📄 অন্তর নষ্ট করে দেয় এবং অন্তর ও নিরাপত্তার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়
আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, পাঁচটি জিনিস থেকে দূরে না থাকা অবধি মানুষের অন্তর নিরাপদে থাকে না। (১) শিরক থেকে, যা কি-না তাওহীদের বিরোধী (২) বিদ'আত, যা সুন্নাহ্ পরিপন্থী (৩) লোভ-লালসা, যা আল্লাহ্র হুকুমের বিরুদ্ধাচরণকারী (৪) অলসতা, যা আল্লাহ্র স্মরণের বিপরীত (৫) প্রবৃত্তি, যা দ্বীনের মধ্যে মশগুল হওয়া এবং খাঁটি মনে ইবাদত করার পরিপন্থী। এই পাঁচটি বিষয় আল্লাহকে পাওয়ার পথে বাধা। এদের প্রত্যেকটার অধীনে আবার অসংখ্য ভাগ রয়েছে। সেজন্য বান্দাকে সর্বদা আল্লাহ্র নিকট 'ছিরাতুল মুস্তাকীম' বা সরল পথের দিশা লাভের জন্য অবশ্যই দো'আ করতে হবে। আল্লাহ্র নিকট বান্দা সরল পথ লাভের জন্য দো'আ থেকে অন্য কোন কিছুর বেশী মুখাপেক্ষী নয় এবং দো'আ থেকে অধিক উপকারীও অন্য কিছু নেই।²⁴
টিকাঃ
২৪. ইবনুল কাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফী, পৃঃ ৫৮-৫৯।
📄 বিবেক ও বিদ্যা লোপ
খলীফা মু'তাছিম একদিন আবু ইসহাক আল-মুছীলীকে বলেছিলেন, 'হে আবু ইসহাক! যখন প্রবৃত্তি জয়যুক্ত হয় তখন বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়'।²⁵
ইবনুল ক্বাইয়িম বলেছেন, আমি আমাদের মহান শিক্ষক ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম, إذا خان الرجل في نقد الدراهم سلبه الله معرفة النقد أونسيه فقال الشيخ : هكذا من خان الله تعالى ورسوله في مسائل العلم 'যখন কোন ব্যক্তি দিরহাম যাচাই করতে গিয়ে জোচ্চুরি করে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার থেকে মুদ্রা যাচাইয়ের যোগ্যতা ছিনিয়ে নেন অথবা সে যাচাই পদ্ধতি ভুলে যায়। তিনি শুনে বললেন, এমনিভাবে যে বিদ্যার বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে গাদ্দারি করে তার পরিণতিও একই ঘটে'।²⁶ সুতরাং জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে যে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে আল্লাহ তা'আলা তার বিবেক ও বিদ্যা ছিনিয়ে নেন।
টিকাঃ
২৫. খতীব বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ ২/৩১১।
২৬. রাওযাতুল মুহিব্বীন, পৃঃ ৪৮০।
📄 নিজের অজান্তে ঈমান শূন্য হওয়া
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন, وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ - وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُوْنَ 'তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনাও, যাকে আমরা আমাদের নিদর্শন সমূহ দিয়েছিলাম, তারপর সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। পরে শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে সম্পূর্ণ গোমরাহ লোকদের দলভুক্ত হয়ে পড়ে। অথচ আমরা চাইলে তাকে এ নিদর্শনসমূহ দ্বারা উচ্চমর্যাদা দান করতে পারতাম। কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতিই আসক্ত হয়ে পড়ল এবং তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। তার উদাহরণ হচ্ছে কুকুরের মত, তুমি তার উপরে বোঝা চাপালে সে হাঁপাতে থাকে, আবার তুমি তাকে ছেড়ে দিলেও সে হাঁপাতে থাকে। এটা হচ্ছে ঐসকল লোকের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের আয়াত সমূহ অস্বীকার করেছে। সুতরাং এসব কাহিনী তুমি বর্ণনা কর, হয়তবা তারা চিন্তা-ভাবনা করবে' (আ'রাফ ৭/১৭৫-১৭৬)।
