📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের মালিক আল্লাহ তা'আলার জন্য, আর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ), তাঁর বংশধর ও তাঁর ছাহাবীগণের উপর। অতঃপর প্রবৃত্তির অনুসরণ ভাল কাজ থেকে বাধা প্রদানকারী এবং বুদ্ধি-বিবেক নাশকারী। কেননা তা অসৎ চরিত্রের জন্ম দেয় এবং নানারকম মন্দ ও গর্হিত কাজ প্রকাশ করে। মানবতার পর্দা তাতে ছিদ্র হয়ে যায় এবং অসৎ কাজ ও পাপাচারের রাস্তা খুলে যায়।
এই প্রবৃত্তি ফিত্না-ফাসাদের বাহন। আর দুনিয়া হ'ল পরীক্ষা গৃহ। সুতরাং হে পাঠক! আপনি প্রবৃত্তির পথ ছেড়ে দিন, শান্তিতে থাকবেন। দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ-ভালবাসা বাদ দিন, সাফল্য লাভ করবেন। দুনিয়া তার সৌন্দর্য ও মনোমুগ্ধকর জিনিসপত্র দ্বারা যেন আপনাকে কখনোই ফিত্নায় ফেলতে না পারে এবং খেল-তামাশা ও নিরর্থক কাজ-কর্মের প্রতি আসক্তি তৈরী করে আপনার প্রবৃত্তি যেন আপনাকে প্রতারিত করতে না পারে। কারণ খেল-তামাশার এই সময় তো এক সময় শেষ হয়ে যাবে; যুগের পরিক্রমায় আমরা যা কিছু উপভোগ করেছি মরণের ফলে একদিন তার সবই ফিরিয়ে দিতে হবে। কেবল প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে আপনি যেসব হারাম কাজে লিপ্ত হয়েছেন এবং যে গোনাহ সঞ্চয় করেছেন তাই আপনার জন্য থেকে যাবে।
প্রবৃত্তি মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই যে কোন শত্রুর তুলনায় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে কঠিনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রতিটি মানুষের উপর ফরয। আবু হাযেম (রহঃ) বলেছেন, قَاتِلْ هَوَاكَ أَشَدَّ مِمَّا تُقَاتِلُ عَدُوَّكَ 'তোমার শত্রুর বিরুদ্ধে তুমি যতটা না লড়াই কর, তার থেকেও ঢের বেশী লড়াই তুমি তোমার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে কর'।¹
এই প্রবৃত্তিই সকল ফিৎনা-ফাসাদের মূল এবং সকল বিপদ-আপদের কারণ। সুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেছেন,
يَا نَفْسُ تُوْبِى فَإِنَّ الْمَوْتَ قَدْ حَانَا * وَاعْصِ الْهَوَى فَالْهْوَى مَا زَالَ فَتَانَا
'হে মন! তুমি তওবা করো, কেননা মরণ তো অতি নিকটে। আর প্রবৃত্তির বাধ্য হবে না, কেননা প্রবৃত্তি তো সব সময় ফিত্না সৃষ্টিকারী'।
খেয়াল-খুশীর অবস্থা যখন এই, তখন তার সম্পর্কে আলোচনা করা আবশ্যক, যাতে আমরা এই ভয়াবহ রোগ থেকে দূরে থাকতে পারি এবং তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষা করতে পারি।
আলোচ্য গ্রন্থে আমরা প্রবৃত্তির সংজ্ঞা, ক্ষতি, তার বিরোধিতার উপকারিতা, তার অনুসরণের কারণ বা উপকরণ প্রতিকারের উপায় এবং প্রশংসনীয় প্রবৃত্তি ও নিন্দনীয় প্রবৃত্তির পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করব।
এ গ্রন্থ রচনায় ও কাঙ্ক্ষিত আকারে তা প্রকাশে যে যে ক্ষেত্রে যারা যারা অংশ নিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পরিশেষে আল্লাহ্র রহমত ও শান্তি কামনা করছি আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ), তাঁর পরিবার-পরিজন ও ছাহাবীগণের সকলের উপর।

