📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 আল্লামা শামি (রহ.)-এর অভিমত

📄 আল্লামা শামি (রহ.)-এর অভিমত


ইমাম শামি (রহ.) বলেন-
وَقَدْ شَاعَ أَنَّ الْعَامِيَّ لَا مَذْهَبَ لَهُ - 'সাধারণ মানুষের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ কথা হলো, তাদের কোনো নির্দিষ্ট মাজহাব নেই।'৩০

টিকাঃ
৩০. ইবনে আবিদিন আশ-শামি (মৃ ১২৫২ হি.), হাশিয়াতু রুদ্দুল মুহতার: ১/৫২

📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 ইমাম ইবনে হুমাম (রহ.)-এর অভিমত

📄 ইমাম ইবনে হুমাম (রহ.)-এর অভিমত


ইমাম ইবনে হুমাম (রহ.)-এর উক্তি উদ্ধৃত করে ইবনে আবিদিন আশ-শামি (রহ.) বলেন-
إِنْ أَخَذَ الْعَامِيُّ بِمَا يَقَعُ فِي قَلْبِهِ أَنَّهُ أَصْوَبُ أَوْلَى، وَعَلَى هَذَا اسْتَفْتَى مُجْتَهِدَيْنِ فَاخْتَلَفَا عَلَيْهِ الْأَوْلَى أَنْ يَأْخُذَ بِمَا يَمِيلُ إِلَيْهِ قَلْبُهُ مِنْهُمَا. وَعِنْدِي أَنَّهُ لَوْ أَخَذَ بِقَوْلِ الَّذِي لَا يَمِيلُ إِلَيْهِ جَازَ؛ لِأَنَّ مَيْلَهُ وَعَدَمَهُ سَوَاءٌ، وَالْوَاجِبُ عَلَيْهِ تَقْلِيدُ مُجْتَهِدٍ وَقَدْ فَعَلَ -
'যে মতকে ব্যক্তির কাছে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মনে হবে, সে মতের ওপর আমল করাই সাধারণ মানুষের জন্য উত্তম। যদি একই ব্যাপারে দুইজন মুজতাহিদ ভিন্ন ভিন্ন ফতোয়া দেন, তাহলে যে ফতোয়ার প্রতি তার মন আকৃষ্ট হবে, তার ওপর আমল করাই উত্তম বিবেচিত হবে। আমার মতে, যে ফতোয়ার ওপর তার মন আকৃষ্ট হয়নি; ব্যক্তি যদি সে মতের ওপরও আমল করে, তাহলেও তা জায়েজ হবে। কেননা, তার মন আকৃষ্ট হওয়া কিংবা না হওয়া উভয়ই সমান। তার জন্য শুধু মুজতাহিদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। আর তা তো সে করেছেই।'৩১

টিকাঃ
৩১. প্রাগুক্ত

📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 আল্লামা শুরুনবুলালি (রহ.)-এর অভিমত

