📄 পাপ-পঙ্কিলতাকে তুচ্ছ মনে করা
প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তির মন কঠোর হয়ে যায়। আর মন যখন কঠোর হয়ে যায় তখন সে গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوْبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ - فَقَالَ بِهِ هَكَذَا 'একজন মুমিন তার পাপকে এমন মনে করে যেন সে একটা পাহাড়ের নিচে বসে আছে, আর সে পাহাড়টা তার উপর ধ্বসে পড়ার ভয় করছে। কিন্তু পাপাচারী ব্যক্তি তার পাপকে তার নাকের উপর বসা মাছির তুল্য মনে করে (যাকে সে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার নাকের উপর হাত নিয়ে ইশারায় তা বুঝিয়ে দিলেন।
টিকাঃ
৩২. বুখারী হা/৬৩০৮।
📄 দ্বীনের মধ্যে বিদ'আত চালুর মাধ্যম
হাম্মাদ ইবনু আবী সালামা বলেন, রাফেযী বা শী'আদের একজন গুরু- যে কি-না তার ভ্রান্ত মত থেকে তওবা করেছিল, সে আমার নিকট বলেছে, 'আমরা কোন সভায় জড়ো হয়ে কোন কিছুকে ভাল মনে করলে আমরা সেটাকে হাদীছ বানিয়ে নিতাম'।
টিকাঃ
৩৩. খতীব বাগদাদী, আল-জামে' লি-আখলাকির রাবী, ১/১৩৮।
📄 সংকীর্ণ জীবন ও মানুষের সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টির উপলক্ষ
মানুষের মাঝে যে হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা ও অনিষ্টতার প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়, তার মূলে রয়েছে প্রবৃত্তির অনুসরণ। সুতরাং যে তার প্রবৃত্তির বিরোধিতা করবে সে তার দেহ-মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আরামে রাখবে। এতে সে নিজেও আরামে থাকবে এবং অন্যকেও স্বস্তিতে থাকতে দিবে। আর যে নিজের প্রবৃত্তির আনুগত্য করে সে অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন যাপন করে। লোকদের সে ঘৃণা করে, লোকেরাও তাকে ঘৃণা করে।
ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেছেন, إقدعوا هذه النفوس عن شهواتها، فإنها طلاعة تنزع إلى شر غاية. إن هذا الحق ثقيل مرىء، وإن الباطل خفيف وبيء، وترك الخطيئة خير من معالجة التوبة. ورب نظرة زرعت شهوة، وشهوة ساعة أورثت حزنا طويلا - 'তোমরা তোমাদের মনগুলোকে লোভ-লালসা থেকে দূরে রাখো। কেননা তা কৌতূহলী। তা তোমাদেরকে চূড়ান্ত মন্দের দিকে ঠেলে দেয়। নিশ্চয়ই ন্যায় ও সত্য ভারী এবং চোখের সামনে সুস্পষ্ট। আর বাতিল হাল্কা ও ব্যাধিযুক্ত। পাপ পরিহার করা পাপ করার পর তওবা করার প্রবণতা থেকে অনেক উত্তম। আর অনেক দৃষ্টি মনে কামনা-বাসনার বীজ বপন করে। আর এক মুহূর্তের কামনা-বাসনা অনেক সময় দীর্ঘকালীন দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়'।
আবুবকর আল-ওয়ারাক বলেছেন, যখন প্রবৃত্তি জয়যুক্ত হয় তখন হৃদয় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আর হৃদয় যখন অন্ধকার হয়ে যায় তখন মন সংকীর্ণ হয়ে যায়। মন যখন সংকীর্ণ হয়ে যায় তখন চরিত্র খারাপ হয়ে যায়। আর চরিত্র যখন খারাপ হয়ে যায় তখন সৃষ্টিকুল তাকে ঘৃণা করতে শুরু করে, আবার সেও তাদের ঘৃণা করতে আরম্ভ করে'।
তারপর মানুষের বয়স বাড়তে বাড়তে যখন সে বার্ধক্যে উপনীত হয় তখন সে খেয়াল-খুশীর অনুসরণের কুফল হাতে নাতে পেয়ে থাকে। জনৈক কবি বলেছেন,
مَارِبُ كَانَتْ فِي الشَّبَابِ لِأَهْلِهَا عِذَابٌ فَصَارَتْ فِي الْمَشِيْبِ عَذَابًا
'যৌবনে যেসব কাজ-কর্ম ও প্রয়োজন পূরণ ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও মধুময়, বৃদ্ধকালে সেগুলোই আযাব-গযবে রূপান্তরিত হয়েছে'।
টিকাঃ
৩৪. আল-জাহিয, আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন, পৃঃ ৪৫৪।
৩৫. যাম্মুল হাওয়া, পৃঃ ২৯।
৩৬. ইবনুল কাইয়িম, আল-ফাওয়ায়েদ, পৃঃ ৪৬।
📄 নিজের উপর শত্রুর খবরদারির সুযোগ তৈরী করে দেওয়া
শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। আর তার সবচেয়ে হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু তার বিবেক-বুদ্ধি। সে তাকে ফেরেশতাসুলভ কল্যাণের পথের দিশা দেয়। কিন্তু কোন ব্যক্তি যখন তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে শুরু করে তখন সে নিজেকে নিজ হাতে শত্রুর কাছে সমর্পণ করে এবং তার বন্দিত্ব বরণ করে । এতে নিজের উপর নিজে সহনাতীত মুছীবত, দুর্ভাগ্যের বেড়ি, মন্দ ফায়ছালা এবং শত্রুদের হাসি-তামাশার সুযোগ তৈরী করে নেওয়া হয়।
বলা হয়, যখন তোমার উপর তোমার বিবেক জয়যুক্ত হয় তখন সে তোমার থাকে। আর তোমার প্রবৃত্তি যখন তোমার উপর জয়যুক্ত হয় তখন তা তোমার শত্রুর জন্য হয়ে যায়।
টিকাঃ
৩৭. ইবনু আব্দিল বার, বাহজাতুল মাজালিস ওয়া উনসুল মাজালিস, পৃঃ ১৭২।