📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 পরকালীন ক্ষতি

📄 পরকালীন ক্ষতি


আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَأَمَّا مَنْ طَغَى، وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا، فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى، وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى، فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى 'অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালংঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস। আর যে তার প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং নিজের নফসকে কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখে, অবশ্যই জান্নাত হবে তার ঠিকানা' (নাযি'আত ৭৯/৩৭-৪১)।

ইমাম শা'বী বলেছেন, سُمِّيَ الْهَوَى هَوَى لِأَنَّهُ يَهْوِى بِصَاحِبِهِ فِي النَّارِ 'প্রবৃত্তিকে (হাওয়া) এজন্য হাওয়া নাম রাখা হয়েছে যে সে তার মালিককে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে'। আবুদ্দারদা (রাঃ) বলেছেন, مَنْ كَانَ الْأَجْوَفَانِ همه خَسِرَ مِيزَانَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ 'দু'টো পেট যার কামনা-বাসনার কেন্দ্রবিন্দু হবে, ক্বিয়ামতের দিন তার দাঁড়িপাল্লার ওযনে ঘাটতি দেখা দিবে'। দু'টো পেট বুঝাতে তিনি উদরের কামনা এবং লজ্জাস্থানের বাসনাকে বুঝিয়েছেন। প্রবৃত্তির পূজারীদের তুমি কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে প্রবৃত্তির অনুসরণ হেতু তারা পদদলিত হচ্ছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের সাথে দৌড়ে তারা তাল রক্ষা করতে না পেরে কুপোকাত হয়ে পড়বে। যেমনভাবে তারা দুনিয়াতে প্রবৃত্তির পূজারীদের সাহচর্যে থাকার জন্য ধরাশায়ী হয়েছিল। মুহাম্মাদ ইবনু আবুল ওয়ার্দ বলেছেন, إن الله عز وجل يوما لا ينجو من شره منقاد لهواه وان أبطأ الصرعى نهضة يوم القيامة صريع الشهوة 'নিশ্চয়ই আল্লাহ্র গযব থেকে এমন একদিন আসবে যেদিনের ক্ষতি থেকে প্রবৃত্তির পূজারীরা রেহাই পাবে না। প্রবৃত্তির কাছে ধরাশায়ী ব্যক্তিরাই কিয়ামতের দিন ভূপাতিতদের মধ্যে সবচেয়ে দেরিতে উত্থিতদের কাতারে থাকবে'।

আতা (রহঃ) বলেছেন, مَنْ غَلَبَ هَوَاهُ عَقْلَهُ وَجَزَعَهُ صَبْرَهُ افْتُضِحَ 'প্রবৃত্তি যার বুদ্ধি-বিবেককে পরাস্ত করেছে এবং তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়েছে, বিচার দিবসে তাকে অপদস্থ হ'তে হবে'। অর্থাৎ বিচারের দিন পরকালীন লোকসান ও জাহান্নামে প্রবেশের দরুন তাকে মহালাঞ্ছনার সম্মুখীন হ'তে হবে।

ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেছেন, الْهَوَى يُرْدِي، وَخَوْفُ اللَّهِ يَشْفِي، وَاعْلَمْ ، أَنَّ مَا يُزِيلُ عَنْ قَلْبِكَ هَوَاكَ إِذَا خِفْتَ مَنْ تَعْلَمُ أَنَّهُ يَرَاكَ 'প্রবৃত্তি ধ্বংসের পথে নিয়ে আনে, আর আল্লাহভীতি তা থেকে মুক্তি দেয়। জেনে রেখো, তোমার অন্তর থেকে কামনা-বাসনা তখনই দূর হ'তে পারে যখন তুমি সেই সত্তাকে ভয় করবে, যার সম্পর্কে তুমি জান যে, তিনি তোমাকে দেখছেন'।

টিকাঃ
১৮. দারেমী হা/৩৯৫, সনদ যঈফ।
১৯. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, পৃঃ ৬১২।
২০. ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়াহ ২/৩৯৫।
২১. যামুল হাওয়া, পৃঃ ২৭।
২২. বায়হাক্বী, শু'আবুল ঈমান হা/৮৪১, আবু নু'আঈম ইস্পাহানী, হিলয়াতুল আওলিয়া ৮/১৮।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 প্রবৃত্তি গোমরাহীর দিকে টেনে নিয়ে যায়

📄 প্রবৃত্তি গোমরাহীর দিকে টেনে নিয়ে যায়


প্রত্যেক ভ্রান্তির মূলে রয়েছে আন্দায-অনুমান ও প্রবৃত্তির অনুসরণ। পথভ্রষ্টদের সম্বন্ধে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, إِنْ يَتَّبِعُوْنَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ 'তারা কেবল অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে' (নাজম ৫৩/২৩)।

এভাবে আন্দায-অনুমান ও প্রবৃত্তি পূজার কারণে তারা পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়। খেয়াল-খুশী ও প্রবৃত্তি শুধু তার অনুসারীকেই পথচ্যুত করে ক্ষান্ত হয় না; বরং অন্যদেরও পথহারা করে এবং সরল পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন إِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّوْنَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ 'অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞতাবশত নিজেদের খেয়াল-খুশী দ্বারা অন্যকে বিপথে চালিত করে' (আন'আম ৬/১১৯)। অর্থাৎ তারা অন্যদেরকে তাদের কুপ্রবৃত্তি দ্বারা পথভ্রষ্ট করে।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 কুরআনী উপদেশ দ্বারা উপকৃত না হওয়া

