📄 দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা এবং ঝোঁক
যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালবাসে, দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং পরকালের কথা ভুলে যায়, দুনিয়া তার সামনে যত কিছুর স্বপ্ন দেখায় তা সব লাভের জন্য সে তীরবেগে ছুটে যায়। এমনকি তা আল্লাহ্র বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হ'লেও সে তার পরোয়া করে না। আর এটাই তো সরাসরি প্রবৃত্তির অনুসরণ। আমাদের মালিক এই কারণের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, إِنَّ الَّذِينَ لَا يَرْجُوْنَ لِقَاءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاطْمَأَنُّواْ بِمَا وَالَّذِينَ هُمْ عَنْ آيَاتِنَا غَافِلُونَ، أُوْلَئِكَ مَأْوَاهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُواْ يَكْسِبُوْنَ- 'যারা (মৃত্যুর পর) আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে না, যারা এ পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে এবং এখানকার সবকিছু নিয়েই তৃপ্তিবোধ করে, (সর্বোপরি) যারা আমার নিদর্শনাবলী থেকে অমনোযোগী থাকে, তারাই হচ্ছে ঐসব লোক, যাদের নিশ্চিত ঠিকানা হবে জাহান্নামের আগুন; এ হচ্ছে তাদের সেই কর্মফল, যা তারা দুনিয়ার জীবনে অর্জন করেছিল' (ইউনুস ১০/৭-৮)।
📄 কাঙ্ক্ষিত বৈধ জিনিস লাভে বেশী তৎপরতা দেখানো
মানুষের মন যখন কোন বৈধ জিনিস কামনা করে তখনই সে তা পেতে অনেক সময় দ্রুত ধাবিত হয়। কিন্তু জ্ঞানী-গুণীরা এরূপ কাঙ্ক্ষিত বৈধ জিনিস থেকেও তাদের শিষ্যদের নিষেধ করতেন।
একবার খালাফ ইবনু খলীফা আহওয়াযের শাসনকর্তা সুলায়মান ইবনু হাবীব ইবনুল মুহাল্লাবের সাথে দেখা করেন। তখন তাঁর নিকট বদর নাম্নী এক দাসী ছিল। সে ছিল অত্যন্ত রূপসী ও গুণবতী। সুলায়মান খালাফকে বললেন, এই দাসীকে তোমার দেখতে কেমন লাগছে? খালাফ বললেন, হে আমীর, আল্লাহ আপনার ভাল করুন, আমার এ দু'চোখ তার চেয়ে সুন্দরী নারী কখনো দেখেনি। তিনি বললেন, তুমি এর হাত ধরে নিয়ে যাও। খালাফ বললেন, আমি যখন আমীরকে তাকে ভালোবাসতে দেখেছি, তখন আমার পক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়া শোভনীয় নয়। শাসনকর্তা তখন বললেন, আরে রাখ, আমি তাকে ভালবাসলেও তুমি তাকে নিয়ে যাও। এতে করে আমার প্রবৃত্তি বুঝতে পারবে, আমি তার উপর জয়যুক্ত হ'তে পেরেছি।১৫
এভাবে ধৈর্য-সহিষ্ণুতায় অভ্যস্ত হওয়ার মানসে মনকে কিছু কিছু বৈধ জিনিস থেকে বঞ্চিত করার মাঝেও বিশেষ কল্যাণ রয়েছে। বিশেষ করে মনের ঝোঁক ও প্রবৃত্তি যখন হারামের দিকে ধাবিত হয় তখন তো মুবাহ পরিত্যাগ করাই বাঞ্ছনীয়। এরূপ ক্ষেত্রে মুবাহ বা বৈধ বিষয়ে বরাবর অভ্যস্ত হয়ে উঠলে অনেক সময় ব্যক্তির মন হারামের সামনে দুর্বল হয়ে পড়ে।
টিকাঃ
১৫. ইবনুল জাওযী, যাম্মুল হাওয়া, পৃঃ ২৬।
📄 প্রবৃত্তির অনুসরণের পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞতা
কোন কিছুর পরিণতি সম্পর্কে মানুষের জানা না থাকলে তার দ্বারা সেটা বারবার হ'তে পারে। কু-প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশীর অনেক রকম ক্ষতি ও অনিষ্টতা রয়েছে। সেগুলো জানা থাকলে খেয়াল-খুশীর অনুসারী লোকটি হয়তো তা প্রতিহত করতে পারত। আহমাদ ইবনুল কাসেম আত-ত্বাবারাণী কবিতায় বলেছেন,
سَأَحْذَرُ مَا يُخَافُ عَلَيَّ مِنْهُ + وَأَتْرُكُ مَا هَوَيْتُ لِمَا خَشِيْتُ
'আমার থেকে যা হওয়ার ভয় হয় আমি তা থেকে অবশ্যই সাবধান থাকব। আর যা আমি ভয় করি তার কারণে আমি আমার কামনা-বাসনার জিনিস বর্জন করি'।১৬
টিকাঃ
১৬. ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাঙ্ক ৭/৩৭২।
📄 প্রবৃত্তির অনুসরণের ক্ষতি
প্রবৃত্তির ইহকালীন ও পরকালীন বহুবিধ ক্ষতি রয়েছে। যা মানুষকে তার কাংখিত বস্তু লাভে বাধা প্রদান করে এবং আল্লাহ্ যে নে'মত সে লাভ করেছে তার কথা বেমালুম ভুলিয়ে দেয়। এজন্যই হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, 'তোমাদের মনের উপর প্রবৃত্তির খবরদারী থেকে তোমরা সাবধান থেকো। কেননা তার তাৎক্ষণিক ফল হ'ল নিন্দা ও লাঞ্ছনা আর সুদূরপ্রসারী ফল হ'ল দুর্বিষহ অবস্থা। যদি তুমি সতর্কীকরণ ও ভীতি প্রদর্শন দ্বারাও মনকে বাগে আনতে না পারার আশংকা কর, তাহ'লে আশা ও উদ্দীপনার মাধ্যমে তাকে সুযোগ দাও। কেননা যখন কোন মানবাত্মার মাঝে আশা ও ভয়ের সন্নিবেশ ঘটে, তখন আত্মা তার অনুগত হয়ে যায়।১৭
টিকাঃ
১৭. আল-মাওয়ার্দী, আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন, পৃঃ ২১।