📄 আল্লামা শুরুনবুলালি (রহ.)-এর অভিমত


আল্লামা শুরুনবুলালি (রহ.) বলেন-
أَنَّهُ لَيْسَ عَلَى الْإِنْسَانِ الْتِزَامُ مَذْهَبٍ مُعَيَّنٍ، وَأَنَّهُ يَجُوزُ لَهُ الْعَمَلُ بِمَا يُخَالِفُ مَا عَمِلَهُ عَلَى مَنْ هَبِهِ مُقَلِدًا فِيْهِ غَيْرَ إِمَامِهِ مُسْتَجْمِعًا شُرُوطَهُ
'মানুষের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের অনুসরণ জরুরি নয়। নিজ মাজহাবের শর্তাবলি পালন সাপেক্ষ আংশিক মাসয়ালায় অন্য ইমামের মতের ওপর আমল করাও জায়েজ আছে।'
তিনি আরও বলেন-
إِنَّ لَهُ التَّقْلِيدُ بَعْدَ الْعَمَلِ كَمَا إِذَا صَلَّى ظَانَّا صِحَّتَهَا عَلَى مَنْ هَبِهِ ثُمَّ تَبَيَّنَ بُطَلَانُهَا فِي مَذْهَبِهِ وَصِحَّتُهَا عَلَى مَذْهَبِ غَيْرِهِ فَلَهُ تَقْلِيدُهُ. وَيَجْتَزِي بِتِلْكَ الصَّلَاةِ عَلَى مَا قَالَ فِي الْبَزَّازِيَّةِ: إِنَّهُ رُوِيَ عَنْ أَبِي يُوسُفَ أَنَّهُ صَلَّى الْجُمُعَةَ مُغْتَسِلًا مِنْ الْحَمَّامِ ثُمَّ أُخْبِرَ بِفَارَةٍ مَيِّتَةٍ فِي بِئْرِ الْحَمَّامِ فَقَالَ نَأْخُذُ بِقَوْلِ إِخْوَانِنَا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ «إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ قُلَتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ خَبَثًا -
'নিজ মাজহাবের ওপর আমল করার পরও অন্য মাজহাবের তাকলিদ করা যেতে পারে। যেমন: কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ার সময় ধারণা করল, এ নামাজ তার মাজহাবে শুদ্ধ; কিন্তু পরে জানতে পারল, এই নামাজ তার মাজহাব মতে শুদ্ধ হয়নি। তবে অন্য মাজহাব মতে শুদ্ধ হয়েছে, তাহলে সে অন্য মাজহাবের তাকলিদ করে নেবে। এতেই তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
ফতোয়ায়ে বাজজাজিয়াতে ইমাম আবু ইউসুফ সম্পর্কে বর্ণিত আছে, একবার তিনি হাম্মামখানার পানি দিয়ে গোসল করে জুমার নামাজ পড়লেন। পরে তাঁকে জানানো হলো, হাম্মামের কূপে মরা ইঁদুর পড়েছিল। তিনি বললেন-কোনো সমস্যা নেই। আজ আমরা মদিনার ভাইদের মতানুযায়ী আমল করব। পানির পরিমাণ দুই কল্লি (বড়ো মটকা) বা তার বেশি হলে তা নাপাক হয় না।'৩৪

টিকাঃ
৩৪. আদ-দুররুল মুখতার: ১/৭৫

📘 প্রচলিত মানহাজ 📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর অভিমত

📄 আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর অভিমত


শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন-
وَأَمَّا الْقَادِرُ عَلَى الاسْتِدْلَالِ؛ فَقِيلَ: يَحْرُمُ عَلَيْهِ التَّقْلِيدُ مُطَلَقًا وَقِيلَ : يَجُوزُ مُطلَقًا وَقِيلَ : يَجُوزُ عِنْدَ الْحَاجَةِ كَمَا إِذَا ضَاقَ الْوَقْتُ عَنْ الإِسْتِدْلَالِ وَهَذَا الْقَوْلُ أَعْدَلُ الْأَقْوَالِ
'দলিল গ্রহণে সক্ষম ব্যক্তির জন্য তাকলিদ করা কেউ কেউ সম্পূর্ণ হারাম বলেছেন। কেউ কেউ সম্পূর্ণ জায়েজ বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, শুধু প্রয়োজনের সময় তাকলিদ করা জায়েজ। যেমন- দলিল বের করার যদি সময় না পাওয়া যায়, তাহলে জায়েজ আছে। এটিই হলো মধ্যমপন্থি অভিমত।'
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) আরও বলেন-
أَمَّا إِذَا قَدَرَ عَلَى الاجْتِهَادِ التَّامِ الَّذِي يَعْتَقِدُ مَعَهُ أَنَّ الْقَوْلَ الْآخَرَ لَيْسَ مَعَهُ مَا يَدْفَعُ بِهِ النَّصَّ فَهَذَا يَجِبُ عَلَيْهِ اتَّبَاعُ النُّصُوصِ وَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ كَانَ مُتَّبِعًا لِلظَّنِّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَكَانَ مِنْ أَكْبَرِ الْعُصَاةِ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ -
'পূর্ণ ইজতিহাদে সক্ষম ব্যক্তি যদি বিশ্বাস করেন, অমুক মাসয়ালায় এমন কোনো দলিল নেই, যা নসের৩২ প্রত্যক্ষ নির্দেশকে বাতিল করতে পারে, তাহলে নসের প্রত্যক্ষ নির্দেশের অনুসরণ করা তার জন্য ওয়াজিব। অন্যথায় তাকে নিজের নফস ও প্রবৃত্তির অনুসারী বলে গণ্য করা হবে। আল্লাহ ও রাসূলের সবচেয়ে বড়ো নাফরমান বলে সে বিবেচিত হবে।'৩৩

টিকাঃ
৩২. কুরআন-হাদিসের সরাসরি নির্দেশকে নস বলা হয়।
৩৩. ইবনু তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া: ২০/২১২-২১৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px