📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 কখনো কাফির ও পথভ্রষ্টদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে

📄 কখনো কাফির ও পথভ্রষ্টদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে


আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءِ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِآيَاتِنَا وَالَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْآخِرَةِ وَهُمْ بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُوْنَ 'প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে না যারা আমার আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে, যারা পরকালে অবিশ্বাস করে এবং তারা অন্য কিছুকে তাদের মালিকের সমকক্ষ মনে করে' (আন'আম ৬/১৫০)।

আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে কাফিরদের বলতে বলেছেন, قُل لَّا أَتَّبِعُ أَهْوَاءَكُمْ قَدْ ضَلَلْتُ إِذَا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُهْتَدِينَ 'হে রাসূল! তুমি বল, আমি তো তোমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করি না। যদি আমি তা করি তাহ'লে আমি তখন অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে যাব এবং সত্যানুসারী দলের মাঝে থাকব না' (আন'আম ৬/৫৬)।

আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন, وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّواْ مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيراً وَضَلُّواْ عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ 'তোমরা সেসব জাতির খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, যারা আগেভাগেই পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা অনেক লোককে পথহারা করে দিয়েছে আর তারা নিজেরাও সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে' (মায়েদাহ ৫/৭৭)।

অন্যত্র তিনি বলেন, فَاحْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ 'সুতরাং আল্লাহ তা'আলা যেসব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন তুমি তার ভিত্তিতে তাদের মধ্যে বিচার-ফায়ছালা কর এবং এ বিচারের সময় তোমার নিকট যে সত্য দ্বীন এসেছে তা থেকে সরে গিয়ে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবে না' (মায়েদাহ ৫/৪৮)।

তিনি নবী করীম (ছাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ (হে নবী!) তুমি মানুষকে এ দ্বীনের দিকে ডাকতে থাক এবং এর উপরেই অবিচল থাকো, যেভাবে তোমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর ওদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবে না' (শূরা ৪২/১৫)।

তিনি বলেন, وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطاً 'তুমি এমন কোন ব্যক্তির আনুগত্য করবে না যার হৃদয়-মনকে আমরা আমাদের স্মরণ থেকে উদাসীন করে দিয়েছি, আর সে তার প্রবৃত্তির দাসত্ব করতে শুরু করেছে এবং তার কাজকর্ম সীমালংঘনমূলক' (কাহফ ১৮/২৮)।

এসব আয়াতে মহান আল্লাহ কাফির-মুশরিকদের সাথে খেয়াল-খুশীর সম্পর্ক যোগ করেছেন। কেননা তাদের খেয়াল-খুশী সত্য হ'তে বিচ্যুত। পক্ষান্তরে মুমিনদের খেয়াল-খুশী তেমন নয়। কাফিরদের কামনা-বাসনা পুরোটাই বাতিল তথা অন্যায়ের উপর কেন্দ্রীভূত। অপরদিকে মুমিনদের কামনা-বাসনা উন্নত হ'তে হ'তে এক সময় তা আল্লাহ তা'আলার হুকুম মাফিক হয়ে যায় এবং নবী করীম (ছাঃ) আনীত দ্বীন বা জীবন বিধানের অনুগামী হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তার মন যখন কোন দিকে ঝুঁকে পড়ে তখন তা সুন্নাত ও আনুগত্য বলে গণ্য হয়, নিদেনপক্ষে তা মুবাহ হয়ে থাকে। আল্লাহ বলেন, أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ كَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوْءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوْا أَهْوَاءَهُمْ 'যে ব্যক্তি তার মালিকের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট নিদর্শনের উপর রয়েছে তার সাথে এমন লোকদের তুলনা কীভাবে হবে যাদের চোখের সামনে তাদের মন্দ কাজগুলো শোভনীয় করে রাখা হয়েছে এবং তারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে' (মুহাম্মাদ ৪৭/১৪)।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 কখনো মন্দের সাথে জড়িত মন বা ব্যক্তিসত্তার দিকে প্রবৃত্তিকে সম্বন্ধ করে তার নিন্দা করা হয়েছে

📄 কখনো মন্দের সাথে জড়িত মন বা ব্যক্তিসত্তার দিকে প্রবৃত্তিকে সম্বন্ধ করে তার নিন্দা করা হয়েছে


আবু ইয়া'লা শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, الْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا 'অক্ষম-মূর্খ সেই ব্যক্তি যে নিজের মনকে তার প্রবৃত্তি বা প্রবৃত্তির কথামতো চলতে দেয়'।

টিকাঃ
৬. হাকেম, আহমাদ, ইবনু মাজাহ হা/৪২৬০; মিশকাত হা/৫২৮৯, সনদ যঈফ।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 কখনো অন্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রবৃত্তির নিন্দা জানানো হয়েছে

📄 কখনো অন্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রবৃত্তির নিন্দা জানানো হয়েছে


হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوْبِ كَالْحَصِيْرِ عُوْدًا عُوْدًا فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نُكِتَ فِيْهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ وَأَيُّ قَلْبِ أَنْكَرَهَا نُكِتَ فِيْهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى تَصِيْرَ عَلَى قَلْبَيْنِ عَلَى أَبْيَضَ مِثْلِ الصَّفَا فَلاَ تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالآخَرُ أَسْوَدُ مُرْبَادًا كَالْكُوزِ مُحَخّيًا لاَ يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أُشْرِبَ مِنْ هَوَاهُ 'মানুষের মনে ফিত্না বা গোমরাহী এমনভাবে ঢেলে দেওয়া হয় যেমন করে খেজুরের মাদুর বা পাটি বুনতে একটা একটা করে পাতা ব্যবহার করা হয়। যে মনে ঐ ফিত্না অনুপ্রবেশ করে তাতে একটা কালো দাগ পড়ে যায়। আর যে মন তা প্রত্যাখ্যান করে তাতে একটা সাদা দাগ পড়ে। এভাবে মনগুলো দু'ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এক. মসৃণ পাথরের মত সাদা মন, যাতে কোন ফিত্না বা পাপাচার আসমান-যমীন বিদ্যমান থাকা অবধি কোনই বিরূপ ক্রিয়া করতে পারবে না। দুই. কয়লার ন্যায় কালো মন, যা উপুড় করা পাত্রের মত, না সে কোন ন্যায়কে বোঝে, না অন্যায়কে স্বীকার করে। তার খেয়াল-খুশী বা কামনা-বাসনা তাকে যেভাবে পরিচালনা করে সেভাবেই কেবল সে পরিচালিত হয়'। এখানে খেয়াল-খুশীকে হৃদয়ের সাথে সম্বন্ধিত করা হয়েছে।

টিকাঃ
৭. মুসলিম হা/১৪৪; মিশকাত হা/৫৩৮০।

📘 প্রবৃত্তির অনুসরণ > 📄 প্রবৃত্তির অনুসরণ হেতু একজন মানুষ কখন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য

📄 প্রবৃত্তির অনুসরণ হেতু একজন মানুষ কখন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য


প্রবৃত্তি ও লোভ-লালসা মানুষের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত একটি বিষয়। না সে তার থেকে আলাদা হ'তে পারে, না তাকে পরিত্যাগ করতে পারে। মহান আল্লাহ মানুষকে প্রবৃত্তি ও লালসার তাড়না দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তবে কি প্রবৃত্তি ও লালসার উদ্রেক যখনই হবে তখনই সেজন্য মানুষকে শাস্তি পোহাতে হবে? মানুষ কি তার হৃদয়-মন থেকে প্রবৃত্তি বের করে দিতে শরী'আতের দাবী অনুযায়ী বাধ্য? নাকি তার কিছু নিয়মনীতি ও সীমানা রয়েছে?

ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহঃ) বলেছেন, 'খোদ প্রবৃত্তি ও লালসার জন্য কোন শাস্তি পোহাতে হবে না। বরং তার অনুসরণ ও তার কথামত কাজ করার দরুন শাস্তি পোহাতে হবে। সুতরাং মন প্রবৃত্তির পেছনে চলতে চাইবে আর ব্যক্তি মনকে তার থেকে বিরত রাখলে তখন তার এ বিরত রাখাই আল্লাহ্র ইবাদত ও নেক কাজ বলে গণ্য হবে'।

একজন সত্যবাদী মুসলিমের অবস্থাতো এটাই। তার মন সর্বদা তাকে এটা ওটা করতে হুকুম করবে আর সে বরাবর তা করতে অস্বীকার করবে এবং তার লালসার অপকারিতার শিকার হওয়া থেকে তাকে বিরত রাখবে। মন তাকে প্রবৃত্তির যেসব বিষয় লাভে উদ্বুদ্ধ করবে সেসব ক্ষেত্রে সে তার প্রতিপালকের মুখোমুখি দাঁড়ানোকে ভয় করবে। এমন মানুষ অবশ্যই ভাল প্রতিফল পাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى، فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى 'আর যে ব্যক্তি তার মালিকের সামনে (হাশরের ময়দানে) দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং (সেই ভয়ে নিজের) মনকে কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখে, অবশ্যই জান্নাত হবে তার ঠিকানা' (নাযি'আত ৮০/৪০-৪১)।

সুতরাং খেয়াল-খুশী মনে উদয় হ'লেই সেজন্য শাস্তি দেওয়া হবে না; সেটা কাজে পরিণত করা ব্যতীত। মানুষ যখন কোন পাপ কাজের বাসনা করবে এবং মনে মনে তা কামনা করবে, তারপর বাস্তবে তা রূপায়িত করবে তখন তার খেয়াল-খুশী ও কাজের উপর হিসাব গ্রহণ করা হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَى مُدْرِكُ ذَلِكَ لا مَحَالَةَ فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ وَالْأُذْنَانِ زِنَاهُمَا الإِسْتِمَاعُ وَالنِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْسُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ 'আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের একাংশ নির্ধারিত আছে; যা সে অবশ্যই পাবে। চক্ষুদ্বয়ের যেনা হ'ল দৃষ্টি নিক্ষেপ করা। কর্ণদ্বয়ের যেনা হ'ল শ্রবণ করা, জিহ্বার যেনা হ'ল আলোচনা করা, হাতের যেনা হ'ল স্পর্শ করা এবং পায়ের যেনা হল এ কাজে পা চালানো, মন (যেনা করতে) গভীরভাবে কামনা করবে, তারপর যৌনাঙ্গ তা সম্পন্ন করার মাধ্যমে হয় তা সত্য প্রমাণ করবে, নয় তা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে মনের কামনাকে মিথ্যা প্রমাণ করবে'।

টিকাঃ
৮. মাজমূ' ফাতাওয়া ১০/৬৩৫।
৯. মুসলিম হা/২৬৫৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00