টিকাঃ
১. আবু নু'আইম ইস্পাহানী, হিলয়াতুল আউলিয়া ৩/২৩১।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 প্রবৃত্তির সংজ্ঞা

📄 প্রবৃত্তির সংজ্ঞা


প্রবৃত্তির আভিধানিক অর্থ : আরবী هَوًى শব্দটি هَوِی ক্রিয়ার ধাতু। আভিধানিক অর্থ হ'ল, কোন কিছুকে ভালবাসা, কাম্য বস্তু পাওয়ার প্রবল বাসনা।২
[বাংলা অভিধানে هوی (হাওয়া)-এর প্রতিশব্দ প্রবৃত্তি, খেয়াল-খুশী, নিয়ম ছাড়া ব্যাপার, স্বেচ্ছাচারিতা, খামখেয়ালী, অযৌক্তিক ইচ্ছা, কামনা, বাসনা, কুপ্রবৃত্তি, ভোগের পথ ইত্যাদি।৩ এই পুস্তকে هَوى শব্দের প্রতিশব্দ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রবৃত্তি এবং ক্ষেত্রবিশেষে কামনা-বাসনা ও খেয়াল-খুশী গ্রহণ করা হয়েছে।-অনুবাদক]
পরিভাষায় هوى বা প্রবৃত্তি : উপভোগ্য জিনিসের প্রতি শরী'আতের কোন অনুমোদন ছাড়াই মনের যে ঝোঁক তৈরী হয় তাকে هوى বা প্রবৃত্তি বলে।৪ ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, 'কাঙ্ক্ষিত জিনিসের প্রতি মনের ঝোঁককে هوى বা প্রবৃত্তি বলে'। এই ঝোঁক মানুষের মাঝে তার অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই সৃষ্ট হয়েছে। কেননা তার যদি খাদ্য, পানীয় ও বিবাহ-শাদীর প্রতি ঝোঁক ও আকর্ষণ না থাকত, তাহ'লে সে খানা-পিনা, বিয়ে-শাদী কোনটাই করত না। সুতরাং প্রবৃত্তি মনের চাহিদার প্রতি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। যেমন করে ক্রোধ অপ্রীতিকর জিনিস থেকে তাকে বিরত রাখে।৫

টিকাঃ
২. আল-মুগরাব ফী তারতীবিল মু'রাব ২/৩৯২।
৩. বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান।
৪. জুরজানী, আত-তা'রীফাত, পৃঃ ৩২০।
৫. ইবনুল ক্বাইয়িম আল-জাওযিয়্যাহ, রাওযাতুল মুহিব্বীন, পৃঃ ৪৬৯।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 প্রবৃত্তির অনুসরণে নিষেধাজ্ঞা

📄 প্রবৃত্তির অনুসরণে নিষেধাজ্ঞা


শরী'আতের প্রমাণাদি দ্বিধাহীনভাবে প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করে। কুরআন-হাদীছে এসব প্রমাণ নানাভাবে নানা আঙ্গিকে বিধৃত হয়েছে। যেমন-

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 কখনো প্রবৃত্তির অনুসরণ নিঃশর্তভাবে নিষেধ করা হয়েছে

📄 কখনো প্রবৃত্তির অনুসরণ নিঃশর্তভাবে নিষেধ করা হয়েছে


আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُواْ 'ন্যায়বিচার করতে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না' (নিসা ৪/১৩৫)। আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَا دَاوُوْدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلُّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ 'হে দাউদ! আমি তোমাকে এই যমীনে আমার খলীফা (শাসক) বানালাম। অতএব তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার করো এবং কখনো খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, তেমন করলে তা তোমাকে আল্লাহ্র রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে' (ছোয়াদ ৩৮/২৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00