📄 দাদির মিরাস-সংক্রান্ত হাদিস আবু বকর (রা.)-এর জানা ছিল না
কাবিসা ইবনে জুবাইর (রা.) বলেন-'একদা জনৈক মৃত ব্যক্তির দাদি আবু বকর (রা.)-এর কাছে এসে মিরাস চাইলেন। তিনি বললেন-"আল্লাহর কুরআনে তোমার জন্য কোনো অংশ নির্ধারিত নেই। হাদিসেও কোনো নির্দেশ আছে বলে আমার জানা নেই। অতএব তুমি চলে যাও। এ বিষয়ে আমি লোকদের জিজ্ঞেস করে দেখি।" তিনি লোকদের জিজ্ঞেস করলে মুগিরা ইবনে শোবা (রা.) বললেন-
حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَاهَا السُّدُسَ
"আমি রাসূল-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি তাঁকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন।”
আবু বকর (রা.) বললেন- "সে সময় তোমার সাথে আর কে ছিল?" মুগিরা (রা.) বললেন-"মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা ছিল।" অতঃপর ইবনে মাসলামাও মুগিরার মতো একই কথা বললেন। এতে আবু বকর (রা.) তাঁকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক ষষ্ঠাংশ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।'৬
টিকাঃ
*. মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদকে মিরাস বলে।
৬. আবু দাউদ: ২৮৯৪, নাসায়ি: ২১০০
📄 মাসয়ালা সম্পর্কিত কিছু হাদিস উমর (রা.)-এর জানা ছিল না
স্বামীর দিয়তে৭ স্ত্রী অংশীদার হওয়ার বিষয়টি উমর (রা.)-এর জানা ছিল না। তাঁর ধারণা ছিল, দিয়ত আকেলার৮ প্রাপ্য। অবশেষে দাহহাক ইবনে সুফিয়ান আল কিলাবি (রা.) তাঁকে হাদিস শুনিয়ে বললেন-
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ إِلَيْهِ : «أَنْ وَرِثُ امْرَأَةَ أَشْيَمَ الصِّبَابِي مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا
'রাসূল পত্রমারফত তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন, আশয়াম আদ-দিবাবির স্ত্রীকে তুমি তার স্বামীর দিয়তে উত্তরাধিকার বানাও।'৯ উমর (রা.) বললেন-'আমি যদি এ হাদিস না শুনতাম, তাহলে এর বিপরীত রায় দিতাম।'
অগ্নিপূজকদের কাছ থেকে জিজিয়া১০ আদায়ের হাদিসও উমর (রা.) জানতেন না। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) তাঁকে বললেন, রাসূল বলেছেন-
سُنُوا بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ
'জিজিয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে আহলে কিতাবের মতো আচরণ করো।'১১
টিকাঃ
৭. রক্ত বা জখমজনিত জরিমানার কারণে প্রাপ্ত সম্পদকে দিয়ত বলা হয়।
৮. মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদে আসাবা হওয়ার মাধ্যমে যারা অংশীদার হয়, তাদের আকেলা বলা হয়।
৯. তিরমিজি: ২১১০, ইবনে মাজাহ: ২৬৪২
১০. ইসলামি রাষ্ট্রে ইসলামি আইনের অনুকূলে স্থায়ীভাবে বসবাসরত অমুসলিমদের জনপ্রতি বাৎসরিক ধার্যকৃত করকে জিজিয়া বলে।
১১. মুসান্নাফে আবি শায়বা: ১০৭৬৫, মুয়াত্তা মালিক: ৯৬৮
📄 মাসয়ালাসংক্রান্ত কিছু হাদিস উসমান (রা.)-এর জানা ছিল না
বিধবার নিজ ঘরে ইদ্দত১২ পালনসংক্রান্ত হাদিস উসমান (রা.)-এর জানা ছিল না। আবু সাইদ খুদরি (রা.) তাঁকে বললেন ফুরাইআ (রা.)-এর স্বামী মারা গেলে রাসূল তাকে বললেন-
امكثي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ - ১৭
'ইদ্দত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তোমার (স্বামীর) ঘরেই অবস্থান করো।'১৩ অতঃপর উসমান (রা.)-এ হাদিস গ্রহণ করলেন।
টিকাঃ
১২. ইদ্দত শব্দের অর্থ গণনা করা। স্বামীর মৃত্যুর পর কিংবা তালাকের পর একটি নির্দিষ্ট সময় স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে করা থেকে বিরত থাকতে হয়, তাকে ইদ্দত বলে। স্বামীর মৃত্যু হলে ইদ্দত ৪ মাস ১০ দিন, স্ত্রী তালাক হলে ইদ্দত তিন হায়েজ। আর গর্ভবতী হলে ইদ্দত সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত।
১৩. আবু দাউদ: ২৩০০, নাসায়ি ৩৫২৮, ইবনে মাজাহ : ৩৯৬২
📄 বিধবার ইদ্দতকালসংক্রান্ত হাদিস আলি (রা.)-এর জানা ছিল না
আলি ও ইবনে আব্বাস (রা.) মনে করতেন, স্ত্রী লোকের দুই ইদ্দত১৪ একত্র হলে দীর্ঘতম ইদ্দত পালন করতে হয়। পরে তাঁদের জানানো হলো, সুবাইআ (রা.)-এর গর্ভাবস্থায় তাঁর স্বামী সাদ ইবনে খাওলা মারা গেলে রাসূল বললেন- 'তাঁর ইদ্দত হচ্ছে সন্তান প্রসব পর্যন্ত।'১৫
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন- 'সাহাবিদের থেকে এরূপ ঘটনার সংখ্যা অগণিত। আর সাহাবি ছাড়া অন্যদের থেকে বর্ণিত এরূপ ঘটনার সংখ্যা হাজার হাজার, যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।'১৬
উম্মাহর মধ্যে উল্লিখিত সাহাবিগণই হলেন সর্বাধিক জ্ঞানী, ফকিহ, বুদ্ধিমান ও তাকওয়ার অধিকারী। তাঁদেরই যদি কিছু হাদিস অজানা থাকে, তাহলে পরবর্তীদের হাদিস অজানা থাকা বিচিত্র কিছু নয়।
টিকাঃ
১৪. এখানে দুই ইদ্দত বলতে সন্তান প্রসবের ইদ্দত ও স্বামীর মৃত্যুর ফলে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পালিত ইদ্দতকে বোঝানো হয়েছে।
১৫. বুখারি: ৪৯০৯, ৫৩১৯; মুসলিম: ১৪৮৫
১৬. ইবনে তাইমিয়া, রাফউল মালাম, পৃষ্ঠা-১৭