📄 কুরআনী উপদেশ দ্বারা উপকৃত না হওয়া


প্রবৃত্তি মানুষকে কুরআন বুঝতে এবং কুরআনের উপদেশ ও হুকুম-আহকামের দ্বারা উপকৃত হ'তে বাধা দেয়। প্রবৃত্তির পূজারীরা তো নবী করীম (ছাঃ)-এর মুখ থেকে সরাসরি কুরআন মাজীদ শুনত, এতদসত্ত্বেও তারা তা দ্বারা উপকৃত হ'তে পারেনি। তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّى إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوا لِلَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنِفًا أُوْلَئِكَ الَّذِيْنَ طَبَعَ اللهُ عَلَى قُلُوْبِهِمْ وَاتَّبَعُوْا أَهْوَاءَهُمْ 'তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা তোমার কথা শোনে। কিন্তু যখন তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায় তখন যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের নিকট গিয়ে বলে, 'এইমাত্র কী বলল লোকটি?' মূলতঃ এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে' (মুহাম্মাদ ৪৭/১৬)।

সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহ্র আদেশ-নিষেধে সাড়া না দেওয়া প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশীর অনুসরণের প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُوْنَ أَهْوَاءَهُمْ 'যদি এরা তোমার আহবানে সাড়া না দেয় তাহ'লে জেনে রেখ এরা কেবল নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে' (ক্বাছাছ ২৮/৫০)।

আলী (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, إِنَّمَا أَخْشَى عَلَيْكُمُ اثْنَتَيْنِ : طُولَ الْأَمَلِ، وَاتَّبَاعَ الْهَوَى، فَإِنَّ طُوْلَ الْأَمَلِ يُنْسِي الْآخِرَةَ، وَإِنَّ اتَّبَاعَ الْهَوَى يَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ، وَإِنَّ الدُّنْيَا قَدْ تَرَكَّلَتْ مُدْبِرَةً، وَإِنَّ الْآخِرَةَ مُقْبِلَةٌ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُوْنَ، فَكُوْنُوْا مِنْ أَبْنَاءِ الْآخِرَةِ، فَإِنَّ الْيَوْمَ عَمَلٌ وَلَا حِسَابَ، وَغَدًا حِسَابٌ وَلَا عَمَلَ -
'আমি তোমাদের জন্য কেবলই দু'টি জিনিসকে ভয় করি। ১. দীর্ঘ আশা ২. খেয়াল-খুশীর অনুসরণ। কেননা দীর্ঘ আশা পরকালের কথা ভুলিয়ে দেয়; আর খেয়াল-খুশীর অনুসরণ হক পথ অনুসরণে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। দুনিয়া ক্রমান্বয়ে পিছনে সরে যাচ্ছে, আর আখিরাত সামনে এগিয়ে আসছে। দুনিয়া-আখিরাত প্রত্যেকেরই সন্তান রয়েছে। সুতরাং তোমরা আখিরাতের সন্তান হও। কেননা আজ শুধুই আমল বা কাজের সুযোগ রয়েছে। কোন হিসাব দাখিল করতে হচ্ছে না। কিন্তু কাল (পরকালে) শুধুই হিসাব দিতে হবে। আমল করার কোন সুযোগ থাকবে না'।

টিকাঃ
২৩. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৪৪৯৫।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 অন্তর নষ্ট করে দেয় এবং অন্তর ও নিরাপত্তার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়

📄 অন্তর নষ্ট করে দেয় এবং অন্তর ও নিরাপত্তার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়


আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, পাঁচটি জিনিস থেকে দূরে না থাকা অবধি মানুষের অন্তর নিরাপদে থাকে না। (১) শিরক থেকে, যা কি-না তাওহীদের বিরোধী (২) বিদ'আত, যা সুন্নাহ্ পরিপন্থী (৩) লোভ-লালসা, যা আল্লাহ্র হুকুমের বিরুদ্ধাচরণকারী (৪) অলসতা, যা আল্লাহ্র স্মরণের বিপরীত (৫) প্রবৃত্তি, যা দ্বীনের মধ্যে মশগুল হওয়া এবং খাঁটি মনে ইবাদত করার পরিপন্থী। এই পাঁচটি বিষয় আল্লাহকে পাওয়ার পথে বাধা। এদের প্রত্যেকটার অধীনে আবার অসংখ্য ভাগ রয়েছে। সেজন্য বান্দাকে সর্বদা আল্লাহ্র নিকট 'ছিরাতুল মুস্তাকীম' বা সরল পথের দিশা লাভের জন্য অবশ্যই দো'আ করতে হবে। আল্লাহ্র নিকট বান্দা সরল পথ লাভের জন্য দো'আ থেকে অন্য কোন কিছুর বেশী মুখাপেক্ষী নয় এবং দো'আ থেকে অধিক উপকারীও অন্য কিছু নেই।

টিকাঃ
২৪. ইবনুল কাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফী, পৃঃ ৫৮-৫৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00