত তাকবির সংখ্যা নিয়ে বর্ণিত সব হাদিসই কমবেশি দুর্বল। নির্দিষ্ট সংখ্যার কোনো হাদিসই পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ সনদে নবিজি থেকে বর্ণিত হয়নি; কিন্তু সাহাবিদের আমল থেকে ১৩, ১২, ৯ ও ৬ তাকবিরের হাদিসগুলো আবার বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে।৫১
এক্ষেত্রে কিছু আহলে হাদিস ১২ তাকবিরের সব হাদিসকে সহিহ আর ছয় তাকবিরের সব হাদিসকে জয়িফ আখ্যায়িত করেন। আবার কিছু হানাফি শুধু ছয় তাকবিরের হাদিসগুলোকে সহিহ আর ১২ তাকবিরের হাদিসগুলো জয়িফ বলে বর্ণনা করেন।
তারাবির রাকাত সংখ্যা নিয়েও একই অবস্থা। আহলে হাদিসগণ বলে, উমর (রা.) কর্তৃক আট রাকাত তারাবি প্রমাণিত। ২০ রাকাতের হাদিস দুর্বল। আর হানাফিগণ বলে, তারাবি সম্পর্কে আট রাকাতের কোনো হাদিস নেই। ২০ রাকাতই উমর (রা.) কর্তৃক প্রমাণিত।
বিপরীত পক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে এভাবেই আমরা হাদিসের নামে জালিয়াতি করে যাচ্ছি। মূলত ইসলাম মানার চেয়ে আমরা ব্যক্তিপূজারি ও প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে উঠছি। তাই সংকীর্ণ মনের ঊর্ধ্বে উঠে বিপরীত মতকে সমর্থন করার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছি। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِيْنَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ
'প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। কারণ, তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে ফেলবে। যারা আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কেননা, তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে।' সূরা ছোয়াদ: ২৬

টিকাঃ
৫১. ড খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত হাদিসের আলোকে সালাতুল ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর' বইটি দেখুন।

📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 মতবিরোধপূর্ণ সব বিষয়ই সাহাবিদের আমল

📄 মতবিরোধপূর্ণ সব বিষয়ই সাহাবিদের আমল


মূলত যে সকল বিষয় নিয়ে মতভেদ করে একে অপরকে অবজ্ঞা করা হয়, তার সবগুলোই হাদিস বা সাহাবিদের আমল। যেমন: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) সহ অনেক সাহাবি থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত-
'রাসূল তিন সময় রফউল ইয়াদাইন করতেন। নামাজের শুরুতে, রুকু যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে দাঁড়িয়ে।'৫২
আবার আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত- 'রাসূল শুধু একবার রফউল ইয়াদাইন করতেন। আর তা করতেন নামাজের শুরুতে।'৫৩
এখন কেউ যদি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিসের ওপর আমল করেন, তাহলে তিনি একটা সুন্নতের ওপর আমল করলেন। আবার কেউ যদি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসের ওপর আমল করেন, তাহলে তিনি আরেকটি সুন্নতের ওপর আমল করলেন। কিন্তু তিনি যদি একটির ওপর আমল করতে গিয়ে সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত অন্য সুন্নতকে ঘৃণা বা অস্বীকার করেন, তাহলে তিনি মূলত রাসূল -এর হাদিসকেই ঘৃণা বা অস্বীকার করলেন।
শরিয়াহর এসব বিষয় নিয়ে সাহাবিদের যুগে মতবিরোধ ছিল। মতবিরোধ ছিল চার ইমামের যুগেও। তারা শুধু নিজের মতকে অগ্রাধিকার দিতেন। তাই বলে অন্যের মতকে বর্জনীয় বলতেন না।
ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন- 'দুই ঈদের তাকবির নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তার যে পদ্ধতিই তুমি গ্রহণ করো, তা উত্তম। তবে আমার দৃষ্টিতে সর্বোত্তম হলো-ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত পদ্ধতি। আর এটা আবু হানিফা (রহ.)-এর কথা।'৫৪ এভাবেই সকল ইমাম নিজের মত ব্যক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৫২. সহিহ আবু দাউদ: ৭৪৫
৫৩. সহিহ আবু দাউদ: ৭৪৮
৫৪. আবদুর রহমান মুবারকপুরী (১৩৫৩হি.), তুহফাতুল আহওয়াজি, ৩/৭১; উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (১৪১৪হি.), মিরআতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫/৫২

📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ.)-এর বক্তব্য

📄 শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ.)-এর বক্তব্য


পূর্ববর্তী ইমামদের উদারতা, মহানুভবতা ও মনের প্রশস্ততা শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.)-এর বক্তব্য থেকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন- 'ইমামগণ ইখতেলাফি দিকসমূহ আলোচনা করে বলে দিতেন, আমার মতে এটা উত্তম এবং অধিক গ্রহণযোগ্য। আবার কখনো বলতেন, আমি শুধু এতটুকু জানতে পেরেছি।
অতঃপর শুভবুদ্ধির অধিকারী দ্বীনের সেই খাদিমদের কাল অতিক্রান্ত হয়। তাঁদের পর এমন সব লোকের আগমন ঘটে, যারা সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হওয়ার কারণে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিবাদের ঝড় বইয়ে দেন। মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোর কোনো একটিকে আঁকড়ে ধরেন। এ মতের অধিকারীদের নিজপক্ষ আর ওই মতের অধিকারীদের বিপক্ষ ভাবতে থাকেন। এভাবেই শুরু হয় ফেরকা-পুরস্তী। এতে করে মানুষের মধ্য থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহকিক ও চিন্তা-গবেষণার জজবা। তারা নিজ নিজ ইমামের মাজহাবকে অন্ধভাবে আঁকড়ে ধরেন। আফসোস তাদের এই অবস্থার জন্য।'৫৫
ইখতেলাফি বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও হিংসা-বিদ্বেষ করা কতটুকু নিন্দনীয়, তা শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ.)-এর বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট। তাঁর সময়ের আলিমদের অবস্থা দেখে তিনি যদি এই মন্তব্য করেন, তাহলে বর্তমান আলিমদের অবস্থা দেখলে তিনি কী মন্তব্য করতেন, তা সহজেই অনুমেয়।

টিকাঃ
৫৫. মতবিরোধ বিষয়ে সঠিক পন্থা অবলম্বনের উপায়, প্রাগুক্ত; পৃষ্ঠা-১০৯/১১০; মাকতাবাতুস- শামেলা: ১০৮/১০৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px