জনৈক আলিম বলেছেন, চারটি আচরণের মধ্যে কুফর নিহিত। রাগের মধ্যে, কামনা-বাসনার মধ্যে, আসক্তির মধ্যে এবং ভয়-ভীতির মধ্যে। তন্মধ্যে আমি নিজে দু'টো দেখেছি। এক ব্যক্তিকে দেখেছি সে রেগে গিয়ে তার মাকে খুন করে ফেলেছিল। আরেক ব্যক্তিকে দেখেছি প্রেমের টানে খ্রিষ্টান হয়ে গিয়েছিল।২৭
একবার এক ব্যক্তি কা'বা ঘর তাওয়াফ করছিল। এ সময় সে একজন সুন্দরী মহিলা দেখে তার পাশে পাশে হাঁটতে থাকে আর বলতে থাকে, আমি তো দ্বীনের প্রেমে দিওয়ানা অথচ সুন্দরের আকর্ষণ আমাকে পাগলপারা করে তুলেছে। এখন আমি এই সুন্দরী আর দ্বীনের মহব্বতের কীভাবে কি করি? সেই মহিলা তখন বলল, তুমি একটা ছাড় তাহ'লে অন্যটা পাবে।২৮ এতেই বুঝা যায়, কামনা-বাসনা আর দ্বীন কখনই একত্রিত হ'তে পারে না।
টিকাঃ
২৭. যাম্মুল হাওয়া, পৃঃ ২৪।
২৮. রাওযাতুল মুহিব্বীন, পৃঃ ৪৭৯।
📄 বিনাশ সাধনকারী
আনাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ثَلَاثُ مُهْلِكَاتٌ شُحٌ مُطَاعٌ وَهَوَى مُتَّبَعٌ وَإِعْجَابُ الْمَرْءِ بِنَفْسِهِ وَهِيَ أَشَدُّهُنَّ- 'তিনটি জিনিস ধ্বংস সাধনকারী। (১) প্রবৃত্তি পূজারী হওয়া (২) লোভের দাস হওয়া এবং (৩) আত্ম অহংকারী হওয়া। আর এটিই হ'ল সবচেয়ে মারাত্মক'।২৯
ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, দ্বীনের উপর চলতে চরিত্রের যে গুণটি সবচেয়ে বড় সহায়ক তা হ'ল দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি বা নির্লোভ জীবনযাপন। আর যে দোষটি মানুষকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে টেনে নেয় তাহ'ল প্রবৃত্তির অনুসরণ। প্রবৃত্তির অনুসরণের একটি হ'ল দুনিয়ার প্রতি আসক্তি। আর দুনিয়ার প্রতি আসক্তির মধ্যে রয়েছে সম্পদ ও সম্মানের প্রতি মোহ। আর সম্পদ ও সম্মানের মোহে মানুষ হারামকে হালাল করে নেয়। এভাবে যখন হারামকে হালাল করে নেওয়া হয় তখন আল্লাহ তা'আলা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। আর আল্লাহ্র ক্রোধ এমন রোগ যার ঔষধ একমাত্র আল্লাহ্র সন্তোষ। আল্লাহ্র সন্তোষ এমন ঔষধ যে তা পেলে কোন রোগই ক্ষতি করতে পারবে না। আর যে তার রবকে খুশী করতে চায় তার নিজের মনকে নাখোশ করতে হয়। কিন্তু যে নিজের মনকে নাখোশ করতে রাযী নয় সে তার রবকে খুশী করতে পারে না। কোন মানুষের উপর দ্বীনের কোন বিষয় ভারী মনে হ'লে সে যদি তা বর্জন করে তাহ'লে এমন একটা সময় আসবে যখন তার নিকট দ্বীনের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।৩০
টিকাঃ
২৯. বায়হাক্বী, শু'আবুল ঈমান হা/৭৪৫, মিশকাত হা/৫১২২; ছহীহ তারগীব হা/৫০, ছহীহাহ হা/১৮০২।
৩০. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৫১৬৮।