📄 বিনাশ সাধনকারী
আনাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ثَلَاثُ مُهْلِكَاتٌ شُحٌ مُطَاعٌ وَهَوَى مُتَّبَعٌ وَإِعْجَابُ الْمَرْءِ بِنَفْسِهِ وَهِيَ أَشَدُّهُنَّ - 'তিনটি জিনিস ধ্বংস সাধনকারী। (১) প্রবৃত্তি পূজারী হওয়া (২) লোভের দাস হওয়া এবং (৩) আত্ম অহংকারী হওয়া। আর এটিই হ'ল সবচেয়ে মারাত্মক'।
ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, দ্বীনের উপর চলতে চরিত্রের যে গুণটি সবচেয়ে বড় সহায়ক তা হ'ল দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি বা নির্লোভ জীবনযাপন। আর যে দোষটি মানুষকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে টেনে নেয় তাহ'ল প্রবৃত্তির অনুসরণ। প্রবৃত্তির অনুসরণের একটি হ'ল দুনিয়ার প্রতি আসক্তি। আর দুনিয়ার প্রতি আসক্তির মধ্যে রয়েছে সম্পদ ও সম্মানের প্রতি মোহ। আর সম্পদ ও সম্মানের মোহে মানুষ হারামকে হালাল করে নেয়। এভাবে যখন হারামকে হালাল করে নেওয়া হয় তখন আল্লাহ তা'আলা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। আর আল্লাহ্র ক্রোধ এমন রোগ যার ঔষধ একমাত্র আল্লাহ্র সন্তোষ। আল্লাহ্র সন্তোষ এমন ঔষধ যে তা পেলে কোন রোগই ক্ষতি করতে পারবে না। আর যে তার রবকে খুশী করতে চায় তার নিজের মনকে নাখোশ করতে হয়। কিন্তু যে নিজের মনকে নাখোশ করতে রাযী নয় সে তার রবকে খুশী করতে পারে না। কোন মানুষের উপর দ্বীনের কোন বিষয় ভারী মনে হ'লে সে যদি তা বর্জন করে তাহ'লে এমন একটা সময় আসবে যখন তার নিকট দ্বীনের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।
টিকাঃ
২৯. বায়হাক্বী, শু'আবুল ঈমান হা/৭৪৫, মিশকাত হা/৫১২২; ছহীহ তারগীব হা/৫০, ছহীহাহ হা/১৮০২।
৩০. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৫১৬৮।
📄 বান্দার জন্য সামর্থ্যের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া
ফুযাইল ইবনু ইয়ায (রহঃ) বলেছেন, من استحوذ عليه الهوى واتباع الشهوات انقطعت عنه موارد التوفيق 'খেয়াল-খুশী ও প্রবৃত্তির তাবেদারী যার উপর বিজয়ী হয়, তাওফীক বা সামর্থ্যের সকল রাস্তা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়'। প্রবৃত্তির অনুসারী তার জীবনপথে উদ্ভদ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। সরল পথের দিশা লাভে সে সমর্থ হয় না। কারণ সে হেদায়াত ও তাওফীকের মূল উৎস থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সে তার প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে পড়েছে। কুরআন-সুন্নাহ্র অনুসারী সে নয়; তাহ'লে সে কী করে সঠিক পথের দিশা লাভে সমর্থ হবে? আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন, أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ , 'যে নিজের প্রবৃত্তিকে তার প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলা জেনেশুনে তাকে গোমরাহ করে দিয়েছেন? তার কান ও তার অন্তরে তিনি মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখে এঁটে দিয়েছেন পর্দা। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলার পরে কে হেদায়াত দান করবে? তারপরও কি তোমরা কোন উপদেশ গ্রহণ করবে না'? (জাছিয়া ৪৫/২৩)।
টিকাঃ
৩১. রাওযাতুল মুহিব্বীন, পৃঃ ৪৭৯।
📄 আল্লাহ্ আনুগত্য বিলীন হওয়া
প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তি নিজেকে অনেক বড় মনে করে। ফলে তার পক্ষে অন্যের আনুগত্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি তার স্রষ্টার আনুগত্যও। কিছু লোককে তো একমাত্র তাদের প্রবৃত্তিই কুফরীতে নিক্ষেপ করেছে। কারণ প্রবৃত্তি তার মনে বাসা বেঁধেছে এবং তার নফসের উপর একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করেছে। ফলে সে প্রবৃত্তির হাতে বন্দী ও তার প্রতারণার শিকার হয়েছে। মানুষের মধ্যে তো দু'টো অন্তর নেই। অন্তর একটাই। হয় সে তার প্রভুর আনুগত্য করবে, অথবা তার নফস, প্রবৃত্তি ও শয়তানের আনুগত্য করবে।
📄 পাপ-পঙ্কিলতাকে তুচ্ছ মনে করা
প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তির মন কঠোর হয়ে যায়। আর মন যখন কঠোর হয়ে যায় তখন সে গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوْبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ - فَقَالَ بِهِ هَكَذَا 'একজন মুমিন তার পাপকে এমন মনে করে যেন সে একটা পাহাড়ের নিচে বসে আছে, আর সে পাহাড়টা তার উপর ধ্বসে পড়ার ভয় করছে। কিন্তু পাপাচারী ব্যক্তি তার পাপকে তার নাকের উপর বসা মাছির তুল্য মনে করে (যাকে সে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার নাকের উপর হাত নিয়ে ইশারায় তা বুঝিয়ে দিলেন।
টিকাঃ
৩২. বুখারী হা/৬৩০৮।